প্রসঙ্গঃ দাড়ি থাকলেই কি রবি ঠাকুর হওয়া যায়?

কিঙ্কিণী বন্দ্যোপাধ্যায়

 

বইমেলা-নন্দন-প্রেসিডে ্সী-যাদবপুর-কফি হাউস বা অন্য কোনো আঁতেলখচিত পুণ্যভূমিতে গেলেই দেখতে পাবেন একাধিক চোখ জুড়ানো দৃশ্য— দাড়িবান ও মাথায় ঝুঁটিবান কখনো কখনো খোঁপাবান মহাপুরুষেরা কখনো পাঞ্জাবী, কখনো টি-শার্ট পরে চোখে সানগ্লাসের সঙ্গে সঙ্গে নন-আঁতেলদের প্রতি একরাশ অছেদ্দা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। ভাবটা এমন যে, “এরা এখানে কেন? ছিঃ! সত্যি কলকাতায় কোনো কালচার নেই!” সত্যিই তো, কলকাতার কালচার ধরে রাখার জন্য তাঁদের সঙ্গে গাঁজার কলকেতে একটা ফুঁ না দিলে আপনি আঁতেল সমাজে পাত্তা পাবেন না।

যাকগে যাক, হচ্ছিল দাড়ির কথা ----- প্রাতঃস্মরণীয় ( ব্যাসবাক্য ঃ স্মরণ করার জন্য অ্যালার্ম দিয়ে রেখে কি জ্বালা সেই প্রাতেই উঠতে হবে! ) দাড়িবান ভদ্রলোক (যিনি একশ বছর আগে নোবেল পেয়েছিলেন বলেই বাঙ্গালী পাত্তা দেয়, হাজার হোক সাহেবদের দেওয়া পেরাইজ রে পাগলা ) নাকি কবিতা লিখেছেন প্রচুর, প্রেম করেছেন দেদার, তা সেই দাড়ির জোরেই কিনা কে জানে! তাই রাখো দাড়ি, বনো কবি। অবশ্য ছবিতে দেখা যায় তাঁর মাথায় চুলও ছিল বেশ। কিন্তু চুল রাখলে আবার চাপ আছে, আমি আজ স্টাইল করে চুলে ঝুঁটি, খোঁপা, জেল লাগালাম, তারপর কাল যদি টাক পড়ে যায় তখন মহা কেলো! তার চেয়ে দাড়িই ভালো, দাড়িতে টাক পড়েনা আর যাই হোক। তো এবার দাড়ি শুধু রাখলেই তো হল না তার স্টাইলিংও তো চাই ডুড? একশ বছর আগের তিনি ওসব করতেন না, কেয়ারলেস বিউটি ছিলেন। কিন্তু তাই বলে এখনকার গুরুদেবরা তো একটু সাজগোজ করতেই পারেন। তাই এলো দাড়িতে রাবার ব্যান্ড দিয়ে ঝুঁটি, একটু লম্বা দাড়ির মালিকরা আবার কুম্ভমেলার নাগা সাধুদের স্টাইলে দেখি দাড়িকে গুটিয়ে খোঁপা করেছেন! চাপ দাড়িধারীদের আবার এসব চাপ নেই। আবার এত স্টাইলের ভিড়েও দু-একজন আছেন, যারা সো কলড ‘মেট্রোসেক্সুয়াল’ লুকটা তেমন চান না, তাঁরা তাই সেই ‘কেয়ারলেস বিউটি’রই অনুকরণ করে চলেন। বেশ হিপি হিপি লাগে। উলোঝুলো দাড়ি-চুল, তার মধ্যে ঘুরে বেড়ানো উকুন, আর সেই জঙ্গলের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় গাঁজার নীলচে ধোঁয়া –প্পুরো কবিতা আঃ!

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল দাড়ির সঙ্গে কবিতার সম্পর্ক সমানুপাতিক না ব্যাস্তানুপাতিক? তা ঠিক বলতে পারব না, তবে সেদিন দেখি এক দাড়িবান (চাপদাড়ি বেড়ে গেছে কিন্তু এখনো ঝুঁটি বাঁধা যায় না) তার বন্ধুকে বলছে, “চোলাই খেলেই কবিতাটা আসে ভালো, বুঝলি?”

এই লেখায় এখনও কোনো মহিলার কথা বলা হয়নি বলে দাড়িহীন নারীবাদীরা রাগ করবেন না প্লিজ। আর যাঁদের দাড়ি নেই অথচ কবি হতে চান, তাঁদের বলব, গালে ‘কেশ কিং’ তেল লাগান। রবি ঠাকুর হতে না পারুন, বাবা রামদেব তো হতে পারবেন। তাই বা কম কি? রোজ টিভিতে দেখাবে।







কিঙ্কিণী বন্দ্যোপাধ্যায়

কিঙ্কিণী বন্দ্যোপাধ্যায়


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে মাস্টার্স করেছে
কিঙ্কিনী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিঙ্কিণীর কবিতা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে সব মহলে।ব্লগার হিসেবে আদরের নৌকায় কিঙ্কিণীর যাত্রা শুরু হল আজ থেকে।পড়ুন এবং জানান কেমন লাগল কিঙ্কিণীর ব্লগ...


আপনার মতামত জানান