গুচ্ছ কবিতা

জিয়াবুল ইবন
শিশিরের গান

একটা অভিমানের পাশে পড়ে আছে
লালটিপ
তার চারপাশটা হলদে বর্ণের, হেমন্তের ফিরে যাবার গোছগাছ

আলগোছে আমি ঢুকে পড়ছি ভেড়ার পশমের
ভেতর

বাইরে
শিশিরের গান ছাড়া আর কোন পাখি নেই


পরাজয়

নদীর পাশে সিমেন্ট কারখানা
থাকতেই হবে
জলের রঙ হবে আলকাতরা-কালো

কচুরিঝোপে চিৎ হয়ে পড়ে থাকবে
আধমরা
জলকাক

সন্ধ্যাতারার ছায়াদের ছাপোষাগিরি
আর
সবখানে চটচট করবে চর্বি পোড়ার গন্ধ
গার্মেন্ট কারখানার লিকলিকে কর্মীদের কাছে
গন্ধটা
কেমন উৎকটই থেকে যাবে
যতক্ষণ-না তারা পরাজয় বুঝে নেবে


মিরর

আয়নাটি আমাকে দেখছে
আমাকে অনুকরণ করছে
হাসছে
ভেংচি কাটছে
মুখ বাঁকিয়ে
হাত থেকে পড়ে গিয়ে আমাকে ভেঙে দিচ্ছে
টুকরো টুকরো করে

আয়নাটি কোন ডুমুরগাছ দেখছে না
আমার মাথার মিররে ঝুরঝুরে ছলচাতুরি

আয়নাটি দেখছে না


মর্নিংওয়াক

নিহত কুয়াশার কাছে
আমার কোন কান্না নেই
আমি জানি
সেও এক ঘাইহরিণীর ছায়া
চোখের ঘাসপিঁচুটি ঘষটে
হাঁটছি
গোশালার জৈবিক আতর
আর
আমার সমবয়সী ভোর


গ্রামের নাম ব্রাহ্মণভিটা

প্রথমে এক মুদি দোকানিকে জিজ্ঞেস করলাম
তারপর এক বৃদ্ধকে
তারপর তার পরের প্রজন্ম
তারপর তার পরের
এভাবে একটি শিশুও বলতে পারলো না
এই গ্রামের ব্রাহ্মণদের ভিটা কোনটা
কিন্তু সিএনজি চালক তো আমাদের ব্রাহ্মণ ভিটাতেই নামিয়ে দিল

আপনার মতামত জানান