হালখাতা

সরোজ দরবার
‘যাব কী হে, সেদিন যে আমার এখানেও হালখাতা’-গঙ্গাধরের চোখে চোখ রেখে কথাগুলো বললেন রমণীমোহন সামন্ত।
হাত কচলে গঙ্গাধর বলল, ‘না মানে...’। তাকে মধ্যিখানে থামিয়ে ফের রমণীমোহন বললেন, ‘না-টা কিছু নয়, এত কাজ ফেলে আমার যাওয়ার জো আছে নাকি!’
আমতা আমতা করে গঙ্গাধর বলল, ‘একান্তই তাহলে...’
রমণীমোহন কোনও কথা বললেন না। শুধু হাত তুলে দেখালেন-না।
অগত্যা উঠে পড়ল গঙ্গাধর। একখানা কার্ড রেখে এল তক্তপোশের উপর। এই বুড়োর সামনে বসে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার ইচ্ছে আর তার নেই। সাধে কি আর পাড়ার সব লোক উন্মাদ বুড়োকে খিস্তি দেয়। বাড়ির একেবারে বাইরে পা রেখে গঙ্গাধরও প্রায় নিঃশব্দে বলল-হারামি।
রমণীমোহনকে ছোটবেলা থেকে সে কাকা বলেই ডেকে এসেছে। আজ অনায়াসে হারামি বলতে তার বাধল না। যখন একটু বড় হয়েছে, তখন থেকেই জেনেছে এই লোকটা তাদের পরিবারের সব সৌভাগ্যের মুখে অপয়া গ্রহের মতো বসে আছে। কেন জানত না। কিন্তু বাবার মুখে এই শুনত সে। তাদের এই গোবিন্দপুর ছেড়ে যেদিন গঙ্গাধরকে চলে যেতে হয়েছিল, সেদিন সে নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিল, বাবার কথাই ঠিক। মনে মনে ছোটবেলার কাকাকে সেও শনি ভেবে নিয়েই ঘর ছেড়েছিল। অথচ ছোটবেলায় কী ভালো সময়ই না কাটিয়েছে তাদের দুই পরিবার। এই পয়লা বৈশাখের দিন কত মজা হত। সে সব কথা মনে হতেই রাস্তায় একদলা থুতু ফেলল গঙ্গাধর। অনেককালের জমা খানিকটা রাগ যেন ধুলোর সঙ্গে লেপটে গেল।

** ** **
গঙ্গাধর চলে যেতে বেশ খানিকটা হাসল রমণীমোহন। আস্তে আস্তে বলল, মূর্খ। অশিক্ষিত। ধরতেই পারল না কোন চিত্রনাট্য অভিনয় হয়ে গেল। ঠকবাজের ছেলে জানবে কালচার! চিনবে বিশ্বম্ভর রায়কে! ব্যবসা করে দু’টো পয়সা করেছে এই যা। আবার গায়ে পড়ে আদিখ্যেতা দেখাতে এসেছে। আর ছেলের কী দোষ, ওর বাপটাও ওরকম ছিল। আকাট মুখ্যু। বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। রমণীমোহনের এলেমের জেরে বড়লোক হয়েছিল, তাও উড়ে গেছে সব। অথচ সেদিন দোকানটা থাকলে আজ দুই বাড়িরই অবস্থা কত ভালো হত।
এই যে হালখাতার কথা বলল রমণীমোহন আসলে তো তার ব্যবসাপত্তর কিছু নেই। এককালে ছিল। গঙ্গাধরের বাপ পরিতোষ ছিল তার বন্ধু। একই গ্রামের ছেলে। একসঙ্গে ফুটবলে লাথি মেরে বড় হয়েছে। তবে পড়াশোনায় পরিতোষের কোনওদিনই মাথা ছিল না। বেশীদূর এগোতে পারেনি। রমণীমোহনও পারেনি। তবে তার বাড়ির আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল বলে। যখন রোজগারের রাস্তা ধরতে হল, তখন পাকেচক্রে এই পরিতোষের সঙ্গেই ভাগ্য জুড়ে গেল রমণীমোহনের। বাপের পয়সায় একখানা মুদি দোকান করেছিল পরিতোষ। রমণীমোহনকে সে দোকানের সঙ্গী করে নিল। আদতে কর্মচারী। কিন্তু ব্যবসার যাবতীয় দায়ভার গিয়ে পড়ল তার উপরেই। ব্যবসা জমল। টাকা আসতে শুরু করল। পরিতোষ হয়ে উঠল বাবু। সময়ে দোকানে আসে না, কাজ করে না। গদিতে বসে খালি মালিকানা ফলায়। পয়সা ওড়ানোর নানা ধান্দাও শুরু হল। মাল আনতে বড়বাজার যেত রমণীমোহনই। তাও মাঝে মধ্যেই শহরে যেত পরিতোষ। কেন যেত সে কী আর জানত না সে! এরকম করলে ব্যবসা লাটেই উঠত, যদি না রমণীমোহন হাল ধরত। ব্যবসা বাড়ায় রমণীমোহন, বাবুয়ানি বাড়ে পরিতোষের। তার জোরেই মোটামুটি গোবিন্দপুর এলাকার মান্যিগণ্যি হয়ে উঠেছিল পরিতোষ।
কিন্তু ওই কথায় বলে না, সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়, পরিতোষেরও তাই হল। শখ হল, দোকানের মূলধন সরিয়ে একটা ভিডিও হল খুলবে। দুবেলা হিন্দি ‘বই’, আর বেশী রাতের শোয়ে সব নোংরা সিনেমা। রমণীমোহন পই পই করে বারণ করেছিল। লক্ষ্মী চঞ্চলা। এমনধারা করতে নেই। তাছাড়া ওইসব দেখে পাড়ার ছেলেরা উচ্ছন্নে যাবে। পাপ হবে পরিতোষের। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ডানা গজালেই তো পিঁপড়ে মরে। পরিতোষও মরল ভিডিও হল করে। দোকানের মূলধনে টানাটানি পড়ল। রমণীমোহন আর কত তালি দিয়ে ফুটো কাপড় ঢাকবে! ধীরে ধীরে দাসদের ধ্যারধ্যারে দোকানটাই দাঁড়িয়ে গেল। পরিতোষ স্পষ্ট জানিয়েছিল, মুদি দোকানের ব্যবসা সে আর করবে না। রমণীমোহন চাইলে তার ভিডিওর ব্যবসায় আসতে পারে। রমণীমোহন পাপের রাস্তায় গেল না। বউ, সরমার গয়না বেচে কিছুদিন দোকান চালানোর চেষ্টা করেছিল, শেষমেশ দাসদের কাছে মার খেল। ব্যবসার মারটা রমণীমোহন হয়ত সয়ে নিতে পারত, কিন্তু হঠাৎ সরমার চলে যাওয়াটা নিতে পারল না। রমণীমোহন মেনেই নিয়ে ছিল যে তারা নিসন্তান, একটু বেশি বয়সে চেষ্টা করতে গিয়েই ঘটল অঘটন। চোখের সামনে তার সাজানো বাগানটা শুকোল। নিসন্তান রমণীমোহন তখন পুরোপুরি একা। লোকে দেখল সে ক্রমশ পাগল হয়ে যাচ্ছে। কী করে যে তার দিন-মাস-বছর কেটে যায় রমণীমোহন জানে না।
পরিতোষ তখন তাকে দেখলে আর চিনতেই পারত না। সে তখন ভিডিও হলের কাঁচা টাকার আয়ে উড়ছে। কিন্তু ক’বছর যেতে না যেতেই নিজেও মার খেল। আসলে ব্যবসার বুদ্ধি ছিল না তো। ওদের গোবিন্দপুর ছাড়িয়ে পরের গ্রামেই মস্ত একটা সিনেমাহল হল। পাকা ঝকঝকে। ইলেকট্রিক ফ্যান দেওয়া। দেখাদেখি পরিতোষও ভেঙেচুরে সব নতুন করে করতে গেল। হিসেব না করেই টাকাপয়সা লাগাল। তারপর যাকে বলে ভরাডুবি। এসব যখন হয়, গঙ্গাধর তখন ছোটই। পরিতোষ পাড়ায় রটাল, রমণীমোহনের চক্রান্তেই নাকি তার ব্যবসা উঠে যেতে বসেছে। ভিতর থেকে সব টাকাপয়সা সরিয়েছে সে। আরে লোকে কী চোখে দেখে না! তারই তো তখন দিন চলে না। সরমার গয়না গেছে। জমি জিরেত যেটুকু হয়েছিল তাও গেছে। নেহাত পেটে একটু বিদ্যে ছিল বলে দুটো টিউশন করে কোনওরকমে তার দিন চলে। তাও পাগল বলে কেউ ছেলে-মেয়েকে তার কাছে পাঠাতে চাইত না। একদিন শুনল পরিতোষ এখানকার সব বেচে দিয়ে চলে যাচ্ছে তার শ্বশুরবাড়ির দেশে। সেখানে সে নাকি নতুন ব্যবসা করবে। সরমার দুঃখে হোক, আর যাই হোক মাথায় আগুন জ্বলে গেল তার এ কথা শুনে। জনে জনে সে বলে বেড়িয়েছিল, যাক না, এখানেও মরেছে, ওখানেও মরবে। তা সত্যি মরল। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আক্ষরিক মরে গেল পরিতোষ। হার্টফেল। আর ওদের কোনও খবর জানত না সে। তারপর কতগুলো দিন যে কেটে গেছে! এখন আর সে মোটেও রমণীমোহন নয়। চিমসে চেহারার এক পাগল বুড়ো। মরে গেলেই ভালো। কিন্তু রমণীমোহন মরে না। কেন বেঁচে থাকে কে জানে! গঙ্গাধরের দোকানের কার্ডটা তুলে সে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে দেখল। মায়ের নামে দোকান করেছে ছোঁড়া।
** ** **
জন্মভিটে ছেড়ে যাওয়ার সময় ছোট গঙ্গাধর বাবার মুখে শুনেছিল রমণী কাকা তাদের শনি। মামাবাড়ি গিয়ে কদিন যেতে না যেতে বাবাই চলে গেল। ছোটবেলার মতো সুখ আর ছিল না। কষ্ট করেই কৈশোর থেকে যৌবনে পা দিয়েছিল গঙ্গা। জেদ ছিল একদিন গ্রামে ফিরে আবার সব করবে। ওখানেই ব্যবসা করে দেখিয়ে দেবে। বিদ্যেবুদ্ধি তারও বেশিদূর এগোয়নি। তবে গোঁফ গজানোর আগে থেকেই ব্যবসাটা বুঝে গেছে। এ-লাইনে ও-লাইনে ধান্দা করে পয়সা করেছে। তারপর একদিন গ্রামে ফিরেছে। বছরখানেক হল এখানে দোকান করেছে। জমি কিনেছে। লোককে দেখিয়ে দিয়েছে সে কী পারে। রমণীমোহনকেও। উনি তো এখন পাগল। বাড়ির বাইরে পা রাখেন না। লোকের মুখ দেখেন না। জেঠিমা মারা যাওয়ার পর থেকে কল্পনাপিসি, বিধবা হয়ে সেই কোন ছোটবেলায় বাপের বাড়ি ফিরে এসেছিল, সেইই পাগল লোকটার জল তোলা রান্না বান্না করে দিত। সেই ব্যবস্থাই এখনও চলছে। লোকের মুখে গঙ্গা শুনেছিল বটে যে, পাগল রমণীমোহন এখনও নাকি পুরনো দোকানের কথা বলে। আজ ইচ্ছে করেই গিয়েছিল। নিজের পরিচয় দিল। বুড়ো চিনলও। চোখটা চকচক করে উঠল। তারপর সিনেমার মতো করে এমন ভাব দেখাল যেন কোন টাটা বিড়লার কারবার আছে ওঁর। আজ গঙ্গা দেখিয়ে দিতে পেরেছে। কী দেখানোর ছিল সে জানে না, শুধু তার মনে হত কিছু দেখানোর ছিল। বাবার মুখে শুনে শুনে রমণীমোহনের উপর অকারণ একটা ঘেন্না ওর বুকে দলা পাকিয়ে ছিল। থুতু ফেলে দোকানের দিকে যেতে যেতে তার মনে হল বুকের কাছে সে চাপ যেন এতদিনে একটু হালকা হল।
** ** **
‘পূণ্যাহ ব্যাপারটা কী জানো তো গঙ্গা?’- রঙিন সরবতে চুমুক দিতে দিতে বলল ইস্কুলপাড়ার হাতুড়ে ডাক্তার সুবোধ। গঙ্গাধর মাথা চুলকে বলল, ‘আমি ব্যবসা করি, অত কী আর জানি বলুন। আমি শুধু জানি আপনারা আজ দোকানে আসবেন। সবার পায়ের ধুলোয় পয়লা বৈশাখ কাটবে। ব্যাস।’ সত্যি দোকানে একের পর এক লোক ঢুকছে। এ তল্লাটে এত বড় দোকান আর নেই। তার উপর পরিতোষের ছেলে এসে নতুন দোকান করেছে, এই বীরত্বগাথাতেই ঢ্যারঢ্যারে গোবিন্দপুরে তার একটা আলাদা কদর আছে। গণেশ-লক্ষ্মীর কৃপায় ব্যবসা তার বেশ ভালোই জমেছে।
সরবতে পরপর গোটাকয় চুমুক মেরে সুবোধ ডাক্তার বললে, ‘আসলে ব্যাপারটা হল জমিদারদের খাজনা আদায়ের বাহানা, বুঝলে? তোমার যেমন ধারবাকি উসুল হবে আজ।’
গঙ্গাধর বলল, ‘আরে না না। সে সব নয়। একই এলাকার লোক। ক’টাকা ধার থাকলে কী এমন হবে। এ তো আমাদের উৎসব।’ তার মনে পড়ল, এরকমই এক দিগগজ তাকে বলেছিল, এ নাকি বাঙালিদের উৎসবই নয়। রবি ঠাকুররা নাকি এই পয়লা বোশেখ পালন চালু করেছিল। সে কথা মনে পড়তেই গঙ্গাধর নিজেকে নিজে বলল, চুলোয় যাকগে, সে হালখাতা বোঝে, মিষ্টি-ক্যালেন্ডার বোঝে, দোকান সাজানো বোঝে- সেই ছোট্টবেলা থেকেই-এত কথায় তার কাজ কী বাবা!
** ** ** **
ফিরতে সেদিন রাত হল গঙ্গাধরের। দোকানের ছেলেদুটো ধরাধরি করে যা কিছু জিনিস বেঁচেছিল সব বাড়িতে ঢুকিয়ে দিল। বেশীরভাগটাই গঙ্গা ওদের দিয়ে দিল। আদ্যন্তে ব্যবসায়ী সে জানে, কর্মচারীর এক আনা খুশি মানে, তার আটানা লাভ। সদর দরজায় তালা লাগিয়ে গঙ্গা হাঁক দিল, মা...।
সাড়া নেই। গঙ্গা মায়ের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখতে পেল না। কী মনে হল একবার ছাদের দিকে গেল গঙ্গা। বেশ কয়েকটা সিঁড়ি পেরিয়ে ছাদের কাছাকাছি যেতে মায়ের গলা কানে এল তার, ‘একান্তই তাহলে ওকে কিছু বলবে না?’
‘নাহ। তার আর কাজ নেই। পাওনা আমার বাকি ছিল। ওর তো নয়। ও তো সবই পেয়েছে। নতুন করে পেলে শুধু আঘাতই পাবে।’
একটুখানি সব চুপ। কার সঙ্গে কথা বলল মা! গঙ্গাধর দাঁতে দাঁত চিপল। তার মনে হচ্ছে কোনও নিষিদ্ধ বইয়ের পাতার সামনে যেন চলে এসেছে সে। সে শুনতে পাচ্ছে, তার মা বলছে, ‘সেদিন তোমাকে ডেকেছিলাম, তাতে তো আমারই স্বার্থ ছিল।’
‘স্বার্থ? আমি তো নিজেকে অপরাধী করেছি এতদিন, দোষ দিয়েছি, ধিক্কার দিয়েছি সে কাজের জন্য’- রমণীকাকারই গলা শুনতে পেল গঙ্গাধর। নাহ কোনও ভুল নেই।
‘গঙ্গাকে তখন আনতে না পারলে সম্পত্তির এক কড়িও বাঁচানো যেত না। ভিডিওর কাঁচা টাকা আসছে তখন। আর তোমার বন্ধুর যে কী দোষ ছিল তুমি তো জানতেই। যতটা পেরেছি গঙ্গার নামে জোর করে রেখে দিয়েছিলাম। তাই তো একেবারে ঝি-গিরি করতে হয়নি। নইলে ... ’
গঙ্গার সামনে এখন গোটা পৃথিবী দুলছে। তার গোটা জীবনটাও যেন নাগরদোলার মতো অনবরত পাক খাচ্ছে। সে শুনছে তার মা বলছে, ‘তাছাড়া যে স্বামী টাকার জোরে বেলেল্লাপনা করতে পারে, তার সঙ্গে থাকতে আমার ঘেন্না করত। ছেড়ে যেতে পারিনি চক্ষুলজ্জায়। মনে মনে ঠিক করেছিলাম আমি যে জ্বালায় জ্বলছি ,ওকেও সেই জ্বালায় জ্বালাব।’
‘আমি একা, সরমা নেই, পাগল পাগল অবস্থা আমার, সেই সুযোগে আমাকে তাহলে ব্যবহার করেছিলে? আর আমি শত অপরাধবোধেও এক একদিন ভেবেছি...’- হঠাৎ চুপ করে গেল রমণীকাকা।
গঙ্গা শুনছে, তার এতদিনকার খুব চেনা মা নির্বিকারভাবে বলছে, ‘বলতে পার, বলতেই পার। তবে...’
‘কী তবে...’
‘সরমাকে আমি হিংসে করতাম। নইলে অন্য কাউকেও তো...’
একফালি চাঁদ বেয়ে খানিকটা নিস্তব্ধ জ্যোৎস্না ঝরে পড়ছে তখন পৃথিবীতে। সেই নরম আলোর বুক চিরে রমণীকাকা মাকে জিজ্ঞেস করছে,
‘পরিতোষ বিশ্বাস করত তোমাকে?’
‘অবিশ্বাস করেনি। তবে চোরা সন্দেহে জ্বলত। ও শহর থেকে মেয়েসঙ্গ করে এলে আমি যে আগুনে জ্বলতাম, অবিকল সেই আগুন, আমি ওকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছিলাম।’
‘এতদিন অনুশোচনায় হয়েছে। কিন্তু আজ যা পেলাম, তাকে কীভাবে নিই, কোথায় রাখি! এতদিন পর আমাকে এসব তো না বললেই পারতে।’
‘খাতায় বাকি পড়ে ছিল যে এতকাল। আর কতদিন ফেলে রাখতাম। তোমার পাওনা তুমি পেয়ে গেলে। নতুন বছর মানে জানো তো নতুন খাতা। পুরনো খাতার তো যাওয়ার সময় হয়ে এল। সব হালখাতায় লোকে পাওনা দিতে আসে, তোমাকে নিতে আসতে হল এই যা।’
আর শুনল না গঙ্গাধর। তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামছিল সে। কোথাও একটা চলে যেতে হবে তাকে। যেখানে হাওয়া দিচ্ছে। যেখানে পৃথিবী ঘুরলেও সে টের পাবে না। একটা স্থির সমতল ভূমিতে পৌঁছতে হবে তাকে। দ্রুত নামতে নামতে সে আর নিজেকেই যেন চিনতে পারছে না, তার শুধু মনে পড়ছে, হাতে কার্ড দিয়ে জোরজার করে মা-ই তাকে পাঠিয়েছিল, রমণীকাকাকে হালখাতার নিমন্ত্রণ করতে।

আপনার মতামত জানান