তিতি, লেডিবার্ড আর ...

অভীক দত্ত

 

ছেলেটাকে দু চক্ষে দেখতে পারে না তিতি। একটা কেমন যেন ছেলে। তাদের ব্যাচে একমাত্র এই ছেলেটিরই মোবাইল নেই। ক্লাস ইলেভেনে ফিজিক্সের ব্যাচে এই ছেলেটা না পড়লেই বরং তাদের ব্যাচটা ঠিক ঠাক থাকত। সবাই এক রকম। শুধু ছেলেটা কারও মত নয়।
কেমন যেন একটা। রোজ একই জামা পরে আসে। কোন হেয়ার স্টাইল নেই। কেমন ছোট ছোট করে চুল কাঁটা। একবারও তার দিকে তাকাবে না। স্যার যতক্ষণ পড়াবেন চুপচাপ পড়ে যাবে। তারপর কোনদিকে না তাকিয়ে সাইকেল নিয়ে রওনা দেবে।
তিতির ফেসবুকে দু হাজারের উপর ফলোয়ার। যে ফটোই পোস্ট করে তিন চারশো লাইক তো কয়েক ঘণ্টায় পড়ে যায়। মেসেজ বক্সে কথা বলার জন্য ছেলেরা হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে। হোয়াটস অ্যাপে রিপ্লাই পাবার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকে। কিছু না বলতেই নিজে থেকে সেলফি পাঠিয়ে যায়, নিজে থেকেই কত মজার মজার ফটো পাঠিয়ে যায়, পড়তে গেলে বাকি ছেলেরা হা করে বসে থাকে কখন তিতি তাদের থেকে নোটস জেরক্স করতে নেবে বা একটু হলেও কোন হেল্প নেবে। কিন্তু ওই ছেলেটা... তিতির রাগ উঠে যায়। পড়াশুনায় ভাল হলে এত অহংকার থাকতে হয়?
ক্লাস টেনের পর বাবা লেডি বার্ড সাইকেল কিনে দিয়েছে। সেটা করেই পড়তে যায় তিতি। বাড়ি থেকে স্যারের বাড়ি প্রায় দু কিলোমিটার দূরত্ব। সাইকেল চালাতে ভালই লাগে তার। প্রায় দিনই মাঝরাস্তায় দেখতে পায় ছেলেটা সাইকেল নিয়ে যাচ্ছে। সাধারন একটা সাইকেল। পিঠে ব্যাগ নিয়ে ধীরে সুস্থে চালাতে চালাতে যাবে। একবারও তাকাবে না। কোন রকম আগ্রহ দেখাবে না। তিতির গা জ্বলে যায়। আরও খানিকটা এগোলে ব্যাচের বাকিদের সাথে দেখা হয়ে যায়। তানিয়া, শ্বেতা, সম্প্রীতি, অর্ণব, প্রীতম, সায়ন সবাই থাকে। ছেলেগুলি তো রীতিমত তার সাথে কথা বলার জন্য পাগল থাকে। অর্ণব, প্রীতম তো পারলে তার সাইকেলটাও চালিয়ে নিয়ে যায়। তিতি তখন ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ছেলেটাকে দেখে। বলতে চায়, দেখ তুই ভাও না দিলেও আমায় ভাও দেবার লোকের অভাব নেই।
কিন্তু কোথায় কী! ছেলেটা তাকে পাত্তা দিলে তো! তাকাবেই না তার দিকে। রাগ ধরে যায় তিতির। কোথাকার পাবলিক কে জানে! স্কুলে একদিন তানিয়া, শ্বেতাকে বলেও সে কথা “এই ছেলেটা এরকম কেন রে?”
তানিয়া অবাক হয়ে বলে “কে? ঋষি?”
তিতি বলে “হ্যাঁ। কিরকম যেন, তাকায় না, কথা বলে না, এরকম কেন কে জানে”।
শ্বেতা তাকে খ্যাপাতে চেষ্টা করে “কেন? তোর পছন্দ হয়েছে? কথা বলে দেখব?”
তিতি মুখ ব্যাকায় “পছন্দ? তুই জানিস আমার জন্য কত ছেলে পাগল? এই সব আনকুথ পাবলিককে আমি পাত্তা দেব? হুহ”।
শ্বেতার মুখ কালো হয়। তিতিকে সে একটু হিংসে করে। তিতির ডিপিতে যত লাইক পড়ে, তার ডিপিতে তত পড়ে না। সে বলে “পাত্তা দিবি না যখন তখন তাকায় না কি তাকায় তাতে তোর এত ফাটে কেন? ন্যাকামি যতসব”।
তিতির লেগে যায় শ্বেতার সাথে তানিয়া তখন তাদের আটকায়। দুদিন কথা বন্ধ থাকে তাদের। তিন দিনের দিন আবার ভাব হয়ে যায়।

তিতিরা গার্লস স্কুলে পড়ে। ছেলেদের স্কুলটা তাদের স্কুল থেকে মিনিট পাঁচেক। তাদের মফস্বলের এই দুটো স্কুলই সব থেকে বড় স্কুল। আর ছেলেদের কাছে গার্লস স্কুলটা হল রূপকথার নগরী টাইপ। নীল ড্রেস পরে মেয়েরা যখন বেরোয় ছেলেরা তখন স্কুল যাওয়ার পথে চাতক পাখির মত তাকিয়ে থাকে। তিতি জানে তার স্কুল যাবার সময় পাঁচ থেকে ছটা ছেলে দাঁড়িয়ে থাকে শুধু তাকে দেখবার জন্য। তিতি তাদের দিকে একবারও তাকায় না। কিন্তু পরিষ্কার বুঝতে পারে ছেলেগুলি তার জন্য জীবন মরণ পণ করে ফেলেছে।
তিতির অহংকার হয়। আর তখনই ওই ছেলেটাকে দেখতে পায় স্কুল যেতে। স্কুল ড্রেসে, সাইকেল নিয়ে সেই নির্বিকার ভাবে চলে যাওয়া। কোন দিকে তাকানো নেই।
তিতি জোরে সাইকেল চালিয়ে ওকে পার হয়ে চলে যায়, ভাবে ছেলেটা হয়ত তাকে বেরিয়ে যেতে দেখে সাইকেলের গতি বাড়াবে, কিন্তু কোথায় কী! সেই একই ভাবে ধীরে সুস্থে চলে যায়।
টিউশনে স্যার যেদিন আসতে একটু দেরী করে তারা সবাই মোবাইল বের করে খুট খুট করে যায়। ছেলেটা নির্বিকার ভাবে চুপচাপ বসে থাকে। কখনও বই বের করে আগের দিনের পড়ানো জিনিসগুলি দেখে।
তিতির একদিন খুব রাগ হল। ছেলেটাকে শুনিয়ে শুনিয়ে শ্বেতাকে বলল “আমাদের মধ্যে একজনই সিরিয়াস। বাকিরা কেউই পড়াশুনা করি না বল?”
বাকিরা সবাই হেসে ওঠে। ছেলেটা এমন ভান করে কিছুই শোনে নি। তিতির কথায় উৎসাহিত হয়ে অর্ণব ঋষিকে চাটতে চেষ্টা করে “কিরে ভাই আর কত পড়বি?”
ঋষি হেসে ফেলে, বলে “কিছুই পড়িনি ভাই। একটু ঝালিয়ে নিচ্ছি আর কী!”
প্রীতমও কম যায় না, ও বলে “তুই কিন্তু দিন দিন জ্যাঠামশাই হয়ে যাচ্ছিস”।
তিতি মজা পায়। তাকে খুশি করার জন্য সবাই জান দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ঋষির তপস্যাভঙ্গ কি এতই সোজা? সে বলে দেয় “পড়তে এসে পড়লে জ্যাঠামশাই হয়ে যায়?”
প্রীতম বেশি স্মার্ট হতে গিয়ে এই কথার উত্তরে আমতা আমতা করে ফেলে। অপ্রস্তুত হয়ে যায়। তিতি আরও জ্বলতে থাকে।
#
তিতিদের ব্যাচ বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হয়। সাতটায় শেষ হয়। গরমকালে সন্ধ্যেবেলায় রাস্তায় ভালই লোক থাকে। মা প্রথম প্রথম আপত্তি করত, বাবা বলে দিয়েছিল সেরকম বুঝলে মোবাইল থাকে তো, ফোন করে দিলে কাউকে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে।
এক দেড়মাস পড়তে গিয়ে তিতি দেখেছে সেরকম কোন প্রয়োজন পড়ে না। রাস্তাঘাটে লোক থাকে। মফস্বল হলেও রাস্তায় ভালই আলোর ব্যবস্থা আছে। সবাই মিলে কিলোমিটার খানেক এমনিই যায়, তারপর বাকি এক কিলোমিটার তাকে একা সাইকেল চালাতে হয়। এক কিলোমিটারের মধ্যে অবশ্য পাঁচশো মিটার ঋষি থাকে কিন্তু তিতি সেটাকে হিসেবের মধ্যে ধরে না। সে জানে ছেলেটা ওই একাই ধীরে সুস্থে যাবে। তার সাথে কথাও বলবে না, আর দেখবেও না।
এর মধ্যেই একদিন সেই ঘটনাটা ঘটল।
সেদিন স্যারের পড়ানোর পর সবাই বেরোচ্ছে হঠাৎ তিতি দেখল শ্বেতা ঋষির সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। ঋষিও হাসছে। তিতির মাথায় আগুন জ্বলে গেল প্রথমটা দেখে, তারপর অনেক কষ্টে সেটা সামলে সে শ্বেতাকে বলল “কীরে যাবি না? চল”।
শ্বেতা তাকে পাত্তা না দেবার ভঙ্গিতে বলল “তোরা বেরিয়ে যা। ঋষির সাথে একটু কথা আছে আমার”।
ঋষি তো তাকে দেখলই না।
তিতি রেগে মেগে বাইরে বেরিয়ে সাইকেল বের করল। বেশ গতিতে সাইকেল চালাতে লাগল। তানিয়া খানিকটা জোরে চালিয়েই তাকে ধরে ফেলল “কি রে, রাগ করলি নাকি?”
তিতি বলল “আমি কেন রাগ করতে যাব?”
তানিয়া বলল “সেটা আমি কী করে জানব? এত জোরে যাচ্ছিস কেন? একটু ধীরে যেতে পারিস তো”।
তিতি বলল “তুই দেখলি শ্বেতা ঋষির সাথে হেসে হেসে কথা বলছে?”
তানিয়া অবাক হল “হ্যাঁ, কিন্তু তাতে তোর কী? কথা না বলার কী আছে? কেন বল তো? তুই কি ঋষির উপর ফ্রাস্ট্রু খেয়ে ফেললি নাকি?”
অর্ণব প্রীতমরা এদিকেই কান খাঁড়া করে আছে বুঝতে পারছিল তিতি, সে বলল “ফ্রাস্ট্রুর কী আছে? রোজ একসাথে যাই। শ্বেতা আবার ফালতু অ্যাটি নিয়ে নিল কেন সেটাই তো বুঝলাম না”।
প্রীতম বলল “আরে ওরা তো কেমিস্ট্রি ব্যাচেও পড়ে একসাথে। ওই ব্যাপারে কোন কথা হবে”।
তিতির খুব রাগ হতে লাগল। কেমিস্ট্রি ব্যাচে শ্বেতা আর ঋষি কেন একসাথে পড়বে? সে পড়তে পারে না? বাবার বন্ধু অনন্ত আঙ্কেলের কাছে সে কেমিস্ট্রি পড়ে। দাঁড়া শ্বেতা তোর হচ্ছে, আমিও ওই ব্যাচে পড়তে যাব। তোর হেসে হেসে কথা বলা আমি বের করছি।
এদিনও সবাই একসাথেই যাচ্ছিল। শুধু শ্বেতা আর ঋষি বাদে। এক কিলোমিটার অবধি সবাই হই হই করতে করতে গেল। তারপরেই তানিয়া, প্রীতম, অর্ণবরা তাদের রাস্তায় বেঁকে গেল। তখন হঠাৎই তিতির একটু একটু ভয় করা শুরু করল। এতদিন আর যাই হোক, কথা বলুক না বলুক ছেলেটা সাথে সাথে যেত। আজ সেটাও নেই। শ্বেতার সাথে কী কথা বলছে কে জানে। তিতির চোখের কোণায় একটু একটু জল আসছিল। তারপর সে মন শক্ত করল। সাইকেলের প্যাডেলে জোর দিল। সে যথেষ্ট সাহসী। একাই বাড়ি চলে যেতে পারবে।
একটা জায়গা দিয়ে তাকে যেতে হয় যেখানে একটা খেলার মাঠ আছে, আর তার সংলগ্ন ক্লাব। বিকেলে স্যারের বাড়ি যাবার পথে ক্লাবের ছেলেরা ওখানে ফুটবল খেলে। তাকে দেখলে তাদের গতি বেড়ে যায়। মেসি, রোনাল্ডো হবার প্রাণপণ চেষ্টা করে ছেলেগুলো। ফেরার পথে দেখা যায় মাঠে গোল করে বসে আড্ডা মারছে। কেউ কেউ একটু জোরে কথা বলা শুরু করে তাকে সাইকেল নিয়ে যেতে দেখলে।
তিতি জায়গাটাকে বরাবরই একটু ভয়ের চোখে দেখে। অন্যান্যদিন ঋষি থাকে, আজকে নেই সেটা মাথায় ঘুরছিল। একটা বাইক সামনে দিয়ে আসছিল, কোনমতে গায়ের ওপরেই এসে পড়েছিল, শেষ মুহূর্তে সামলে নিয়ে বেরিয়ে গেল। মেয়ে দেখলে একটু এক্সট্রা স্টাইল দেখানোর ইচ্ছা বেড়ে যায় বাইকের ছেলেদের। তারই এফেক্ট ছিল। তিতি সামলাতে পারল না। সাইকেল নিয়ে পড়ে গেল।
ছেলেগুলো কোথায় এগিয়ে এসে সাহায্য করবে তা না করে হো হো করে হেসে ফেলল। তিতির হাঁটুতে বেশ লেগেছিল। ছেলেগুলোর হাসি শুনে তার চোখ ফেটে জল এল। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে সে সাইকেলে উঠতে যাবে এমন সময় দেখল পায়ে বেশ ব্যথা করছে। সাইকেল চালানো যাবে না। খোঁড়াতে খোঁড়াতে সে সাইকেল হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। এতটা রাস্তা একা যেতে হবে ভেবেই ভয় লাগছিল তার। সন্ধ্যে নেমে গেছে, সাইকেলটা চালাতে পারলে তাও বাড়িতে তাড়াতাড়ি পৌছে যাওয়া যেত। তিতির মনে পড়ল মোবাইলের কথা, ব্যাগ থেকে তড়িঘড়ি বের করে দেখল অন হচ্ছে না। তখন ব্যাচের মধ্যেই এত ফেসবুক হোয়াটস অ্যাপ করা হয়ে গেছে যে কখন ব্যাটারি শেষ হয়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। কোনমতে সাইকেলটা নিয়ে সে হাঁটতে লাগল। পায়ে ছিলে গেছে রাস্তায়। জ্বলছে রীতিমত। আর আজকেই শ্বেতা ঋষির সাথে হেসে হেসে কথা বলেছে।
তিতির হঠাৎ মনে হল তাকে আসলে কেউ ভালবাসে না। যতই তার দু হাজার ফলোয়ার থাক, ফেসবুকে যতই ছেলেরা তার ডিপিতে লাইকের বন্যা বইয়ে দিক, আসলেই তাকে কেউ ভালবাসে না। রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাওয়া ছেলেগুলি তাকে দেখছিল। কেউ কেউ একটু আধটু টোনও করছিল। খানিকটা চলার পর তিতি বুঝতে পারল দুটো ছেলে তিন চার বার তাকে ক্রস করেছে। একবার যাচ্ছে, আরেকবার আসছে। সে কোন দিক না তাকিয়ে কোন মতে হাঁটতে লাগল। গরমও কম না, কপালে, নাকের নীচে ঘাম জমা শুরু হয়েছে। একটা চোরা টেনশনও শুরু হয়েছে ভিতরে ভিতরে।
এই সময়েই ছেলেদুটো সাহস সঞ্চয় করে তার পাশেই সাইকেল নিয়ে সমান্তরাল ভাবে চলতে শুরু করল, একজন বলল “পৌছে দেব মামণি? সাইকেল হাঁটাতে কষ্ট হচ্ছে?”
ছেলেটার কথা শুনে পাশের ছেলেটা খ্যাক খ্যাক করে হাসল। হাসিটা খুব একটা সুবিধের লাগছিল না তিতির। এই জায়গাটা ভাল না। কার্গিল এরিয়া বলে তাদের মফস্বলের লোক। এলাকার যত উল্টো পালটা ছেলেদের ম্যানুফাকচারিং কেন্দ্র।
সে সব মনে পড়তেই একটা ভয় গ্রাস করতে লাগল তিতিকে। সে কোন উত্তর না দিয়েই হাঁটতে লাগল। এবার পাশের ছেলেটা বলল “ঝুলে গেছে দেখছি, মানে সাইকেলের চেন। তুলে দেব?”
তিতি কেঁদে ফেলল, এতটা অসভ্যতা তার সাথে কোনদিন হয় নি। এতদিন কোথাও পড়তে গেলে বাড়ির ঠিক করে দেওয়া অধীর কাকুই রিক্সা করে নিয়ে যেত, কোন ছেলেপিলেকে কাছেই ঘেঁষতে দিত না অধীর কাকু। আজকে ছেলেটার মুখে এই কথাটা শুনে কী করবে কিছুই বুঝতে পারছিল না সে। শেষে ঠিক করল সাইকেলটা রাস্তাতেই ফেলে রেখে ব্যথা পা নিয়েই বাড়ির দিকে দৌড় লাগাবে, তাতে যা হয় হবে। রাস্তার পাশের জায়গায় সাইকেলটা রাখতে যাবে এমন সময় ঋষির গলা শুনতে পেল সে “কী হয়েছে? সাইকেল নিয়ে হাঁটছিস কেন?”
তিতি দেখল ঋষিকে দেখে ছেলেদুটো সাইকেল নিয়ে জোরে চালিয়ে বেরিয়ে গেল। ঋষি সাইকেলটা স্ট্যান্ড করে এগিয়ে এল। তিতি আর পারল না। শব্দ করে কাঁদল খানিকক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে। ঋষি নড়ল না। তিতির কান্না শেষ হওয়া অবধি দাঁড়িয়ে থাকল। কান্না শেষ হতেই তিতির খুব রাগ হল। বলল “তুই কেন এলি? যা না, ওই শ্বেতার সাথে হেসে হেসে গল্প কর না। আমি এভাবেই বাড়ি চলে যাব”।
ঋষি এবারও নড়ল না। তিতির রাগ শেষ হবার অপেক্ষা করতে লাগল।

অভীক দত্ত


পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আদরের নৌকার সম্পাদক। গান, গল্প আর আড্ডা ছাড়া থাকতে পারি না। আর আদরের নৌকা ছাড়া বাঁচব না, এটা তো এতদিনে আপনারাও জেনে গেছেন...

আপনার মতামত জানান