ডিসেম্বর মাসের কবি

উজান
১)
মায়া
কিছুই চিনতে ইচ্ছে করেনা তেমন
চেনার উপায়গুলি ছাড়া

ঘুরতে শুরু করলে ফ্যানের ব্লেডগুলিকে দেখায় নিরাপদ বৃত্তের মতো,
ঘুরতে শুরু করলে মানুষকে বেশ বিপজ্জনক লাগে,
প্রেমিকাকে তারও চেয়ে বেশী ।

নিজের মায়া আবর্তন হারিয়ে যাচ্ছে সভ্যতার মতো ।

শুধু স্মৃতির দিকে ঘুরে দাঁড়ালে
কুয়াশা ভালো লাগে,
ঘূর্ণির প্রতি স্নেহ জাগে খুব

একান্ত পিছুটানের দিকে এক পা বাড়িয়ে
বলে ফেলতে থাকি-
নাও নাও হে পুরাতন তিল,
নাও নাও হে চেনা অবয়ব ।


২)
অক্ষরদাগ
গা থেকে জল মুছে নিল ও ।
‘ও’ থেকে তীব্র ছুটে গেল ‘আ--’
‘আ’য়ের সন্তান আদর
    উঠে চলে গেছে কবে
    ছুটে চলে গেছে...

মোছা যাচ্ছেনা শুধু
    ‘আ’য়ের চিহ্ন ‘ব্যাথা-আ-আ-’

৩)
গুপ্ত
প্রতিটা জ্যান্ত মানুষের মধ্যে একটা মৃতদেহ আছে
তাকে ছুঁয়ে দিলে দুঃখ হয় ।

নাভির খোসার মতো ভেসে যায়...
জ্যান্ত শহরের নীচে ভারি মাটি ।

তুমি যার হাত ধরছ
হাত ছেঁড়ে দিচ্ছ যার

সকলেরই আছে শবধারণ
আর
দুঃখদিনের অবাধ গোটানো অধিকার ।

৪)
ক্যানভাস
ছবিতে ধুলো পড়ে,
         হলুদ হয়ে যায় ।

         কৃষ্ণ একটি পক্ষ মাত্র ,
         রাধাচূড়া একটি হলুদ ফুলের নাম ।

মনে পড়ে...
আমার মনে পড়ে...
আমি ক্রমাগত একদিন...
ভার্মিলিয়ন থেকে
খয়েরি... চাপা খয়েরি হয়ে যাচ্ছিলাম ।

৫)
বন্ধ্যা
আমি বুঝতে পারছি
        ধীরে ধীরে সব গর্ভ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
কেউ কি আর জন্মাতে বলবেনা আমাকে?
আমার জন্মের প্রতি কারো বুঝি কোন কাতরতা নেই...

নাহয় নাভিমূলে নয়,
নাহয় কোন গাছহীন মাঠে,
সমুদ্র না পাওয়া নদী, হেলে পড়া বাড়ির দেওয়ালে
বেঁটে কোন ঘাস...
গুপ্ত কবরের পাশে, হাড়খোঁটা মাস

একটি মেয়ে এইসব জন্মের উদ্দেশ্যে
ধরো খুলে রাখে রোদ্দুরের দুল...

নাভিমূল ভেসে গেছে তার

মেয়েটির প্রেমিক নেই...
      প্রেমিক নেই...
        প্রে মিক নেই...

৬)
ডাক জড়ানো রাস্তা, নাম প্যাঁচানো রাস্তা
আমরা হাঁটছি ।
এইখান দিয়ে দশ মিনিট অন্তর ট্রাম চলে যাওয়ার কথা ।
কথা না থাকলেও আমরা হঠাৎ হাঁটছি ঠিক এখান দিয়েই ;
কথা না থাকলেও একটা ট্রাম-রাস্তার উপর এসে পড়েছে
একটা বাস-রাস্তা
একটা ব্যাবসায়ী-রাস্তা
একটা পথ-ছাড়ো-রাস্তা
আর কতগুলো জড়ানো-প্যাঁচানো সরে দাঁড়ানো ।

একটা সরল রাস্তার উপর এত কিছু এসে পড়ায় তাকে দুর্বোধ্য লাগে ।
আমরা দুজন এসবের অনেকটাই বুঝতে পারছিনা
এবং
তাই
আমরা হাঁটছি ।

আমরা কেউ কথা না রাখলেও
শুধু কাছে আসার ভানে
একটা হলুদ রাস্তায় এসে পড়েছি...

ট্রাম আসেনি এখনও ।

ট্রামের অপেক্ষাটি আমাদের সন্তান হয়ে
হাসতে হাসতে ভাসিয়ে নিচ্ছে... প্রতিশ্রুতির মতো ।

৭)
এখন কোন মুগ্ধতা নেই
এখন কোন মুগ্ধতা নেই ।

ওই যে কেবল একটি তারে
বিদ্যুৎ রেখে পায়ের তলায়
পাখির পাশে একটি পাখি
কেবল মাত্র উড়ে যাবে...এই এখুনি
যে যার মতো-
তাদের অমন পায়ের নীচেও
শহর আছে শহর আছে
মুগ্ধতা নেই ।

আমরা কোথাও নেই শহরে
আমার কানের পাশে আমার শহর তবু
তোমার বুকের পাশেই নীচু
তবু আমার মুগ্ধতা নেই ;
কেবল নিচু হওয়ার জন্য শহর আছে
মুগ্ধতা নেই ।

ওই উড়ে যায় শহর মুড়ে আকাশ কত-
অনেক রঙের এই যে উড়ান
শহর আমায় দেখিয়ে দিল
গিলি গিলি ফুঁয়ের মতো...
রাতের পাশে দিন উড়ে যায়-
কেবল দুটিই ওড়না যেমন...
যে যার মতো
শহর জুড়ে নারীর জাহাজ
তবুও আমার মুগ্ধতা নেই
দিনের মতো রাতের মতো

শহর ঘিরে ঋতুর বর্ডার
শরতও নয়, বসন্ত নয়,
এখন ভীষণ মার্জিনালি
শহর ঘেঁষে শহর বানায় ...
আমার হাতে আমার শহর
কারোর কোন নাম বলেনা ,
আমায় তোমায় কিম্বা তাকে
হাড়ের মাসে আটকে রাখে

ডাকনামেরা কেবল খেলায় ডাকছে তাকেই
যার কেবল শহর আছে
মুগ্ধতা নেই ।





পরিচিতি
নাম – উজান
জন্মদিন- ২৫ শে জুন
ঠিকানা- হৃদয়পুর , উত্তর ২৪ পরগণা
পেশা- শিক্ষকতা
শখ – রং তুলি ক্যামেরা, গান শোনা আর ঘুরে বেড়ানো