জুুলাই মাসের কবি

বেবী সাউ
১.
করপোরেট

সরস্বতী মন্ডপ থেকে একটু দুরে
রোজ
সন্ধ্যে হয়

বার বার ঠিকানা ভুল করি
রাস্তা ছড়িয়ে রাখি দূরে
ফুচকাওয়ালা আলুওয়ালা
বাদামের দোকান পেরিয়ে
আমাদের গোলচত্বর

যেখানে পৌঁছালেই রাত নেমে আসে

২.
একশো বছরের হিসাব

আমরা অধম হয়ে শুয়ে আছি
অদৃশ্য রাশিচক্র কার ভরসায়
নাচছে

উঁইয়ের
ঢিপিতে ভরে উঠেছে গোলাপের
বাগান
লম্বা বারান্দা
আঠারো না হওয়া কুমারীর যৌন
কেশ

তিনদিকে ঘন জঙ্গল
সমুদ্রের পথ
হারিয়ে গেছে ভাঙা মাস্তুলে

কোন ধ্রুব নেই

আপনার স্কার্ভি
ঝরে পড়া চুলে তখনো লেগে সোনার
দাগ

শতকের শুরু জানি না
শতকের শেষ সমাজ মনে রাখে না

একশো বছরের আগেই
উঠে আসছে একাকীত্বের কথা
মা হারানোর কথা

শুধু, ঝুঁকে পড়া গ্রাম , প্রেমহীন হাত
নিয়ে দাঁড়িয়েছে নিঃসঙ্গ শহরের
কাছে


৩.

আদিবাসী

আমাদের জঙ্গল হারিয়ে পড়ছে,
বনমোরগ
ধাওয়া করে উঠে আসছে ফুলডুংরির
হাইওয়ে
নিখোঁজ আলোয়
লেখা মায়ের
নিরুদ্দেশী অপেক্ষা
উটের
পালকে লেগে নুন জন্ম ক্ষয়ে গেছে
শুধু
মুড়ি, চানাচুর, পান্তাভাত গন্ধ
শুঁকতে শুঁকতে
শুঁকতে শুঁকতে
গুলিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরের জিনের শব্দে


৪.

বৃষ্টি

এই অলক্ষ্য গানের প্রয়োজন ছিল
আজ

অথচ ,
কোন মাছের গল্প
উঠে আসেনি সেভাবে

আলো ভেঙে পড়ছে লাবণ্যহীন
শিল্পীর
কালো শিরায়

উঠোন
বেয়ে নেমে আসছে জুঁইমেশা নদী

পাখি উড়ে যাচ্ছে

পাখি উড়তে চাইছে পাঁচ আঙুল
ছেড়ে
কালো শিরা থেকে


৫.

হোলি
সাদা বিছানায় তোমার আলতা ছাপ.
আজ বর্ণের দিন
মানুষ আনন্দ
মাখছে
স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকারে থেমে আছে উট
মা হারিয়ে ফেলছি আমি
বাবা হারিয়ে ফেলেছি
প্রিয় মুখরা হারিয়ে যাচ্ছে দূরে
কান্না পাচ্ছে
লাল চোখ বেয়ে রক্ত
এই অচেনা পৃথিবীতে আমার কি কাজ!
বলো, এই অচেনা পৃথিবীতে আমার
কি কাজ?


৬ .
মৃত্যু

চলে যাওয়ারও একটা গন্ধ আছে
একটা রঙ ,
একটা হাওয়া
আমরা ধূপ জ্বেলে
নোনা জলে
ওই হাওয়ার সাথে , গন্ধের সাথে যুদ্ধ
করি
মুছে দিতে চাই


৭ .
দাম্পত্য

কতদিন ঘর থেকে বেরোই নি
চাদরের ভাঁজে জমে উঠছে অসুখ
পড়ন্ত রোদ দিন দিন লোভ দেখায়
দূরে অচেনা অরণ্য
ঝরঝর শব্দে নেচে উঠছে পাতা ঝরার দল
দুঃখ সেচ করতে করতে
দেখ , কেমন এক পাহাড় দাঁড়িয়ে গেল
আমাদের গেটের সামনে !


৮ .
রহস্য

এইযে তোমার আঙুল
খেলে বেড়াচ্ছে বিকেলের রোদে
শরীরের তুতানখামেন জুড়ে
মুগ্ধ মনে চেয়ে আছে বান্ধবীর চোখ
তুমি কি এসবের সবটা জান!
আমিও
কি ছাই পাঁশ শিখেছি এসব কখনো!
খোলামাঠ ওপার থেকে শোনাচ্ছে শুধু
ঘিয়ের কথা
আগুনের কথা


৯.
সংক্রান্তি
আমাদের ঘরে আজ পিঠে উত্সব ।
জমিয়ে তোলা গোপন রসদ
থেকে সিঁদুরমাখা অভিমান
তুলে রাখছেন আমাদের মা । সুবর্ণরেখার
পাড় ঘেঁষে মোরগের
লড়াইতে হেসে উঠছে সাঁওতালী বালিকা ।
চোখে তার বিজয়ীর জল ।
ডিসেম্বরে বিয়ে হওয়া মেয়েরা ফিরে এসেছে ।
ব্যাগে তাদের সূর্যাস্তরঙা বিরহ আর
শীতের সবুজ রোদ্দুর ।
অপেক্ষায় আছি , এই বুঝি বেজে উঠল
আলতিমাসের বাঁশি ।এবার নীলবর্ণ
আকাশ থেকে ঝরবে কিছু প্রাণময় কোষ আর
মাতৃবর্ণাত্মক পদ্মের ফুল ।


১০.

জার্নি

আমাদের ট্রেন ছুটছে । ঝালমুড়ি ,
আচারে মজে আছে রাতজাগা মেয়ে ।
ঠোঁটে ফিকে হয়ে যাওয়া লিপস্টিক ।
ঘরে তার অসুস্থ ভাই , দুখী মা ।
বাবা তারা হয়ে গেছে ।
তারা মানে আমরা নয় । ট্রেনের
বাইরে উঠতি সবুজ । আমরা মন দিয়ে সবুজ
শিখছি।
রাতজাগা মেয়েটি মাসকারা লাগিয়েছে তাই
কালি পড়া চোখ
দুটি বোঝা যাচ্ছে না ।
মায়াবী লাগছে ।আমরা মায়া চোখ
ভালোবাসি । রাতজাগা মেয়েদের
ভালোবাসি রাতে ।






কবি পরিচিতিঃ
কবির ভাষায়
"থাকি ঝাড়খন্ডের এক ছোট্ট শহর বহড়াগোড়াতে। একদিকে ওড়িষ্যার বর্ডার অন্যদিকে ন্যাশনাল সিক্স চলে যাচ্ছে বাংলার দিকে। পড়াশোনা গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট। আর জন্মদিন অক্টোবর ২৯।শখ প্রচুর গান শোনা আর মোবাইল কেনা। খারাপ মন থাকলে কোন কাজে যে ভালো হয় --- হঠাৎ করে রিংটোন শোনা হতে পারে, কারো সাথে ঝগড়া করলে ও, নতুন কোন পাখি দেখলে কিম্বা ওই পাতা কুড়ানো মা মরা ছেলেটি এলেও
নতুন নতুন বাইক দেখতে ভালো লাগে আর ভালো লাগে অরণ্য, জঙ্গল ... গাছ। হঠাৎ করে হারিয়ে যেতে। অন্ধকার ঘর ভালো লাগে--- একা একা নিজের সাথে কথা বলা যায় সেখানে।
প্রচুর বই পড়তে ইচ্ছে করে। স্বপ্ন দেখি -- নিজস্ব একটা লাইব্রেরী থাকবে, ইয়া বড় একটা ঘর, এত্ত এত্ত বই, একটা আরাম কেদারায় আমি হেলান দিয়ে আমি বসে"...