জন্মদিন

কিংশুক পোদ্দার


বিপ্লব ঘোষ দস্তিদার। ফার্স্ট ইয়ার। জলপাইগুড়ির ছেলে। আদ্যপান্ত গুড বয়। এমনিতেই ভারি মন্যিগন্যি করে। ক্লাশের বাইরে দেখা হলে রেস্পেক্ট মাখিয়ে একটা 'গুডমর্নিং স্যার' বলে থাকে টাকে। আমারো বেশ লাগে।

যেদিন সকালে পীট সীগার চলে গেলেন, সেদিন যে ওর জন্মদিন জানতাম না। জানলাম লাঞ্চ ব্রেকের ঠিক আগে। বেলা এগারোটা নাগাদ এক বাক্স নলেন গুড়ের নরম পাঁক নিয়ে হাজির। ছেলে নাকি সকাল থেকে আমায় খুঁজে চলেছে, মিষ্টি খাওয়াবে বলে।

একটাতে হল না। দুটো নিতে হল। পাশের টেবিলের মুখুজ্জেও একটা নিল। বাইরে তখন কলাই ভাজার মতন মাইকের শব্দ,
"হ্যালো, হ্যালো, মাইক টেস্ট হ্যালো, বন্ধুগন।"

আমি হেসে বললাম – আজ না এলেই পারতিস। সারাদিন এই চলবে, ক্লাস ফাস কিসুই হবে না।
- ধুস বাড়ি থেকে কি আর করতাম?
- কেন? পাঁঠার মাংস, পায়েশ?
- সে তো রাতে
- তাহলে ঠাকুরবাড়ি? পেন্নাম টেন্নাম? মুখুজ্জে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলল।

হাত থেকে মিষ্টির প্যাকেট নামিয়ে টেবিলে রেখে ঢিপ করে পা ছুলো হঠাৎ। আমার না, মুখুজ্জের। দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে 'বেঁচে থাক বাবা' শুনলাম।

বাইরে তখন তীব্র স্বরে শহীদ স্মরণ চলছে। বেজায় কোরাসে "হবে না কো ব্যর্থ" কানে এল।

আমি হাত থেকে খাতার বান্ডিল নামিয়ে বললাম, “তা কমরেড, ওয়েন উইল দে এভার লার্ন?” এর পরের মুভটা আন্দাজ করেই নিজে থেকে বলে উঠলাম, “আমায় আবার ওসব করতে যাসনে যেন।“
- কেন স্যার?
- উনি এথেয়িস্ট। লোকনাথ বাবাতে বিশ্বাস করেন না। মুখুজ্জে খোঁচানি থামালেন।
- তাহলে স্যার? অশির্বাদ নেব কি করে?
- কেন হাত জোর করে প্রনাম কর। অরুন চ্যাটার্জির মতন।
- ধ্যাত
- ধুর বোকা। আশির্বাদ তো মন থেকে হয় রে। পা থেকে না।

হাত বাড়িয়ে ছেলেটার পাট করে আঁচড়ানো চুলগুলো ঘেটে দিলাম।

বাইরে শহীদ বেদীতে মাল্যদান সবে শেষ হয়েছে। কলাই ভাজা আবার বেজে উঠল .......

"বিপ্লব দির্ঘজীবি হোক"

আপনার মতামত জানান