দুর্ঘটনা

পল্লব চট্টোপাধ্যায়


এবার সুরক্ষা সপ্তাহে অফিস ম্যাগাজিনে আমাকে সুরক্ষা-নিয়মাবলির পালন ও দুর্ঘটনা সম্বন্ধে কিছু লিখতে বলা হয়েছে । জীবনে দুর্ঘটনা অনেক দেখেছি, তার মাঝে আর কোনও নূতনত্ব কিছু পাই না । আবার একঘেয়ে সেকেলে-মার্কা গল্প লিখতেও ভাল লাগে না, ভাবি নতুন কিছু লিখতে হবে ।

এরই মাঝে একদিন আমাদের পাশের বাড়িতে, যেটা বেশ কিছুদিন ধরে খালি পড়েছিল, একটি পরিবার এল ভাড়াটে হয়ে । মনে হল, স্বামী-স্ত্রীর ছোট পরিবার, সাড়াশব্দ বিশেষ পাইনে । তবে পরদিন অফিস থেকে বাড়ী ফিরতেই গিন্নি খবরটা দিলেন । পাশের বাড়ির ভদ্রলোকের নাকি বাঁ হাতটা নেই, একটা অ্যাকসিডেন্টে কাটা গেছে ।...

শুনে একটু নড়েচড়ে বসলাম । গল্পের প্লট পাবার একটা ভাল চান্স আছে, একটু দেখাই যাক না । পরদিন ছিল রবিবার, পাশের বাড়ী গিয়ে হানা দিলাম ।

অতনুবাবু ছিলেন রেলওয়ে ওয়ার্কশপে ফোরম্যান । সেদিন শপ-ফ্লোরের উপরতলায় ম্যানেজারের অফিসে গেছিলেন একটা ফাইল নিয়ে । ফেরার পথে মেশিন শপের আইল দিয়ে হাঁটছেন, এমন সময় চোখ পড়ল তার দিকে । না পড়ে উপায়ও ছিল না । এরকম সুন্দরী সচরাচর চোখে পড়ে না, তাও আবার রেলওয়ে ওয়ার্কশপে ! মহিলাটি তাঁকে পার করে ম্যানেজারের অফিসের দিকেই যাচ্ছেন । অতনু তাঁর দিকে কতক্ষন তাকিয়েছিলেন মনে নেই, হঠাৎ ঘটাং-ঘট । একটি হুইল-বারো থেকে একটি কাঠের টুকরো গড়িয়ে পড়ল, এবং পরক্ষনেই যা ঘটল তা প্রায় অকল্পনীয় ।

অতনুবাবু অন্যমনস্ক ছিলেনই, তাঁর পা পড়ল ঐ কাঠে, একটি লেদের মেরামতির পর ট্রায়াল দেওয়া হচ্ছিল, তিনি উলটে পড়ার সময় বাঁহাত গিয়ে পড়ল আন-গার্ডেড চলন্ত শ্যাফটের মাঝে । মুহূর্তে একটা বাজে অ্যাকসিডেন্ট ঘটে গেল ।

হাসপাতালে অতনুবাবুর আলাপ হল ভদ্রমহিলার সাথে । তিনি একটি সফটওয়্যার ফার্মের প্রোগ্রামার, রেল তাঁদের কোম্পানিকে মেনটেনান্স ডেটাবেস তৈরির কন্ট্রাক্ট দিয়েছে । কিন্তু ততক্ষণে অতনুর তনু থেকে বাঁ-হাতটা এম্পুটেড । হয়ত ছাড়তে হত না, কিন্তু রান্নার গ্যাসের এজেন্সিটা গতমাসে পেয়ে চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন ।।

ইতিমধ্যে চা নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন একজন মহিলা । আমার স্ত্রী রমিতা, আলাপ করিয়ে দিলেন অতনুবাবু । দেখলাম, এবং দেখতেই থাকলাম । নাঃ, যে ঘটনায় রমিতার মত স্ত্রী-রত্ন লাভ হয়, তাকে কোনমতেই দুর্ঘটনা বলা চলে না !

এ যাত্রা আমার আর অফিসের জন্যে গল্প লেখা হল না ।

আপনার মতামত জানান