ফিসফাস- ১১২

সৌরাংশু

 

নবমী নিশি পোহাইল… পূজা মণ্ডপের ধূমধাম থেকে ফেরার পথে দেখতে পেলাম একটি ধূসর ওয়াগন আরের প্রশস্ত ছাদে দুটি ডেলকেশিয়ান ভাবলেশহীন ভাবে জিভ বার করে বসে আছে। হিংসে হল, মানব জনম লইয়া বিধি বাম থেকে ডানে যেতে পারে না কো! গণ্ডী গণ্ডী তদুপরী গণ্ডি!

আরে আরে আরে হলটা কি ফিসফাসের, এসব সিরিয়াস কাব্য বরং তোলা থাক অন্য কোথাও অন্য কোন খানের জন্য। ফিরে আসি কাজের কথায়।

অষ্টমীর দিন মোদীবাবু রসগোল্লা খাওয়াবার জন্য ডেকেছিলেন! আহা বচ্ছরকার দিনে একটা মাত্র অষ্টমী তাতেও শপথ টপথের বাড়াবাড়ি। যা ভাই খুব হয়েছে অফিস যাব তো কি হয়েছে? পুজো আছে না? চলাও পানসি ধুতি পাঞ্জাবী। লোকজন তো এক্কেরে থ! মায় সেক্রেটারি সাহেবা বলে ফেললেন, “সৌরাংশু, ফ্যান্সি ড্রেসমে কিউ?” আমিও সপাট উত্তর, পূজা ম্যাডাম! “আরে তুম বাঙ্গালী হো কেয়া? পুরা বাঙ্গালী? তো মিঠাই কিউ নেহী খিলাতে হো!” যাই হোক সে সব তো গেল এর পর এল শপথের কথা।স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালু হবে! ভাল কথা! গান্ধীজীর জন্মদিনে সম্মান প্রদর্শন করে শপথ গ্রহণ! তাও ভাল কথা! নিজে শপথ নিয়ে আরও একশো জনকে শপথ নেওয়ানো! ইয়ে মানে সেতো আরও ভাল কথা! কিন্তু শপথটি কে লিখেছে হে? এত খুনখারাবিভাবে ড্রাফট করা শপথ আমি জিন্দেগীতে দুটো দেখি নি।

সে যাই হোক! তারপর আরেক নাটক। সেক্রেটারী ম্যাডাম জানালেন যে রাজপথে মোদী বাবু সবাইকে বগলে হাওয়া লাগিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। তাই এখানেও সকলকে হাত তুলে জোড়হাতে শপথ পাঠ করতে হবে! ইল্লি আর কি! গলার কাছের কি যেন একটা বিদ্রোহ করে উঠল। করবই না! আমার ডিওডোর্যা ন্ট কি অতই সস্তা? যে যাকে তাকে গন্ধ উপহার দিয়ে বেরাব? তারপর এক ঘণ্টা ধরে ভারত ভাগ্য বিধাতা করে তারপর ছাড়ান। ইল্লি ততক্ষণে হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের খিল্লিতে পরিণত হয়ে গেছে। তবে জয় গুরু! ধুতি পাঞ্জাবী ইজ্জত বাঁচিয়ে দিল! যদি শুভ কাজে সুপোশাকে ও সুমনে আসা যায় তো কেয়া বাত হ্যায়!

যাই হোক এবারের পুজোটা এপার ওপার খেয়া বেয়ে নেয়ে দেয়ে বেশ কেটে গেল। কিন্তু গতবারের সপ্তমীর কথা মনে পড়লে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। ষষ্ঠীর রাত থেকেই সহস্র ধারা শুরু! সপ্তমীতে যখন মণ্ডপে গিয়ে পৌঁছালাম তখন তা এঁদো ডোবায় পরিণত হয়েছে। শুরু হল মাটি কেটে জল ছাঁচার খেলা! এক দুই তিন চার পেরিয়ে পাঁচ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এবার মাটি ফেলা শুরু হল! সেও চলল প্রায় ঘণ্টা তিনেক। অনুষ্ঠান শুরু সাড়ে সাতটায়। ঘড়ি এগোচ্ছে আর জল শুকিয়ে বেঞ্চিও এগোচ্ছে। শেষে দশ মিনিট দেরীতেই শুরু করে ফেলা গেল ম্যাজিক শো! ম্যাজিকের মতো! পুরষ্কার তো বনতা হ্যায়! যারা মেহনত করল তাদের জন্য। কালী পুজোর দিন সকলকে ডেকে ডেকে স্মারক তুলে দেওয়া হল! কি দুর্দশাই না হত তা না হলে।

পুজো আসে পুজো যায়! কিছু টুকরো টুকরো গল্প রেখে যায় আমাদের জন্য! নাটক, আগমনী, রিহার্শাল, নাচ গান টিকটিকি আড্ডা খাওয়া দাওয়া! আপনার আমার গল্প! সেই গল্পগুলোই সারা বছরের খোরাক দিয়ে যায়! হাসি মুখে মার থাকা না থাকা ফিরে ফিরে আসে। আসছে বছর আবার এসো মা! আঁচল পেতে বসে থাকব আমি! আমেন!

সৌরাংশু

সৌরাংশু


সর্বঘটে কাঁঠালি কলা (Jack of All Trades and blah blah…) অথবা আর ডবলু এ বা পঞ্চায়েত নির্বাচনের গোঁজ প্রার্থী বলতে যা বোঝায় আদতে কোলকাতার কিন্তু অধুনা দিল্লীর বাসিন্দা, সরকারি চাকুরে সৌরাংশু তাই। দানবিক শরীর নিয়ে মানবিক বা আণবিক যে কোন বিষয়েই সুড়ুত করে নিজেকে মাপ মতো লাগিয়ে নিতে পারেন।

আপনার বাথরুমের দরজার ছিটকিনি আটকাতে হবে? বা কেঁদো বেড়ালটা রাত বিরেতে বড়েগোলাম হবার চেষ্টায়? পাড়ার নাটকে বিবেক নাই? রাজা খাজনা নিবেক নাই? চিন্তায় শান দিবেক নাই- ফোন লাগান +৯১৯XXXXXXX৩২-এ। ভৌম দোষ বাড়াতে বা বনের মোষ তাড়াতে মাইকের মতো গলা আর টুথপিকের মতো হাসি নিয়ে সৌরাংশু হাজির হবেন।

গল্প অল্প স্বল্প লিখলেও তিনি ফিসফাসেই হাত-পা ছড়িয়ে বসে শীতের রোদে তেল মাখেন আর গিটকিরি দিয়ে রামা হৈ গান। না শুনে যাবেন কোথায়! বুম্বা দা বলেছেন, “মাআআ, আআমি কিন্তু চুরি ক্করিনি!” সৌরাংশু বলেন, “যাঃ আমি কিন্তু বুড়ি ধরি নি!” খেলতে নেমে হাঁপান না, গাইতে গলা কাঁপান না, নিজের দায় পরের ঘাড়ে চাপান না, শুধু ফিসফাসেই বন দাপান! এই হলেন সৌরাংশু!
www.fisfas.in

আপনার মতামত জানান