নভেম্বর মাসের কবি

শঙ্খশুভ্র দে বিশ্বাস
রং
রাস্তাটা পেরিয়ে গেলে যে বড় রাস্তার মোড় পরে
সেখানেই সুচরিতা মিছিল করেছে গত রাতে
মিছিলের মানুষের কলরব চারিদিকে ঘুরছে


ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে যাবে কান থেকে কানে অবিরাম
আমি সেই শব্দ তুলে নিয়ে তুলিতে এঁকেছি
শুধু লাল রং ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাইনি প্রভূ !


পেছনের লোক
বন্ধুরা আমার থেকে অনেক এগিয়ে গেছে বলে
আমি বন্ধুদের সাথে মিশতে পারি খুব ভালো ভাবে

কারণ পিছিয়ে পরা মানুষ-ই এগোতে পারে!


অপেক্ষা
চোখ গলে গলে মেশে নদীর গভীরে অলৌকিক
তীর থেকে ঢিল ছুঁড়ি; মা তাকায় ,ফের ডুবে যায়...
সেই থেকে আজ অব্দি নদীমুখো যাইনি অভিমানে

মা স্বপ্নেও কেন আসে না, একটি কথাও কেন যে বলে না!

গল্পটা
অদৃশ্য সুতোর মত ঝুলে আছ মাথার ওপর
চুল বেয়ে নেমে গেছে তোমার আঁচল, ডানাহীন...
মুখের ওপর যত গল্প লেখ নরম আঙ্গুল
বুলিয়ে বুলিয়ে তুমি, আমি উপন্যাস হয়ে যাই!


বহুদিন পর
মেঘ খুঁজে বের করি তরবারি, চুরি যাওয়া চোখ
সদ্য ওঠা গজ দাঁত, দাঁতের আড়ালে ধূর্ত পাখি

গুঁড়ো গুঁড়ো ভালবাসা লুকিয়ে রেখেছি অনুভবে
নিঝুম গাছের মত যত্র তত্র অবহেলা-বুকে !

এই সেই চেনা বুক, যেখানে আগুন জল ভেবে
পান করে আজীবন কথা বলা ভুলে গেছ তুমি...



পতাকা

তুমি মিনারের মত অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রয়েছ
আমি পতাকার মত তোমার শরীরে উড়ছি শুধু

সেই পতাকার রং লাল ছিল সবুজ সকালে!



কবি পরিচিতি-
জন্ম : ২৯ জুন , ১৯৮৭
ঠিকানা : শিমুলতলা , বনগাঁ , উত্তর ২৪ পরগনা।

তবু অভিমান নামক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
কাব্যগ্রন্থ : আলোর গভীরে ( প্রকাশক : যাপনচিত্র )

লেখালিখির ব্যাপারে মূলত দুজনের কাছে ঋণী : বাবা বুদ্ধদেব দে বিশ্বাস ও কবি বিনয় মজুমদার।