পুজোর পাঁচালি

সরোজ দরবার

 


ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ের মতো করে হঠাৎ একদিন পুজো এসে হাজির। পুজো কি করে আসে? ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে ...ধরণীর বহিরাকাশে’...দূর মশাই, যেদিন এক পাতা জুতো হাতে আপনার রাত পোহাল শারদপ্রাতে, সেদিন থেকেই পুজো এসে গেছে। গরমের দোষে প্রকৃতিও আজকাল ঋতুর হিসেব ঠিকমতো রাখতে পারে না। কবে যে বৃষ্টি হয়, কবে রোদ ওঠে আর কবে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলিয়ে শরৎ আনতে হয়, প্রকৃতি বেচারা তার তাল রাখতে পারে না। সে শরতে বর্ষা ঢেলে ফেলে, শীতে গরম এনে ফেলে। তার এহেন খামখেয়ালিপনায় পাল্লা দেয় কার সাধ্য!(খামখেয়ালিপনায় যদি কেউ পাল্লা দিতে পারেন, তবে যে নামটি আপনার মনে এল, সেটিই যথোপযুক্ত)। কিন্তু এদের পাল্লায় পড়লে তো তাঁদের চলে না, যাঁদের মাথায় রোদও লাগে না বৃষ্টিও পড়ে না। শীত বলতে ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’ আর হেমন্ত বলতে জীবনানন্দ দাশের দু’এক লাইন। সুতরাং তাঁরা চশমা এঁটে সুবিধামতো পুজোটা এনে ফেলে। এবং সারাদিনের ভেজা ছাতা পলিথিন থেকে বের করতে করতে উটকো একটা গন্ধ নাকে নিয়ে আপনি টিভির স্ক্রিনে ঠিক দেখতে পাবেন পুজোর আর এত দিন বাকি। অথচ পুজোটা নাকি শিউলি ফুলের গন্ধে আসার কথা ছিল। আর এদিকে শিউলির মা সকালেই বলে গেছে, মাইনের টাকার সমানই কিন্তু বোনাস চাই। হ্যাঁ পুজো তো আসছেই। সব চ্যানেলেই টাইমার চলছে। বিস্ফোরণ না হোক, সংসার কটাহে একটু বিষ ফোড়ন তো হবেই।
প্রথম যাঁদের টনক নড়ে তাঁরা মা দুগগার কাছেও পিছিয়ে পড়তে চান না। হ্যাঁ পুজো সংখ্যার কথাই বলছি। প্রথম যেদিন সেটি স্টলে আবির্ভূত হল, দেখলাম আশেপাশে বড় ঠাকুরের পুজো ছাড়া আর কোনও পুজো নেই। তারপর এক এক করে মেলা, বাজার, পিতৃভূমি, মাতৃভূমি এমন রে রে করে আসতে থাকল, যে কৈলাসে স্বয়ং মা দুর্গাও বোধহয় নড়েচড়ে বসলেন। না আসার যদি ইচ্ছে থেকেও থাকত তবু আসতে তাঁকেই হবে, কেননা দুর্গাপুজোটা কী এবং কবে সে কি তিনি ঠিক করবেন? বালাই ষাট, ওঁর অত ইয়ে আছে নাকি। সুতরাং ঢাউস ঢাউস শিল্পনন্দিত মুখপত্ররা দুগগা দুগগা বলে প্রেস থেকে বেরিয়ে সোজা চলে এল স্টলে। এক এক করে। এটার এক সপ্তাহ পরে ও, ওর পাঁচদিন বাদে সে। দুর্গারা তো মোটে পাঁচজন, তাও আসতে হলে পাঁজি মেনে। কিন্তু এরকম স্ট্র্যাটেজি মেনে আসতে পারে নাকি? ব্যাটা না টলে যাবি কোথায়? পকেট কাঁচুমাচু মুখ করে গিয়ে হাজির হবে বে-সরকারী কোষাগারে। কিন্তু যদি কোনও কারণে এ বছর গণেশ কার্তিকরা স্ট্রাইক ডাকেন, মা দুগগাও গা ম্যাজ ম্যাজ করছে বলে যদি আসা ক্যানসেল করেন, এগুলোর তখন কী হবে? এই ভেবে একটা পুজোসংখ্যার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ব্যাটা চোখ টিপে বলল, ভাবনার কী আছে, ফুল ফুটুক না ফুটুক যেমন আজ বসন্ত, পুজো আসুক না আসুক আমরা পুজোসংখ্যাই।
এদিকে বাঁশ ঢুকছে দেদার। পাড়ায়। তো তাতে খুশি হওয়ারই কথা, কিন্তু ঠিক রোববারের টিপিনপর্ব শেষ হতে না হতেই আসলি বাঁশটা ঢুকে গেল। সম্মিলিত যুবক সংঘ দুর্গা এবং তাঁর পরিবারের হিতার্থে খস খস করে বিল কেটে হাতে ঝুলিয়ে দিয়ে গেল। এরপর সংঘবদ্ধ নারী প্রগতি সমিতি, কিশোর সম্মিলনী তারাও আসবে এপাড়া, ও পাড়া থেকে। ওই একই খস খস খস...হেঁ হেঁ হেঁ...। পুজোটা কি আপনার নাকি দুর্গাঠাকুরের? সব পরিশ্রম তো এদেরই। তার পারিশ্রমিক তো থাকবেই। শুধু অফিসের অ্যাকাউন্টস যদি এত দ্রুততার সঙ্গে খস খস খস করে চেকটা ধরিয়ে দিতে পারত, তবে মায়ের মহিমা কিঞ্চিত মালুম হত।
মহিমা যে স্রেফ চৌধুরী নয় তার প্রমাণ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে অফার। এই বাজারে তার মহিমা অপার। আঙুলে কাউণ্ট করা যায় না, এহেন ডিসকাউন্টের খুড়োর কলে খুড়িরাও ছুটছেন। আর ছুটবেন নাইবা কেন। আত্মীয়তা বলেও তো একটা ব্যাপার আছে। অমুখের বোনের মেয়ে, তমুখের নতুন নাতবৌ সবার জন্য ছুটছেন। এখানে অবশ্য একটা ক্লাস ডিফারেন্স আছে। যারা নিয়মিত ফোন টোন করে, আসে যায়, মিষ্টি আনে আর মাংস-পরোটা সাঁটিয়ে রান্নায় বেলা দের শিষ্যাগণকে প্রশংসায় চুবিয়ে দিয়ে যান, তাঁদের জন্য প্যান্টালুন্স, বিগ বাজার, নিদেনপক্ষে ব্রান্ড ফ্যাক্টরি। বাকিদের জন্য শ্রী হরি বস্ত্রালয়। ডাকহরকরার মতো সেগুলো ক’দিন পর থেকে বিলি করতে করতে ঘেমো রুমালের দিকে চোখ পড়লেই মালুম হবে পুজোর মহিমা কাকে বলে।
এখানেই অবশ্য মাথা ঝিম ঝিম করলে কিছু করার নেই, এরপর থিম আছে। সবটাই থিম। থিম না থাকাটাও থিম। সগর্বে তাঁরা শহরের ফ্লাইওভারে আমাদের কোনও শাখা নেই এর মতো জানিয়ে দিচ্ছেন, আমাদের কোনও থিম নেই। লোকে ইতিউতি এ ওর দিকে তাকায় আর ভাবে, উরিব্বাস ‘থিম নেই’ থিম। জব্বর কিছু একটা হবে। ভিড়ে আর মাটিতে পা পড়বে না। ক’খানা সম্মান যে পাবে!
ও হ্যাঁ মান-সম্মান আপনার, আমার আছে হয়তো, কিন্তু বেচারী শারদীয়ার একদম নেই। চ্যানেল, এনজিও, ফটোগ্রাফি সংস্থা সম্মান দিলে তবে শারদ-সম্মান। না দিলে এক্কেরে অসম্মান। দুর্গা কেন, দেবতাদের সেনাপতিও বাঁচাতে পারবে না। কেন যে তাঁর সম্ভবকে কেন্দ্র করে কালিদাস অতগুলো সর্গ লিখেছিলেন কে জানে! না ইংরিজিতে ছাড়া কেউ পড়ে, না এই বাজারে কুমার কার্তিকেয়র কোনও ক্ষমতা আছে। আমরা ছোটবেলায় খামোখাই তাকে একটু বাড়তি গুরুত্ব দিতাম। কেননা সে যেমন দেখতে ভাল। তেমনই সেনাপতি। ইস্কুলে যাওয়া আর ফেরার পথে বন্ধুরা মিলে হিসেব করতাম, ঠাকুর কতখানি ঠাকুর হয়ে উঠছে। দেখতাম, গণেশের অর্ধেক শুঁড় গোটা হয়েছে। কার্তিকের হাত ধনুক ধরার মতো মুঠো পাকিয়েছে। আর মহিষাসুরের কালো হাত ক্রমশই শক্তপোক্ত হয়ে উঠছে। শেষের দিকে আর দেখতে দিত না। পলিথিন ঢাকা দিয়ে বিমল পটুয়া ঠাকুরের গায়ে রঙ চড়াত, চুল পরাত আরও পরে চোখ আঁকত। মাটির ঠাকুর যখন একটু একটু করে দেবতায় পরিণত হচ্ছে, তখন থেকেই পুকুরপাড়ের শিউলি ফুলের বাড় বাড়ন্ত চোখে পড়ত। ছোটবেলায় শিউলি নিয়ে আমাদের বিশেষ কিছু ভাবাবেগ ছিল না। শুধু পাশের বাড়ির পুতুল পুজোর ফাংশনের জন্য নাচ তুলত। গানটা ছিল, শিউলিতলায় ভোরবেলায়..., আর শিউলি পাতার বড়ার জন্য মা’র বিশেষ উদ্যোগ থাকত। আর একটা ফুলও হত, সঠিক নাম জানি না, আমরা বলতাম ‘ফোঁটা ফুল’। ষষ্ঠীর দিন চৌকাঠে চৌকাঠে সেই ফুল দিয়ে মা ফোঁটা দিত। এই সময়টায় সকালে টিউশন পড়তে যাওয়ার সময় সাইকেল স্ট্যান্ড করতে গিয়ে দেখা যেত ঘাসের আগায় অল্প অল্প ভেজা ভাব। বাতাসেও একটা হালকা শিরশিরানি থাকত। আর পড়াশেষে বেরনোর সময় একটা বেজায় ঝকঝকে রোদ্দুর উঠত। আয়নায় ঝলসে এসে যেন চোখে আলো লাগত, আর আমরা বুঝে যেতাম, ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’। এই সময়ই সময়ই পাটনা থেকে ফিরত ভুবন জ্যাঠা। বছরে এই একবার এই সময়ে তার বাড়ি ফেরা ছিল বাঁধা। আর পাড়ায় ঢোকা মাত্র, চিৎকার, চেঁচামেচি হৈ-হল্লায় মাতিয়ে একেবারে মাতিয়ে দিত। সুতরাং ‘মাতল যে ভুবন’-এর অর্থ নিয়ে আমাদের কোনকালেই এর বাইরে কোনও ধারণা ও সংশয় ছিল না। আর মোটামুটি সনৎ সিংহের গানে গানেই আমাদের পুজো আসত। মহিষাসুরমর্দিনীর রূপং দেহি, জয়ং দেহি ছাড়া আর কিছু ভালো বুঝেও উঠতে পারতাম না। দেখতে দেখতে পুজো এসে যেত। পলিথিনের আড়াল থেকে মা দুর্গা বেরিয়ে আসতেন সপরিবারে। সেই খড়-বাঁধা থেকে দেখছি, তবু অদ্ভুত একটা সমীহ ভাব আসত। শুধু একবার, মহিষাসুরকে দেখে অনিল কাপুরের মতো মনে হয়েছিল। কী একটা সিনেমা দেখেছিলাম, খালি গায়ে অনিল কাপুর বাথরুমে ঢুকছেন, সেই বাথরুমেই আবার লুকিয়ে ছিলেন জুহি চাওলা। পরে অনেক মজার কান্ড হবে।যাই হোক, বয়ঃসন্ধি দোষে দেখার ভুল হোক, কিংবা পটুদারের মাল-মশলা বেঁচে যাওয়ার কারণেই হোক, মহিষাসুরের বক্ষদেশের রোমরাজি সেবার বোধহয় কিঞ্চিৎ বেশিই ছিল।
সে ছিল এক দুর্গা। এখন আবার টিভি জুড়ে জুড়ে হরেক দুর্গা। এই সেদিন যাকে সিঙ্গাপুর কিংবা হায়দরবাদে মিনি স্কার্ট পরে নাচতে দেখেছেন তাঁকেই ক’দিন বাদে সক্কাল সক্কাল দুর্গা হিসেবে কল্পনা করে নিতে হবে। হ্যাঁ আপনার কল্পনাশক্তিকে হেল্প করে তিনি অবশ্য প্রাণপণ বিস্ফারিত নয়নেই ক্লোজ শটে ধরা দেবেন। এবং সেইদিন, সেই ছুটির দিন আপনি ফেবু তে লিখবেনই লিখবে, আবার একটা পুজো এসে গেল...ইত্যাদি ইত্যাদি।
ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কলম রেডি হয়ে গেছে। এক কলাম যদি জনস্রোতে খায়, অ্যাঙ্কর স্টোরি তাহলে অবশ্যই এই পথশিশুদের পুজো। তাদের জামা নেই, কাপড় নেই, পুজো নেই, বাদ্যি নেই করে গদগদ হাজার শব্দ। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই অবশ্য পুজোকে অন্য অ্যাঙ্গেলে দেখা শুরু হয়ে যাবে। যে সমস্ত পারিবারিক বিপর্যয়কে ভর করে দেদার খবর হয়েছে, এই পুজোর মরশুমে তাদের গায়ে এককোট সেন্টিমেন্ট চাপিয়ে দিলেই আর একবার সার্কুলেশনের রমরমা। এর মধ্যে আবার সেই সব নারীকে খুঁজে আনা হবে। যাঁদের একক প্রতিষ্ঠার খবর এক চিলতের বেশি আগে জায়গা পায়নি, তাঁদেরকেই ডেকে ডেকে বলা হবে ইনিই হলেন আসল দুর্গা। অথচ যখন তিনি লড়াই করছিলেন, তখন যদি একটু প্রচার পেতেন তার কাজ হয়তো একটু সহজ হত। সে যাকগে, এসবই হবে। প্রতিবার এক, তবু প্রতিবার অন্য। দেখবেন এবারেও হবে। প্রতিবারের মতো সাজগোজ করা রিপোর্টার জানতে চাইবেন, তা পুজোয় কি প্রেম হচ্ছে এবার? কারও একজনের গ্যাঁ-গুঁ উত্তর পেলেই তিনি সটান ঘুরে গিয়ে বলতে শুরু করবেন, দেখতেই পাচ্ছ, ভিড়ে-ভক্তিতে-প্রেমে-ঘে মে পুজোর উন্মাদনা একেবারে তুঙ্গে।
তুঙ্গে অবশ্য একজনই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পুজোর গান বস্তুটা উবেই গেছে। পুজোর সময় আউল-বাউল-টাউল সেজে খান পাঁচেক গান রেকর্ড করে ফেলেন। এবং রবীন্দ্রনাথ কতখানি আধুনিক, সেই কবেকার লেখা গান, তবু মাননীয় শিল্পী মহাশয় গানের লাইন মনে করতে না পেরে হোঁচট খান। আহা হাজার হলেও নতুন লিরিক তো। তা রবীন্দ্রনাথ যে সব সময়ে নতুন এ কথা জজেও মানবেন।
এইরকম করেই পুজো এসে যায় এবং আসছে। এই যাঁরা এতক্ষণ তিতা পানের খয়ের গিললেন, তাঁরাও বাধ্য হলেন পুজো আসছেন বলেই। পুজো তো আসবেই। শুধু চ্যানেলের কাউন্টডাউন থেকে কাগজের সফট স্টোরি, অফার থেকে টিভির দুর্গা, আত্মীয়তা থেকে আঁতলেমি-এসবের মধ্যে পুজোটা যে কার সেটাই বোধগম্যরহিত হয়ে পড়ে। ও হ্যাঁ পুজোটা গতবছর থেকে রোহিত সেট্টিরও বটে। দশমীতে ‘লুঙ্গি ডান্স’ না থাকলে আবার পুজো হয় নাকি!

সরোজ দরবার

সরোজ দরবার


কথা ছিল আদরে বাঁদর হবার, হয়ে গেল ব্লগ লেখক। কিন্তু বাঁদরামি কমল কই? ভাগ্যিস বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা প্রবাদটি সত্যি। সেই জোরেই আদরে এবার তিতা পানের খয়ের। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উঠোনে হোঁচট খেয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে অবশেষে পেশায় সাংবাদিক। বেশিক্যালি না ঘরকা না ঘাটকা। জন্ম-হাওড়ায়। চরে বেড়ায়-কলকাতায়। না ভুলতে পেরেছে গ্রাম, না হয়েছে খাঁটি কোলকাতান। ফাঁটা বাঁশে আটকে ত্রাহি ত্রাহি রব। পেশা আর নেশাতেও একই সংকট। একদিকে তিতা হজম, অন্যদিকে তিতা উগরানো। সকলেই কলম ধরেন, কেউ কেউ কী-বোর্ড। অন্য কোনও ইজমে থাকার মতো মস্তিষ্ক নেই, কোনও বাদি নয় তাই, বিশুদ্ধ কী-বোর্ডি। এই করেই ধর্মে-জিরাফে-পদ্যে-গদ্ যে-গল্পে-আলাপে-প্রলাপে সর্বত্র গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল। পানপাত্রে হাত দেওয়ার রেস্ত নেই, তাই পান পত্র নিয়েই হেস্ত নেস্তর আশায়। কী করতে চায়, ঈশ্বর খবরও রাখেন না। চোখে দৃষ্টি কম, গায়ে গত্তি নেই, ঘরে রোদ নেই, মিঠা পানকে খয়ের বেশি দিয়ে তিতো করে ফেলা ছাড়া আর কোন মুরোদ নেই। নেহাত বাঁদর-মুক্তো মালা প্রবাদটি ছিল বলেই, এ যাত্রায়...

আপনার মতামত জানান