বসু বাড়ি

অভীক দত্ত

 

১।
বাবা গম্ভীর হয়ে বসে আছে।
মাও।
শুধু আমি গম্ভীর হতে পারছি না। হাসি পেয়ে যাচ্ছে ছোটকাকে দেখে।
ছোটকা সিরিয়াস মুখে বসে আছে।
মা বলল, “ঠাকুরপো”।
ছোটকা বলল, “বল বউদি”।
মা বলল, “তুমি তার মানে বিয়ে করবে না? এক্কেবারে পণ করেই নিয়েছো?”
ছোটকা মাথা নাড়ল, “হ্যাঁ বউদি”।
বাবা বলল, “তা একদিকে ঠিকই করেছে। বিয়াল্লিশ বছর বয়সে আর বিয়ে করে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার কোন মানে হয়ও না”।
ছোটকা খুশি হয়ে বলল, “যা বলেছিস বড়দা”।
বাবা রেগে গিয়ে বলল, “শাট আপ স্টুপিড। তোর এই গোয়েন্দাগিরির জ্বালায় আমরা অস্থির হয়ে গেলাম সেটা বুঝতে পারিস?”
ছোটকা বলল, “কেন? অস্থির হবার কী আছে বল তো বড়দা? একদিন এই ঘোষ বাড়ির নাম সবাই জানবে। লোকে তোকে দেখিয়ে বলবে, এই দেখুন বিখ্যাত প্রাইভেট ডিটেকটিভ শুভব্রত ঘোষের দাদা যাচ্ছেন, তোর ভাল লাগবে না? গর্বে তোর বুক ফুলে উঠবে না, বল?”
আমি ফিক করে হেসে ফেললাম।
বাবা আমার দিকে করা চোখে তাকিয়ে বলল, “পিকলু?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ বাবা”।
বাবা বলল, “অংকগুলো হয়েছে?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ বাবা”।
বাবা বলল, “একটা অঙ্কও যদি ভুল হয়েছে, তাহলে তোর একদিন কী আমার একদিন”।
আমি বললাম, “ঠিক আছে বাবা”।
বাবা বলল, “ছোটকার সঙ্গে ঘোরা বন্ধ কর। তোর ছোটকা পাগল হয়ে গেছে”।
ছোটকা খুব সিরিয়াস গলায় বলল, “শোন বড়দা, পিকলুর মধ্যে এক দারুণ গোয়েন্দা লুকিয়ে আছে। তুই দেখবি একদিন পিকলু সবাইকে ছাপিয়ে যাবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট না, বরং পিকলুই একদিন মূল ডিটেকটিভ হবে আর আমি ওর অ্যাসিস্ট্যান্ট হব। তুই মিলিয়ে নিস”।
বাবা গর্জন করে উঠল, “থাক ছোট। নিজে গেছিস ঠিক আছে, পিকলুর মাথাটা খাস না। এত কম বয়সে এত ভাল চাকরি ছেড়ে তুই ফিক্সড ডিপোজিটের টাকায় জীবন কাটাবি, এটা ভাবতেই আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে”।
ছোটকা বলল, “তা কেন? আমার এজেন্সী থেকে টাকা আসবে না ভেবেছিস? কোন অসুবিধে হবে না। একা মানুষ, দিব্যি চলে যাবে”।
বাবা বলল, “সে তুই কী করবি তুই জানিস। আশা করব ভাইপোর পড়াশুনোটা যেন ঠিক পথে যায় সেটা দেখবি”।
ছোটকা মধুর একটা হাসি হেসে বলল, “একদম ভাববি না সেসব”।
বাবা খানিকটা শান্ত হল।
মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ঘরে যা। গিয়ে পড়াশুনা কর। ছোটকাটা গেছে। তুইও যাস না তাই বলে”।
মা রান্নাঘরে চলে গেল।
বাবা বাজারে বেরোল।
ছোটকা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “বসুবাড়িতে মুঘল যুগের একটা কয়েন হারিয়েছে। বাজারে লাখ পনেরো টাকা দাম সে কয়েনের”।
আমি নেচে উঠলাম, “কেসটা দিয়েছে তোমায়?”
ছোটকা বলল, “আমাকে না দিয়ে যাবে কোথায়? আমি অবশ্য সাত্যকির থেকে জানলাম। সাত্যকি ও বাড়িতে টিউশন পড়ায়। ওরা পুলিশের কাছে যেতে চাইছে না কারণ ও বাড়িতে আরো কিছু মূল্যবান জিনিস আছে। খবর লিক হলে চাপ আছে। সাত্যকি আমার কথা ওদের বলেছে, আপাতত ওর ফোনের অপেক্ষাতেই আছি”।
কথাটা শেষ হল না, ছোটকার ফোন বাজতে শুরু করল।
ছোটকা হাসি হাসি মুখে আমার দিকে তাকাল।

জয়রাজ বোসরা আমাদের এলাকার বনেদী বড়লোক। স্কুল যাবার পথে ওদের বাড়িটা পড়ে। অনেকটা জায়গা নিয়ে তিনতলা বাড়ি।
ছোটকা আর সাত্যকিকাকুর সঙ্গে যখন বাড়িটায় ঢুকলাম, তখন দুপুর বারোটা বাজে।
রবিবার দুপুর। বাড়িতে মাংস রান্না হচ্ছে। সব ত্যাগ করে ছোটকার সঙ্গে এলাম। ওয়াটসন কিংবা তোপসেরাও নিশ্চয়ই এভাবেই মাংসের মায়া ত্যাগ করত।
আমাকেও করতে হবে।
সাত্যকিকাকু বসুবাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে বলল, “জয়রাজবাবুর মেজাজ বেশ তিরিক্ষে। অপমানিত বোধ করতে পারিস”।
ছোটকা বলল, “অপমানিত বোধ করলে আর গোয়েন্দা হতে হবে না। তুই চ দেখি”।
কলিং বেল বাজাতে এক ভদ্রলোক দরজা খুললেন। সাত্যকিকাকুকে দেখে ভদ্রলোক হাসলেন, “এসো। ইনিই কি…?”
সাত্যকিকাকু বলল, “হ্যাঁ দাদা, ও আমার বন্ধু শুভব্রত। ওর কথাই বলছিলাম। শুভ, ইন, প্রবোধ বসু। জয়রাজবাবুর বড় ছেলে। ওর ছেলে রোহনকেই আমি পড়াই”।
ছোটকা হাত জোড় করল।
প্রবোধবাবু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আর তুমি?”
ছোটকা বলল, “আমার ভাইপো। কয়েনটার কথা শুনে খুব প্রশ্ন করছিল, নিয়ে এলাম। ইতিহাস ওর প্রিয় সাবজেক্ট তো। এসব নিয়ে ওর খুব আগ্রহ”।
আমি হাঁ হয়ে গেলাম। বেমালুম ঢপ মেরে দিল পুরো। আমি আর ইতিহাস? বরাবর দশ মাইল দূর থেকে হাঁটি।
প্রবোধবাবু খুশি হলেন, “বাহ, তাহলে তো বাবার সঙ্গে ওর বেশ ভাল জমে যাবে। আমার বাবা ইদানীং গুপ্তযুগোত্তর ভারতের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন। এসো এসো”।
আমি ঢোক গিলে ওদের বাড়ির ভিতর ঢুকলাম ছোটকা আর সাত্যকিকাকুর সঙ্গে। খুব ইচ্ছা করছিল ছোটকাকে একটা জোর চিমটি কাটি। গুপ্তযুগোত্তর ইতিহাস? আমার বইটা দেখলেই কেমন পেট গুড়গুড় করে।
বেশ বড় ড্রয়িং রুম। প্রবোধবাবু আমাদের বসিয়ে বললেন, “বাবাকে খবর দিই। আপনারা বসুন”।
প্রবোধবাবু বাড়ির ভিতরে চলে গেলেন।
আমি ছোটকাকে গলা নামিয়ে বললাম, “আমার ইতিহাস ভাল্লাগে? আর ঢপ পেলে না?”
ছোটকাও গলা নামিয়ে বলল, “যদি বলতাম তুই জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট, তাহলে ভাল হত? চুপ করে বসে থাক। আমি সামলাচ্ছি”।
জয়রাজবাবু এলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই। চেহারা দেখে বয়সটা সত্তরের উপরেই মনে হল।
আমরা উঠে দাঁড়িয়েছিলাম। আমরা লম্বা সোফায় বসে ছিলাম। উনি সেটার পাশের ছোট সোফায় বসে আমাদের বললেন, “বসুন। সাত্যকি আপনার কথা আমাকে বলেছে। আমার পুলিশে আপত্তি আছে। কিন্তু আপনি জবাব দিলে হয়ত”…
ছোটকা বললেন, “আমি একটু বিস্তারিত জানতে পারলে ভাল হত”।
জয়রাজবাবু আমার দিকে তাকালেন।
প্রবোধবাবু দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাবাকে বললেন, “বাবা তোমার জেনে ভাল লাগবে, এই ছেলেটির প্রিয় বিষয় ইতিহাস। ও কয়েনের ব্যাপারটা শুনে আর থাকতে পারে নি। চলে এসেছে”।
জয়রাজবাবুর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল, “তাই নাকি? কী নাম তোমার?”
আমি বললাম, “অর্জুন ঘোষ। ডাকনাম পিকলু”।
জয়রাজবাবু বললেন, “বাহ, সুন্দর নাম। তা পিকলুবাবু, বল তো, দিন ই ইলাহী কে প্রবর্তন করেছিলেন?”
বাপরে! পুরো মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি জানতাম। বললাম, “আকবর”।
জয়রাজবাবু বললেন, “সাবাশ”।
পরক্ষণেই ছোটকার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার কাছে একটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল দিন ই ইলাহীর প্রবর্তন সম্পর্কিত। রেয়ার কয়েন। তিন দিন ধরে পাচ্ছি না। সোনার লোভে কেউ ও জিনিস গলিয়ে ফেললে মহা ক্ষতি হয়ে যাবে। এর কিউরিও ভ্যালু বুঝতে পারছেন?”
ছোটকা বলল, “কোত্থেকে চুরি হল দেখানো যাবে?”
জয়রাজবাবু উঠে দাঁড়ালেন, “আসুন”।
৩।
বসুবাড়ি আমাদের মফঃস্বলের খুব নাম করা বাড়ি। বাবার কাছে শুনেছি জয়রাজ বোসের বাবা অম্লান বোস স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। আমাদের অঞ্চলের প্রত্যেকেই তাদের সম্ভ্রমের চোখে দেখে।
সে বাড়িতে স্বয়ং জয়রাজ বসুর নিজস্ব কিউরিও কালেকশনের ঘরে ঢুকতে পারব তা কল্পনাও করতে পারি নি।
বেশ বড় একটা ঘর। তালা চাবি দেওয়া ছিল। জয়রাজবাবু পকেট থেকে চাবি বের করে তালা খুলে বললেন, “আসুন”।
আমরা ঘরটায় প্রবেশ করলাম। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা ঘর। বেশ কয়েকটা বড় বড় আলমারি। আর দেওয়ালে বেশ কয়েকটা পেইন্টিং। রুচির ছাপ স্পষ্ট।
ছোটকা বলল, “এই ঘরটা কে পরিষ্কার করেন?”
প্রবোধবাবু বললেন, “লক্ষী। ও আমাদের বাড়ি সব ঘর ওই পরিষ্কার করে রাখে। মা মরা মেয়ে। ছোট থেকে আমাদের বাড়িই মানুষ”।
জয়রাজ বললেন, “আমার উপস্থিতি ছাড়া লক্ষী এই ঘরে আসে না। আসুন এবার মুদ্রাটি কোথায় ছিল, সেইটে দেখাই”।
জয়রাজবাবু এগোলেন। একটা ছোট আলমারি খুললেন। তার ভিতরে একটা গোদরেজের লকার। কম্বিনেশন লক খুলে বললেন, “দেখুন, লকার খালি। যিনি এই চুরিটি করেছেন, তিনি লকারের কম্বিনেশন কী জানতেন, জিনিসটি নিয়ে লকারটি এবং আলমারিটি সযত্নে বন্ধ করে গেছেন। আমি রোজই আমার সব অমূল্য জিনিসগুলি এই ঘরে এসে একবার করে পরীক্ষা করি। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি লকার ফাঁকা”।
ছোটকে লকারটা এক্কেবারে পাকা গোয়েন্দার মত দেখে টেখে বলল, “ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে এই লকারের। সেটা পুলিশকে না জানিয়ে কী করে করা যাবে… আচ্ছা আমি দেখছি। ল্যাবে আমার এক বন্ধু আছে বটে। আচ্ছা, আপনি ছাড়া এই লকারের পাসওয়ার্ডগুলো এ বাড়ির কে জানে?”
জয়রাজ প্রবোধবাবুর দিকে দেখিয়ে বললেন, “আমার জ্যেষ্ঠপুত্র ছাড়া আর কেউ জানে না। সেক্ষেত্রে প্রবোধের উপরেই সমস্ত সন্দেহের তীর যায় বটে। কিন্তু বুধ এবং বৃহস্পতিবার প্রবোধ, বউমা এবং রোহন মানে আমার নাতি, ওদের মামাবাড়িতে ছিল। আমার ছোট ছেলে প্রত্যুষের এই সব কিউরিও সম্পর্কে একবারেই আগ্রহ নেই। সে সারাক্ষণ শেয়ার বাজার নিয়ে পড়ে আছে”।
ছোটকা বলল, “আমি সবার সঙ্গে একবার করে কথা বলতে পারি?”
জয়রাজবাবু প্রবোধবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি সবাইকে ড্রয়িংরুমে আসতে বলে দাও”।
প্রবোধবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
ছোটকা বলল, “এত অমূল্য সম্পত্তি যে ঘরে, সে ঘরে সিসিটিভি রাখার ব্যবস্থা করলে ভাল হত না?”
জয়রাজবাবু বললেন, “একবার ভেবেছিলাম। কিন্তু কী জানেন তো, এ হল মফস্বল, যাই করবেন, সবাই জেনে যাবে। বড় গোপনে করা আমার এই কালেকশন। সাধে কি আর পুলিশে খবর দিতে চাইছি না? হাজার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং শেষমেশ কিছুই হবে না। এই জিনিসগুলোর ঐতিহাসিক মূল্য বুঝবে না এদিকে ঘরটা তল্লাশির নামে তছনছ করে দিয়ে চলে যাবে। বুঝতে পারছেন তো সমস্যাটা?”
ছোটকা বলল, “আপনি সন্দেহ করছেন আপনার বাড়ির মধ্যে থেকেই কেউ এই কান্ডটা করেছেন, তাই তো”?
জয়রাজবাবু ইতস্তত করে বললেন, “তাছাড়া তো আর কারো সে সুযোগ ছিল না”।
ছোটকা বলল, “গত এক মাসে এই ঘরে কে কে এসেছেন?”
জয়রাজবাবু বললেন, “আমার বন্ধু অতীশ আসে মাঝে মাঝে। ও রিটায়ার্ড স্কুল টিচার। এছাড়া আর দুজন এসেছিল। একজন কলকাতা থেকে, তার নাম রুপেশ আগরওয়াল। আমাকে একটা তীব্বতি পুঁথি সাপ্লাই করতে এসেছিল। রুপেশ এসবই করে। অনেক দিনের পরিচয়। তাছাড়া এসেছিল…”
জয়রাজবাবুর কথা শেষ হল না, প্রবোধবাবু এসে বললেন, “বাবা, সবাই ড্রয়িংরুমে এসে গেছে”।
জয়রাজবাবু বললেন, “তুমি যাও, আমি আসছি ওদের নিয়ে”।
প্রবোধবাবু বেরোলে জয়রাজবাবু ছোটকার দিকে তাকিয়ে বললেন, “এই সময়েও যখন দেশে ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ তুঙ্গে উঠছে, তখন আজ থেকে এত বছর আগে একজন মুসলমান শাসক তার মত করে ধর্মে ধর্মে মিলনের কথা বলে গেছিলেন। আমার সংগ্রহশালার সব থেকে অমূল্য রত্ন ছিল মুদ্রাটি। আপনি ফিজের ব্যাপারে ভাববেন না”।
ছোটকা বলল, “ফিয়ের ব্যপারে আমিও ভাবছি না জয়রাজবাবু। অমূল্য জিনিসটি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। আপনি কি পুলিশকে এই জন্যই খবর দিতে চান না, যে তারা জানলে এই সমস্ত সংগ্রহই জাদুঘরে জমা দিতে বলা হতে পারে?”
জয়রাজবাবু হাসলেন, “আপনি বুদ্ধিমান। সাত্যকি ঠিকই বলেছিল। চলুন, ড্রয়িংরুমে যাওয়া যাক”।
৪)
রোহনদা আমার স্কুলের সিনিয়র। প্রবোধবাবুর ছেলে। ছোটকা যখন বলল বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলবে, জয়রাজবাবু রোহনদাকে বললেন আমাকে ওর ঘরে নিয়ে যেতে। আমি একটু মুষড়ে পড়লাম। পরক্ষণে মনে পড়ল ছোটকা ভয়েস রেকর্ড করবে সবার, বাড়ি গিয়ে শুনে নিলেই হল।
রোহনদা ক্লাস ইলেভেনে পড়ে৷ খাটের ওপর ল্যাপটপ রাখা। আমি ওর ঘরে ঢুকতে বলল, "ঠাকুরদা খুব রেগে আছেন"।
আমি বললাম, "কয়েনের জন্য?"
রোহনদা বলল, "হ্যাঁ। অবশ্য রাগার কারণও আছে। ওই ঘরে আমাদের সবার প্রবেশ নিষেধ। আর কি না সেখান থেকেই জিনিসটা চুরি হয়ে গেল?"
আমি বললাম, "তোমার ইতিহাস ভাল লাগে?"
রোহনদা ঠোঁট উল্টে বলল, "ক্ষেপেছিস? আমার ফুটবল ভাল লাগে। আমি সি আর সেভেন ফ্যান"।
কথাটা বলতে চোখে পড়ল ঘরের এক দিকে রোনাল্ডোর বিরাট একটা পোস্টার।
রোহনদা বলল, " তুই কার ভক্ত?"
আমি বললাম, "ফেলুদা"।
রোহনদা বলল, " আরে ধুস, আমি বলছি ফুটবলে কার ভক্ত?"
আমি বললাম,"মেসির"।
রোহনদা আমার দিকে জুলজুল করে তাকিয়ে বলল, "তাহলে আমরা অপোনেন্ট"।
আমি বললাম, " সেসব ছাড়ো,আমাকে একটু তোমার ঠাকুরদার কালেকশনের ব্যাপারে বল"।
রোহনদা চিন্তিত মুখে বলল, " ঠাকুরদার কালেকশন? একবার দেখেছিলাম বটে। বেশ ভাল কিছু কয়েন, স্ট্যাম্প আছে, কিছু তিব্বতি পুঁথি আছে আরও কী কী যেন আছে। আর হ্যাঁ, আমার ঠাকুরদা কিন্তু কৈলাস গেছিলেন দশ বছর আগে। সেখান থেকে কী কী সব এনেছিল, আমার মনে নেই, বাবাকে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবে।"
আমি বললাম, "কয়েনটা হারানোর পরে ঠাকুরদা তোমায় কী বললেন?"
রোহনদা বিরক্ত হয়ে বলল, "এই, তুই দেখি ফেলুদার চেয়েও এক কাঠি উপরে উঠে গেছিস। এত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়?"
আমি বললাম, "বল বল। আমার জানতে ইচ্ছে করছে"।
রোহনদা একটু ভেবে বলল, "আসলে কোন মানুষ যখন তার প্যাশনকে ফলো করে, তখন সে জিনিসের পান থেকে চুন খসলে সে লোকটা তুলকালাম করবেই। ঠাকুমা মারা যাবার পর থেকে ঠাকুরদা অনেক বেশি করে এসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল৷ খানিকটা মাইন্ড ডাইভারসান প্রসেস আর কী৷ আমরা ফিরে এসে যখন কয়েনের ব্যাপারে জানিতে পারি, আমি ঠাকুরদার ঘরে যাই। গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন। আমায় বললেন, দাদুভাই, আমার সর্বনাশ হয়ে গেল।
আমার খারাপ লাগল। স্বাভাবিক। ঠাকুরদার মন খারাপ হলে আমারও মন খারাপ হয়। আমি ঠাকুরদাকে একবার জিজ্ঞেস করলাম, আমি দেখব তোমার লকারটা? ঠাকুরদা বললেন নাহ। আমি তারপরে আর বিরক্ত করি নি"।
আমি চুপ করে বসে রইলাম। রোহনদার পি এস ফোর আছে। ফিফা খেলতে শুরু করলাম দুজনে। ঘন্টাখানেক বাদে ছোটকা এসে বলল, " চল রে। এবার বাড়ি যেতে হবে"।
রোহনদার সঙ্গে মিশে ভাল লাগল। এত বড় বাড়ির ছেলে অথচ বিন্দুমাত্র অহংকার নেই। আবার আমাকে বলল যখন খুশি যেন ওদের বাড়ি যাই। ফিফা খেলা যাবে।
বসু বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাত্যকিকাকু ছোটকাকে বলল, "কেসটা জটিল আছে। পারবি তো রে? আমার প্রেস্টিজের ব্যাপার।"
ছোটকা বলল, "ছোটছেলের ব্যবসাপত্তরের ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে। আর ইয়ে, জয়রাজবাবুর বন্ধু, কী নাম যেন বললেন, ও হ্যাঁ, অতীশবাবু, ওর বাড়ি চিনিস?"
সাত্যকিকাকু বলল, "হ্যাঁ চিনি। রামজয় রক্ষিতের সামনের বাড়ি। তুই যাবি?"
ছোটকা বলল, "হ্যাঁ, সে তো যেতেই হবে। কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করার আছে। জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। আর একটা উইন্ডো ছোট করে আনতে হবে।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কীসের উইন্ডো?" ছোটকা বলল, "জয়রাজবাবুর কথা অনুযায়ী চুরি হয়েছে বৃহস্পতিবার। উনি বুধবার রাত্রিবেলা কয়েনটা দেখেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতের বেলা কয়েনটা পান নি। তার মানে চুরির সময় কাল এই চব্বিশঘন্টার মধ্যে। এবার প্রশ্ন হল, কোন সময়টা?" ছোটকাকে চিন্তিত দেখাল।
৫)
"আমার বন্ধুটি অত্যন্ত সজ্জন একজন মানুষ। কিন্তু যেদিন থেকে এই কিউরিও সংগ্রহের বাতিক ওর মাথায় ঢুকেছে, বিশেষ করে বউদি চলে যাওয়ার পরে, সেদিন থেকে ও একবারে অন্য মানুষ হয়ে গেছে"।
অতীশ রায় এই কথা দিয়েই শুরু করলেন কথোপকথন।
বিকেলবেলা। আমি আর ছোটকা এসেছি অতীশবাবুর বাড়িতে৷
ছোটকা বলল, "এ কথা কেন বলছেন? কিউরিও সংগ্রহ বাতিক কেন হতে যাবে?"
বাড়ির ভিতর থেকে একজন লোক এল। অতীশবাবু ছোটকাকে বললেন, "চা খাবে তো? আর তোমার ভাইপো কী খাবে? হরলিক্স?"
ছোটকা বলল, "আমরা কেউই চা খাই না"।
অতীশবাবু লোকটিকে কিছু একটা ইশারা করলেন। উনি চলে যেতে বললেন, " বাতিক যে কোন বিষয়েই হতে পারে, যদি তুমি সেটা নিয়ে বেশি পাগলামি শুরু কর। জীবন শেষ হতে এসেছে, এখন ঠাকুরদেবতার আশ্রয়ে যাবে কোথায়, তা নয়, বলছে আবার নেপাল যাবে৷ এই বয়সে কে সামলাবে কিছু হলে?"
ছোটকা নড়ে চড়ে বসল, "নেপাল যাবেন? কই, এই নিয়ে কিছু বলেন নি তো। অবশ্য সে প্রসঙ্গ ওঠেও নি"।
অতীশবাবু বললেন, " হ্যাঁ, তেনজিং নোরগের কোন আত্মীয়র খোঁজ পেয়েছে। তেনজিং নাকি তাকে কীসব জিনিস দিয়ে গেছেন, যা নাকি অমূল্য। আমি অনেক করে বলছি ওরে আমাকে নিয়ে যাস না, বুড়ো বয়সে কি হাড় গোড় ভাঙব পাহাড়ে গিয়ে, তা কে শোনে তার কথা? ও আমাকে নিয়ে যাবেই।"
ছোটকা বলল, "আপনার সংসার?"
অতীশবাবু বললেন, "আমার এক ছেলে। দিল্লিতে সেটলড। গিন্নি ছেলের কাছে আছে। কথা আছে কাঠমান্ডু থেকে আমি আর জয় দিল্লি ফিরে গিন্নিকে নিয়ে এখানে ফিরে আসব"।
ছোটকা বলল, " আচ্ছা। এই কয়েনটি আপনি দেখেছিলেন?"
অতীশবাবু ঘাড় নাড়লেন, "বিলক্ষণ। যা পাবে সবার আগে আমাকেই তো দেখায়। স্বর্ণমুদ্রা হিসেবেও জিনিসটির দাম কম নয়"।
ছোটকা বলল, " হ্যাঁ, জয়রাজবাবু ভয় পাচ্ছেন কোন অশিক্ষিত চোরের হাতে পড়লে হয়ত সে এই মুদ্রাটি গলিয়ে..."
অতীশবাবু বিষন্নভাবে মাথা নাড়লেন, "খুব বাজে ব্যাপার হবে সেটা। আমার বন্ধুটি বাতিকগ্রস্থ হতে পারে, তবে ওর থেকে ভাল এসব জিনিস এ চত্বরে কেউ বোঝে না। রবি ঠাকুরের নোবেল নিয়েও আমি একই কথা ভাবি৷ চোর যদি শুধু সোনার লোভে সে বস্তুটি গলিয়ে ফেলে, তাহলে কী হবে? মানুষের লোভ বড় বিষম বস্তু"।
ছোটকা বলল, " জয়রাজবাবুর লকারটির পাসওয়ার্ড আপনি জানতেন?"
অতীশবাবু বললেন, "নাহ। সেটা ও কাউকেই বলত না"।
ছোটকা বলল, " প্রবোধবাবুকে বাদ দিয়ে"।
অতীশবাবু বললেন, "একজনকে তো জানাতেই হবে। ছোটটির তো আবার এসব দিকে কোন ইন্টারেস্টই নয়। ঈশ্বর না করেন, জয়ের কিছু হয়ে গেল, তখন কারো তো অন্তত জানা উচিত"।
ছোটকা বলল, " আপনার প্রবোধবাবুকে সন্দেহ হয়?"
অতীশ হেসে উঠলেন, "একেবারেই না। জয়রাজের সুযোগ্য পুত্র। তাছাড়া খামোখা এ মুদ্রা চুরি করতে যাবেই বা কেন? ওদের কি টাকা পয়সার অভাব?"
ছোটকা বলল, "তাহলে প্রত্যুষবাবুকে?"
ওই লোকটা এল হাতে দুটো প্লেটে সিঙ্গারা আর রসগোল্লা নিয়ে। টেবিলে রেখে চলে গেল।
অতীশবাবু বললেন, "প্রত্যুষের মধ্যেও এসব বদগুণ আছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না"।
ছোটকা চিন্তিত মুখ বলল, " সবাই সন্দেহের উর্দ্ধে হলে তো সমস্যা হয়ে যাবে"।
অতীশবাবু হাসলেন, "হু। কেসটা কঠিন। তোমার অ্যাসিড টেস্ট হবে বোঝাই যাচ্ছে। নাও নাও, সিঙ্গারাগুলোর সদগতি করে ফেলো। সামনে খাবার রেখে এভাবে বসে থাকতে নেই"।
ছোটকা হাত বাড়িয়ে একটা প্লেট নিয়ে আমাকে দিয়ে বলল, " খা৷ "
আমি আর না করলাম না। গরম সিঙ্গারাকে কি না বলা যায়?
৬।
ফেলুদার রিভলভার ছিল। কাকাবাবুরও।
ছোটকার সেসব কিছু নেই। হবে হয়ত সামনেই। ছোটকাকে সে কথাই জিজ্ঞেস করতে ওর ঘরে গিয়ে দেখলাম ছোটকা ল্যাপটপে কী সব সার্চ করছে।
আমি বললাম, “কী দেখছো ছোটকা?”
ছোটকা বলল, “আকবরি মোহর আজকাল কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেসবই দেখছিলাম। অসংখ্য ফেক সাইট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইন্টারনেটে। কত লোক যে এই নেশায় পড়ে টাকা জলাঞ্জলী দেয়, তা কহতব্য না। যাক গে, কাল একবার কলকাতা যেতে হবে”।
আমি বললাম, “সে যেও। আমাকে রেকর্ডিংগুলো শোনাও। কে কী বলল”।
ছোটকা তার ফোনটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “সব ক’টা ছোট ছোট ফাইলে আছে। একটা ডায়েরী নে। কোন কিছুতে খটকা লাগলে নোট কর। তারপরে আমি আবার শুনব। ঠিক আছে?”
আমি মাথা নেড়ে কানে ইয়ারফোন গুজলাম।
প্রথম রেকর্ডিংটা প্রত্যুষবাবুর।
এরকম শোনাল
-আপনার নাম?
-প্রত্যুষ বসু।
-আপনি জয়রাজ বাবুর ছোট ছেলে। তাই তো?
-হ্যাঁ।
-বৃহস্পতিবার দিন কয়েনটা চুরি হয়। আপনি ওই দিন কোথায় ছিলেন?
-বাড়িতেই ছিলাম। কাজ করছিলাম নিজের ঘরে।
-আপনি কয়েনটা কোন দিন দেখেছিলেন?
-দেখি নি, কিন্তু তার কাহিনী বাবার কাছে অনেকবার শুনেছি।
-শুনে দেখবার ইচ্ছে হয় নি একবারও?
-না মশাই। সত্যি বলতে কী আমার এসব কোন কালেই ভাল লাগে না। নেহাত বাবার শখ, বারণ করতে পারি না।
-বিরক্তি আছে আপনার জয়রাজবাবুর এই শখটি ঘিরে?
-খানিকটা।
-আচ্ছা। আপনি কাউকে সন্দেহ করছেন?
-আমার বাবাকেই সন্দেহ। বাবার বয়স হচ্ছে তো, দেখুন কোথায় গুছিয়ে রেখে দিয়ে নিজে ভুলে গিয়েছে।
-কয়েনটার দাম কত হতে পারে আপনার ধারণা আছে কোন?
-পনেরো ষোল লাখ। আন্দাজে বললাম।
-আপনি ব্যবসা করেন শুনেছি।
-ঠিক শুনেছেন। শেয়ার বাজার সম্পর্কিত ব্যবসা আমার।
-আপনার বাবার আপনার ব্যবসা করা নিয়ে কোন দিন আপত্তি ছিল?
-ছিল। খানিকটা জোর করেই ব্যবসা করা শুরু করেছিলাম। আমার যখন ছাব্বিশ বছর বয়েস, আমি চাকরি ছাড়ব মনস্থ করি। বাবা বারণ করেছিল। শুনি নি। পরে বাবা এনে নেয়। আই মিন, মেনে নিতে বাধ্য হয় আমার একগুয়েমির জন্যই।
-আচ্ছা। ভাল থাকবেন।
-আপনিও।
রেকর্ডিংটা শুনে ছোটকাকে বললাম, “তোমরা আলাদা কথা বলেছো? জয়রাজবাবুর সামনে বল নি?”
ছোটকা বলল, “ক্ষেপেছিস? ওর সামনে এসব আলোচনা করা যায়? কয়েন হারানোর শোকে উনি বিহ্বল প্রায়। তার ওপরে বাপের সম্পর্কে ছেলেদের কী ধারণা তাও তো আমাকে আলাদা ভাবেই জানতে হবে। সামনা সামনি থোড়িই বলবে কোন ছেলে”।
আমি বললাম, “তা ঠিক”।
ছোটকা বলল, “কী বুঝলি?”
আমি বললাম “বুঝলাম তুমি প্রত্যুষবাবুকে বেশি প্রশ্ন করতে পারো নি”।
ছোটকা হাসল, “গুড অবজারভেশন। ভদ্রলোকের চোখ মুখ থেকে বিরক্তি ঝরে ঝরে পড়ছিল। যেন মারাত্মক কোন অপরাধ করে ফেলেছি ওকে প্রশ্ন করে। বাপ বলেছে বলে একপ্রকার অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রশ্নের উত্তর দিতে এসেছিলেন”।
আমি বললাম, “হু। আমাদের সারপ্রাইজ টেস্টগুলোর মত। পরীক্ষা দিতে ইচ্ছা করে না অথচ স্যার বলেছে যখন পরীক্ষা তো দিতেই হবে”।
ছোটকা বলল, “হ্যাঁ। একদম তাই। অন্য সময় রাস্তায় দেখা হলে কথাও বলতেন না হয়ত। যাই হোক, পরের রেকর্ডিংগুলো শুনতে শুরু কর”।
আমি হেডফোনটা নিলাম।
পরের গলাটা মল্লিকা বসুর। প্রবোধবাবুর স্ত্রী।
“-আপনি জয়রাজবাবুর এই কিওরিও কালেকশন সম্পর্কে ইন্টারেস্টেড ছিলেন?”
-ছিলাম। বাবার ও ঘরে আমি প্রায়ই যেতাম। আমার ইতিহাস প্রিয় বিষয় ছিল। ও ঘরের একটা আলাদা টান আছে।
-আপনি বৃহস্পতিবার দিন এ বাড়িতে ছিলেন না। প্রবোধ বাবু, রোহন এবং আপনি আপনার বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন।
-হ্যাঁ, সল্টলেকে। বাবার কাছ থেকে ফোনে ঘটনাটা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যাই।
-আপনি কাউকে সন্দেহ করেন?
-সেভাবে ভেবে দেখি নি। তাছাড়া ও জিনিসের থেকেও একটা দামী জিনিস ও ঘরে আছে। সেটা যখন অক্ষত আছে, আমি আর অন্য কিছু ভাবি নি।
এই কথাটা শুনে ছোটকা বুঝলাম ঘাবড়ে গেছিল। তবে প্রশ্নটা ঠিক করল, “কোন জিনিসের কথা বলছেন আপনি?”
-ও বাবা আপনাকে বলে নি? তাহলে আর বলব না। না বলাটাই শ্রেয়।
-অ্যাজ ইউ উইশ। আচ্ছা, আসুন।
-ধন্যবাদ”।
আমি ছোটকাকে বললাম, “এই ছোটকা, বসুবাড়িতে আর কী অমূল্য জিনিস আছে?”
ছোটকা বলল, “বললেন না শুনলি তো। আমিও আর ঘাটাই নি। কী দরকার? যত কম জানব, তত ভাল’।
আমি আর কী বলব। আবার রেকর্ডিং শুনতে শুরু করলাম।
(ক্রমশ)

অভীক দত্ত


পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আদরের নৌকার সম্পাদক। গান, গল্প আর আড্ডা ছাড়া থাকতে পারি না। আর আদরের নৌকা ছাড়া বাঁচব না, এটা তো এতদিনে আপনারাও জেনে গেছেন...

আপনার মতামত জানান