হানিমুন ট্রাভেলস্

শুভদীপ দত্ত চৌধুরী


এক আকাশ জঙ্গল, নাকি সাগরের নিভে আসা আলো,
কে তোকে সিঁদুর পরালো?


“আমি তোকে একবার চুমু খেতে পারি?”
দিঘা’কে প্রশ্ন করে চুপিচুপি ভীতু তালসারি!


মেঘলা দুপুরবেলা দিঘা ছিল নিরালা ও গ্রামীণ,
ঝিনুক-বিছানো পথে হেঁটে গেছি তুই আর আমি



যতদূরে তুই গেলি, আমি গেছি আরও যত দূরে,
ততদূরে ভাঁটা গেল, শংকরপুরে!


এবং জোয়ার এলো, ডুবে গেল গোড়ালির মন,
দূরত্ব মানে জানে দূরে চুপ ঘন ঝাউবন।


যতদূর চোখ যায় চেয়ে দেখি বালি আর বালি...
এমন সাগরতীরে, মেয়ে, তুই আগুন পোহালি?



সারা পথ সাথে ছিল শরীরের জাদু-মোমবাতি,
মোহনার কাছে পথ হারিয়েছে দু’জনে হঠাৎ-ই!


সূর্যের ইশারায় ঘুমে গেছে মাঝিদের জাল,
তোর হাত ছুঁয়েছিল যুবকের নির্জন ডাল...




রূপালি মাছের আঁশে লেগে ছিল আদরের ঘ্রাণ
সারারাত জেগেছিল কবিতা’রা, আর কিছু এলোমেলো গান।


১০
ছেঁড়া মশারির জালে ভিড় করে ক্ষুধাতুর কাকের সমাজ
ততটাই খিদে ছিল সারারাত আমাদের আজ!

১১
যে প্রেমিক উগরেছে লৌহ-লাভা পৃথিবীর গা’য়,
সেই স্রোতে ভেসে গেল জীবনের যৌথ সমবায়।

১২
যে লোকটি হেঁটে গেল সাগরের অভিমুখে অবেলায়
একা একা একা একা একা...
সে কি জানে কাকে বলে সংসার, একসাথে থাকা?




পরিচিতিঃ
নাম- শুভদীপ দত্ত চৌধুরী
ধাম- পশ্চিম মেদিনীপুর
জন্ম- ০৯/০৬/১৯৮৯ (জন্মেই নয় ছয়!)
মৃত্যু- মতান্তর বিস্তর।
শখ- গান শোনা, ঘুরে বেড়ানো, চিঠি লেখা, ক্রিকেট, আড্ডা, প্রেম…
শিক্ষা- ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. । এছাড়াও স্প্যানিশ সাহিত্য, ফরাসী সাহিত্য, জাপানী সাহিত্য, পর্তুগীজ সাহিত্য, ব্রাজিলিয়ান সাহিত্য (সদ্য বিশ্বকাপ ফুটবল হল বলে কথা!) সম্পর্কে অগাধ অজ্ঞতা।
কবিতা লেখা শুরু- প্রেমে ল্যাং খেয়ে ২০০৬ সালে। সে সব ডায়েরি-বন্দী মনখারাপ। কলেজ ম্যাগাজিনের পর প্রথম লেখা পাঠানো একসাথে “উনিশ কুড়ি” ও “দেশ”-এ ২০১১ সালে। কবিতাগুলি ওই বছরেই প্রকাশিত। এরপর বহু বড়, মেজো, সেজো, ফুল, রাঙা, ও ন’ ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত।

কবিতার বই- “ব্যথার বন্দিশ”(২০১৪), প্রকাশক- যাপনচিত্র
না, এই বইয়ের সাথে কোন স্ক্র্যাচ কুপন ফ্রী নেই। ফলে নেই অল্টো গাড়ি জেতার সুযোগ। তবে আছে সময় নষ্ট করার জন্য ২৭টি কবিতা।

ধর্ম- রবীন্দ্রনাথ, বর্ণ- মোটামুটি ফর্সা।
রূপ- আহা! রস- ডাহা!
শব্দ- দিস্তে দিস্তে।
গন্ধ- ডিওডেরান্টের উপর নির্ভর করে!
স্পর্শ- হাই-ভল্টেজ স্পার্ক!


ছবি- কবি