ভিতরে বাহিরে...

অভীক দত্ত

 

-হাই।
-বলুন।
-আপনার ডিপিটা খুব সুন্দর
-লাভ নেই।
-মানে?
-আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
-তাতে কী? আপনার ডিপিটা সুন্দর সেটা বলা যাবে না?
-আগে থেকে সতর্ক করে দিলাম।
-আচ্ছা। বেশ করেছেন। কিন্তু একটা কথা বলুন তো, একজনের ছবি দেখে ভালো লাগার পরে তাকে সেটা জানানো কি খারাপ?
-না।
-তবে এভাবে রি অ্যাক্ট করার কি কিছু আছে? আপনার বয়ফ্রেন্ড থাকতে পারে বা আপনি বিবাহিত হতে পারেন। তার সাথে ডিপির সম্পর্ক কী?
-সম্পর্ক এটাই যে প্রথমে ছেলেরা ওই ডিপি সুন্দর দিয়েই কথাটা শুরু করে। তার কিছুক্ষণ পরেই নাম্বার চেয়ে বসে। আজকাল এই ব্যাপারটা এত বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে আমি শুরুতেই জানিয়ে দি আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
-কনগ্রাচুলেশনস।
-কেন?
-এই যে আপনার বয়ফ্রেন্ড আছে।
-এতে কনগ্রাচুলেশন জানাবার কিছু আছে কি?
-আছে তো। এই যে একজন বয়ফ্রেন্ডকে ঢাল করে আপনি পৃথিবীর তাবৎ গুণমুগ্ধকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারছেন। বয়ফ্রেন্ড না থাকলে আপনার কত সমস্যা হত সেটা ভাবুন।
-একটু বেশিই লিমিট ছাড়াচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না আপনার?
-দুঃখিত। তবে ভুল কিছু বললাম কি?
-না। ঠিকই বলেছেন।
-যাক। আপনি অন্তত সৎ।
-এর মধ্যে আপনি সততার কী দেখতে পেলেন?
-পেলাম না? আজকাল কোনো মেয়ে স্বীকার করবে এই সহজ সত্যিটা? এই যে উঁচু প্রাচীরটা আপনার কেল্লার চারপাশে আপনি দিয়ে রাখেন, তিন মাস পিং করে আজকে উত্তর দিচ্ছেন, এত কিছুর পরেও যে আপনি সৎ এটা কম ব্যাপার? তা আপনার বয়ফ্রেন্ড কি জিম করেন? নাকি গুন্ডা পোষেন?
-মানে?
-মানে আপনি যেভাবে বললেন বয়ফ্রেন্ড আছে সেই ছোটবেলায় শোনা “সাবধান জুজু আসছে মনে পড়ে গেল আর কী”।
-ডিসগাস্টিং। আপনাকে ব্লক করছি।
-ব্লক করবেন?
-ব্লক না করলে আপনার এই ভাট বকাগুলো শুনতে হবে!
-তা করুন। আচ্ছা আপনার বয়ফ্রেন্ড কী করেন? এইবার সিরিয়াসলি জিজ্ঞেস করছি।
-আই টি ফার্মে আছে। ফ্লোরিডায় অন সাইট গেছে আপাতত।
-ওহ। তাহলে তো তিনি নেই এখানে। এই ফাঁকে প্রেম করতে পারেন তো!
-এক্সকিউজ মি! আপনি কী সব বলে যাচ্ছেন বলুন তো?
-ভুল কী বললাম? আপনার বয়ফ্রেন্ড এখানে থাকেন না। আপনি মানসিক ভাবে তো একাই আছেন। জীবনে আরেকজন বয়ফ্রেন্ড তো থাকতেই পারে। তাই না?
-আপনাকে ব্লক করলাম।
...

২।
-কী হচ্ছে?
-কী আবার হবে? পড়তে বসলাম।
-ওহ। তাহলে আমি অফিস থেকে ফিরে পিং করছি।
-হ্যাঁ। পারলাম না। মাঝরাতে আমার কথা বলার শখ নেই। এখনই বল।
-বলছি এই পড়া টড়া করে কী হবে?
-মানে?
-মানে আবার কী? আমি তো ভালই রোজগার করছি এখন। ধীরে ধীরে এখানেই সেটল করে যাব। হাউজ ওয়াইফ হয়েই থাকবে। আর পড়াশুনা, এম এস সি এগুলোর কী মানে বলবে?
-অদ্ভুত তো! পড়াশুনা করব না কেন? পড়তে তো আমার খারাপ লাগে না! ভালই লাগে। জোর করে তো কিছু করছি না। এটা বলতে পারো যখন ভাল লাগবে না তখন ছেড়ে দেব। আর শোন, তুমি ওদেশেই সেটল করবে, তোমার বাবা ওদেশে যাবেন তো?
-ওদের কে নেবে?
-মানে? ওরা যাবেন না?
-কেন যাবে! বাবাকে তো তুমি চেনোই। বস্তা পচা সেন্টুর দোকান নিয়ে বসে আছে। বাবা কাকার বাড়ি। হাস্যকর না? ওই পোড়া দেশে কেউ থাকে? আজ ঝামেলা কাল ঝামেলা, এখানে ব্রিজ ভেঙে পড়ছে ওখানে তোলাবাজি, কে ফেরে দেশে?
-তবু আমার দেশই ভাল। সব খারাপ নিয়েই তো বাঁচতে হয় তাই না?
-আহ রাই, তুমি বুঝবে না। ওকে, একবার আমাদের বিয়েটা হতে দাও। এক মাস থাকার পরে নিজেই বলবে। কলকাতা এখন বস্তি বুঝলে? এখানে একটা পার্ক আছে। বিকেলে একটু গিয়ে বসবে। এত সুন্দর। সকালেও মর্নিং ওয়াক করতে পারো। তুমি তো আবার সকালে উঠে ওই কী সব টিউশন না কী কর, শিটি থিংস।
-শিটি থিংস বল আর যাই বল, আমার নিজের পড়ার খরচ আমি ওভাবেই তুলি। আমার বাবার কাছে হাত পাততে কেমন লাগে।
-আমার থেকে নেবে। প্রবলেম কী আছে?
-তোমার থেকে কেন নেব?
-হাহ। তোমাকে তো আমিই খাওয়াব পড়াব। নিতে লজ্জা কী? এখন থেকেই প্র্যাকটিসটা করে রাখ।
-ওই জন্যই তো পড়াশুনাটা করছি যাতে নিতে না হয়।
-ওই তো চাকরি পাবে হয়ত কোন স্কুলে, বারো পনেরো হাজার টাকা পাবে। কী হবে ওই টাকা দিয়ে? আজকাল ওই টাকায় কিছুই হয় না।
-আমার হয়। আমি তোমার মত সত্তর হাজারটাকার মোবাইল কিনি না তো। আমার হয়ে যাবে।
-হ্যাঁ হবে। টিউশন পড়িয়ে চালাও। আর শোন, ওই ক্লাস ইলেভেন টুয়েলভের ছেলেগুলির থেকে সাবধান। খুব ডেঞ্জারাস হয় ওগুলো। পড়তে পড়তে দেখবে তোমার বুবসের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
-মোটেও ওভাবে কেউ তাকায় না। নিজের দিদির মত ভালোবাসে।
-হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই তো! এখন হল পর্ণের যুগ আর পাকামির যুগ। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলো মোবাইলে পর্ণ দেখছে আর যৌনাঙ্গ উচিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দিল্লির রেপ কেসটা মনে আছে তো? একজন রেপিস্ট কিন্তু মাইনর ছিল।
-আশ্চর্য! হচ্ছিল কথা পড়ানো নিয়ে। এরমধ্যে তুমি দিল্লি রেপ পর্যন্ত টেনে আনলে? আচ্ছা আমি এখন অফলাইন হচ্ছি।
-রাগ করলে নাকি?
-রাগ করার কিছু নেই। তবে তোমাকে একটা কথা বলি, তোমার মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে, তুমি আমাকে ক্রীতদাসী মনে কর। মনে রেখো, আমি তোমার ক্রীতদাসী নই। আমার একটা আলাদা লাইফ আছে। ট্রাই টু রেসপেক্ট ইট।
-আচ্ছা। সরি। বাই।
-হু।

৩।
-হাই।
-হাই।
-আপনি সত্যি সত্যি আমায় ব্লক করে দিলেন?
-আপনি!!! আবার!!! এটা আরেকটা প্রোফাইল?
-হ্যাঁ। একটা ফেক বানিয়েই রেখেছিলাম। আমি জানতাম আপনি ব্লক করবেন। তাই এটা থেকেও অনেকদিন আগেই ফ্রেন্ড রিকু পাঠিয়ে বন্ধু হয়েই ছিলাম চুপচাপ।
-এটাও ব্লক করব।
-সে করুন। তার আগে বলুন আপনার ফ্লোরিডা নিবাসী বয়ফ্রেন্ড কেমন আছে?
-ভাল আছে। খুব ভাল আছে। আমাকেও শিগগিরি নিয়ে যাবে তো ওখানে।
-তাহলে পাকাপাকি ভাবে আপনি ওখানেই থাকবেন?
-হ্যাঁ ওখানেই থাকব। এদেশে কী আছে আর?
-তাই তো? এদেশে তো কিছুই নেই। ভীষণ ওয়াইজ ডিসিশন। আপনার নোবেল পাওয়া উচিত।
-দেখলেন? আপনার ট্যারা ট্যারা কথাগুলো আবার শুরু হয়ে গেল। এই জন্য আপনি ব্লক খান।
-ব্লক খাই সেটা ঠিক আছে কিন্তু একটা কথা বলুন তো।
-কী?
-যে কথাগুলো বলি তার একটাও ভুল? আর সত্য অপ্রিয় হলেও তো সত্যই হয় নাকি?
-দেখুন মশাই, আপনাকে একটা কথা বলি। আজ এমনিতেই আমার মটকা গরম হয়ে আছ। ভাট বকবেন না প্লিজ।
-বাহ। আপনি তো সুন্দর স্ল্যাং ইউজ করতে জানেন। অথচ দেখলে কেমন রাবিন্দ্রিক মামণি মনে হয়।
-সে আপনি যা ইচ্ছা ভাবুন না। ভাবতে কে বারণ করেছে? আর শুনুন, রাবিন্দ্রিক মামণি টামণি যা ইচ্ছা বলতে পারেন, কিন্তু আমি স্ল্যাং ইউজ করি। নিজের মত থাকি। কারও জন্য বা কাউকে ইমপ্রেস করার জন্য নিজেকে পাল্টাই না। এটুকু বলতে পারি।
-বাওয়া। আজ দেখছি রাণী লক্ষীবাঈ হয়ে আছেন। কী ব্যাপার? বয়ফ্রেন্ডের সাথে বাওয়াল হল নাকি?
-কী হয়েছে না হয়েছে তার কৈফিয়ত কি আপনাকে দেব নাকি?
-না তা দিতে হবে না। আচ্ছা আপনি ব্লক করার হলে করে দিন।
-বকুন বকুন। আপনি বকুন। তারপর ঠিক টাইমে ব্লক করে দেব।
-তা কী নিয়ে হল ঝামেলা?
-বললাম তো কিছু হয় নি।
-আরে বলুন। অপরিচিত লোকের সামনে মনের কথা বললে কাজও তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। আপনি হালকাও হতে পারবেন।
-আপনাকে বলে কী হবে? আপনি তো ঠেস মেরে ছাড়া কথাই বলতে পারেন না।
-আচ্ছা আর মারব না। বলুন।
-কী বলব? ও অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছে। কলেজে যখন পড়ত, চাকরি বাকরি পায় নি, অনেক সরল সাধা সিধে ছেলে ছিল একটা। চাকরি পাবার পর থেকেই দেখছি ভীষণ অহংকারী হয়ে গেছে। অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।
-এটা তো লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপের ঝামেলা। এটা ঠিক হয়ে যাবে। এর একটা সলিউশন বলি?
-বলুন।
-আপনি একটা চুটিয়ে প্রেম করুন আরেকজনের সাথে।
-দেখেছেন? আপনাকে কেন ব্লক করি? আবার ভাট বকা স্টার্ট। গো টু হেল!!!
...
৪।
-রাই
-কী?
-একটা কথা বলি?
-বল।
-বলতে খারাপ লাগছে। কিন্তু আমি ঠিক করেছি আমাদের মধ্যে পুরো ট্রান্সপারেন্সি থাকবে।
-আচ্ছা। কিন্তু সমস্যা থাকলে বোল না। জোর করার কিছু নেই।
-ওহ। তাহলে বলেই ফেলি?
-হ্যাঁ।
-বলছি, আমি আর ভার্জিন নেই।
-মানে?
-মানে আর কিছু না। এক কলিগের অ্যাপার্টমেন্টে পার্টি ছিল। ওখানেই এক মেয়ের সাথে নেশা করতে করতে যা হবার হয়ে যায়। তবে আই মাস্ট সে, ইট ওয়াজ অসাম!
- সত্যিই করেছ না ইয়ার্কি মারছ? আমাকে খেপাচ্ছ?
-আরে রিয়েলি। তবে ভয় নেই। প্রোটেকশন নিয়ে করেছি যা করার। এইচ আই ভির ভয় নেই।
-আমার মাথা কাজ করছে না।
-সিলি ইন্ডিয়ান সেন্টু মার্কা গার্ল তো! মাথা কাজ করবে না। সেক্সটাকে তো এভারেস্টে তুলে রেখে দিয়েছ। আমি তো প্রপোজাল দিয়েই দিয়েছিলাম এখানে আসার আগে আমাদের ফ্ল্যাটে যেদিন বাবা মা এসছিল সেদিন ফার্স্ট এক্সপেরিয়েন্সটা করতে। তা তুমি কী করলে? জামা খুলতে গিয়ে কত ন্যাকামি! আমি কী করব বল? আমারও তো ইচ্ছে করে?
-বিয়ের পরেও তুমি এসব করবে?
-তুমি একবার এসো এখানে। এসব কোন ব্যাপার না। তুমি শুনবে? ইভেন পার্টনার সোয়াইপও হয়। এর বউ তার সাথে, তার বউ এর সাথে। এক ঘেয়ে লাইফ থেকে বাঁচতে হবে তো বল?
-পার্টনার সোয়াইপ? তুমি সহ্য করতে পারবে আমার সাথে অন্য কেউ সেক্স করলে?
-হা হা হা... কেন পারব না? আসলে তুমি না এমন একটা এনভায়রনমেন্টে আছ, যেখানে এসব ভাবা একটু বেশিই চাপের। পোস্ট ম্যারেজ এক ঘেয়েমি যে কী ব্যাপার সেটা তোমাকে বোঝানো যাবে না। তাছাড়া শরীর আর মন তো এক না। ভালবাসাটা তো থাকবে। দেখো না, আই স্লেপ্ট উইথ দ্যাট বিচ, ফাকড হার হার্ড, অথচ এখন ভাল করে ওর মুখটাও মনে পড়ছে না। কিন্তু আমি তোমার সাথে স্মুচ আর ওই প্রাইভেট পার্টে একটু হাত বুলানো ছাড়া তেমন কিছুই করি নি। কিন্তু আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি বল? তুমি সেটা ফিল কর না। আর কী জান, সেক্স আর লাভ ইজ নট সেম। দুটো পুরো আলাদা। বিয়ের পর অনেক কাপল যদি আলাদা আলাদা সেক্স করতে পারত, তাহলে বিয়েটা অনেক বেশি রোম্যান্টিক হত কারণ তারপরে তারা যখন নিজেদের মিট করবে, তখন অনেক বেশি ইন্টারেস্ট পাবে একে অপরের সম্পর্কে। কী বললাম বুঝতে পারলে?
-আমি আর কিছু বুঝি না বুঝি একটা কথা বুঝছি।
-কী?
-ওই দেশটা আমার জন্য না। আমার কিছু প্রাইমারি রুলস আছে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তার মধ্যে ফার্স্ট প্রায়োরিটি অবশ্যই যেটা আছে সেটা হল আমি তোমাকে কারও সাথে শেয়ার করতে পারব না। ফিজিক্যালি কিংবা মেন্টালি।
-হা হা হা। টিপিক্যাল কনসারভেটিভ মেন্টালিটি। তবে জানো তো, তোমাদের মত মেয়েরা আবার ঘোমটার নীচে খ্যামটাটা বেশি নাচে তো! সকালে তো বাড়ি টাড়ি ফাঁকাই থাকে, তোমার বাবা বাজার করতে যায়, তোমার মা রান্না করে, ওই ছেলেগুলোকে দিয়ে টেপাও ঠেপাও না তো? গ্রুপ সেক্স করেছ?
-তুমি এসব কী বলছ? এসব কী?
-ঠিকই বলছি। শোন, তোমাকে একটা কথা বলি। এই সব ন্যাকামো, আর পড়ানো টড়ানো বন্ধ কর। কত আর পাও, মাসে দু হাজার, তিন হাজার? ও আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি তোমার অ্যাকাউন্টে। আর কত কী টাকা লাগে দেখো, এখানে চলে আস। আমরা দারুণ মজা করব একসাথে।
-শোন। তোমাকে একটা কথা বলি।
-বল।
-তোমাকে আমি ব্লক করছি। এর উত্তরে তুমি কী বল, সেটা আমার শোনারও বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। তোমাকে আমি অনেক সহ্য করেছি। এখানে যখন থাকতে একটা ছেলের সাথে কথা বললেও হাজার ফ্যাকরা তুলতে। ওদেশে গিয়ে সাপের পাঁচ পা দেখেছ বলে ভেবে নিয়েছে আমায় যা খুশি বলবে আর আমি সেগুলো সব মেনে নেবে। আমি তোমাকে টাকা বা নিরাপত্তার জন্য ভালবাসিনি। ভালবেসেছিলাম ভালবেসেছিলাম বলে। কোন কারণ ছিল না। কিন্তু এখন তুমি সেই আগের ছেলেটা নেই। আমি তোমাকে ভালবাসি না। আগের ছেলেটাকে ভালবাসি।
আর শোন, ভবিষ্যতে কোনদিন আমার সাথে কোন রকম যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করবে না। জাস্ট গো টু হেল।

৫।
-হাই।
-আজ আমি কার মুখ দেখে উঠলাম বলুন তো?
-কেন?
-এই যে ব্লকড হয়ে ছিলাম। এখন দেখছি আপনি ব্লক রিমুভ করে ফোন করছেন। এতো জাস্ট ভাবতেই পারছি না।
-আপনাকে একটা খবর দেবার জন্য পিং করলাম।
-কী?
-আপনি ওই যে ফার্স্ট দিন ওই বড় বড় কথাগুলো বললেন, কেল্লা টেল্লা এট সেট্রা, সেটা যে কত ভুল এবার আপনাকে বলি। আই ব্রোক আপ উইথ হিম।
-তাই?
-তাই... বেশ করেছেন। তা এবার কী প্ল্যান?
-কোন প্ল্যান নেই। অনেক হল রিলেশনশিপ। এবার একটু নিজের মত করে বাঁচব না হয়।
-উফ। পারি না। তা একটা কথা তো আমিও বুঝতে পারছি।
-কী?
-আপনি আমার সাথে প্রেম করতে চান।
-আপনি আবার শুরু হয়ে গেলেন?
-নইলে আনব্লক করলেন কেন?
-আপনাকে এই কথাগুলো শোনাবার ছিল। শুনিয়ে দিলাম। এবার আবার ব্লক করে দেব।
-হা হা হু হু... হবে না। আটচল্লিশ ঘণ্টা আমাকে সহ্য করতে হবে আপনাকে।
-আমি ফেসবুকই খুলব না।
-বললে হবে? আপনি এভাবে আপনার বয়ফ্রেন্ডের প্রোফাইলেও যাবেন অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে। সে আপনাকে ছেড়ে ভাল আছে কী মন্দ আছে তার স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য ওয়েট করছেন।
-আপনি আমাকে এখনও চেনেন নি তাহলে। আমি এক কথার মানুষ। নিজেই দেখবেন। এই দুদিন আমি ফেসবুকই খুলব না।
-বেস্ট অফ লাক।
-হুহ।

৬।
-শুনুন মিসেস সেনগুপ্তা, আপনার মেয়েকে ভাল করে দেখলাম। সমস্যা কিছু নেই খুব একটা। তবে মারাত্মক মেন্টাল শক খেয়েছে আপনার মেয়ে।
-হ্যাঁ। ওর একটা রিলেশন ছিল। আমরা জানতাম। কিন্তু ছেলেটা ব্রাইট স্টুডেন্ট। ভীষণ ভাল। ওর সাথে কী হল আমরা তো এখনও বুঝতে পারছি না।
-নাহ ম্যাম। সমস্যা অনেক গভীরে। ছেলেটা এদেশ থেকে যাওয়ার পরেই আপনার মেয়ে মারাত্মক ইনসিকিউরিটিতে ভুগতে থাকে। নিজে নিজেই একটা অল্টারনেটিভ প্রেমিক ক্যারেকটার তৈরি করে ফেসবুকে। একদিকে প্রেমিক ছেলেটি আপনার মেয়েকে মারাত্মক মেন্টাল প্রেশার দিয়ে যেত, আর আপনার মেয়ে কাউকে এমনকী আপনাকেও কথাগুলো বলতে না পেরে ওই ইমাজিনারি প্রোফাইলের কাছে গিয়ে বানানো সংলাপ দিয়ে আসত। প্রথম দিকে একটা থেকে লগ আউট করে আরেকটায় ঢুকে নিজেকে রিপ্লাই দিয়ে আসত। তারপরে ধীরে ধীরে আরও জটিল হতে থাকে ওর মস্তিস্ক। নিজেই নিজেকে টাইপ করেছে, নিজের সাথেই ওই প্রোফাইলের চ্যাটবক্সে কথা বলে গেছে। মাঝে মাঝে প্রোফাইলটা ব্লকও করত। পরে অবশ্য আরও শকিং তথ্য পাই।
-কী সেটা?
-আপনার মেয়ের ব্রেক আপ এদেশ থেকে ছেলেটি যাওয়ার আগেই হয়। দে হ্যাড সেক্স। ছেলেটি আপনার মেয়েকে ফেসবুকে ব্লক করে দেয়। নাম্বারও চেঞ্জ করে ফেলে। ছেলেটি বাইরে যাবার প্রথম তিন চার দিন আপনার মেয়ে কিছুই করে নি, তারপর নিজেই ওই ছেলেটির প্রোফাইল বানায়। তার কিছুদিন পর দ্বিতীয় ছেলেটির। দুজনের সাথেই কাল্পনিক কথাবার্তা চালিয়ে যেতে থাকে। পুরোটাই ফেসবুকে। ওদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে যেরকম ধারণা হয়, সেরকম টাইপ কথাবার্তাও ছেলেটার সাথে বলেছে, আবার নিজে তার কাউন্টার যুক্তিও দিয়েছে ছেলেটা সেজে। বাই দ্য ওয়ে, আপনার মেয়ের সাথে খুব বেশি একটা সময়...
-নাহ। আমার অফিস...
-হ্যাঁ... আপনিও দেখেন নি, বা অতটা খেয়াল করেন নি। সম্ভবত আপনার মেয়ের অসম্মতিতেই ছেলেটি ওই কান্ডটি করে। ইট ওয়াজ আ রেপ। কাউকে বলতে পারে নি, প্রেম করত বলে। গুমরে গুমরে থাকত ভিতরে ভিতরে। তারপর থেকেই আপনার মেয়ে মানসিক ভাবে যে শকটা পায় তার থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারে নি। কিন্তু আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল, আপনার মেয়ে সোশ্যাল লাইফেই এইসব করে এসেছে, বাড়ির কাজ বা পড়ানো সবই নিখুঁত ভাবে পালন করে এসেছে। যার ফলে আপনারা বুঝতেই পারেন নি শুরুর দিকে। বেশ কিছু কাউন্সেলিং করাতে হবে, আর কী বলব বলুন...

৭।
-রাই।
-বল মা।
-তোর কিছু চাই এখানে?
-আমাকে মোবাইলটা এনে দেবে মা? একজন আছে। ওকে অনেক কথা বলার আছে।

অভীক দত্ত


পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আদরের নৌকার সম্পাদক। গান, গল্প আর আড্ডা ছাড়া থাকতে পারি না। আর আদরের নৌকা ছাড়া বাঁচব না, এটা তো এতদিনে আপনারাও জেনে গেছেন...

আপনার মতামত জানান