গ্রাফ

অদ্বয় চৌধুরী


‘x’ অক্ষ

বডিটা পড়ে রয়েছে রাস্তার একদম বাঁদিকে। বস্তাঘেরা ছোট্ট ঝুপড়িটার ঠিক সামনে। কালো, ছেঁড়া, ধুলো মাখা প্যান্ট। জামার বদলে ঢুকে যাওয়া পেট, ঠেলে বেরিয়ে আসা পাঁজর। একটা বাচ্চা ছেলে। বছর দশেক বয়স। পড়ে রয়েছে সামান্য বাঁ দিকে কাত হয়ে, কোণাকুণি। মাথা নীচের দিকে, পা উপর দিকে। রাস্তার পিচ ছাড়িয়ে কাঁচা অংশে নেমে থমকে যাওয়া বাঁ হাতটার একটুখানি দূরে পড়ে আছে একটা পাউরুটি। ধুলোয় মাখামাখি। ছিটকে বেরিয়ে গেছে হলুদরঙা প্যাকেটটা থেকে। প্যাকেটটা ছুট লাগিয়েছে হাওয়ায়। ঐ উড়ে যাওয়া প্যাকেটটার দিকে গোঁজ হয়ে হেলে রয়েছে মাথাটা। চোখ গুলো ঠেলে এগিয়ে এসেছে। পাউরুটিটার দিকে। চোখের উপর থেকে মাথার বাকি অংশটা, হঠাৎ, রাস্তায় মিশে গেছে। জট পড়ে গুটিয়ে যাওয়া চুলগুলো রাস্তার পিচে লেপটে গিয়ে লম্বা দেখাচ্ছে। সেই লম্বা চুলগুলো বেয়ে নেমে এসে, কালো রাস্তার উপর, একচাপ রক্ত এক মৌন জমায়েতে পরিণত হয়েছে।
ঐ নির্বাক জমায়েতের উপরের প্রান্ত থেকে একটামাত্র দাগ, চওড়া খাঁজকাটা টকটকে লাল ফিতের মতো, উঠে গেছে একদম সোজা। উপরের দিকে। অনেক দূর পর্যন্ত। কোন ভারী এস.ইউ.ভি গাড়ির চাকার দাগ হবে। ঐ হতভম্ব জমায়েতের স্থবিরতা ভেঙ্গে, হঠাৎ, একটা সরু, দুর্বল রক্তধারা নীচের দিকে নামতে থাকে ক্রমশ, ধীরে ধীরে। একটুখানি এগিয়ে হাঁফিয়ে যায়। থেমে যায় শেষে।


‘y’ অক্ষ

ফ্লুরোসেন্ট আলোয় ঝলসে যাওয়া ঠাণ্ডা ঝাঁ-চকচকে বিশাল সভাঘর। মান্যগণ্য সভাসদে ঠাসা। জি-২০ অধিবেশন, জেনেভা। সামনের বিশাল মঞ্চের ঠিক মাঝখানে এক বিশাল প্রোজেক্টর-স্ক্রিন। সেই স্ক্রিনের মাথায় বড় বড় গোটা গোটা অক্ষরে ফুটে ওঠে এক শিরোনাম: ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক উন্নতির সূচক’। স্ক্রিনের নীচে, বাঁ দিকে, ফুটে ওঠে একটি বড় টকটকে লাল বিন্দু। তারপর, ক্রমশ সেই বিন্দু থেকে একটি মোটা লাল দাগ সোজা উঠতে লাগে উপরে। আরও, আরও উপরে। অনেক দূর পর্যন্ত। ঐ লাল বিন্দুটা থেকে কখনোই নীচের দিকে নেমে আসে না অন্য কোন রেখা।

আপনার মতামত জানান