এটা গল্প হলেও পারত

অভীক দত্ত

 

১)
“ওই, কী রে? গেমটা পেলি?”
“হ্যাঁ পেলাম। চরম ভাই”।
“মরতে বলেছে? মরবি নাকি?”
“ক্ষেপেছিস? ঠিক সময়ে কেটে পড়ব”।
২)
“অর্চি মিত্র”।
“হ্যাঁ বলছি”।
“আমি কিউরেটর ওয়ান বলছি। তোমার ঠিকানা বল। আশা করব সঠিক ঠিকানাটাই বলবে”।
“বলছি... “
“ধন্যবাদ। প্রথম চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি?”
“হ্যাঁ প্লিজ বলুন”।
“এখন তোমাদের ওখানে ক’টা বাজে?”
“সন্ধ্যে সাতটা”।
“কাল তিনটে তিরিশে উঠবে। একটা লিংক দেখবে ইনবক্সে এসছে। সেই ভিডিওটা ভোর চারটে কুড়িতে হেডফোনে ফুল ভলিউম দিয়ে শুনবে”।
“আচ্ছা”।
৩)
“কী রে বাবু? ঘুমাচ্ছিস কেন এখনও? সকাল ন’টা বেজে গেল। ঈশ! কম্পিউটারটা অবধি খোলা রেখে ঘুমিয়েছে”।
“যাও না মা। উঠছি এখনই।
৪)
“হ্যালো কিউরেটর”।
“বল”।
“আজ কোন টাস্ক নেই?”
“না”।
“প্লিজ কিছু দিন”।
“তোমার ফার্স্ট টাস্কটা খুব বাজে ছিল। ভিডিওটা দেখো নি তুমি পুরোটা”।
“আমার ভয় লাগছিল”।
“সেটাই তো টাস্ক ছিল। যাই হোক। তুমি নেক্সট চ্যালেঞ্জের জন্য এলিজিবল না”।
“প্লিজ প্লিজ এরকম করবেন না। আচ্ছা আপনি টাস্ক দিন আমি আরেকবার ট্রাই করব আজ”।
“আর ইউ শিওর”।
“হান্ড্রেড পারসেন্ট”।
“গুড”।
৫)
“বাবু, তোর হাতে ওটা কিসের কাটা দাগ রে?”
“কেটে গেছে মা”।
“এভাবে কেটেছে? মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছা করে কেটেছে”।
“ধুস কী যে বল। বাস থেকে নামতে গিয়ে কেটেছে”।
“টিটেনাস নিবি আজ”।
“না না। ওসব লাগবে না”।
“কিচ্ছু শুনব না। নিতেই হবে”।
৬)
“হ্যালো, কিউরেটর”।
“বল অর্চি”।
“কালকের টাস্ক বল প্লিজ”।
“কালকের টাস্কটা ইজি”।
“প্লিজ বল”।
“কাল তুমি সারাদিন কারও সঙ্গে কথা বলবে না”।
“এ বাবা কাল আমার স্কুল আছে তো”।
“তাতে কী? সেই জন্যই তো কাজটা কঠিন”।
“ওকে। আই শ্যাল ট্রাই মাই বেস্ট”।
“ডোন্ট ট্রাই... ডু ইট”।
৭)
“এই অর্চি, এই”...
...
“কীরে কী হল তোর? কথা বলছিস না কেন?”
...
“যাহ্‌... এর আবার কী হল? আচ্ছা লিখে দে। কী? মৌনব্রত! এ আবার কী? শিট! ছেলেটা পাগল হয়ে গেছে”।
৮)
“হ্যালো কিউরেটর”
“বল”
“কালকের টাস্ক প্লিজ”।
“কালকের না, এখনই”।
“বল”।
“বাইরে বৃষ্টি পড়ছে?”
“হ্যাঁ”।
“যাও গিয়ে ভেজ। যতক্ষণ বৃষ্টি হবে ততক্ষণ ভেজো”।
“জ্বর হয়ে যাবে আমার”।
“তো? সেটাই তো চ্যালেঞ্জ”।
“আচ্ছা”।
“গো, গো বয়”।
৯)
“অর্চির জ্বর হল কী করে?”
“কে জানে, কাল আমরা বাইরে গেছিলাম না? ফিরে দেখি কাঁপছে। বৃষ্টিতে ভিজেছে নাকি”।
“উফ। দেখো দেখো ছেলেটার দিকে নজর দাও। কী করে সারা দিন”।
“আরে অত চিন্তা কোর না। তোমার ছেলে ঠিকই আছে”।
১০)
“অর্চি”।
“বলুন কিউরেটর”।
“কাল তোমার ঠোঁট কেটে ফেলবে ব্লেড দিয়ে”।
“কী করে পারব?”
“একদম সহজ। ব্লেড নেবে, ঠোঁটের একদিক কেটে দেবে”।
“মা জিজ্ঞেস করলে কী বলব?”
“সেটা আমি বলব কেন? সেটাও চ্যালেঞ্জে ইনক্লুডেড”।
“ওকে স্যার”।
১১)
“অর্চি”।
“বল সায়ন”।
“তুই এখন আর গেমটা খেলিস?”
“নাহ। তুই?”
“আমি ওসব দেখি না। কীসব ভুলভাল”
“হুহ, ভালই করিস, বাচ্চাদের জন্য ওসব না”।
১২)
“অর্চি”।
“বলুন কিউরেটর”।
“কাল ছাদে যাবে, ছাদ থেকে ঝাঁপ মারবে”।
“মরে যাব তো, আমাদের ছাদ ছ তলায়”।
“মরে গেলে যাবে”।
“মানে?”
“তুমি না মরলে তোমায় সায়ন মারবে। অনীক মারবে। এবার তুমি ডিসাইড কর তুমি মরবে না ওরা তোমাকে মারবে। ওহ, আই নো, বেসিক্যালি ইউ আর এ কাওয়ারড। বাট মনে রেখো, তুমি না মরলে তোমার বাবা মা দুজনকেই আমরা মেরে দেব। আমাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তোমার কোন ধারণা নেই”।
“আই অ্যাম নট এ কাওয়ারড!”
“রিয়েলি?”
“ইয়েস স্যার”।
“আরেকটা অপশন আছে”।
“বলুন স্যার”।
“নিজে না মরে তোমার মাকে মেরে ফেল”।
“প্লিজ স্যার। মাকে না, আমি নিজেই মরব”।
“দ্যাটস কুল। ডু দ্যাট”।
“আই অ্যাম নট আ কাওয়ারড স্যার”।
“দেন প্রুভ ইট, কাল সকাল আটটা। ইউ আর গোয়িং টু জাম্প। ডান?”
“ডান স্যার”।
১৩)
“মা”।
“বল বাবা”।
“একটু ঘুম পাড়িয়ে দেবে মা”?
“কেন কী হল হঠাৎ করে? রোজ তো কত রাত অবধি জাগিস”।
“আজ খুব ঘুমাতে ইচ্ছা করছে। ঘুম পাড়াবে? প্লিজ?...”
...


অভীক দত্ত


পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আদরের নৌকার সম্পাদক। গান, গল্প আর আড্ডা ছাড়া থাকতে পারি না। আর আদরের নৌকা ছাড়া বাঁচব না, এটা তো এতদিনে আপনারাও জেনে গেছেন...

আপনার মতামত জানান