চৌচির

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

 

(১)

তেতে ওঠা পিচের রাস্তার ওপর কোনও রকমে বুকে হেঁটে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছে।
চাকাগুলো তো ওপর থেকে দেখা যায় না। একটা কাক কিংবা চিল, অনেএএএএক উঁচুতে... কার্নিশে বসে - এই ভাবেই কালো-ধূসর, ধোঁয়াটে, ঘোলাটে রাস্তাগুলোর ওপর অনেক কিছু রঙিন, বুক ঘষে এগিয়ে যেতে দেখে।
যেতে যেতে থমকে যাচ্ছে সেই ধাতব রঙচঙে জিনিসগুলো... মহানাগরিক ব্যস্ততার অন্যতম প্রতীক... দু'চাকা, তিন চাকা, চার চাকা। আবার এগোচ্ছে... যান্ত্রিক প্রতিবাদে গর্জাতে গর্জাতে... ধূলো আর হর্নে... দেশের দূষিততম মহানগরে দূষনের পারদটা আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে।

- ওয়ে শুয়ার... তুই কি মানুষের বাচ্চা?! আরে হোয়ে... কানে যাচ্ছে না, তাই না?
- গণ্ডারের চামড়া... রোজ দু'বেলা খিস্তি খাচ্ছে। এভাবেই চলবে।
- কি জানোয়ার রে! জায়গা কোথায়... আর কত তুলবি?
- শালা এগোয়েও না... তখন থেকে ঘষটাচ্ছে।

"আরে দাদা, এগোবে টা কোথায়? সামনে রাস্তা ব্লক... এগোতে দিচ্ছে না। সবাই দাঁড়িয়ে... দেখুন না একবার নেমে।" শেষ ধাপ থেকে লাফিয়ে, কণ্ডাক্টরটা কেটে পড়ল। রেয়ার ভিউ মিররে তাকালেই ড্রাইভারের খোঁচা খোঁচা এক গাল দাড়ি। আর সেখানে ড্রাইভারের চোখ পড়লে, পেছনে সেই অ্যাম্বুলেন্সটা। নীল আলো ঝলকিয়ে ওঁয়া ওঁয়া করে চলেছে... নড়ার জায়গা নেই দেখছে... তাও সাইরেন চালাচ্ছে!

ট্রাফিক সিগন্যাল সবুজই আছে... অথচ গাড়িগুলো এগোচ্ছে না আর। বৃহত্তর স্বার্থ সামনে পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে... মন্ত্রীর কনভয় যাবে, শহরতলিতে হাসপাতাল উদ্বোধন।
ঝনাৎ করে কাঁচ ভেঙে পড়ার শব্দে ট্রাফিক পুলিসটা চমকে ফিরে চাইলো একবার। কেউ একটা আধলা ইট ছুঁড়ে সিগন্যালের লাল আলোটা ভেঙে দিয়েছে। ঐ যে হারামজাদা! ছুটে পালাচ্ছে। না সারানো অবধি লাল আলোটা আর জ্বলবে না এই ক্রসিং-এ।


(২)

পাহারা দেওয়ার জন্য ঠিক কে আসে, কে অত রাতে বিকট সুরে লম্বা বাঁশিটা বাজিয়ে চলে যায়... তার মুখটা অনেকেই চেনে না।
বেঁটে লাঠিটার আঘাতে দ্রত ধাতব শব্দ ওঠে লাইটপোস্টের গায়ে। ককিয়ে ওঠে হুইস্‌ল নিশীথিনী নৈঃশব্দ চিড়ে... কখনও কাছ থেকে... কখনও বেশ খানিকটা দূরে। জানলার গ্রিলের এপারে, অন্ধকার ঘর, সিলিং ফ্যানের অভ্যস্ত ঘুম-পাড়ানি শব্দ আর শাড়ীর আঁচলের মত জানলার পর্দার হালকা উড়ান... সেই জগতের ভেতর ওই আওয়াজ এক গর্হিত অনুপ্রবেশের মত। পাশের মানুষ, অথবা বালিশকে ছোঁয়া হাতটার মত হৃৎপিণ্ডও চমকে ওঠে। বাইরে থেকে তীরের মত এসে, কাঁচা ঘুমটা ভেঙে, কতজনের অস্বস্তির কারণ যে হয়েছে এই হুইস্‌লের চিৎকার! তবুও সিকিউরিটি, পাড়ার সকলের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিকিউরিটি গার্ড, হুইস্‌লের আর্ত-চিৎকার। যতক্ষণ হুইস্‌ল... ততক্ষণ সবাই সুরক্ষিত... দু'চোখে সদ্য নেমে আসা ঘুম ছাড়া।

ওই অন্ধকার, ঘুম ঘুম ফ্যানের শব্দ আর বালিশ কিংবা অন্য কারও ছোঁয়ার জগতের বাইরে পড়ে থাকা ওই রাস্তাটার তো আর ঘুম পায় না! রাস্তা দিয়ে যারা হাঁটছে, তারাও জেগেই। না জেগে থাকলে আর হাঁটবে কেমন করে? সিকিউরিটি গার্ড একজন, তার বিরক্তিকর বাঁশির চিৎকার নিয়ে কখনও এখানে... কখনও অন্য কোথাও। কিন্তু বাকি রা...
একটু রাত হ'লে যাদের হেঁটে ফিরতে হয়... তারাও নিরাপত্তা খোঁজে, ওই গার্ডের বাঁশির আওয়াজে। অন্দরমহলের অনেকগুলো নিশ্চিন্ত ঘুম, ঘুমের মধ্যে ডুবতে ডুবতে দুই থেকে এক হয়ে যাওয়ার বাইরে এই জেগে থাকার পথে জোরায় জোরায় চোখ, জেগে থাকে, খোঁজে, শিকার করে... কিছু সতর্ক দৃষ্টি, কিছু অসংলগ্ন কথা, কিছুক্ষন ধস্তাধস্তি... তারপরেই শিকার। ঠিক যেমন অ্যানিম্যাল প্ল্যানেটে দেখা যায়... বুভুক্ষু হায়নার দল।
তেমনই একটা শিকার হয়ে গেল কিছুক্ষণ আগে, নিরাপত্তার হুইস্‌লের থেকে অনেক দূরে। যা শব্দ হয়েছে, তা হুইস্‌লের আর্ত-চিৎকারের থেকে তীব্র নয়, তাই কারও কানেও পৌঁছল না বোধহয়। শুধু কতগুলো কুকুর ডেকেছিলো এদিক ওদিক... যেমন মাঝে মাঝেই ডাকে বেপাড়ার কুকুর দেখে, অথবা রাতের আগুন্তুক।

মানবিক বাবু'র মেজো মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হ'ল, চেক আপ করাতে হবে... রিপোর্ট পজিটিভ হ'লে বাকি আইনি ব্যবস্থা। অবশ্য আদালতে যাওয়ার আগেই জেরা শুরু হয়েছে পাড়ায়... মেয়ে রোজ এত রাতে ফেরে কোথা থেকে?
আর হ্যাঁ, সেই সিকিউরিটি গার্ডের শাস্তি বাঁধা। তাকে ভাগিয়ে নতুন সিকিউরিটি গার্ড আনা হবে। ততদিন ওই ককিয়ে ওঠা হুইস্‌লের চিৎকার কারও ঘুমের ব্যাঘাৎ ঘটাবে না... শান্তিতে ঘুমোতে পারবে সকলে, এই ক'টা দিন... বালিশ অথবা পাশের মানুষটাকে জড়িয়ে।
মানবিক বাবুর বাড়ির পাশে ওই লাইটপোস্টের বাল্‌ব্‌টা কাল রাতে কেউ ভেঙে দিয়েছে ঢিল ছুঁড়ে, কয়েকদিন বেশ অন্ধকারই থাকবে পাড়ার এদিকটা। কুকুরগুলো বৃথাই ডেকে যাবে অন্ধকারে... মহামান্য আদলত কুকুরদের সাক্ষ্য গ্রাহ্য করেন না।


(৩)

যদি ঋতু বলেও মেনে নিই... বর্ষার সময় চলে গেছে এ বারের মত। আঙুলের ফাঁকে আর গোড়ালিতে চামড়ার খস্খস্ স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয়... আর একটা বড়দিন আসছে... কুয়াশার ভোরে, মাথায় লাল টুপি পরে। তবুও বারান্দার তিন দিকের যে কোনও একটা কোণে মেঘ ভেসে আসতে দেখলে, অথবা শুকনো হাওয়াটা কিছুক্ষনের জন্যেও ভেজা মনে হ'লে একটা বাড়তি পাওনার দিব্যি আভাস পাই। তিনদিক... কারণ পেছনে দেওয়াল। হ্যাঁ, সেই দেওয়ালের একটা দরজা, একটা জানলাও আছে... যার ওপারে যা থাকে, তাকে ঘর বলা হয়। মাঝে মাঝে সখ করে বাসাও বলে কেউ কেউ। ওই বাড়তি আনন্দটা ঝিনুকের মধ্যে সামলে রেখেই সামনে একটা গোটা শীতকাল। তারপর নতুন পাতা ফোটার বসন্ত আবার। কিন্তু, যে মেঘ কালো সাওয়ান কয়েক মাস আগে রেখে এলাম... না, রেখে গেল আমাকে... এভাবে... সেই ঘনঘোর সাওয়ানের আসতে আবার সেই ঋতুর মাস... মাটি ফাটার মাস পার হয়ে। অপেক্ষা করতে খারাপ লাগে... সে কথা কি বলেছি কখনও? আসলে 'অ' দিয়ে শুরু একরাশ ফাঁকা শব্দের মধ্যে 'অনির্বাণ' অথবা 'অমিতাভ'-র মত এই অপেক্ষাও বেশি অনেকটা আলো করে থাকতে পারে। ঠিক অনির্বাণ... অথবা অমিতাভর (যদিও এরা দু'জনে কেমন পরিপন্থী) মতই অপেক্ষা... জটাজুট নিয়ে তপস্বী হয়ে যায়... আষাঢ়ের শেষ বেলায় সুজাতার দেওয়া পরমান্ন'র লোভে। রাস্তা থেকে গোবর কুড়িয়ে খাওয়া মোক্ষ-অনুসন্ধানীদের গালি খাওয়ার ভয়কে তাচ্ছিল্য করেই... বেঁচে থাকুক জীবনসুধা... আরও কয়েক সহস্রাব্দ, বুভুক্ষু জাতকদের জন্য।

তারপরেও তো মজে আসা হ্রদের কচুরি পানার ফাঁকে ফাঁকে সারস আর পানকৌড়িগুলো পা টেনে টেনে কিছু খুঁজে বেড়ায়। সেভাবে বৃষ্টি পড়েনি অনেকদিন... তবু তো হ্রদটাকে দেখে বোঝা যায়... হ্যাঁ, ও বেঁচে আছে... ও ধারণ করতে পারে এখনও। তারপরেও তো পৃথিবীর সব ক'টা ভালপাহাড়ের নীলচে সবুজ ঢাল বেয়ে মেঘ গড়িয়ে পড়ে গাছের ডালে ডালে আটকে থাকবে রাত নামা অবধি। তারপরেও তো রাওয়ানহাত্তায় টান পড়বে দূরে কোথাও কনেকনে ঠাণ্ডার রাতে... তাপ নেওয়া আগুনের ফুলকি, হাওয়ায় উড়ে এসেও গায় জড়ানো কম্বলকে ছুঁতে পারবে না যেখানে। শুধু কেসরিয়া বালম কেন... আর কি কোনও গান শোনেনি ঐ চোখ বন্ধ করে জাবর কাটা ঊটগুলো?

বছরের যে সময়টাই হোক, আকাশের যে কোণেই তাকাই, বারান্দার যেদিক থেকেই দেখি নিচের রাস্তাটাকে... শুধু একটা শব্দই মহাজাগতিক সত্য হয়ে দাঁড়ায় চোখের সামনে... প্রবাহ। ঠিক-ভুল, ছায়া-কায়া, ধূলো-মেঘ, সম্পর্ক-আপোস... ওই প্রবাহই সব... বয়েই চলেছে। চোখে চোখ রেখে হাঁটার অভ্যেস তো করতে হয় না কখনও, সে মানুষের ইচ্ছে হ'লেই পারে। কিন্তু একবারের জন্য একজন আর একজনের দিকে না তাকিয়েও একসাথে হাঁটার কায়দা কেউ রপ্ত করে, না সহজাত; তা বুঝে ওঠা বড় দায়। পাশাপাশি চলতে চলতে... ভিড়ে, অথবা জনবিরল পথেও দূরত্বটা যখন কমে, তখন... নাহ্, আলিঙ্গন নয়... নেহাতে হাতে হাত ধরা নয়... শুধু একটা হাতের কড়ে আঙুল আর একটা হাতের কড়ে আঙুলকে ছুঁয়ে যায়... যেমন আকাশে দু'দিক থেকে ভেসে আসা মেঘগুলোও আলতো করে একে অপর কে ছুঁয়ে যায়... বর্ষার মাসে।

ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলোর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থেকে কেউ কোনওদিনও কিচ্ছু পায়নি। পথে পড়ে থাকলে তা পাশ কাটিয়ে চলে যায় সবাই সাবধানে। আর নিজের ঘর হ'লে খুব সাবধানে সবটা জড় করে ফেলে দিতে হয়... ভাঙার আগে সে যতই প্রিয় হোক, ভাঙা কাঁচের টুকরো? তার ছোঁয়া কেউ সাধ করে চাইবে না কোনওদিন! অথচ কাঁচের মত স্ফটিকস্বচ্ছ জলের ফোঁটাগুলো... তাকে ছুঁতে ইচ্ছে জাগে বার বার... অথচ, যদি ঋতু বলেও মেনে নিই... সেই বর্ষার আসতে এখনও অনেক মাস... অপেক্ষা, আরও কয়েক হাজার বুভুক্ষু জাতকদের জন্য।


(৪)

পোড়া গন্ধটা ভেসে আসছে ডাইনিং টেবিল অবধি। না না, দুশ্চিন্তার কিছু ঘটেনি তেমন। পাঁউরুটিটা আগুনে ঝলসে গেছে একটু বেশি। সুবিধাবাদের টোস্টারটা বেকল হলে, মধ্যবিত্ত ওভেনের আঁচের দ্বারস্থ হ'তে হয় এই ভাবেই।
মাথায় নম্বর সাঁটা এক একটা বাসের মত, ব্রেকিং নিউজের লাইন ধরে একের পর এক বাক্য চলে যাচ্ছে। সেই পরিচিত উদ্বেগের চোখ, উদ্বিগ্ন বাচনভঙ্গী পরিচিত সংবাদ পাঠকটির... যার প্রতিটি সংলাপ তার মাসোহারার সবুজ নোটে কলম দিয়ে লেখা থাকে। ঠিক ওই কলম'টা দিয়ে, যেটা বুকের বাঁদিকে জ্বলজ্বল করে মাঝে মাঝে।

- আহ্ বনি!‌... কি হচ্ছে কি? কি বলছে শুনতে দাও?
- দূর ছাতার মাথা! কি একই খবর দেখছো সকাল থেকে!
- রিমোট টা দাও এদিকে... দাও বলছি... বনিইইইইইই...

দখল হারানো জমির মতই, ড্রয়িংরুমের টেবিলে রাজ করা টিভির রিমোট অসাবধানে বেহাত হয়ে যায়। আলাদিনের জিন হয়ে যায়, কিংবা সরকারী আমলা... যার হাতে যখন, তারই হুকুম চলবে তখন।

খুঁজেছি তোকে রাত বেরাতেএএএ, জ্বলেনি আলো স্বপ্নে... --- ...অ্যান্ড রায়না গোজ আপ, ওভার দ্য টপ... --- কাআআহে ছেড় ছেড় মোওওওওওহে... ইশ্‌শ্‌শ্‌শ্‌... --- ...সবহি ক্ষেত্র... গন্দগি কা নাম-ও-নিশান... --- পার্ক-সার্কাস থেকে আমাদের সংবাদ প্রতিনিধি নিরুপম... হ্যাঁ নিরুপম, শুনতে পাচ্ছো?

-কোথায় কিই হচ্ছে... সেই নিয়ে ননস্টপ... ক্র্যাপ! কোনও কাজ নেই এদের! আর তুমি গেলো এইসব বসে বসে সারাদিন। ধূর! একটা ভালো সিনেমাও হচ্ছে না... ডিজ্‌গাস্টিং!

সোফার এক কোণে আছাড় খেয়ে পড়া রিমোট... ঠিক কার মত? কে জানে?

পাশের ঘর থেকে জোরে মিউজিক সিস্টেম বাজার শব্দ, অসিতবাবুর মেয়ে বনি গান শুনছে... ব্রায়ান অ্যাডাম্‌স।
টিভির পর্দায় আবার সেই মাস-মাইনের উদ্বীগ্ন চোখ, আর ব্রেকিং নিউজদের সার বেঁধে ভেসে চলা।

সব কিছুর শব্দ ছাপিয়ে ঝনঝন করে বারান্দার লাগোয়া জানলার কাঁচটা হঠাৎ ভেঙে পড়ল।

- উফ্‌! এই স্কাউণ্ড্রেলগুলো সক্কাল সক্কাল শুরু করেছে... সব ভ্যাগাবন্ডস্‌... বল চাইতে এলে একদম দেবে না... দেখি আজ শালারা...

'শালারা' কি করবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আরও একটা কাঁচ ভাঙার শব্দ।
চার দেওয়ালের ওপার আর এপারের দূরত্ব কোনওদিনও ঘটনাপ্রবাহর গতি নির্ধারণ করে না... তা অসিতবাবুর বোধহয় জানা নেই।
আর... নিজের ঘরের কাঁচ না ভাঙলে কেই বা কবে জানতে চেয়েছে কোনও কিছু?

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়


ব্যাঙ্গালোর প্রবাসী জয়দীপের কাজই হল উইকেন্ডগুলি এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ানো, ফটোগ্রাফিও তার সাথে যুক্ত হয় বটে। গদ্যে পদ্যে সমান সাবলীল জয়দীপ আদরের নৌকার সহ সম্পাদনার কাজ করে চলেন নিঃশব্দে। এবার তার ব্লগ পড়েই বরং পাঠক আরও জানুক তার সম্পর্কে

আপনার মতামত জানান