উড়ান অগাস্ট সংখ্যা

উড়ান ওয়েবম্যাগ

 

সর্পিলাকার
দেবজিত


খিধে নামছে
পায়ের আলতা জল মেখে ছাপ রেখে


আমার শার্টে তোর বাথরুমের ভিজে গন্ধ

পেয়ালা মেপে চুমু কিংবা চুমুক


এলিয়ে পরা বিকেলের ওড়না
তুই সামলে নিস

বাগানের কোণে ছাই


বড্ডো ড্রামা

সুতোর পাক বেয়ে
আমি পৌঁছে যাই আয়ানার উত্তাপে

পাকদণ্ডী
জমা রেখেছি
আবহাওয়ার পুর্বাভাসে





দিনলিপি – ৮৭
অরুণকুমার দত্ত


একটা বিশুদ্ধ দুপুর নিয়ে ভাতের থালায় বসে পড়েছি


মরশুম

শেষেটুকু পাপবোধক


রুগ্ন


এবং
এতসব জনগনমন পেরিয়ে এসে
আমি এইমাত্র প্রনম্য হয়ে উঠলাম


শেষ কিছু বাক্য
ঋতম সেন


শেষ কিছু বাক্য আমি তাকে দিয়ে যাবো বলে লিখতে বসে দেখি, আগুনের মধ্যে
তার দৃষ্টি অঙ্গার হয়ে আছে, পৃথিবীর গর্ভে তার রূপকথা প্রস্তরীভূত। তাকে
প্রদক্ষিণ করে লক্ষ সুর ওঠানামা করে, মৃত ফুলগুলি তাকে ছুঁলেই জীবন্ত
হয়ে ওঠে। পরাগপ্রহরটিকে মনে পড়ে, মনে পড়ে হলুদ আলোয়, চাতকের মত তার
বৃষ্টির কোলে উঠে বসা। মায়াবি গরুর দল পাহাড়ের খাঁজে আটকা পড়ে দাসত্ব
বিক্রি করে ঘাস খায়, এতদসত্ত্বেও শেষ কিছু বাক্যে আমি গোপনতা বিষয়ক
প্রশ্নে ও উত্তরে অতর্কীতে ভেসে আসা স্পন্দিত শরীরের পদ্মসৌরভটিকে ধরে
রাখতে চেষ্টা করি, ভালোবাসা অজগর হয়ে আতঙ্ক বিস্তার করে সুন্দরের খোঁজে
পাড়ি দেয়।।


নাম না দেওয়া লেখা...
রঙ্গিত মিত্র


বাচ্চা ছেলেদের হাতে অভাবের কুচকাওয়াজ বার বার আবহাওয়া পরিবর্তন করতে
বলে। যদিও এখানে মানুষের কান্না, রক ব্যান্ডের সাউন্ড ; সব সময়
গুপ্তচরের মতো , তারা বেছে বেছে সংসারকে জানায় একটি মেয়ে, উপভোগের
বিষয় ! এভাবেই আমরা মেয়েদের আলাদা মানুষ হিসেবে দেখতে দেখতে , বড় হয়ে
বুঝেছি ঃ পুতুল খেলা না জানলে লুডোও খেলা যাবে না।



সঞ্জয় ঋষি
কাপ প্লেট সিরিজ থেকে...


তরল বসন্তকে চুমুক দিয়ে পান করি...
ও পেয়ালা ও পেয়ালা শোনো ডার্লিং...
দুটি ক্রিম বিস্কুট দাও...

দেখো তরল বসন্ত কেমন কাঁপছে...
একটু ভিজিয়ে নাও তোমার ঠোঁট...

চার পায়ে দাঁড়ানো টেবিল...টেবিল ক্লোথে কি সুন্দর ফুল এঁকে গেছে মা...

বাবা সেগুনগাছ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে উঠানের পাশে...



মদোৎসব
মিলন চট্টোপাধ্যায়


লাল মাছ জল ভুলে
মাতাল হয়েছে , তাড়া করা
হুলোকে অদ্ভুত আদর করে,
শক্তি পড়িয়ে বলে দেয় ~
লাল জল আমি চিনি
আর চেনে
টোলার মাতাল !




ঠিক কাকে চেয়েছিলাম?

অমিতাভ দাস



আমি খুব নিবিড় ভাবে
তাকে চেয়েছিলাম
আমি খুব গোপন ভাবে
তাকে চেয়েছিলাম...

তারপর পাতা উড়ে এলো--
তারপর সন্ধ্যা হয়ে এলো-- তারপর ঝড় উঠলো
পশ্চিম কোনে--

আমি এখন চোখে ঘুম
নিয়ে বসে থাকি ।
অবহেলা সেলাই করি ,
পাতা কুড়িয়ে কুড়িয়ে জমিয়ে রাখি-- কেননা একদিন ঝড় ছিল--
একদিন খুব বৃষ্টি ছিল--

অভিমান এখন স্মৃতি-- ভালোবাসা প্রবাসী হাওয়া-- আমি খুব নিবিড় ভাবে
ঠিক কাকে চেয়েছিলাম ?


কৌতুহল
সুপ্রভাত রায়


নিভে আসছে আদিম কোলাহলের উচ্চারণ
স্থানীয় অসুখের কোলে পা চাপিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে পাড়া


কেউ কেউ জেগে তখনও
ভেজা স্বভাবের ঘাস, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল

এক মাথা অন্ধকার আকাশে ফুটে উঠছে ছবি
আমরা সেই সিনেমার ছিলাম দর্শক
নাম পড়ার আগেই জানতে চেয়েছি...

ক’রিল, ক’রিল ?



দিল্লী নয়
দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়


সকলই তোমারই ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি

ইচ্ছে হলে বাম্বু দাও, সমুদ্র নগর মরুভূমি
ইচ্ছেমতো আঁকা হয় বন্ধ্যা কোন শিল্পীর ক্যানভাসে

বহুদিন পর লেখা পরিযায়ী পাখি হয়ে ইচ্ছেমতো ফের ফিরে আসে

তাকে কি খাঁচায় পুরে বেঁচে দেব ওএল এক্সে?
বাজেটের পর যদি পালক না থাকে আর দামী

সেক্সের উত্তরগুলো প্রশ্ন খোঁজে সেনসেক্সে
তুমি কর্ম কর গো মা, লোকে দুষলে পরে আমি...





স ম্পা দ কী য়
কোথায় পড়েছিলাম, আমরা যা লিখি, তা অনুকরণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। এই যে
পাখিটা উড়ে গেল, হুস্‌, এই কল থেকে জল পড়ছে, ছড় ছড়, এই একটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে
এল ভিতর থেকে, উফ্‌... পারলাম কি? পারলাম অনুকরণ করতে? না। শব্দগুলো টানেলের
মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে কেমন মিইয়ে এল। এন্ড অফ দা টানেল যে আলোটা দেখা যাচ্ছিল,
তার কাছে পৌঁছনো হল না, আলো হয়ে ওঠা হলনা শব্দদের।

এই যে আলো হতে না পারা, কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তে আলো হতে চাওয়া, এই ইচ্ছেটাই
লিখিয়ে নিচ্ছে, এই ইচ্ছেটাই রাত জাগাচ্ছে। এই ইচ্ছেতেই কবি সবার থেকে আলাদা
হচ্ছেন, একা হচ্ছেন। কারণ, যতই একা, ততই একের কাছে, আর ততটাই শূন্যের কাছে
পৌঁছতে পারছেন কবি। কবির কোনো এল আই সি নেই, কবির কোনো স্টক মার্কেট নেই, নেই
‘কউন বনেগা ক্রোড়পতি’। কবির শুধু আছে অন্যমনস্কতা, এই সবের থেকে অন্যমনস্কতা।



পৃথিবীতে অন্যমনস্কতায় জন্মাচ্ছে কবিতারা, উড়ে যাচ্ছে তুলো ফুলের
অন্যমনস্কতায়। সেই অন্যমনস্ক উড়ানে জনা কয়েক কবির কবিতা উড়ে চলেছে, তাদের ডেকে
বসতে দেবেন সকালের জানালায়? দেবেন এক আজলা দানা পানি?



- অলোকপর্ণা

উড়ান ওয়েবম্যাগ

উড়ান ওয়েবম্যাগ


তরুণ কবিদের একটি এক পাতার ওয়েবম্যাগ উড়ান।
উড়ানের সম্পাদকমণ্ডলী- সৌরভ সরকার, দেবজিত মুখোপাধ্যায়, অলোকপর্ণা

facebook page
https://www.facebook.com/udaanweb

আপনার মতামত জানান