হাউস নং ফর্টি ফোর

আবেশ কুমার দাস


বাড়িঘর দেখে বেশ সাবেকি পাড়া বলেই মনে হয়। অবশ্য নৈহাটির এদিকটায় বনেদি লোকজনের বাস আগেই শুনেছিল পার্থিব। এসব ঘরের মেয়েরাও আজকাল নেমে যাচ্ছে এমন লাইনে! তাহলে আর বিয়ের বাজারে ভাল মেয়ের আকাল হবে না কেন।
বাড়ির নম্বরটা জানাই ছিল। কিন্তু এই লাইনে একেবারে আনকোরা তো। দুপুরবেলার পথচলতি লোকজনকে আর জিজ্ঞেস করতে সাহস হ’ল না চুয়াল্লিশ নম্বরের বাড়ি কোনটা। গলা শুকিয়ে কাঠ। যে কাজে আসা এত টেনশনে তাই বা ঠিকমতো হবে কিনা কে জানে।
ডিরেকশন অবশ্য দিয়েই দিয়েছিল কোয়েল, ‘মিত্রপাড়া ব্রাঞ্চ রোড দিয়ে বেরিয়ে যে রাস্তাটা পাবে...’ পার্থিব ভাবছিল কত সহজে এরা আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসতে পারে প্রথম দিনের ফোনালাপেই। তাও প্রথমেই যেখানে পরিষ্কার – বছর আষ্টেকের সিনিয়র পার্থিব। বয়সটা ঠিকঠাক বললেও নাম বা পেশার মতো তথ্যগুলো অবশ্য ভুলভাল দিয়েছে সে। বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক বলে পরিচয় দিতে কেমন যেন বাধছিল। বিশেষত যখন ফ্রেণ্ডশিপের দপ্তর থেকে জেনেশুনেই অন্য ক্যাটেগরি বাদ দিয়ে কলেজ গার্ল প্রোফাইলের কোয়েলকে বেছেছে। কিন্তু কাঁচরাপাড়া, শ্যামনগর বা ব্যারাকপুর বাদ দিয়ে হঠাৎ নৈহাটিতেই বা আসতে গেল কেন? হাঁটতে হাঁটতে নিজের মনেই ভাবছিল পার্থিব।
এই তো ভিডিও এডিটিং-এর দোকানটা। নামটাও মিলে যাচ্ছে। কোয়েল তবে ঠিকঠাক ডিরেকশনই দিয়েছে। উল্টোদিকের এই হলদে দোতলা বাড়িটার কলিং বেলই তাহলে টিপতে হবে এখন। অবশ্য উল্টোপাল্টা ঠিকানা দেবেই বা কেন মেয়েটা? এটা তো ওর একটা ইনকাম। কত কাস্টোমারকেই টাইম দেয়। পার্থিবর মতো আজ ঊনত্রিশের দোরগোড়ায় এসে সবে কৌমার্য ভাঙছে না।
‘মেশিনের কোনও প্রবলেম নেই তো?’ কত সহজে হাসছিল কোয়েল।
‘নেভার’ আপ্রাণে সপ্রতিভ হতে চাইছিল পার্থিম, ‘একদম খোসা ছাড়ানো...’
কলিং বেলে হাত রেখে মনে হচ্ছিল চাক্ষুষ দর্শনের আগেই সেই অপরিচিতার সামনে বিবসন হয়ে গেছে সে।
‘জাস্ট কামিং...’ গলার আওয়াজটা খেয়াল করেনি কিন্তু পর্দা সরাতেই যে চেহারাটা বেরিয়ে এল তাকে...
‘স্যার আপনি?’ প্রথমে চমকে উঠলেও মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়েছে মধুবন্তী। এই কারণেই কি সে...
অনেক প্রশ্ন মাথায় জট পাকিয়ে উঠলেও প্রাণপণে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে পার্থিব, ‘ইয়ে... তোমার গার্জেনদের সাথে কথা বলতে চাই। মানে আমি তো ঠিক... ফালতু নই...’
‘কিন্তু অ্যাড্রেস পেলেন কোথা থেকে?’ ভুরু কুঁচকে তাকায় মধুবন্তী।



আপনার মতামত জানান