কিছু না-১

অভীক দত্ত

 



দিন কেটে যাওয়া আর না কেটে যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। কিছু না করলেও সময় কেটে যায়, কাটাতে না চাইলেও কেটে যায়। যেভাবে ঘড়ির কাঁটা কখনোই সামনের দিকের পরিবর্তে পেছনের দিকে যায় না। কিন্তু আজকাল যে খুব ভয়ে কাটছে সে কথা না বললে মিথ্যা বলা হবে এটা নিয়ে সন্দেহ আছে কি? রাতে ঘুমাচ্ছি নিশ্চিন্তে, সকালে ফেসবুকে লগ ইন করতেই দেখতে পাচ্ছি, ভূমিকম্প হয়েছিল রাত্রিবেলা, কেউ কেউ রাতে ঘুমানোর সময়েই অনুভব করে ফেলেছিলেন, তখনই ভূমিকম্পের কম্পনের সাথে কাঁপতে কাঁপতে স্ট্যাটাস দিয়ে দিয়েছিলেন “ফিলিং কাঁপুনি উইথ ড্যাজলিং পারুল অ্যান্ড ৬৯ আদারস”।
এই কাঁপুনি যে লেভেলে কাঁপাইতেছে তা কিন্তু চিন্তার ব্যাপার। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার কেঁপে উঠেছে পৃথিবী। উত্তর পূর্ব কখনও পাকিস্তানে কখনও বাংলাদেশে, প্লেটগুলি মনের সুখে আসি যাই মাইনে পাই করছে আর আমাদের থরহরি কম্প হচ্ছে। এই প্লেট, সেটা চায়ের প্লেট যে না সেটা যারা আনন্দবাজার পড়ছে সবাই বুঝতে পারছে ঠিকই, পাড়ার চায়ের দোকানে পঞ্চু পিসে থেকে শুরু করে সবাই প্লেট থিওরি নিয়ে রাজা উজির মারছে এটাও ঠিক কিন্তু কাকা কেসটা হল গিয়ে এই, যে আমাদের প্যান্ট কিন্তু এর ফলে হলুদ হয়ে যাচ্ছে, সেটা স্বীকার করি আর না করি। খেলাম দেলাম, টিভি সিরিয়াল দেখলাম, গানের রিয়েলিটি শো দেখে বিজ্ঞের মত মাথাটাথা নাড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম, আর মাঝরাতে হঠাৎ করে কেউ ধরে ধরে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে, আর তখনই আবিস্কার করব যে আসলে আমাদের বিজেপি, সিপিএম, তৃণমূল, ওবামা, বাবা মা, জাপানী তেল, কোরিয়ান বোমা, জার্মানির প্রাচীর, ভেনেজুয়েলার জানি না কী, নেদারল্যান্ডের হান্স সবই আসলে একটু নেড়ে দিলেই পাড়ার নেড়ু পাগলীর মত তাইরে নাই রে না করে উঠবে তখন ভয় লাগে বইকি। তখন যদি দেখি, সবই মিথ্যে, সবই ফাঁকি, আসলে সবই ছেলে ভুলানোর মত করে আমাদের ভুলিয়ে রাখা তখন চিন্তা হয় বৈকি। অবশ্য এই যে চিন্তা হয়, এটাও কিন্তু একদিকে ভাল। কবি তো বলেই গেছিলেন “মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে, আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে”... প্রমথনাথ বিশি তো কবেই এটা বুঝে লিখে গেছিলেন, ঐ যে উপরতলায় উপরওয়ালা হয়ে যিনি বসে আছেন তিনি আমাদের আদৌ প্রাণী জ্ঞানই করেন না। ভুল ভ্রান্তিতে কতগুলি কীটপতঙ্গ তৈরি হয়ে গেছিল, তারাই এখন নিজেদের মধ্যে উপরওয়ালা নিয়ে মারপিট করে সময় এবং এনার্জি সব কিছু নষ্ট করছে।
লেখাটা আর লিখতে ইচ্ছে করছে না, ভয়ের থেকেও ল্যাদ বেশি লাগছে বলে। শুধু শেষ করার আগে ডিয়ার মেসোমশাই, একটা কথা বলে যাই, আজকাল কি মনে হয় না আমরা যত দিন যাচ্ছে, কোয়ালিটির দিক দিয়ে তত নীচে নেমে যাচ্ছি? জাত পাত নিয়ে ভাবতে ভাবতে, কিংবা মানসিকতার দিক দিয়ে? অথচ এরকমটা তো হবার কথা ছিল না। তবে কেন হল? নাকি সবটাই শেষবারের মত নাড়িয়ে দিয়ে যাবার আগে একবার আমাদের আউকাত দেখে নিতে চাইছে কেউ? আমরা শুধু zআন্তি পারব না!!!

পুনশ্চঃ কাল আরেকবার নেতাজীর জন্মদিন। নেতাজীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে ভ্যান ভ্যান না করে সবাই মিলে বরং তার আদর্শটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে খানিকটা হলেও উদ্বুদ্ধ হবার চেষ্টা করলে ভাল হত না?

অভীক দত্ত


পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আদরের নৌকার সম্পাদক। গান, গল্প আর আড্ডা ছাড়া থাকতে পারি না। আর আদরের নৌকা ছাড়া বাঁচব না, এটা তো এতদিনে আপনারাও জেনে গেছেন...

আপনার মতামত জানান