ধূসর নক্ষত্রের দেশ

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়

৪ঠা জুলাই, ১৯৩৪। ইতিমধ্যেই নাৎসি দল আর হিটলারের প্রতি অসন্তোষ থেকে দেশ ছেড়েছেন একের পর এক সাহিত্যিক—বিদ্বজন। তাঁদের ধারণা যে ভুল ছিলনা সেসবের প্রমাণ মিলছে একেক করে। কুয়াশা সরে গেছে গতবছরের “রাইখস্ট্যাগ অগ্নিকান্ড” থেকেও, বোঝা যাচ্ছে কাদের চক্রান্তে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল কমিউনিস্ট আর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট’রা। তারপর দেশজুড়ে অসংখ্য ধরপাকড় আর গ্রেপ্তারে তৈরী হয়েছে এক “বিরোধীশূন্য” নতুন জার্মানী। কিন্তু থামেনি তাতেও! মাত্র দু’-তিনটে রাতের অন্ধকারে,

আরও পড়ুন

কত্তা রিলোডেড (পর্ব তিন)

ইন্দ্রনীল বক্সী

মাঝে বেশকিছুদিন আমাদের মেজ কত্তার সঙ্গে দেখা হয়নি , খবর ছিল প্রবাসে রয়েছেন । তা ফিরেছেন শুনে একঠোঙা গরম ফুলুরি নিয়ে হাজির হলাম কত্তার বাড়ির রোয়াকে সকাল সকাল । কে জানে প্রবাস থেকে ফিরে কিরকম মেজাজ থাকে !
যা ভেবেছিলাম ! তেলেভাজা দেখেই নাক সিঁটকে বলে উঠল
“ উফ তোদের নিয়ে পারা যায়না বুসলি ! ... এই সব আনহাইজেনিক ,ত্যালতেলে বিষ মাল গুলান এখনও তোরা সাবড়ে চলসিস অম্লানবদনে ... আন্ডারডেভেলপ কান্ট্রির এই সমস্যা...”
“সেকি গো ! তেলেভাজা তোমার খুব প্রিয় বলেই তো...” হাত ত

আরও পড়ুন

দেশপ্রেম ও শুভ সংলাপ

অনিমিখ পাত্র

কথাগুলো মাথার মধ্যে চাপ সৃষ্টি করছে। নাছোড় মাছির মতো ভনভন করছে। অস্বস্ত্বির ঘামের মতো বিজবিজ করছে। বাসি হয়ে যাবার আগে, লিখে মুক্ত হওয়া যাক।
মফস্বলে চাকরি করতে যাই। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় অসহিষ্ণুতা, জে এন ইউ, কানহাইয়া কুমার, দেশপ্রেম, দেশদ্রোহিতা ইত্যাদি প্রসঙ্গ ওঠে। উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের তফাৎ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব, বিজেপি-আর এস এসের সুচারু পরিকল্পনা এবং হিন্দু-তালিবানি শাসনের প্রাদুর্ভাব সম্বন্ধে বোঝাতে গিয়ে একঘরে হয়ে পড়ি

আরও পড়ুন

বিবেকানন্দ পড়বেন ? পড়ুন , তবে খোলা চোখে

বিশ্বজিৎ রায়




কাউকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে গেলে তাঁর মত জানা বোঝা চাই । বিবেকানন্দের ‘মত’ নানা কারণে আমাদের কাছে স্পষ্ট করে ধরা পড়ে না । এই ধরা না-পড়ার কারণ বিবেকানন্দের নানা লেখা আর কথাকে কেটেকুটে মহিমময় ‘বাণী’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে । বেশ বড়ো বড়ো করে সেই সব বাণী ছড়িয়ে দেওয়া হয় – এতে কিছু মানুষ বিবেকানন্দের প্রতি অনুরক্ত ও কিছু মানুষ তাঁর প্রতি বিরক্ত । অনুরক্তি ও বিরক্তি দুই যেন ‘একমাত্রিক’ বিপরীত ক্রিয়া ।
নির্ভ

আরও পড়ুন

‘এক অ্যাহেসাস’ - অসহিষ্ণুতা রিভিসিটেড

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

১. ‘ওরা বাই বার্থ টেররিস্ট। ওসব ব্রেনওয়াশ-টোয়াশ নয়, বলতে পারিস কেন শুধু ওরাই ব্রেনওয়াশড হয়’ ব’লে খানিক কেশে, কেন শীত আসছে না, এই সুপর্ণা মেয়েটি কে ...ব’লে টলে আবার ডিকটাম শোনালেন মিস্টার মধ্যবিত্ত ‘ওরা বাই বার্থ টেররিস্ট’। মাঝখান থেকে আমি লেগাসির পর লেগাসি ধরে চলে আসা রাজনীতি, দারিদ্র, শিক্ষাগত পপারাইজেশন – আসলে সমস্যার মুলে যে এইসব তা বলতে গিয়ে চাপা পড়ে গেছি। এরা, এসব শোনেনা। একমুঠো চাল ভিক্ষে ক’রে ইস্কুল চালানো সুকাই চাচা, পড়ব ব’লে কোরানশরীফ আনতে গিয়ে ‘এ

আরও পড়ুন

আদি’ কৃত্তিবাস বিষয়ক দুটো একটা কথা

বিশ্বজিৎ রায়



মাঝে মাঝে জানা কথাগুলো আরেক বার ঝালিয়ে নিতে হয় । ‘কৃত্তিবাস’ নামে যে পত্রিকাটির জন্ম হয়েছিল ‘১৯৫৩ সালের বর্ষাকালে’ তার নাম ঠিক করে দিয়েছিলেন সিগনেটের কর্ণধার দিলীপকুমার গুপ্ত । উনিশ-কুড়ি বছরের তরুণেরা কবিতা লেখার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন এই পত্রিকাটি ছিল তাঁদের সেই স্বপ্নের তরণী, আদরের নৌকাও বলা চলে । এই উদ্যোগের মধ্যে দিলীপকুমার গুপ্তের সহযোগ ছিল বলে পত্রিকাটি দেখতে খুবই সুন্দর হয়েছিল ।‘মূল্যবান কা

আরও পড়ুন

বিসর্জন হোক না হোক আজ বিজয়া

অনুপম মুখোপাধ্যায়



বিসর্জন হোক না হোক আজ বিজয়া। কিছু কথা বলি? আপনি বুঝি নাস্তিক? তাহলে এই স্ট্যাটাস হয়ত আপনাকে বিদ্ধ করবে। মার্জনা চাইছি। আপনি ইচ্ছে হলে পুরোটা না-ও পড়তে পারেন। শুধু আলিঙ্গন দিন। পরে দেখা হবে।
.
দুর্গাপূজায় প্রণাম করা মুসলমানকে দেখে আমাদের মন ভরে যায়। ঈদে অংশ নেওয়া হিন্দুকে দেখে আমরা আশ্বস্ত হই। ওঁরা নাস্তিক নন। ওঁরা সম্প্রদায় আর ধর্মের সীমাটাকে ভাঙতে পেরেছেন। কিন্তু এ নতুন কি? নতুন কিছু নয়। চিরকাল ব

আরও পড়ুন

অবাক হয়ে শুনি

কৌস্তভ ভট্টাচার্য



দেবব্রত বিশ্বাসের আইকনতুল্য খ্যাতির সামনে নতুন কিছু লিখতে বসার অর্থ – বোতল আর মদ দুটোই পুরোনো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আর এ’সব ব্যাপারে নাক গলানোর এবং ভুল তথ্য দেওয়ার ফলশ্রুতি অচেনা অনেক মুখ ও মুখোশনির্গত খিস্তিসুধাপান।
তাই প্রথমেই বলে রাখি গুস্তাখি মাফ। অধমের সম্বল – উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর বানানো একটা অডিও ডকুমেন্টারি (গান আমার পড়ে পাওয়া ধন), ইউটিউবে পাওয়া একটা আধঘন্টার ইন্টারভিউ, সত্যজিত রায়ের একটা স্মৃতিচারণ আর

আরও পড়ুন

হোকহ্যাশট্যাগ

সায়ন্তন মাইতি



দেখতে দেখতে যাদবপুরের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের এক বছর। সাড়া জাগানো অগ্নিগর্ভ আন্দোলন এক বছরে অতীত হয় নি, হবেও না। অদম্য যুবশক্তির দাঁত কামড়ে লড়াই করার জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন একটা মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। একবার পিছন ফিরে যদি খুঁজতে চেষ্টা করি এই আন্দোলনের সবথেকে স্থায়ী অবদানটা কী, তাহলে সবার আগেই যেটা মাথায় আসবে সেটা হল যে কোনো স্লোগানের আগে হোকযোগ।
খুব ভুল বললাম? হ্যাশট্যাগোৎপাত তো আগেই ছি

আরও পড়ুন

যা জানি না

রঞ্জন ঘোষাল


সুনীল গাঙ্গুলির জীবনের অনেক বিষয়ে আমরা সবাই অল্প-বিস্তর জানি। কিন্তু আমাকে যেটা ভাবায় সেটা হচ্ছে, কত কী যে অজানা।
আমি এই না জানার একটা লিস্টি তৈরি করেছি। আপনারা যদি কেউ জানেন, আমার তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে কোনো আপত্তি নেই।

• উনি যথেষ্ট অনূদিত হন নি কেন? যেটুকু হয়েছেন তাতে একপিস নোবেল কি ওঁকে দেওয়া যেত না?

উনি কেন নোবেল পেলেন না, এ বিষয়ে আমার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। ক্ষোভ এই কাওরণে যে আমরা একটি যথাযথ সুনীল ফ্যান ক্লাব তৈরী করতে পারিনি

আরও পড়ুন

নীল রঙ ছিল ভীষণ ...

সুমন সরকার

পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে জল আসে , কিন্তু পেঁয়াজ কিনতেও যে এখন চোখে জল , পকেট দুর্বল । বেলার দিকে বাজারে গেলে আনাজপাতি একটু সস্তায় মেলে , কিন্তু আজ আশু বাবুর এই স্কিম ফেল । বিষণ্ণ চিত্তে বাড়ি ফেরার সময় কানে এলো সাহা বাড়ির মধু পাগলার রেওয়াজ । বেশ কয়েক বছর ধরে মধুর বেসুরো রেওয়াজ কানে আসে , কিন্তু আজ থমকে দাঁড়ালেন । মধু সুরে রেওয়াজ করছে ! কিন্তু , এ কেমন বন্দিশ - \' কচু বনে করে গেলো কালো কুকুরে \' । বাজারের থলিটি বাড়িতে রেখে হাজির হলেন মধুর কাছে । \' কি ব্যাপার মধু আজ সুরে ...? এ

আরও পড়ুন

‘সানি লিওনের ডেন্স ঠেকাও’

মাসকাওয়াথ আহসান

গুমগঞ্জের একটি মসজিদ জুম্মাহর নামাজের আগে কানায় কানায় পূর্ণ হয়। মাইক্রোফোনে ঘোষণা আসে, মোল্লা তাওয়াল একন আপনাদের সামনে দুচারটি কথা বলিবেন। আপনারা শান্ত হইয়া বসুন। মোল্লা তাওয়াল দীর্ঘ দাড়িতে দুইবার স্নেহের পরশ বুলাইয়া বলা নাই-কওয়া নাই ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে; মানে রেগে ফায়ার যাকে বলে।
মুয়াজ্জিন সাহেব ফায়ার ব্রিগ্রেডের ফায়ার ফাইটারদের ন্যায় গোলাপজল ছিটিয়ে আগুণ নেভানোর মৃদু চেষ্টা করে দমে যায়। মোল্লা তাওয়াল বলে, আমি তাওয়া গরম করিতে মাত্র দুই ম

আরও পড়ুন

‘এ’ চিহ্নের গোলোকধামে

সরোজ দরবার




মেলা ছিল নেহাতই চড়কের। তবু প্যান্ট হলুদ করে ফিরল দেবনাথ। অথচ বয়সটা তার মোটেও সেরকম নয়। ‘ওই আধো কথা ন্যাকামি, পাকা কথা জ্যাঠামির বয়সে আমরা ততোদিনে পৌঁছে গেছি।গলার স্বর ভেঙেছে। সদ্য গোঁফ-দাড়ির আভাস দেখা যাচ্ছে।শরীর জুড়ে আমূল বিপ্লব। অস্বস্তিরও যে অচেনা আনন্দ থাকে তা আধেক ধরা দিয়েছে। বাকি আধেক মেলে এতদিনের চেনা সহপাঠিনীদের দিকে তাকিয়ে।আয় তবে সহচরী..কিন্তু আর যে নাচিব ঘিরি ঘিরি শোভা পায় না, সে তো বোঝা হয়ে গেছে। অ

আরও পড়ুন

খাঁজ

বিশ্বজিৎ রায়


তার ছোটোবেলার ভাড়াবাড়ি বড়ো ছিল না কিন্তু তাতে ছিল অনেক গোপন খাঁজ । সেই সব খাঁজে কখন যে কী ছবি ফুটে ওঠে কোন প্রাণ জেগে ওঠে তা কিছুতেই বলা যেত না ! তাদের বেঞ্চি লাগানো চারজনের শোয়ার খাটের পায়ের দিকে একটু উঁচুতে ছিল একটা ‘লিনটেল’। অভিধান খুললে লিনটেলের বেশ গুরুগম্ভীর সংজ্ঞা পাওয়া যাবে । শব্দটি ফরাসি বংশ জাত । তাদের বাঙালি বাড়িতে অবশ্য ফরাসি-টরাসির বালাই ছিল না । এ টি দেবের ইংরেজি বাংলা অভিধান ছিল । সে অবশ্য এ

আরও পড়ুন

আর্থ টু পয়েন্ট ও

মাসকাওয়াথ আহসান



যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের \"আর্থ টু পয়েন্ট ও\" দেখতে পাওয়ার খবর চাউর হবার পর সেখানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পৃথিবী খুব খারাপ জায়গা; সেখানে হিংস্র উপমানবের বসবাস। এরা পৃথিবীর প্রকৃতি বিনাশ করেছে; আর উপমানবদের নিজেদের খুনোখুনি তো লেগেই আছে। এই দস্যুগুলো যদি কলম্বাসের মতো এসে আর্থ টু পয়েন্ট ও জবর দখল করে; সর্বনাশ হয়ে যাবে শান্তিগ্রহটির।পৃথিবী র অপরাধীগুলো এসে পৌঁছানো মানেই মুসোলিনি, হিটলার, বুশ, ল

আরও পড়ুন

ম্যাগির আত্মকথা

সুশোভন



‘আমিই সেই ম্যাগি ...’

যা কলা ! কি শুরু করেছেন বলুন তো ? লজ্জায় তো বাড়ি থেকে বেরনো দায়! হার্টথ্রব থেকে দু-মিনিটে একবারে খলনায়ক বানিয়ে ফেললেন মশাই আমাকে ? আমি বলতে, হলদে প্যাকেটে পেঁচানো ম্যাগি। ব্রততী দি হলে না হয় গলা কাঁপিয়েই বলতাম... ‘আমিই সেই ম্যাগি’। ব্যস্ত শহরের রাস্তার ধারের ৫১টি প্লেটে এলেবেলে হয়ে ছড়িয়ে থেকে, চামচে ধারে ছাদে বাম্পারে ঝুলতে ঝুলতে, আপনাদের পেটে গিয়ে বুভুক্ষু ভারতের খিদে মেটানোর বৈদিক যু

আরও পড়ুন

বাধ্যমিকের রেজাল্ট

অনীক চক্রবর্তী



অতঃ গোপালঃ কথা

গোপাল বড় সুবোধ বালক- কথাটা সে নিজে আর বাড়ির লোকে জানিত। বাধ্যমিকে জেলা হইতে ফার্স্ট হইবার পরে আলিপুর টু আলাস্কা, সক্কলে জানিয়া গেল। গোপালের বাপ সাতখানা সাবজেক্টে তিনখানা করিয়া আর আডিশনালে দু’খানা- মোট তেইশখানা মাস্টার রাখিয়াছিল। বাড়িতে মাস্টারদের ছোটোখাটো জটলা লাগিয়া থাকিত সদাসর্বদা। নিজেদের টার্ন আসিবার আগে তাহারা ‘ষোড়শ মহাজনপদ’ থেকে ‘সাইন থিটা’ হইয়া ‘হুগলি নদীর তীরে পাটশিল

আরও পড়ুন

বাঙালির এক বিস্মৃত ইতিহাস

অপূর্ব সাহা



১৯শে মে ১৯৬১। শিলচরের রেল স্টেশন চত্বর। বাংলাভাষা স্বীকৃতির দাবিতে অনড় শত শত ভাষা সৈনিকদের জমায়েত। ভোর ৪টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে শান্তিপূর্ন পরিবেশ-ই বজায় ছিল। বেলা ২টা বেজে ৩৫মিনিট নাগাদ বিনা প্ররোচনায় পুলিশের গুলি চললো; ৭মিনিট ব্যবধানে ১৭ রাউন্ড এলোপাথারি গুলি। একটি গুলি মাথা ভেদ করে চলে গেল ঠিক দু’দিন আগেই ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষ করে এই আন্দোলনে যোগ দিতে আসা ১৬ বছর বয়সী এক কিশো

আরও পড়ুন

এ্যালবামঃ ঊনষাট । অঞ্জন দত্ত ও অমিত দত্ত

মালবিকা সাহা ও সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী

‘জানি, তারপর বলা হবে এটা আসলে বয়েসের দোষ / আমি জানি, এটা আসলে বয়েস বেড়ে যাওয়ার সাহস
এবার হয়তো বলবে তুমি, গান তোমার কেন শুনবো? / আমি চুপচাপ আমার চলে যাওয়ার দিন গুনবো
বাজিয়ে যাবে আমার বন্ধু, আমার সাথে তার গীটার / হয়তো কেউ তার বন্ধুর কাছ থেকে এই গানটা করবে ধার
হয়তো এটা শুনে, সে, একা একা রাত্তিরে কাঁদবে / তারপর, ভোরের দিকে নিজের মতো ক’রে গান বাঁধবে
যা, আমার গানে নেই, হয়তো তার গানে থাকবে / আমি থাকি, না থাকি, হয়তো তুমি সেই গান শুনবে...’

আরও পড়ুন

সখী, সমর্থক কাহারে বলে ?

সুশোভন


ধোনির বাড়ির সামনে কড়া পাহারা

“চলছে না ! চলবে না ! ” বলার থেকে ‘চালানোটা’ একটু কঠিন। “মানছি না ! মানবো না !” থেকে মানিয়ে নেওয়াটা একটু কঠিন। “হচ্ছে না ! হবে না !” থেকে ‘হতে’ দেওয়াটা একটু কঠিন। “ভেঙ্গে দাও ! গুঁড়িয়ে দাও!” বলার থেকে গড়ে তোলাটা একটু কঠিন। ব্যক্তি আক্রমণ করার থেকে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করাটা একটু কঠিন। বলির পাঁঠা খোঁজরা থেকে বল হাতে উইকেট ভেঙ্গে দেওয়াটা একটু কঠিন। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক একটা জোকস শেয়ার করার

আরও পড়ুন

বাসের জানলা, আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং অন্যান্য

অনির্বাণ ভট্টাচার্য



১) হ্যাঁ, টিভি কভারেজ নয়, ফেম ম্যাগ নয়, পাতা ওলটানো নিরালা চুল খোলা দুপুরও নয়, সরাসরি বাসের জানলা থেকে নারী দিবসকে দেখছি । চৌমাথার মোড়ে একটা থ্যাঁতলানো কুকুর – ওর অহঙ্কারী নাড়িভুঁড়ি, পেটে এদ্দিন ধরে বড় হতে থাকা বাচ্চাকাচ্চার টুকরো – পেরিয়ে, বছর ৩০ এর যে শাঁখাসিঁদুর ছোট্ট ছেলেটাকে ইস্কুল থেকে নিয়ে আসছে তার জন্মদিন ৮ মার্চ না । তাকে পুরনো প্রেমিকের চিঠি লুকোতে হয় না – তবে মাস পেরলে মাসমাইনের হিসেব রাখতে হয় । আনমনা

আরও পড়ুন

গোরু বিষয়ক নয়, মাংস বিষয়ক রচনা

বিশ্বজিৎ রায়



মাংস খেতে আমি খুবই ভালোবাসি । মাংস রান্না করতেও ।
আমাদের বাড়িতে প্রতি রবিবার পাঁঠার মাংস হত । আমরা তখন পুরুলিয়ায় থাকতাম । খুব বেশি মাংস কেনার সামর্থ আমার বাবার ছিল না – আড়াই শো পাঁঠার মাংস উমার দোকান থেকে কিনে আনত বাবা । সেই আড়াইশো মাংস মায়ের হাতের লাবণ্যে এমন সুস্বাদু হয়ে উঠত যে বলার নয় । আমাদের কম পড়বে বলে মা মাংস খেত না , খুব করে বললে ভেঙে নিত এক কুঁচি । রাতে আর মাংস থাকত না, আলু ঝোল দিয়েই পেট পুরে ভাত খেতাম । মাংসে

আরও পড়ুন

উৎসবের নাম ‘বসন্ত’

সরোজ দরবার




দিগন্তে মোর বেদনখানি লাগল...
আচ্ছা বসন্তদিনে মাংস কিনে বাড়ি ফেরার মধ্যে হাসাহাসি করার কী এমন ব্যাপার আছে? একশো জনে নিরানব্বই জনই তো অন্তত তাই করেন। টানা দুমাস কেউ মাংস কিনে বাড়ি ফেরেননি তা আবার হয় নাকি? অথচ এই গানখানা শুনলে নিরানব্বই জনেরই গোঁফের উপর একখানা বেয়াড়ারকমেরহাসি ঝুলে পড়ে। ভাবখানা এই, যেন মাংস নয়, কালো পলিথিনে মুড়ে শ’পাঁচেক পলাশফুল কিনে বাড়ি ফেরা উচিৎ ছিল। আসলে বসন্ত নিয়ে আবির- কুমকুম ট

আরও পড়ুন

শান্তিনিকেতন থেকে

বিশ্বজিৎ রায়


ফটো সূত্র- গুগল

শান্তিনিকেতনে এখনও দোল লাগেনি তবে বসন্তের ঘোর লেগেছে । আজ বিকেল থেকেই ভেজা হাওয়া, নরম আর পুরনো পাতারা সব খসে পড়ছে । বুড়ো পাতারা বিছিয়ে রয়েছে লাল মাটিতে, সবুজ ঘাসে। ক্লাস নিয়ে ফিরতি পথে এই সব পড়ে থাকা পাতাদের সমারোহ ডিঙিয়ে বাড়ি ফেরা গেল । বাড়িতে কি আজ থাকার দিন ? তাই বিকেল সন্ধে আবার পথে । আকাশে চাঁদ আর মেঘের খেলা। চাঁদ এখনও পুরো গোল হয়নি তবে চন্দ্রাহত করার পক্ষে যথেষ্ট । রবীন্দ্রভবনের সামনে সাইকে

আরও পড়ুন

রাষ্ট্র যখন জঙ্গলে পরিণত হয় তখন হুমায়ুন আজাদ, রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়দের মেরে ফেলা হয়

কুলদা রায়



অভিজিৎ রায়কে মেরে ফেলা হল। তিনি লেখক। বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, ধর্ম নিয়ে লিখেছেন। সব কিছুকেই প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

প্রশ্নের মধ্যে দিয়েই জ্ঞানের উন্মেষ ঘটে। জ্ঞানই জীবন। প্রশ্নহীন জগৎ অন্ধকার। মানুষের বসবাসের অনুপযুক্ত।

প্রশ্নকে তারাই ভয় পায় যাদের কাছে উত্তরটি নেই। উত্তর নেই বলেই সেটা ফাঁকি। ফাঁকি দিয়ে সভ্যতা নির্মাণ অসম্ভব।

আর যারা প্রশ্নকে মোকাবেলা ক

আরও পড়ুন

অভিজিত রায় স্মরণে ...

সুশোভন


খবর তো অনেক রকমের হয়। প্রধানমন্ত্রী হাঁচলে খবর। মুখ্যমন্ত্রী কাশলে খবর। মাধুরী দীক্ষিত হাসলে খবর। শাহরুখ খান টিকি রাখলে খবর। ধোনি মাথা ন্যাড়া করলে খবর। অনুস্কা, বিরাটের সেঞ্চুরিতে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে খবর। আম্বানির কুকুরের বকলেস চুরি হলে খবর। আবার দেখুন আজ অভিজিত রায়ও খবর। তাঁর মৃত্যু খবর। এর আগে ২০১৩-র ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ব্লগার রাজীব আহমেদও মীরপুরে তাঁরই বাড়ির সামনে থেকে খ

আরও পড়ুন

গন্ধের টানে

ডঃ বিশ্বরূপ নিয়োগী



আমাদের শরীরের যে পাঁচটি ইন্দ্রিয় তার প্রত্যেকটির সাহায্যেই আমরা আদপে কিছু না কিছু সঙ্কেত অনুভব করি। তারমধ্যে চোখে দেখা দৃশ্য আর কানে শোনা শব্দকে আমরা আবার বৈদ্যুতিন মাধ্যমে স্থানান্তরিত করতেও পারি। সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। আমরা ভারতে বসে তার সম্প্রচার দেখতে পাচ্ছি। অন্য জায়গা থেকে কেউ ফোনে কথা বলছে। আমি বাড়িতে বসে শুনতে পাচ্ছি। বা ধরুন এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভিডিও কনফারেন্স। কিন্তু একটা কথা ভাবুন তো

আরও পড়ুন

সেন্সর কাঁচি এবং রোস্টেড হিউমার

সৌরাংশু



খুব ছেলেবেলায় আমি যখন একেবারেই ছেলেমানুষ ছিলাম তখনকার একটা ঘটনা বলিঃ

মহেশ বারিক লেনের খান ৫-৬টা কোঠাবাড়িকে ঘিরে টালির ছাদ আর অ্যাসবেস্টাসের বন্দোবস্ত ছিল। পাশের বাড়ির ছাদে ক্রিকেট খেলতে খেলতে বল যদি সামনের বাড়ির দাওয়ায় পড়ল তখনই বুঝতে পারতাম যে তাদের ডাল রান্না হয় সারা উঠোন জুড়ে। নাহলে বল পড়লেই ডালে? আর তার প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিপ বিপের সমারোহ।

তা তখন তো মন ছিল আয়নার মতো স্বচ্ছ। যা দেখা যেত তারই ছা

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের আশা ক্ষীণ

শবর মিত্র



ধোনিকে নিয়ে যারা মাতামাতি করেছেন তারা যদি তার বিদেশের ফলাফল দেখেন তবে হতাশই হবেন তারা। যে সময়টায় পূর্ণ শক্তি অস্ট্রেলিয়া খেলেছে সেই সময়টাতেও ধোনিকে খেলতে হয় নি। এমন কি নিজের দেশের মাটি ছাড়া ধোনির তেমন বিরাট কোন সাফল্যও দেখা যায় নি। টেস্টে অ্যওয়ে ম্যাচগুলি ধরলে তো ধোনির পারফরম্যান্স শোচনীয় বললেও কম বলা হয়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এবার বিশ্বকাপে ধোনির আসল পরীক্ষা হতে চলেছে। দেখা যাক ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে ধোনি

আরও পড়ুন

গুটিকয় বইয়ের রাতকথা

সরোজ দরবার


স্বপনকুমারের গল্পের স্টাইলে ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজল না কোথাও। তবু রাত দশটা বেজে গেছে। মিলনমেলা জুড়ে নেমেছে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। সারাদিন যেরকম হই হল্লা চলছে তাতে দিনের শেষে এই স্তব্ধতা সত্যি অদ্ভুতই লাগে। অদ্ভুত লাগে যাদের, তারা এই সময়টা ছাড়া হাত পা। কেউ ধরে টানাটানি করছে না। এক হাত থেকে আর এক হাতে ঘুরতে হচ্ছে না। সঙ্গী- সাথীরা এর ওর হাতে হাতে করে জুট ব্যাগবন্দি হয়ে চলে যাচ্ছে দেখে আর মনখারাপ হচ্ছে না। কাটতি কম

আরও পড়ুন

চামড়া শিল্প বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্প-সৈনিক

রঙ্গীত মিত্র



কলকাতায় চামড়াজাত দ্রব্যের কাঁচামাল সুলভ্য।কারণ বানতলা লেদার কম্পপ্লেক্সের ট্যানারির দ্বারা নির্মিত উচ্চমানের লেদার। এছাড়াও শুধু কাঁচামাল নয়।উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্কিলড লেবার ইত্যাদি এই শিল্পকে অক্সিজেন দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে লেদারগুডস এবং জুতোর কম্পানিরা মুলতো দুরকমের। কেউ জব ওয়ার্ক করে,কারুর আবার নিজস্ব ব্র্যান্ড আছে। আমরা যদি পশ্চিমবঙ্গের লেদারইন্ডাসর্টির শেয়ার দেখি,তাহলে বুঝতে পারবো হাইডিজাইন,

আরও পড়ুন

আসুন ডিগবাজি খাই ...

সুশোভন

ছোটবেলায় ডিগবাজি খেয়েছেন কমবেশী সবাই। ডিগবাজি দেওয়া কি মুখের কথা ? ফিটনেস লাগে হেব্বি। আমার তো মাঝেমাঝে বেশ সন্দেহ হয় যে, ‘ডারউইন’ দাদু আমাদের ডিগবাজি খাওয়া দেখেই বোধহয় বলে বসেছিলেন “Survival of the fittest”। ডিগবাজি –র আবার প্রকার ভেদ আছে। যেমন ধরুন গোল করে মিরাসাভ ক্লোসের ডিগবাজি একরকম, আবার অ্যাথেলেটিক দি কলকাতার ফিকরুর ডিগবাজি আরেক রকম, নাইট-রা আই পি এল চ্যাম্পিয়ন হলে ইডেনে শাহরুখের ডিগবাজি একরকম, YouTube -এ দেখলাম প্লেন দেখে পেঙ্গুইন দের ডিগবাজি আবার আরেক রকম। বয়স

আরও পড়ুন

পেশোয়ার কত দূর ?

সুশোভন



উপহাস ও রসিকতা ...
কোন আদর্শ, কোন মতবাদ, কোন লড়াই, কোন জেহাদ, কোন দাবী, কোন যুক্তি, কোন ব্যাখ্যা, কোন ধর্মাচরণের পরিধি আর ব্যাপ্তিই ১৩২ টি শিশুর রক্তঝরা কবর আগলে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। একদম নয়।
নতুন নয় বরং আরও কত শত ১৬-ই ডিসেম্বরের রক্তাক্ত ইতিহাস লুকিয়ে আছে পাকিস্তানের চোরাগলিতে। কত শত কবরের শীতলতা ধর্মের নামে অনুরূপ নৃশংসতার সাক্ষ্য বয়ে বেড়াচ্ছে। আজ লাহোর, কাল ইসলামাবাদ পরশু মুলতান। না এখানেই শেষ না, পাকিস্

আরও পড়ুন

রক্ত মাখো চোখ

সরোজ দরবার


pic courtesy: bbc

‘এই দেখ নখ-দাঁত-মুখ রাষ্ট্র মনে থাকে যেন।’
ব্রেকিং নিউজ মাখামাখি, এত রক্ত কেন?


‘মাগো, এত রক্ত কেন?’
জ্বরের ঘোরে বারবার প্রশ্ন করছিল হাসি। আবদুল্লাকে হাসি হওয়ারও সময় দিল না ঠাণ্ডা হিসেবের কালাশনিকভ। শাহরুখ কি জানত, ছিন্নভিন্ন শরীর নিয়ে বন্ধু তৌফিকের নিষ্প্রাণ দেহটা তার উপর এসে পড়ে তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়ে যাবে! ইরফান আর দানিয়েলও তো দিদিমণির কথায় বিশ্বাস করে ভেবেছিল, সেনাদের মহড়া থেকেই

আরও পড়ুন

মওলিংনং- এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম

অভীক দত্ত




মওলিংনং। এশিয়ার সব থেকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। শিলং থেকে প্রায় নব্বই কিলোমিটার দূরে এই গ্রাম। এমনিতেও মেঘালয়ের রাস্তাঘাট- দেওয়াল ট্যুরিস্ট বাদ দিলে কেউ পানের পিকে রক্তাক্ত করে না। মওলিংনং তবুও আলাদা বাকি আর সব্বার থেকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা তো এক জিনিস। কিন্তু নিজের সৌন্দর্যেও মওলিংনং অনেক এগিয়ে থাকবে। তামাবিলের রাস্তাটা যখন বাঁক নিয়ে বেতগাছে ভরা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল তখনও আলাদা করে কিছু বো

আরও পড়ুন

অবরুদ্ধ কাশ্মীর

সুশোভন



খণ্ড চিত্র
৯৭-র অগাস্টের ‘ভূস্বর্গের’ সোনাঝরা সকাল। স্নিগ্ধ রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনের উত্তাপ গোটা গায়ে মেখে গবাদি পশু গুলোকে নিয়ে ঘাস খাওয়াতে বেরোলেন মোহাম্মদ আশরাফ। সঙ্গে চৌদ্দ বছরের ছেলে রিজওয়ান। এই চোখ জুড়িয়ে যাওয়া পরিবেশ, এই মাটির গন্ধ, এই নির্মল বাতাস তাঁদের বড্ড চেনা। তাঁদের বড় আপন। হঠাৎ এক বিস্ফোরণে নিমেষে বদলে গেলো জীবনটা। চারিদিকে পাথর উড়তে লাগলো। ঘটনার আকস্মিকতা কিছুটা কাটিয়ে একরাশ কালো ধোঁয়

আরও পড়ুন

মিডিয়া এবং আন্দোলন

সরোজ দরবার

‘কীরে তোদের ওই মুভমেন্টটার আর কোনও ছবি দেখছি না যে?’- পড়শি দেশের বন্ধুটি জানতে চাইল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বললাম, ‘ছবি? তা এযাবৎ কী কী ছবি দেখেছিস?’
জানাল, ‘চুমুর ছবি, মিছিল, পালটা মিছিলের ছবি, প্রতিবাদের ছবি, গণভোট, বহিরাগত, প্রতীকি অনশনে খেলাধুলোর ছবি...’
চুপ করে গেলাম। ওকে বললাম, ‘তুই নানাজনের প্রোফাইলের ছবি দেখিস কেন? পেজ আছে, ওখানে দেখিস।’
বন্ধুকে বলে তো দিলাম। কিন্তু খটকা লাগল নিজেরই। তবে কি...
তার আগে বলে নিই, একটি বিশেষ আন্দোলনের প্রসঙ্গে এ লেখার

আরও পড়ুন

ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা

কেয়া মুখোপাধ্যায়

চল্লিশের দশকের শেষ দিক। গণসঙ্গীতের জোয়ার বাংলায়। নতুন কয়েকটি গণসঙ্গীত নিয়ে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি গেছেন গীতিকার ও সুরকার। শুনে তারিফ করলেন হেমন্ত, কিন্তু বললেন ‘এ সব গান তো রেকর্ড করা যাবে না, অন্য গান থাকে তো দাও।’ কথা শুনে ফিরেই আসছিলেন, সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে হঠাৎ মনে হল আর একটা গান শোনানো দরকার। আধখানা লেখা হয়েছে তখনও অবধি। আবার উঠে গিয়ে কবিতার খাতা খুলে সুর শোনালেন। হেমন্তের কথায়, “আমি সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম এ এক আশ্চর্য কীর্তি।” বলা যায় সেই

আরও পড়ুন

ন্যানোর অভিশাপ নাকি অন্যকিছু?

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

আমাদের ছোট ন্যানো চলে এঁকেবেঁকে
চটপট মোড় নিয়ে অলিগলি ঢোকে
পার হয়ে যায় ভীড়, পার হয় ন্যানো
তবু যে মানুষের এত রাগ কেন?

এই ন্যানো নিয়ে কত ঝামেলি যে হল!
টা টা করে ন্যানো তাই অভিশাপ দিল।
এর চেয়ে ভালো ছিল সিঙ্গুর হলে
স্ক্যাম বুঝি বেঁচে যেত এ চিট-মহলে !!!

বদলের বঙ্গে শীতের উত্তুরে হাওয়া বহিল । সেই হাওয়ায় পচাভাদ্র কিছুটা ন্যায়দম খাইল । ভুঁইচাঁপার সময় এখন নয় । তবুও হঠাত হঠাত ভুঁইচাঁপা মাটী ভেদ করিয়া ফুটিয়া উঠিল । নানা রঙের ভুঁইফোঁড় লিলিফুল ।

আরও পড়ুন

উৎসব তোর ‘ধুতি কোথায়’?

সরোজ দরবার

‘চাদর তো ঠিক আছে, কিন্তু ধুতি কোথায়?’
কৌতুকের মেশানো মন্দ্র স্বরে সে কথা শুনে গোটা নেতাজী ইন্ডোর হেসে কলকল তানে খলখল করে হাততালি দিয়ে গড়াগড়ি। এ ওর গায়ে গড়িয়ে পড়তে পড়তে এক জন, দ’জন করে বলতে শুরু করলেন ‘ধুতি কোথায়?’।
বাহাত্তুরে স্মার্ট লম্বা চেহারাটি তখন ফিরে গেছে নিজের আসনে। ক্রিকেট মাঠে যা কখনও করতে পারেননি অমিতাভ বচ্চন, তাইই আন্তর্জাতিক কলকাতা উৎসবের উদ্বোধনে এসে করে ফেলেছেন- হ্যাটট্রিক। গতবার বাংলায় কথা বলে বাজিমাত করেছিলেন। কিন্তু এবার আবার

আরও পড়ুন

মেনোপজ-এ ভাগাভাগি অর্ধেক আকাশ

সরোজ দরবার



৬ পাতার রায়ে একটা শব্দই ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধিয়ে দিল।
ঘটনা ২০১০-এর। ৬৫-৭০ বছরের এক মহিলার মৃত্যুর দায়ে অভিযুক্ত হন এক ব্যক্তি। মহিলা আশেপাশের বাড়িতে টুকিটাকি কাজ করতেন। ঘটনার দিনও এক প্রতিবেশীর বাড়িতে তাঁর কাজ করার কথা ছিল। সেই কাজের জন্যই ওই বাড়ির মেয়ে মহিলাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন প্রায় নগ্ন অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে আছেন। প্রাথমিক ভাবে মেয়েটি অনুমান করেন বোধহয় মহিলা সংজ্ঞাহীন। তিনি লোক ডাকেন। তখনই ঘরের মধ্যে থেকে

আরও পড়ুন

খিচুড়ী (বদলি রন্ধন প্রণালী)

ফুলমণি সরেন

বাম ছিল মমতাও (ব্যকরণ মানি না)
হয়ে গেল বামতা, কেমনে তা জানি না
ডমক, পমক ঝলকায় ফূর্তি
অতি খাসা তাহাদের ডপমক মূর্তি
মাওবাদী বামেদের মনে ভারি শঙ্কা
আম ছেড়ে শেষে কি গো খাবে চিনে লঙ্কা
বসপার পেটে ছিল হাসিলের ফন্দি
ছেড়ে দেয় মুড়োটুকু ঢেকে যায় সন্ধি
বিজেডির সাধ নাই দেশ জুড়ে বাড়বার
বিজেপির সাথ ছেড়ে ঘর নিয়ে জেরবার
আমপার্টি গদি নিয়ে ঘেমে নেয়ে ঘাবড়ায়
তার পিছে হতভাগা কংগ্রেস কামড়ায়
টিডিপির দশা দেখ, পি বলে, “আমি যাই”
দুই ভাগ হয়ে গিয়ে আর

আরও পড়ুন

আমরাও ‘টিটওয়াল কা কুত্তা’

সরোজ দরবার


কুকুরটার কোনও দোষ ছিল না। কিন্তু কুকুরটাকে মরতে হয়েছিল।
১৯৫১ এর অক্টোবরে সাদাত হাসান মান্টো সাহেব লিখে গিয়েছিলেন টিটোয়ালের কুত্তার নিয়তি। বস্তুত তিনি চাইলেও তো কুকুরটাকে বাঁচাতে পারতেন না। কেননা ইতিহাসের লিখনই তাকে মেরে রেখেছিল, যাকে বলে ‘কুত্তে কি মউত’।
তবু কপট ইতিহাসের অদ্ভুত পরিহাস এমনই যে, কুত্তাটা মরেও মরে না। বারবার তাকে মরতে হয়। মরিয়া প্রমাণ করতে হয় যে সে বেঁচে ছিল।
ঘটনা হল সেদিন নির্মেঘ আ

আরও পড়ুন

গানের জলসাঘরে

কেয়া মুখোপাধ্যায়




১৯৫৩ সাল। পুজোয় নিজের সুরে প্রথম বাংলা আধুনিক গানের রেকর্ড করলেন এক শিল্পী। লং প্লেয়িং রেকর্ডে দুটি গান- 'কত দুরে আর নিয়ে যাবে বল' এবং 'হায় হায় গো রাত যায় গো'। বাকিটা ইতিহাস। বাংলা গানের এক লিজেন্ডের সূচনা দেখল সেবারের পুজো। মান্না দে। বাংলা রোম্যান্টিক গানের জগতের মুকুটহীন সম্রাট। সে বছরটা বাংলা গানের ইতিহাসে এক মাইলস্টোন হয়ে রইল।



১৯৫৩ তে প্রথম বাংলা গান গাইতে এলেও মান্না দে-র গানের সূচনা কিন্তু হয়ে

আরও পড়ুন

মান্না দে: একটি অরূপকথা

রঞ্জন ঘোষাল



এক ছিলেন মান্না দেব। জন্মেছিলেন অবিভক্ত নেপালে ১৯১১ সালে। বাবা মিলিটারিতে জেনারেল ছিলেন। মা ছিলেন এক ইংরেজ মহিলা এবং ডাকসাঁইটে শিক্ষিকা, যিনি পরে বৈরাগ্যজনিত কারণে প্রথমে তারাপীঠে তারপর সাধনোচিত ধামে প্রস্থান করেছিলে্ন।
কাকা কৃষ্ণদাস কলকাতায় চলে আসেন। অর্থের অভাব ছিল না, তিনি ছিলেন ঘোর বৈষ্ণব। ট্রেনে ট্রেনে মাধুকরী করে বেড়াতেন। ওঁর হাত ধরে ছোট্ট মান্না। তখন অবশ্য নাম ছিল মান্তু। মান্তুকে অন্ধ কাকার হাত ধ

আরও পড়ুন

গোষ্পদে প্রতিবিম্বিত সূর্য

রাজা ভট্টাচার্য



মান্না দে – নামক মানুষটিকে নিয়ে লিখতে গেলে আমার মানের যে-কোনো কলমচিকে যে প্রথম প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয় – তা হল ‘দ্বিধা’। ছ-ইঞ্চির স্কেলে হিমালয় মাপতে গেলে যে দ্বিধা আসে – সেই রকম এক অপ্রতিরোধ্য, অনমনীয় দ্বিধা। শুরুর আগেই এই নামকরণটা আমার সেই বাধা কাটিয়ে দিল অনেকটাই। এর প্রয়োজন ছিল; কারণ এবার আমরা পরম শ্রদ্ধায় এমন একজন মানুষের মুখোমুখি হতে পারবো, যাঁর উচ্চতা হিমালয়প্রতিম; কিন্তু বিনয় তৃণাদপি সহজাত। যাঁর প্রতিভ

আরও পড়ুন

ভোটের ভাট ও আমরা

সুশোভন



বাংলাদেশের মেয়ে সুমি। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বাচ্চা মেয়ের মন জুড়ে শুধুই মহানায়ক দেব। ঘরের দেওয়াল জুড়ে শুধুই মহানায়ক দেবের পোস্টার। কথায় কথায় গড়গড় করে বলে দিতে পারে মহানায়ক দেব অভিনীত ‘বিন্দাস’, ‘রংবাজ’ বা ‘আই লাভ ইউ’ ছবির সংলাপ। কিন্তু স্বপ্নের নায়কের দেখা পাওয়া দায়। কিন্তু হাল ছেড়ে দেবার পাত্রীও সুমি নয়। বাড়িতে মা-কে অষ্টম শ্রেণি পাশের সার্টিফিকেট আনতে যাবার কথা বলে, গন্তব্য, সটান স্কুলের ছাদ। সেখান থেকেই ঝাঁপ..

আরও পড়ুন

দুনিয়া ডট কম

চৈতালি চট্টোপাধ্যায়

মুম্বাই থেকে কলকাতা রেলযাত্রা, নুন্যতম সময় লাগেপ্রায় ২৮ঘণ্টা, কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি।তবে এই রেলযাত্রার মধ্যে কিন্তু অন্য এক রোমাঞ্চ আছে, বিভিন্ন প্রদেশের গ্রাম, চাষের জমি, পাহাড়, নদী ছুটে চলে চোখের সামনে,সন্ধ্যের সময় ঘন অন্ধকারকে ধর্ষণ করে যায় ছুটন্ত ট্রেন।রাজধানী বা দুরন্ত এক্সপ্রেস হলে এইসব অপরূপ শোভা দেখতে দেখতেইসময়মত আপনার সামনে খাবারও চলে আসবে,তার মাঝেই আবার হকারদের হাঁকও শুনতে পাওয়া যায়“খারাব সে খারাব চায়” অথবা “রামবিহারীর চায়”।খেয়ে দেয়ে

আরও পড়ুন

সন্ত্রাস ও একটি শহর

ইন্দ্রনীল বক্সী



ঘটনা এরকম , বর্ধমান জেলার সদর শহর বর্ধমান । শহরের প্রান্তিক একটি অঞ্চল ,নাম ‘খাগড়াগড়’ , সেখানে দূর্গাপূজার মধ্যেই একটি বাড়ির দোতলায় একদিন একটি প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটলো । আশেপাশের মানুষজন চমকে উঠলো সেই বিস্ফোরণের শব্দে । তারা প্রাথমিক হতচকিত অবস্থা কাটিয়ে প্রতিবেশীসুলভ উদ্বেগে ছুটে গেলো সেই বাড়িতে । বাড়ির দুই মহিলা তখন গেট আটকে দিয়ে তাদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দিলো , হুমকি দিলো । বলল গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেছে ,তাদের ব্যাপার

আরও পড়ুন

উৎসব শেষ, শেষ?

সরোজ দরবার


ফটো- বিক্রমাদিত্য গুহ রায়


১। ‘সামলে সামলে...দেখ উপরে গাছের ডাল আছে...মুকুটে লাগছে...বাঁদিকটা...বাঁদি কটা দেখ, ওদিকে ঝুঁকে আছে...সাবধানে...’
২। ‘ছোটগুলো একজায়গায়...ওদিকটায়...সব কাঠামো উপর উপর রাখ...খড় পাশে...সব একদিকে...’
ব্যবধান মোটে দিন কয়েকের। ১ আর ২-এর মাঝখান দিয়ে কখন যেন ফুড়ুৎ করে উড়ে গেছে বাঙালির পুজোনির্ঘণ্ট। চাঁদা চুকানো বিল দাদার পকেট থেকে দলা পাকিয়ে ডাস্টবিনের দিকে গড়িয়ে যাওয়ার দিন থেকেই দৈনিক ম

আরও পড়ুন

শিউলি মাখা পুজোর গান

কেয়া মুখোপাধ্যায়




"আয় রে ছুটে আয় পুজোর গন্ধ এসেছে/ ঢ্যাম-কুরকুর ঢ্যাম-কুরাকুর বাদ্যি বেজেছে/ গাছে শিউলি ফুটেছে, কালো ভোমরা জুটেছে/ আজ পাল্লা দিয়ে আকাশে মেঘেরা ছুটেছে...।”
একটা ছোট্ট কালো গোল ই.পি. রেকর্ড ঘুরে চলেছে গ্রামোফোনে আর খুব মিষ্টি গলার এই গান, এই সুর ছড়িয়ে পড়ছে সারা ঘর জুড়ে। সেইসঙ্গে একটা ছোট্ট মেয়ে ওই সুর আর গানের তালে দুলে দুলে নাচছে। পুজোর স্মৃতি বললেই এই ছবিটা মনে পড়ে খুব। সেবার পুজোয় আমার কাকু উপহার দিয়েছ

আরও পড়ুন

সহজ চিন্তার রহস্য

সোম সরকার


অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো কাজটা । শুধু 'ঝুঁকিপূর্ণ' বললে খালাস করতে চাই না, আকাশ বা মাটির দিকে না তাকিয়ে কাজটার সঙ্গে পরিচিত হতে চাই অন্তত একবার । এটাকে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা আমার মত সাধারণ একজন মানুষের উচ্ছ্বসিত ভিক্ষা বলতে পারো । একটা শিক্ষাভিক্ষা । এই শিক্ষা যাবতীয় শিক্ষা নয়, একটা সুপরিকল্পিত সহজ শিল্পের সংস্পর্শে আসার শিক্ষা । আভিজাত্যহীনতায় মোড়া একটা পরিকল্পনা যেটাকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখেছি

আরও পড়ুন

আশ্বিনের শারদ প্রাতে...

কেয়া মুখোপাধ্যায়




সেদিন বিকেলে অফিস ছুটির পর ফেরার পথে সিগন্যালে আটকে, সামনে তাকিয়ে দেখি অনেকটা দূরে পেঁজা তুলোর মত সাদা সাদা মেঘ যেন মাটিতে নেমে এসেছে! যেন এই রাস্তা ধরে সোজা এগোলেই পৌঁছে যাব মেঘের বাড়ি! আকাশটা ঝকঝকে নীল। মায়াবি উজ্জ্বল রোদ। বুঝলাম শরৎ এসেছে। বাড়ির পথে হঠাৎই চোখে পড়ল কাশফুল। হ্যাঁ, এই দূর প্রবাসেও। এখানে শিউলি নেই, কাশফুল আছে। এই কাশ ফুল মনে করিয়ে দিল শরতের এক ভারি উজ্জ্বল স্মৃতি। বাড়ির কাছেই কুমোরট

আরও পড়ুন

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

রিঞ্চু ডোমা ডুকপা

প্রিয় মহোদয়া,
২০০৬ সালে আপনি যখন ন্যানো কারখানা নির্মাণের জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন তখনই আপনি প্রথম আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আমি তখন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে স্নাতক স্তরে পাঠ রত। আমি তখন জীবনের এমন একটা পর্যায় যখন শিক্ষণের নির্বাচিত বিষয়ের বাইরে আমার দৃষ্টি ভঙ্গী, আমার বিশ্ব দর্শন, গঠিত হচ্ছে অনেকটাই আমার বাম ঘেঁষা শিক্ষকদের প্রভাবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতাম যে টাটার স্বপ্ন প্রকল্প নতুন চাকুরী ক্ষেত্র সৃষ্টি করে, ন

আরও পড়ুন

বিপ্লবের শরীর

বিশ্বজিৎ রায়

বিপ্লবের চেহারা কেমন ? মিছিলে, শ্লোগানে, জমায়েতে গেলে টের পাবেন । বিপ্লবের কোনও স্কুল- ইউনিফর্ম হয় না । ধর্মবাদীরা , সংস্কৃতির কুলগুরুরা কোনও মিছিল পরিচালনা করলে যেমন একরকম ভাবে একই জামা কাপড়ে লোকজনকে চালিত করতে চান, বিপ্লব তেমন নয় । বিশেষ মুহূর্তে কোনও একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ নানা সাজের, নানা ভাষার, নানা রুচির মানুষ একত্র হন । কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান । অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন । তাই বিপ্লবী মিছিলের চেহারা বড়ো বর্ণময় । তার মধ্যে একটা মু

আরও পড়ুন

প্রতিবাদ

ঈশিতা ভাদুড়ী


এ কোন শহর , নরক শব্দটি ঝুঁকে পড়ছে গায়ে
আর উচ্ছন্ন শব্দে অনূদিত হচ্ছে বারবার
এ কোন শহর, নি:শ্বাসে ভরেছে বিষ
আর শরীরে জড়িয়ে অজগর
এ কোন শহর, অগ্নিদগ্ধ পুড়ছে আপাদমস্তক
আর ডুবছে পাঁকে নি:সাড়
এ কোন শহর , থুত্‍কারে ভেসে যায় প্রতিদিন


এ শহর আমাদের , লাঠি খেয়ে তবু দাঁড়াই উঠে।
তোমাদের তর্জনী পারে নি ভাঙতে আমাদের।

এ শহর আমাদের , পোস্টারে পোস্টারে মুছেছি বিভীষিকা।
ভাঙা হাতে গীটার বাজিয়ে প্রতিবাদ আমাদের ।

এ শহর আমাদের , তোমাদ

আরও পড়ুন

চাবিটা কিন্তু এখনও রয়েছে ছাত্রদের হাতেই

ফুলমণি সরেন

একটা ছাত্র ভেন্টিলেশনে, কারুর ভেঙেছে হাড়গোড়, কারুর স্তনে পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ –
সবারই মনে লেগেছে, সব থেকে বেশি। তাহলে কী আবারও ভয় পেতে হবে? গতকাল মানে ক্ষয়, আগামীকাল শুধু সংশয়?
এ মাসে প্রেসিডেন্সি তো ও মাসে যাদবপুর। দেড় দশক আগে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তো দূর্গাপুর আর ই সি। তার আগের দশকে খবরের কাগজ আর টেলিভিশন পৌঁছত না, কিন্তু ছিল, মহকুমা কলেজগুলোতে এসএফআই আর সিপি। তার দেড় দশক আগে ইস্কুল/ কলেজ/ ইউনিভার্সিটির পরীক্ষাতে ছাত্রদের খাতা লুঠ হয়ে যেত সাম্যের য

আরও পড়ুন

ম্যাডাম, হিসেব চাই , হিসেব দিন ...

সুশোভন

আহা কি আনন্দ ...
২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে মিডিয়ার পরিবর্তনের প্রচারে আর তৎকালীন রেলমন্ত্রীর যখন-তখন, যেখানে-সেখানে শিলাবৃষ্টিতে আহত কিছু বেকার যুবক ভেবেছিলেন তাঁরা চাকরী পাননি, কারণ বামফ্রন্ট সরকার, কিছু সরকারী কর্মচারী ভেবেছিলেন সময়মত ৬% মহার্ঘ্য ভাতা পাই, ১০% পাইনা, কারণ বামফ্রন্ট সরকার, সিঙ্গুরের জমি ফেরত দেওয়া যায়নি, কারণ বামফ্রন্ট সরকার, নন্দীগ্রামে পরিবেশ বান্ধব শিল্প হয়নি, কারণ বামফ্রন্ট সরকার, এরকম আরও কত কি। তখন অগ্নিকন্যার কথ

আরও পড়ুন

...৯/১১!

সীমা ব্যানার্জী-রায়



দিনটা আজও আমার মনে আছে। হয়ত ভুলবো না কোনদিনও। দেখতে দেখতে ১৩ বছর পার হয়ে গেল। সেদিনকার সেই ছোট্ট বাচ্চাগুলো আজ বড় হয়ে গেছে। জানলো না তাদের আদরের বাবাকে-মাকে-ভাইকে-বোনক ে... শুধু আঁকড়ে আছে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি ঝাঁপিতে কিছু কথা, কিছু আশা, আর কিছু ভালবাসা।
*
9/11- 2001-মঙ্গলবার। কী সুন্দর ঝকঝকে এক হালকা শীতের সকাল। আমাদের ২য় দিনের 9/10 থেকে 9/13 এনভাইরণমেন্টাল কনফারেন্স-এর মিটিং আর গ্রিটিং শুরু হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব

আরও পড়ুন

সুনীলদা- দেখা না দেখায় মেশা

কেয়া মুখোপাধ্যায়



এবার তাহলে ফোনটা করে ফেলা যাক। এই নিয়ে প্রায় বার দশেক হল নিজেকে বলছি কথাটা। হাতে ফোন নম্বরটা ধরা, মনে মনে প্রস্তুতি চলছে কী বলব তার। কিন্তু ওই অবধিই। ফোনটা করা আর হয়ে উঠছে না। ব্যাপারটা হল, সেবার ৭ই সেপ্টেম্বর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আকাশবাণীর এফএম-এ কফিহাউসের আড্ডা নিয়ে অনুষ্ঠান। সেদিন রাত দশটা থেকে বারোটা ‘আজ রাতে’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তাঁকে স্টুডিওতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ। তখন কলেজ। সবে চারদিন আগে বিকে

আরও পড়ুন

আচ্ছে দিনের ১০০ দিন

সুশোভন



সর্বশেষ সাধারন নির্বাচনের ফলাফল প্রধানত বিগত ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, দুর্নীতি, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানহীনতা, মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রতি রাষ্ট্রের অবজ্ঞা, কৃষির সংকট এবং বিশ্ব জুড়ে আর্থিক মন্দার কারণে তৈরি হওয়া শিল্পসহ জরুরী পরিষেবায় ঘাটতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বহিঃপ্রকাশ। অনুঘটক হিসেবে ছিল বোকা বাক্সের পর্দায় পর্দায় কর্পোরেট মিডিয়ায় পরিবেশিত নরেন্দ্র মোদীর ফেরী করা ‘গুজরাট মডেল’ এ

আরও পড়ুন

ঋতুহীন-ঋতুদিন

সরোজ দরবার



নগর কলকাতায় আজও যেন একটু ছায়া ঘনিয়েছে। নতুন ভোরের আলো চুপিসারে ঢুকে পড়েছে ইন্দ্রাণী পার্কের বাড়িটায়। ক্যালেন্ডারের পাতা উলটে গিয়ে পৌঁছেছে তার শেষ দিনটিতে। প্রতিদিনের মতো খুব সকালে উঠে তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন বারান্দায়। হাতে ধরা কফির কাপ থেকে একটু একটু করে ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে সকালের নিস্তব্ধতায়। একটুখানি ছায়া নরম রোদকে ঢেকে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে জেগে ওঠা পুরনো পাড়ার মাথার উপর দিয়ে। এই ছায়া দেখলেই তাঁর মনে

আরও পড়ুন

বিশ্বভারতীর স্বপ্নভঙ্গ, এবং পুনরাধুনিক

অনুপম মুখোপাধ্যায়



বিশ্বভারতীর একটি ছাত্রীকে বিশ্বভারতীরই দুটি ছাত্র যৌন হেনস্তা করেছে। সেটা নিয়ে এখন এই রাজ্যে পরম উপভোগ্য নাটক চলছে। ধর্ষণ আজ শুধু একটা অপরাধ নয়, সে আজ রাজনৈতিক মূলধন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দায়টাকে মাথা থেকে নামাতে। সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, অবশ্যই, এটাকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে জনমানস থেকে যত সম্ভব শীঘ্র সত্যিই বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে। বিরোধী এবং সরকার-নিন্দুকেরা এটাকে আবার একটা পরম

আরও পড়ুন

‘লর্ড ভানু’র চেম্বারে

সরোজ দরবার


তাঁর চেম্বারে ঢুকে পড়ার প্রণামী ছিল-আগে টিনের বাক্সে বারোটাকা...। ব্যস ‘লর্ড ভানু’র দরজা আপনার জন্য খুলে গেল। এরপর যে মহলে আপনি পৌঁছে গেলেন তার অন্দরে চ্যাপলিন সাহেবের একটি কথাই চিরসত্যি- ‘… life is still worthwhile, if you just smile’. তিনি আমাদের হাসিয়েছিলেন। অথচ সে বড় হাসির সময় তো ছিল না। বিশ্বজোড়া তিরিশের দশকের মন্দা, দেশভাগ, ৫০-এ দেশের দুর্ভিক্ষ বাঙালির মুখ থেকে হাসির যে রেশটুকু ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাই যেন ফিরিয়ে দিতে ইতিহাস নির্দিষ্ট দেবদূত

আরও পড়ুন

সিবিয়াই সিবিয়াই ছাড়ো না বাড়ি যাব

প্রকল্প ভট্টাচার্য


cartoon- sojaru


সিবিয়াই গো সিবিয়াই গো ছাড়ো না, বাড়ী যাব।
সিবিয়াই গো কেন আবার আমার কথা ভাব?
সিবিয়াই গো ওয়ারেন্ট টা কি জানি কোন ভুলে
ঝুলিয়েছিলে আমি তখন ওই মালের ইস্কুলে।
ডেস্কে বসে অঙ্ক করি ছেলেরা গেলে ঘর
বাইরে তার দাপটে কাঁপে চন্দননগর।
আমি তখন নবম শ্রেণী আমি তখন দাড়ি
আলাপ হলো সিবিয়াই গো সেনবাবুদের বাড়ী।
সিবিয়াই গো সেনবাবুও লেখাপড়ায় ভাল
শহর থেকে বেড়াতে এসে আমায় চমকালো।
তোমায় দেখ

আরও পড়ুন

নিবিড় সুখের মধুর দুখের অনিরুদ্ধ সঙ্গীত

কেয়া মুখোপাধ্যায়



একটা ৭৮ আরপিএম-এর লং-প্লেইং রেকর্ড গ্রামোফোনে ঘুরছে আর সারা ঘর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মেঘমন্দ্র কন্ঠের এক আশ্চর্য উচ্চারণঃ
‘This weariness forgive me O my Lord
If ever on my way, I fall behind
This trembling in my heart
That shakes me so today
This aching pain forgive O Lord,
Forgive O Lord, forgive O Lord forgive..’

কী অসামান্য ব্যারিটোন! কে গেয়েছেন এমন গান? বাবা বললেন, জর্জ বিশ্বাস। জর্জ? ও, সাহেব! তাই এমন অমোঘ, অপূর্ব উচ্চারণ! সুরটা গুনগুন করতে ঘর থেকে বেরোতে যাচ্ছি, শুরু হল- ‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।’ আর যাওয়

আরও পড়ুন

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ...

সুশোভন



ছোটবেলার এক গ্রীষ্ম কালীন সন্ধ্যে। ঝড় বৃষ্টির পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আমাদের গঞ্জে তখন কোনও ‘বিক্ষিপ্ত ঘটনা’ নয়। অগত্যা মায়ের বকুনির ভয়ে বাধ্য হয়েই উঠোনে পাতা দড়ি খাটে হ্যারিকেনের আলোয় বইয়ের পাতা খুলে বসলাম। বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার ছবি আঁকা তাতে। আমেরিকা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, হল্যান্ড, কোরিয়া, রাশিয়া, চিন, কিউবা, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, বলিভিয়া কত শত দেশের পতাকার মাঝে যখন হাবুডুবু খা

আরও পড়ুন

একটি (অ)মানবিক শ্বেতপত্র

ইন্দ্রনীল বক্সী


ফটো- সজারু



মাননীয় ......
ঈশে ( ! ! ঠিক বুঝতে পারছি না কাকে এড্রেস করা উচিত ! )
আপনাকে আমার / আমদিগের বিনীত প্রণাম

আপনি হয়তো অবগত আছেন যে, কিছুদিন যাবতই আমাদের সকলেই, বিভিন্ন গোষ্ঠী-বর্ণ নির্বিশেষে এক চূড়ান্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি । আমাদের মতো নিরীহ , শান্তি প্রিয়দের কোন এক অভিশাপে বিগত মাস খানেক যাবৎ নানান নিপীড়ন – শোষণ সহ্য করতে হচ্ছে । এমনিতেই আপনাদের স্বজাতিরা আমাদের নানা

আরও পড়ুন

সন্ত্রাসবাদী ক্ষুদিরাম এবং কয়েকটি কথা

সুমন্ত চ্যাটার্জী



“One murder makes a villain, millions a hero”.
:Bishop Beilby Porteus



ব্র্যাড পিট অভিনীত “Inglourious Basterds” সিনেমায় দেখানো হয়েছিল কিভাবে ফ্রান্সে নাৎসি বর্বরতার পালটা জবাব দেওয়ার জন্য একদল ইহুদী- আমেরিকান একটা স্কোয়াড গড়ে তুলেছিল। বর্বরতায় এরাও নাৎসিদের থেকে
পিছিয়ে ছিলনা। কিন্তু সিনেমাটা দেখতে দেখতে দর্শকের নৈতিক সমর্থন চলে যায়
এই জবাবী জল্লাদদের দিকে।
বিষয়টা এই কারণে উত্থাপন করলাম কেননা কয়েকদিন আগে মধ্যশিক্ষা পর্ষ

আরও পড়ুন

প্রসঙ্গঃ সানিয়া মির্জা

সুশোভন পাত্র

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সানিয়া মির্জা। টেনিস তারকা কে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত কিছু দিন আগে। সানিয়া মির্জা কে নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে ঘোষণা করার পরই বি জে পি সাংসদ ডঃ লক্ষ্মণ মন্তব্য করেন ,‘এই সানিয়া পাকিস্তানের গৃহবধূ। তাঁর তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগের কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। এই রাজ্য গঠনের আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর কোনো আত্মিক সম্পর্ক নেই।’ এই ধরনের মন্তব্যে স্বভাবতই হতাশ সানিয়া প্রকাশ্যে বিবৃ

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে যা হচ্ছে - কার্টুন ৫

তৌসিফ হক

আরও পড়ুন

মহা(নায়ক)দেব

সরোজ দরবার


চলছিল বেশ পাগলু পাগলু হয়ে, চাপ হয়ে গেল ‘সন্মান’ টন্মান পেয়ে...!
বোঝো কান্ড! কোথায় নায়িকা শোভিত হয়ে এর দেওয়ালে ওর দেওয়ালে ঘুরে বেড়াবে, তা না হয়ে ফেবু পাড়া জুড়ে কী সব ছবির ছড়াছড়ি। এক ছবিতে লেখা, ‘দাদা শুনেছেন দেব নাকি ‘মহানায়ক পুরস্কার’ পাচ্ছে।’ শুনে মহানায়কের উত্তর, ভাগ্যিস আমাকে ‘দেব পুরস্কার’ দেয়নি। আর একখানা তো ষোলআনা বাঙালিয়ানায় টইটম্বুর। সেখানে আবার সপ্তপদীর সেই বিখ্যাত গানের দৃশ্য। বলা বাহুল্য মহানায়কের মুখ ফোট

আরও পড়ুন

একটি উত্তম প্রস্তাব

সরোজ দরবার




মান্যবরেষু,
জানি সব দিনে সব কথা বলতে নেই, কিন্তু কিছু কিছু কথা আবার না বললে কিছুতেই বোঝা যায় না। তাই আপনার প্রয়াণ দিবস আমাদের বয়ান দিবস হয়ে উঠল বলে অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থী। আসলে হয়েছে কী, আপনি তো সেই আশিতে আসি করে চলে গেলেন। আপনার পদ্মপাতায় আর লাগবে না দাগ, সময়ের পাঁক যতই খাঁটি হোক না কেন। বাঙালির ঘরে ঘরে কুলগুরু আছেন, কুলুঙ্গিতে তাঁদের ফটো আছে, আর বুকসেলফে গুরুদেব আছেন। কিন্তু চার দেওয়ালের কোত্থাও একখানি ছবি না থা

আরও পড়ুন

কত্তা,কাবাব ও স্বর্নযুগের পেঁপে!

ইন্দ্রনীল বক্সী



“জানোস , শক্তিদা পাকা পেঁপে দিয়ে চোলাই মারতো !!” বলেই ঢক করে পাত্রের তলানীটুকু গলায় চালান করে কাঁটায় গেঁথে একপিস রেশমী তুলে সামনের দাঁত দিয়ে অদ্ভুত দক্ষতায় কামড়াতে লাগল আমাদের মেজোকত্তা । “তা তুমিতো কত্তা স্কচ সাঁটাচ্ছো কাবাব দিয়ে ! এর সঙ্গে তার কি যোগ !” (এখানে বলে রাখি আমাদের কত্তা বেশ একজন জাঁদরেল কবি ডাকসাইটে, এমনিতে ছাপোষা সরকারি চাকুরে মাসের প্রথম সপ্তাহে গিয়ে ব্যাঙ্কে লাইন দ্যান নিয়মিত , অনেক স্ত

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে ট্রেন্ড-২ একটি ৬ নম্বরের পরীক্ষা

শবর মিত্র

টিকা লিখ

বুদ্ধিজীবী (১ নম্বরের জন্য লিখ)
ইহারা একচক্ষু হরিণের ন্যায় বিশেষ বিশেষ কার্য কারণে প্রতিবাদ করেন এবং অন্য অবস্থায় নীরবতা পালন শ্রেয় বলিয়া মনে করেন। যাহারা পাপোষ তালে নীরব এবং অমিত বিক্রমে সরব, তাহারাই বুদ্ধিজীবী। সুদৃশ্য পাঞ্জাবী পরিহিত ইহারা শহিদ বেদী হইতে নজরুলগীতি, সকল স্থানে বিদ্যমান থাকিতে পছন্দ করেন। কেদারা পরিষ্কারে ইহাদের বিশেষ কৃতিত্ব লক্ষ্য করা যায়।


নারী সম্মান (২ নাম্বার)
ভারতবর্ষে প্রত্

আরও পড়ুন

নস্ট্রাডামুসসাজ ইত্যাদি ইত্যাদি

কৌস্তভ ভট্টাচার্য




(চিঠিটা কাকে লেখা সেই ব্যাপারে প্রেরক নিশ্চিৎ নয়, তাই ছাপানো হলো)

---,

তোমাকে চিঠি লিখতে লিখতেই প্রায় আদ্ধেক বেঁচে থাকা কেটে গেলো।

হয়তো এখন আমার চিঠি পেলে তোমার বোর লাগে। ভাবো ওই আরেকটা এসে জমা হলো ইনবক্সে। আবার ক,খ,গ,ঘ,ঙ পেরিয়ে যাওয়া ঘ্যানঘ্যানানি চলবে। সত্যি কথা বলতে ভাবাটাও অহেতুক নয়। আমরা তো প্রায় শেষ যৌবনকালে মিড লাইফ ক্রাইসিসের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি - দু'জনে - অনেকটা দূরে দূরে - স

আরও পড়ুন

রক্তাক্ত গাজা ...

সুশোভন


বিপন্ন শৈশব, এর শেষ কোথায়?


এক

সময়টা ২০০৬। স্থান অবরুদ্ধ প্যালেস্তাইন। বাবা আবদুল্লাহ তাঁর ছেলে মাহমুদ আল জাক-এর দেহাবশেষ শনাক্ত করেছিলেন শরীরের কোন অংশ দেখে নয় বরং ইজরায়লি সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত ছেলের কোমরের বেল্ট আর পায়ের মোজাতে জড়িয়ে থাকা মাংস পিণ্ড দেখে । একদিন পর চৌদ্দবছর বয়সী মাহমুদের শরীরের বাকি অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। ইজরাইলি সেনাবাহিনী ওই হামলার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন অটাম ক্লাউড’।

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে যা হচ্ছে - কার্টুন ৪

তৌসিফ হক

আরও পড়ুন

কাপ ও বাক যুদ্ধ শেষে

সরোজ দরবার


মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে

অতএব দশমীও চলে গেল। বিসর্জি প্রতিমা যেন দশমী দিবসে, কী কথা কহিব এবার বিশ্বকাপ শেষে? বেশ তো গুলতানি চলছিল। সৌরভ চৌধুরীর জায়গা নিয়ে নিয়েছিল, নেইমারের চোট। ভোট রাজনীতির কূটকাচালি দখল করে নিয়েছিল মেসির বাঁ পায়ের শিল্প। হঠাৎ এক ঝটকায় নটে গাছটা মুড়োল। মুড়োল বলতে মনে পড়ে গেল, ঐ যে শ্যামল সুন্দর গুন্ডাটি মাথাটি মুড়িয়েছিল, তাতে কি ঘোল কিংবা চুনকালি পড়ল? নাকি হালফ্যাশনের টুপি উঠে পড়ল সে ম

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে ট্রেন্ড -১

শবর মিত্র

বাক্য সম্প্রসারণ- লোকে কি বলবে

একটা মিক্সি এমনভাবে শব্দ করছে যে কি বলব। গাজা, আর্জেন্টিনা, হিটলার, পাপোষ তাল কোনটাই বাদ নেই। আর এর মধ্যেই কেউ কেউ বড়দা সেজে চোখের চশমা কপালে তুলে চোখ বড় বড় করে বলছেন “বিশ্বকাপ নিয়ে নাচানাচি করছেন? দেখুন গাজায় কি হল”। তারপর একটা অতিকায় ছি ছিক্কার তুলে বলে দিলেন “বাঙালির আর কি হবে”।
আমরা চিরকালই বড়দা মেজদা পরিবৃত হয়ে থাকতে ভালবাসি, “লোকে কি বলবে”র এই লোকেদের ভয়ে আমরা নিজেদের স্বাধীন মতামত দিতে পারি না, এদের জন

আরও পড়ুন

অভিজাত বিশ্বাসের ছবি

সরোজ দরবার





‘চাওয়া পাওয়া’র হিসেব নিকেশ তখন প্রায় মিলেই যাচ্ছিল। দু’পক্ষের বেশ একটা শুধু আধোখানি ভালোবাসা বলা না বলায় মিশে যে মুহূর্তে প্রায় অনির্বচনীয় হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই চিত্রনাট্যের সিঁড়ির উপর তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিলেন পরিচালক। অমন রাশভারী লোকটাকে আচমকা দেখে আমাদের এযাবৎ দর্পিণী-অভিমানীনি নায়িকাও থমকে গেলেন। চমকে গেলেন নায়কও। ভাগ্যিস তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। নয়তো, এতক্ষণের তৈরি করা মায়াজাল যদি ওখানেই সমাপ্তির ফ্রেমে চলে য

আরও পড়ুন

ব+ব+ব

ইন্দ্রনীল বক্সী


হারের পর ভেঙে পড়লেন ব্রাজিলিয়ান সমর্থক


কি সাংঘাতিক ব্যাপার ! গর্দান যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে এ লেখা পড়ে চাদ্দিকে যা দেখছি ! বিশ্বকাপ চলিতেছে ...বিশ্বকাপ চলিতেছে বলে বেজায় শোরগোল কদিন ধরেই । এই গ্রহের সেরা উৎসব । যথারীতি বঙ্গবাসীও মাতোয়ারা । এফ বি তে চলছে যথেচ্ছ চিমটি কাটাকাটি ! বিভিন্ন দলের সমর্থকদের বঙ্গ প্রতিনিধিদের মধ্যে । ঝগড়া –আড়ি পর্যন্ত গড়াচ্ছে । চলছে ক্যুইজ ,প্রেডিকসন , খেলা নিয়ে কত্ত কি লেখা লিখি । বঙ্গ

আরও পড়ুন

সাত সর্বনাশের পরদিন

সরোজ দরবার


মঙ্গলে ঊষা, বুধে পা... তবু যথা ইচ্ছা তথা যাওয়ার তো কথা ছিল না।
অথচ তাইই হল, ঠিক যেখানে শঙ্কা ছিল সেখানেই হল নৌকাডুবি।
হাফটাইমের বাঁশি বাজতেই ক্লাবঘরের মাথায় পতাকাগুলো সিগারেটের ধোঁয়ার এপার থেকে কীরকম ঝাপসা ধোঁয়াটে দেখাচ্ছিল। দাভিদ লুইসকে যখন থিয়োগা সিলভা হাত ধরে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন সেগুলো ভাঁজ হয়ে ক্লাবের আলমারিতে চালান হয়ে গেল। পাশেই নীল সাদা পতাকার যে কোণটা এতদিন চাপা পড়েছিল, সে এবার হাওয়া পেয়ে দিব্যি প্রাণ খুলে উড়ে বেড়াতে লাগল

আরও পড়ুন

গ্যালিলিও ফিসফিস করে বললেন, মারাদোনা কিংবা জিদান

মাসকাওয়াথ আহসান

ফুটবল মাঠ থেকে মারাদোনার ডোপিং অপরাধে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা জিদানের মাতারাতসিকে মেরে বেরিয়ে যাওয়া এই দুই পরাজিত মেঘের রাজসিক প্রস্থান খুব অল্প বয়স থেকে ভাবিয়েছে আমাকে। সবাই যখন রোলমডেল হিসেবে শৃংখলা অনুবর্তী মানুষদের বেছে নেয়,আমি তখন বেছে নিয়েছি ফুটবল আইনের চোখে উছৃংখল এই দুই সুপারম্যান কে।

মারাদোনা যখন মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে একে একে বাধা ঠেলে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতেন,দারুণ এক শিহরণ অনুভব করতাম।মারাদোনা র চারপাশ থেকে ঘিরে ধরা আপাত দীর্ঘদেহী খে

আরও পড়ুন

বরুণ ছিল , আর নেই

অঙ্কুর কুণ্ডু


-‘Man who gave the poor a voice now silenced’

স্মৃতি নাকি কখনও মধুর , কখনও রোমহর্ষক , কখনও ‘আরব বেদুইন’ ; স্মৃতির একটা আলাদা মজা আছে –স্মৃতির সাথে জুড়ে থাকে ধারণা ও ছাপ ৷ এই দুইটি না থাকলে স্মৃতিকে যতই ডাকা হোক না কেন , তা মাথার ওপর দিয়ে চলে যাবে ৷ যাঁরা মানেন না যে স্মৃতির সাথে ধারণা ও ছাপ-এর সম্বন্ধ আছে অথবা যাঁরা দৃষ্টিপাত করবেন না বলে ঠিকই করে নিয়েছেন , তাঁরা আজ , ৫ই জুলাই,’১৪-তে , যে কোনো নিউজ্ চ্যানেলে , মদ-জুয়ার ঠেকের প্রতিবাদে খুন হওয়া কলেজ ছা

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে যা হচ্ছে- কার্টুন ৩

তৌসিফ হক

আরও পড়ুন

ব্রাজিল লাইভ...

চৈতালি চট্টোপাধ্যায়



ব্রাজিলে আসবার কথা যখন ঠিক হলো, আমার খুব বেশি আনন্দ হয়নি, কারণ ব্রাজিল বলতে যেটুকু জানতাম তা হল শুধুই ফুটবল আর ফুটবল আমি খুব বেশি ভালোবাসিনা যদিও অনেকে বিশ্বকাপ করে নেচেছিল,এছাড়াও শুনেছিলাম ভারতীয় খাবার দাবার নাকি কিছুই পাওয়া যায় না। ফুটবল ব্যতীত ব্রাজিল সম্বন্ধে যেটুকু জানতাম গ্লবা হসার বা ভিদাস সেকাস সিনেমা দেখে। তবে দক্ষিণ আমেরিকাতে প্রথম পা দেব, সেইখানের অনেক কিছুই জানিনা,কিছু বাজে লাগার মধ্যেও ঐগুলো ছিল আনন্দ

আরও পড়ুন

“মানুষ বড় সস্তা...”

সুশোভন পাত্র

জিৎ বাহান মুণ্ডাটাও মারা গেলো !!!
জিৎ বাহান মুণ্ডা ? মেসি, নেইমারের ভরা বাজারে জিৎ বাহান মুণ্ডা ? সেটা কে রে ? কোন দেশের স্ট্রাইকার ? কোন ক্লাবে খেলে ? কটাই বা গোল করলে ? হেয়ার স্টাইলটা কেমন ? এবারের বিশ্বকাপে ছোট টিমগুলোর দাপটে রোনাল্ড, আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, বালতেলির মত বড় বড় মহারথীরা ঘাবড়ে গিয়ে সাবড়ে গেছে সেখানে জিৎ বাহান মুণ্ডা এতদিন করছিলটাই বা কি ? আর নামটাই বা কেমন ? জিৎ বাহান মুণ্ডা !! অমন নাম যখন, বিদায় হবে না তো কি হবে শুনি?
জিৎ বাহান মুণ্ডাটা হল গিয়ে উত

আরও পড়ুন

উপরে একই আকাশ, নীচে একই মায়ের কোল

মাসকাওয়াথ আহসান

১৯৪৭ সালের চৌদ্দই অগাস্ট। বাঙ্গালীর পরিবারটি ভেঙ্গে যাবার দিন। ১৯৪৭ সালেবৃটিশ কেরানী র‍্যাডক্লিফের পেন্সিলের নিষ্ঠুরতায় বাংলার হৃদপিন্ড দু’ভাগ হয়েছিলো সেদিন। বৃটিশ কেরানী, উচ্চবর্ণের হিন্দু ও মুসলিম আশরাফ শ্রেণীর পঞ্চায়েতীতে বাঙ্গালীর গভীর আত্মীয়তাকে ধর্মপরিচয় দিয়ে বিভাজিত করাহয়েছিল। এযেন রাতারাতি যৌথ পরিবারের উঠোনে জোর করে প্রাচীর তুলে দেয়া।
বাঙ্গালী-হৃদপিন্ড কেটে দুভাগ করে দেবার ফলে পশ্চিম-বঙ্গের বহু সংখ্যক মুসলমান বাঙ্গালী পূর্ববঙ

আরও পড়ুন

জগন্নাথ এখন সোজা হয়েই দাঁড়ায়

তুষ্টি ভট্টাচার্য


জগন্নাথ কিছুতেই সোজা হয়ে দাঁড়াতো না আমার রথে । একটু করে টানতাম দড়ি ধরে , আবার দাঁড়িয়ে পড়ে সোজা করে দিতে হত । তখন মনে হত , ইস যদি জগন্নাথ দেবকে রথের গায়ে কোনোভাবে দাঁড় করানো যেতো ! অনেক ভেবেচিন্তে একবার দড়ি দিয়ে বাঁধতে গেছিলাম ওনাকে । যদিও রেরে করে তেড়ে এসেছিল অনেকে , তাই সে যাত্রা ক্ষান্ত দিয়েছিলাম । আমার ছেলের ক্ষেত্রেও দেখেছিলাম সেই একই সমস্যা । তার তো আবার হাইটেক রথ , আমাদের সময়ে এই এত্তটুকু রথ নিয়ে এসে মায়ের পুরনো কাপড়টাপ

আরও পড়ুন

অথ রথ-কথা

সরোজ দরবার


photo courtesY: the guardian

রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম... ভর দুপুরে ভরা গাছে কে পাড়লি আম? ... জানলা দিয়ে সাধের গাছের ডানা ঝাপটানি দেখে মা ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেল। গিয়ে অবিশ্যি কাউকেই দেখল না। শুধু রাস্তার পাশের তিনটে আমের মধ্যে মাত্র একখানি লুটেরার হাত থেকে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে পেরেছে, সেটুকুই বোঝা গেল। কিন্তু এত্ত অল্প সময়ে কম্মটি করল কে? বাবা হেসে বলল, বোধহয় জগন্নাথের তোমার গাছের আম খেতে বড় সাধ জেগেছিলে...নিজের হাত নেই তো, তাই কোন

আরও পড়ুন

সুয়ারেজের কামড় আর মারাদোনার কান্না

সৌরাংশু



গত চব্বিশে জুন এস্তাদিও দস দুনাস ক্রীড়াঙ্গনে উরুগুয়ের লুই সুয়ারেজ ইটালির জর্জিও চিলিয়েনির ঘাড়ে দাঁত বসিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরকম ক্রিয়াকলাপ তিনি আগেও করেছেন বটে। খবরে প্রকাশ উনি এই কম্মটি আগেও করেছেন তার মধ্যে গত বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ইভানোভিচকে কামড়ে দেওয়াটা এখনও সকলের মনে দগদগে হয়ে আছে। ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি আগামী দু দিনের মধ্যে সুয়ারেজের শাস্তির বিধান দেবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
সুয়ারেজের আইনজ্ঞ অ্যালেহ

আরও পড়ুন

যাঁরা অন্যভাবে অপ্রতিরোধ্য

ফুলমণি সরেন



বান্টি আজ একুশ বছরের যুবক। কিন্তু বান্টির সিনেমা বা টিভি দেখতে ভালো লাগে না। কেন এমন অদ্ভুত ঘটনা? বিনোদনের যে মাধ্যমের বিপুল আবেদন তা আমাদের যুবকটির অপছন্দ কেন? জবাবে সে জানায় “কিছুই বুঝতে পারি না”। প্রশ্ন করা যায়, বিনোদনে আর বোঝার কী আছে? বিনোদন তো উপভোগের, বোঝার তো নয় কখনোই। কিন্তু বিনোদন তখনই উপভোগ্য যখন তা থেকে সংকেত নিয়ে ইন্দ্রিয় সেই সংকেত স্নায়ু ও মস্তিষ্কে চালিত করে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। বান্টি বধির। সুতরাং শ্রাব্যদৃশ্য মাধ্যমে অনেকে

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে যা হচ্ছে- কার্টুন২

তৌসিফ হক

বাড়ল চিনির দাম...

আরও পড়ুন

চাদ্দিকে যা হচ্ছে- কার্টুন ১

তৌসিফ হক

রেলভাড়া বাড়ল... বোঝা বাড়ল, ভাল দিন এই এল বলে

আরও পড়ুন

ক্ষত্রিয় গুণ

মাসকাওয়াথ আহসান

নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে পরিচয় একটা বুক শেলফ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে। কিশোর বেলায়। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বুঁদ সে সময় এক ধাক্কায় গুণ আমাকে নিয়ে গেলেন ‘হুলিয়া’র আরেক রোমান্টিকতায়। এরপর আবুল হাসান এসে যখন উদিত দুঃখের দেশের কথা বলেন; খুব বুঝতে পারি গুণ কী বলছিলেন আমাকে।
নির্মলেন্দু গুণ বুঝতে পেরেছিলেন এই দেশে দেশপ্রেমের অপরাধে মাথার ওপর হুলিয়া ঝুলবে। রাজনীতিকতার এই কবি প্রেমের পুতুপুতু কবিতার ইতিরেখা টেনে কেন যেন মনে হয় দেশ-মৃত্তিকাকে ভালবাসতে শিখি

আরও পড়ুন

ধর্ষংস্কৃতি!

ইন্দ্রনীল বক্সী



ধরুন পরীক্ষায় এলো ধর্ষণ কি ও কয় প্রকার ? এর উৎপত্তি কবে ও কোথায় ? সর্বাধিক ধর্ষণের ঘটনা কোথায় ঘটে থাকে ?...ইত্যাদি, ঐ “কবে এবং কোথায়’” প্রশ্নটি ছাড়া বাকিগুলোর উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন । আর যে উত্তরটা সারা পৃথিবীর কেউ আজও খুঁজে পেলোনা হাজার আন্দোলন , হাজার আইন , হাজার হাজার পাতা আর্টিকেলেও, সেটা হচ্ছে – ধর্ষণ কিভাবে বন্ধ হবে ?
যাবতীয় মিডিয়া বাহিত ধর্ষণের খবর , সে ভারতের উত্তর প্রদেশে হোক ,দিল্লিতে হোক কিংবা পশ্চিম বাংলায় ,পড়ত

আরও পড়ুন

আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ সামনে

মাসকাওয়াথ আহসান

২০১৪ সালে এসে স্পষ্টতই বোঝা যায়; গান্ধীজীর অভিনব এক পোশাক পরে 'ইংরেজ ভারত ছাড়' আন্দোলনের কোন প্রয়োজন ছিলোনা। যদি প্রয়োজন থাকতো তাহলে নিও-এলিট ভারতবর্ষীয়
চোরের দলের নতুন করে সেই ইংলন্ড - ক্যানাডা -এ মিরিকায় অভিবাসী হবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতো না।হিসেব করে দেখুন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারত - বর্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ লুট করেছিল; তার চেয়ে অনেক বেশী টাকা পাচার হচ্ছে অভিবাসী 'চোর সম্প্রদায়ে'র মাধ্যমে।

ইংলন্ডে পড়তে ও ঘুরতে গিয়ে স্যূট টাই পরে জিন্নাহ ও নেহে

আরও পড়ুন

কেমন আছো, শহর/কসবা/গ্রাম?

ফুলমণি সরেন



কেমন আছি আমি? সেটা পড়া যায় আমার রক্তচাপে, আমার দৃষ্টি, শ্রুতি, স্পর্শ, ঘ্রাণ ক্ষমতায়, আমার পেশির সক্রিয়তায়, আমার মগজের আর স্নায়ুর প্রতিবর্তের ক্ষমতায়। কিন্তু কিছুই ঠিকঠাক চলবে না যদি না এইসব কাজের মূলগত দায়িত্ব পালন করে যে কোষগুলি সেখানে প্রাণবায়ু বা অক্সিজেন না পৌঁছোয়। মানে কোষে যথেষ্ট অক্সিজেন না পৌঁছোলে আমি আর ভালো থাকব না। তার জন্য জরুরি আমার ফুসফুসের ভালো থাকা। তার মানে শরীরের বিষবায়ু শুধরে জীবনীশক্তি ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে শহর/ কসবা/ গ্রামের

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ, বিশ সাল বাদ

প্রকল্প ভট্টাচার্য


নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার। আজ এই বিশেষ দিনে, দু’হাজার চৌত্রিশ সালের দশই জুলাই আপনাদের নিয়ে এসেছি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে, যেখানে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারত এবং ব্রাজিলের মধ্যে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। আপনারা যারা মোবাইলে এই খেলার সরাসরি সম্প্রচার দেখছেন, তাঁদের জন্য এক বিশেষ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা হলো স্টেডিয়ামের বাইরে। আসুন, আমরা দেখি মাঠের বাইরে এই খেলা নিয়ে মানুষের মধ্যে কেমন উত্তেজনা! প্রথমে আমরা কিছু মধ্যবয়সী মান

আরও পড়ুন

আটপৌরে মধ্যবিত্তের শুদ্ধ উপবীত

সরোজ দরবার



ঠিক পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সেদিন আমাদের এত ‘সাউন্ড’ ছিল না, কিন্তু ছিল শাপমোচনের প্রতিশ্রুতি। সাদার্ন অ্যাভিনিউ থেকে টালিগঞ্জ মেট্রোর দূরত্ব আজ ট্যাক্সির মিটারে পরিমেয়, কিন্তু বাঙালির আটপৌরে ইতিহাসে আসলে সে তো দূরত্ব নয়। বস্তুত ‘ঐশ্বরিক’ শব্দটি বাংলা অভিধানে যতখানি সুলভ, তার তুলনীয় কোনওকিছু বাঙালি সহজে খুঁজে পায় না। শুধু এই দুটো জায়গার এখনও দু’জন মানুষের দুই মূর্তি বাঙালিকে এই শব্দের প্রতি তুলনীয় অনুভূতি দি

আরও পড়ুন

শক্তিপদ রাজগুরু চলে গেলেন

ঋজু ঘোষ

চলে গেলেন সাহিত্যিক কথাশিল্পী শক্তিপদ রাজগুরু। আমরা তাঁর প্রয়াণে গভীরভাবে মর্মাহত। সশ্রদ্ধচিত্তে আমরা তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। তিনি কত বড় সাহিত্যিক ছিলেন তার বিচার বিদগ্ধজনেরা করবেন। আমি তাঁকে পাঠক হিসাবে প্রণাম জানাই। সকলেই জানেন তিনি কি কি লিখে গেছেন, একশরও বেশী ছিল তার উপন্যাস। তিনি লেখালেখি শুরু করেন ১৯৪৫ সাল থেকে। স্বভাবতই তাঁর লেখা যুগের অস্থিরতার মতই বিচিত্র।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একই লেখা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লেখা হচ্ছে। এর থেকে বো

আরও পড়ুন

পোতিশ্‌শুতি থেকে পো্রোচনায়

ফুলমণি সরেন

আমাদের পাড়ার নিমে পাগলা আবার সেরা টাইম পাস। পাগলা বলেছিল, “মোদী পোধানমন্‌তি হলে, আমি স্যুইসাইড করব।” এবার পাড়ার ছেলেবুড়ো সব্বাই পাগলকে “কী চাই তোর?”, “কী চাই তোর?” জিগ্যেস করে করে, “তালুতে ফেলে থুতু, তাতে ডুবে মর” বলে বলে নিজেরাই পাগল হয়ে গেল। মায় বাচাল মেয়েগুলো অবধি টিটিকিরি দিতে ছাড়ে না, “হে পাগল, কচু গাছে সুতলি দিয়ে ঝুলবি না?”
প্রতিজ্ঞাটা যখন পাগল করেছিল জনসমক্ষে তখন কেউ জানতে চায় নি এমন ভয়াবহ প্রতিজ্ঞার কী কারণ। আজও কেউ জানতে চায় না পাগলার প্রতিজ্ঞ

আরও পড়ুন

বিসর্জনের ঊনিশ

আবেশ কুমার দাস





“ইদানিং সে সুরটা শুনতে যে খুব ইচ্ছে হয়
কিন্তু সে খেলনাওলা আর আসে না পাড়ায়
হয়ত কোনও অন্য অলিগলি ঘুরে
অন্য কোনও কাউকে টানছে সে অদ্ভুত সুরে”


সেই অদ্ভুত সুরটা কি শেষ জীবনে শুনতে খুব ইচ্ছে হত ডগলাস লিনফোর্ড ফ্রিম্যানেরও ? চিরায়ত টেস্ট ক্রিকেটের সেই ধূসর অধ্যায়ের মন কেমন করা সুর। যে অধ্যায়টুকুর অস্তিত্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছে হ্যামণ্ড, সাটক্লিফ বা জার্ডিনদের মতো এক এক দিকপাল কিংবদন্তির শ

আরও পড়ুন

বিজয়োল্লাস আর কিছু কথা

শবর মিত্র


গত পরশু ইডেন গার্ডেনসে আমরা এক অভূতপূর্ব বিজয়োল্লাসের সাক্ষী হয়ে রইলাম। শহরের নাম আছে এরকম একটা দল একটা কর্পোরেট টুর্নামেন্ট জিতেছে। শহরের গর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, এটাই তথাকথিত ধারণা আমাদের। আমাদের শহরকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হত একটা সময়ে। জানি না সত্যি নাকি, তবে কানাঘুষোয় শোনা যায় ব্রিটিশ আমলে এই শহরে নেতাজী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মত মনিষীরা ছিলেন। বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহ, সতীদাহ প্রথা রদে এই শহর পথপ্রদর্শক

আরও পড়ুন

অ্যাপ-কথাঃ Whisper

পৃথা পাত্র

“a guy walked up to me and said: ‘your eyes are so blue. They remind me of the cat that shits on my lawn’.”
“am I the only one to hide when someone rings the doorbell?”
“I will never let my wife know I am starting to enjoy washing dishes”
“my little sister, in 6th grade ks getting more guys than I do. Don’t know how I feel about this”.
“I always fantasize others while I am in bed with my wife”
“I saw my dad was making love with the girl of our maid when I was 6”

-------------------------
Wikipedia:
"Whisper is a free iOS and Android mobile app, and an associated paid online service, which allow users to send messages anonymously and receive replies. Users post messages which are displayed as text superimposed over an image, similar to greeting cards. (This app should not be confused with WhisperPush, an encrypted messaging protocol from Open WhisperSystems)"

প্রথমে দিলাম কিছু ফিসফিসানির নমুনা।

উইকিপিডিয়া থেকে সংজ্ঞাটা তুলে দিল

আরও পড়ুন

কন্যা ভ্রূণ হত্যা

পূজা মৈত্র

কন্যা ভ্রূণ হত্যা এদেশের একটি সামাজিক ব্যাধি বললেও কম বলা হয়।মহাকাব্যের নায়িকাদের আমরা কেবল পুত্রপ্রসব-ই করতে দেখি, প্রবাবিলিটির সব সুত্রকে তুচ্ছ করে। কুন্তী, পাঞ্চালী, গান্ধারী( কোনোক্রমে একটি কন্যা প্রসব করেছিলেন) রা উজ্জ্বল উদাহরণ। এখন তারা কি কোন বিশেষ উপায়ে গর্ভে কেবল পুত্র আনতে জানতেন, নাকি জাত- অজাত কন্যাদের সরিয়ে ফেলার বিশেষ ব্যবস্থা সে যুগেও ছিল, মহাকাব্যের কবি তা স্পষ্ট করেননি। তাই বলা যায়, এই ব্যাধি আজকের নয়, বরং বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথ

আরও পড়ুন

হ্যাপি হ্যাপি জামাই DAY

সরোজ দরবার

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে...আরে মশাই...জষ্ঠি মাসে জামাইষষ্ঠী এমনিই আসে। অত ডাকের তোয়াক্কা করে না। বাঙালি রাজা-বাদশা হবে এমন আশা করা ভুল, কিন্তু রাজার জামাই হবে এহেন বাসনা বজায় আছে বিলকুল। অতএব সেই যেদিন চিরনতুনেরে দিল ডাক, কবিগুরুর ২৫ শে বৈশাখ, সেদিন থেকেই ঘেমে নেয়ে একসা তাবৎ শ্বশুরকুল। আমলকি বনের পাতা খসানোর ঢের দেরি, কিন্তু পকেটের টাকা খসানোর যে সময় এসে গেছে, দুরুদুরু বুকে সে কথা বুঝে ফেলেন তাঁরা। কিন্তু যতই পুরুষতন্ত্রের রমরমা থাক, এই একটা দিন শাশুড়িদে

আরও পড়ুন

“বোকো হারাম” – চূড়ান্ত “-রামির” এক নাম

ঋজু ঘোষ

মিডিয়ার কল্যাণে আমরা এখন অনেক খবরই হাতেনাতে পেয়ে যাই। তথাকথিত সরকারের খবর চাপা দেওয়া ব্যাপারটা এখন প্রায় অসম্ভব। খবরের কাগজ, নিউজ চ্যানেল ছাড়াও আছে ফেসবুক, টুইটার এর মতন স্যোসাল ব্যাপার-স্যাপার। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের যে গত এপ্রিল মাসে নাইজেরিয়ার “চিবক” নামক শহরে হানাদিয়ে তারা প্রায় ২০০ জন স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে। এদের তারা সন্তান উৎপাদনে ব্যবহার করবে। তারপর সেই সন্তানেরা আরও নৃশংসতা চারিদিকে ছড়িয়ে দেবে। ভাবলেই গা ঘিনঘিন করে ওঠে। এদের লড়াই মূ

আরও পড়ুন

ভিনগ্রহী ফ্লাইং সসার

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

গৌতম চট্টোপাধ্যায় আসলে একজন উপকথা। মানুষ হবার গতানুগতিকতায় সামিল হওয়া যাঁর পক্ষে নিতান্ত অসম্ভব।
ফুলবেলপাতা হবার সমস্ত সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ উপরের ওপেনিং সেন্টেন্সটি পরে যদি ‘আরো একটি শহীদস্মরণ’ ভেবে থাকেন – তবে সে দোষ আপনার নয়। এই গদ্যলেখক গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে প্রায় চলমান অশরীরী জ্ঞানে ভক্তি করে। কিন্তু তার সাথে নিতান্ত ক্ষোভের সাথে দেখতে থাকে – যে আইকনপ্রিয়তায় আচ্ছন্ন বাঙালি শতচেষ্টাতেও অন্ধের হস্তিদর্শনের বেশি এগোতে পারলো না – তাও এমন একজন

আরও পড়ুন

' কেউ কথা রাখে নি '......'সন্তানদল ' অনাথ হল

কৌশিক রায়

১)
ছোটবেলায় মামার বাড়ি যাওয়ার সময় ষ্টেশনের দেওয়ালে লেখা থাকত "নেতাজী ফিরে আসবেন "।কোনো অজ্ঞাত বৈধ বা অবৈধ সন্তানদল রাতের অন্ধকারে লিখে চলে যেত আর আমিও বাবার কাছে নেতাজীর বীরত্বের কাহিনী শুনে বিশ্বাস করতাম যে তিনি ফিরে আসবেন। কতকাল সেই স্বপ্নে বিভোর থেকেছি আজ ভুলেই গেছি। তারপর সন্তানদল আগ্রহ হারালো, নেতাজী গুপ্তরোগের পোস্টারে আবার আত্মগোপন করলেন। তিনি কথা রাখলেন কই?

২)
আস্তে আস্তে কৈশোরে পদার্পন করতে না করতেই টিভিতে একটি চকলেটের বিজ্ঞা

আরও পড়ুন

ভালো থেকো ঋতুদা

কল্লোল লাহিড়ী

জীবনের প্রথম চাকরির ইন্টারভিউটা দিতে গিয়েছিলাম ইন্দ্রানী পার্কের ‘তাসের ঘর’ নামের বাড়িটায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবে মাত্র তখন চলচ্চিত্রবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়ে নানা দিকে ঘোরাঘুরি করছি কাজের সন্ধানে। অনেককে বলেছি। মাঝে মাঝেই জ্বালাতন করছি প্রিয় শিক্ষকদের। চাকরির আবেদন নিয়ে সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ঘুরে বেড়াচ্ছি ছোট ছোট প্রোডাকশান হাউজ গুলোতে। কিন্তু কিছুতেই কিছুর সুযোগ মিলছে না। অনেকে ফ্রিতে লিখিয়ে নিচ্ছেন অনেক কিছু। কেউ কেউ ছ

আরও পড়ুন

ঋতুপর্ণ ঘোষের পাঁচটা সিনেমা যেগুলি না দেখলে জীবন বৃথা

শবর মিত্র

 

  • rituparna ghosh
  • rituparna ghosh
  • rituparna ghosh
  • rituparna ghosh
  • rituparna ghosh

ঘটনা হল যারা মনে করে ঋতুপর্ণ ঘোষকে বিখ্যাত করেছে মীর, তারা ওনার কোন সিনেমাই দেখেনি। রিমেকের বাইরে তারা কিছু দেখেছে নাকি সেটা নিয়েও আমার ভীষণ সন্দেহ আছে। বস্তুত বাঙালি আজকাল যেভাবে রুচিহীনতার সাগরে ডুবে চলেছে, তাতে ঋতুপর্ণ ঘোষ না দেখলে তাদের বিশেষ ক্ষতি হবার কথা নয়। মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে শুনে নাল গড়ায়, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সেটে বাংলা ডায়লগ দেখে তাদের শীৎকার হয়... সব মিলিয়ে এই নিম্নমেধার বাঙালি দর্শকের কথা ভেবে যারা যারা সিনেমা বানাননি তাদের লিস্টে ঋতুপর্ণ খুব উপরের দিকে থাকবেন। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক করার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ের পরে যদি ঋতুপর্ণ ঘোষের নাম নেওয়া যায় তাতে খুব একটা সমস্যা হবার কথা নয়। যাক গে এ সব কথা। আমার যেটা মনে হয়েছে সেটা সবার নাও মনে হতে পারে। সংস্কৃতির সংজ্ঞা আজকাল বদলে যাচ্ছে। তবে আমার ব্যক্তিগত পছন্দের হিসেবে ঋতুপর্ণের যে পাঁচটা সিনেমা না দেখলে জীবন বৃথা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করা যাক...

১) চোখের বালি
রবি ঠাকুর নেকু পুষু- এই কনসেপ্ট থেকে বেরিয়েছে এক্কেবারে রকেটের গতিতে। আমাদের সিনেমায় নায়ক নায়িকারা পেচ্ছাপ পায়খানা করে না, তাদের পিরিয়ড হয় না। সেগুলি দেখালেই হই হই রব উঠে যায়। উনিশে এপ্রিলে প্রসেনজিতের পেচ্ছাপ করা দেখানো নিয়ে সিকিভাগ হই হই হয় নি যেটা বিনোদিনীর পিরিয়ড দেখানো নিয়ে হয়েছে। হলের মধ্যে অনেক মাসি পিসির ঈষৎ চাপা স্বরে “ঈশ একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না?” শুনে মজা লাগছিল। মূল গল্পটিকে নিজের মত করে ঢেলে সাজিয়েছেন ঋতুপর্ণ। চুম্বন দৃশ্যগুলি যদিও ভারতীয় মতে “ধরি মাছ না ছুই পানি” হয়ে গেছে তবুও বেশ সাহসী। টোটা রায়চৌধুরী যদিও বাকিদের পাঁচ গোলে হারিয়েছেন এই সিনেমায়। এরকম একজন সম্ভাবনাময় অভিনেতাকে কেন পরবর্তীকালে সেভাবে ব্যবহার করা হল না সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন।

২) দোসর
সাদাকালো। রঙিন নয় মোটেও। সম্পর্ক আর সেগুলিকে ঘিরে সাপের মত জড়িয়ে যাওয়া মানুষের গল্প। পরিণত বললে কম বলা হবে। প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের চিরাচরিত ইমেজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা, যার কৃতিত্ব পুরোটাই বোধহয় প্রাপ্য ঋতুপর্ণ ঘোষের। কঙ্কনার নীরব অভিনয়।অথবা না-অভিনয়। একেকটা সম্পর্ক কিংবা সম্পর্ক থেকে সম্পর্কে বিচরণ, বিশ্বাসহীনতা... একটা আকস্মিক দুর্ঘটনার পরে সব যখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে শুরু করে, কি হয় তখন এক একটা পরিবারে? স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে হোটেলে রাত কাটাচ্ছে, পুরুষত্বহীন পৌরুষত্ব সেটা কিভাবে নেবে? শঙ্কর চক্রবর্তী যথাযথ দেখিয়েছেন। ঋতুপর্ণ সহজ করে বলতে পারতেন জটিল সম্পর্কের কথা। শুনতে সহজ, দেখতে সহজ, অথচ আঘাতটা লাগত অতলে।

৩) তিতলি
ওই যে বললাম। লোকটি মানব সম্পর্ক যেভাবে দেখিয়েছেন অত সহজ নয় ব্যাপারটা। অথচ শুরুটা হয়েছিল কি চমৎকার ভাবে। শেষটাও হল চমৎকার। কিন্তু কখন যেন কতকিছু বলে গেল। “মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে তিস্তা”... অপর্ণা-কঙ্কণার একটা অদ্ভুত বৈপরীত্য আছে এই সিনেমায়। মা-মেয়েকে এক ফ্রেমে এনে যেভাবে ঋতুপর্ণ তাঁদের ব্যবহার করেছেন তা অনবদ্য। তবে আর সব কিছুর মত এই ছবিও সম্পর্কের পরিণত গল্প বলেছে। সুতোর ওপরে হেঁটে গিয়েও অনায়াসে ভারসাম্য রক্ষা করেছেন পরিচালক।

৪) শুভ মহরত
শর্মিলা ঠাকুর, রাখি, নন্দিতা দাস। শুধু এই তিনজনের জন্য সিনেমাটা বারবার দেখা যায়। গল্পের বাঁক, রহস্য গল্প বলে যাওয়া... সব কিছুর উপরে। ঋতুপর্ণের ছবিতে মেয়েদের গভীরতা, তাদের মনোবিশ্লেষণ যেভাবে দেখা যায় সেটা আলাদা করে উল্লেখের দাবী রাখে। আগাথা ক্রিস্টির “দ্য মিরর ক্রাকড ফ্রম সাইড টু সাইড” গল্পকে তাঁর নিজের মত করে বলেছেন। গল্পের সাথে যুক্ত হয়েছে মল্লিকা সেনের (নন্দিতা দাস) নারী মন,পদ্মিনী চৌধুরী শর্মিলার রহস্যে ঘেরা উপস্থিতি আর সারাদিন উল বুনে যাওয়া মিস মারপল নীরব কিন্তু বাঙময় রাখি।

৫) আরেকটি প্রেমের গল্প
সিনেমাটি ঋতুপর্ণ ঘোষের নয়। কৌশিক গাঙ্গুলির। কিন্তু ঋতুপর্ণ ঘোষের পাঁচটি সিনেমা যেগুলি না দেখলে জীবন বৃথা সেই তালিকায় এই সিনেমাটি না থাকলে যে তালিকাটি সম্পূর্ণ হবার নয়! একটা অদ্ভুত গল্প আর তার সাথে কি ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি ঋতুপর্ণর। কৌশিক গাঙ্গুলি এই সিনেমায় ঋতুপর্ণের স্টান্স নিয়েছেন। এবং অবলীলায় ছক্কা মেরেছেন সে কথা বলাই বাহুল্য।
পরিশেষে- কি হল? চশমার নীচ দিয়ে তাকিয়ে বলছেন “সব চরিত্র কাল্পনিক”, “অন্তরমহল”, “রেইনকোট”, “হীরের আংটি”, “চিত্রাঙ্গদা”, “আবহমান”-এর কথা কে বলবে? বাহ... যাক, আশ্বস্ত হলুম বাঙালি এখনও বেঁচে আছে ভেবে। আবার তামিল রিমেকের পেছনে ছোটার আগে এগুলি আরেকবার দেখে নিন দাদারা...

আরও পড়ুন

ইডেনের নয়

তন্ময় মুখার্জী

১।
নাইট-ভায়াদের খেলা রাত আটটা থেকে। সাড়ে ছটা থেকে এসপ্ল্যানেড টু ইডেন চোক্ড। আধ-বেগুনী জামার ছড়াছড়ি। আমি এমনিতে ফেসবুক আড্ডায় টেস্ট ভক্ত হলেও, ফ্রি টিকিট পেলে আই-পি-এলো কে মাথায় তুলে, গামছা পরে, কোমর দুলিয়ে নাচতে পারি। আমাদের কৃষ্টি-ফ্রিষ্টি স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউট নিয়ে ফ্রুট জুস খাচ্ছে। এখন হাভাতেপনার সময়।

২।
মরা হাতি লাখ টাকা কি না কে জানে, তবে ইডেনে স্টেডিয়াম এলাকাতে মরা এগরোলের দাম চল্লিশ টাকা। আমরা বেওকুফ জাতি; যেখানে সেখানে থুতু ফেলি।

আরও পড়ুন

পাহাড়ের ছন্দা

পিয়ালী চক্রবর্ত্তী

দিনটা ১৮ই মে, ২০১৩। ভোর সাড়ে ছটায় এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখল সেই মেয়েটি, পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার। আমরা অনেকেই কল্পনা করি কেমন হবে সেই দৃশ্য? পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু জায়গা থেকে কেমন লাগে নিচের পৃথিবীটা? হাওড়ার কোনা’র ছন্দা গায়েনের কাছে আরেকবার উত্তর পেল গোটা পৃথিবী। কিন্তু নিচের পৃথিবীটা যতখানি শান্ত, স্থির লাগে ওপর থেকে, বাস্তবে কি সত্যিই তাই? এভারেস্টের থেকেও বেশি চড়াই উতরাই পেরিয়ে স্বপ্ন দেখার লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়েছে এই বাঙালী মেয়েটাকে । ও

আরও পড়ুন

২০১৪ নির্বাচনে একজন সাধারণ নাগরিক কী ভাবছেন

ঋজু ঘোষ

১৯ মে, ২০১৪, ব্যাঙ্গালোর
আমি সাধারণ মানুষের দলে পড়ি। আমি ভারতীয় এবং নাগরিক হিসাবে আমার কিছু চিন্তাভাবনা আছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টী সর্বসম্মতভাবে জয়ী হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তারাই হয়ত সরকার গড়বেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে। এখন অনেকেই মনে করছেন এই মোদী সরকার এলে ভারতবর্ষ কি তার ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের কারুরই জানা নেই। এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক কারণ, বিজেপি তাদের চিরকাল হিন্দুবাদী বলে প্রচার করেছে,

আরও পড়ুন

১৬ তারিখের রাতে

দীপ্তি গুহ রায়

কি যে বলব। নমো জেতার পর এত এত রিঅ্যাকশান দেখে আমার মজা লাগছিল। আমি আর আমার বয়ফ্রেন্ড স্যাবি দুজনেই নমোর ফ্যান। প্রথমে অবশ্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ছিলাম। দিল্লিতে যেভাবে জিতেছিলেন বেশ ইম্প্রেসিভ লেগেছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল ভদ্রলোক বেজায় মিডিয়াচাটা। কথায় কথায় ধর্না করে শেষের দিকে ভরসা হারিয়ে ফেললেন। স্যাবি বা সব্যসাচী অবশ্য শুরু থেকেই মোদীর ভক্ত। গুজরাটে নাকি দারুন কাজ হচ্ছে এটসেট্রা। ও আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ফ্যান ছিল। কিন্তু একই ব্যাপার। ভদ্

আরও পড়ুন

মোদী-মডেলে যাঁরা আস্থা রাখলেন...

সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী

মোদী-মডেলে যাঁরা আস্থা রাখলেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি জরুরী কথাঃ
মোদী-জমানায় গুজরাতের ‘উন্নয়ন’! মানব উন্নয়নের তথ্য কি বলছে?


২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদ-প্রার্থী তথা দেশের বর্তমান ভাবী প্রধানমন্ত্রী শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র মোদী তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের প্রাথমিক পর্যায়ে যে বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা হল তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব-কালে গুজরাতে যে ‘উন্নয়ন-বন্যা’ বয়েছে; তা সর্বভারতীয়

আরও পড়ুন

বাল নরেন্দ্র

অভিজিৎ কুণ্ডু

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪-র আগে লেখা।

বাল নরেন্দ্র।
অনেকটা অমর চিত্রকথা কায়দায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রীপদ প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির কিশোরবেলার চিত্রকথা। গ্রাফিক জীবন কথা ‘বাল নরেন্দ্র’ একটি কমিক বই। অমর চিত্রকথা চার দশকেরও বেশী সময় ধরে জনমানসে হৃদয়গ্রাহ্য করে তুলেছে ভুলে যাওয়া অনেক রূপকথা। অনেক রঙিন আর সহজ করে সনাতন ভারতবর্ষের উচ্চবর্গীয় গৌরবগাথা সাম্প্রতিক জনমানসে গেঁথে দেওয়াই এর সাফল্য।

কমিক বই ‘বাল নরেন্দ্র’ রঙিন পাতায়

আরও পড়ুন

বোঝার চেষ্টা বেশি জরুরি

যশোধরা রায়চৌধুরী

শেষ অব্দি কলমটা ধরতেই হল।
কেননা ফেসবুক জনতা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ প্রো মোদি, আশার স্বপ্ন দেখছেন ভারত সম্পর্কে, কেউ কেউ ভয়াবহ অ্যান্টি মোদি, কাঁদছেন, হায় হায় করছেন। দেশ এবার গোল্লায় গেল।
দেশ উন্নতির চরমে পৌঁছবে না গোল্লায় যাবে? কোনটা? এই বিষয়ে আমার যে মত টুকরো টুকরো ভাবে আমি নানা স্ট্যাটাসে তুলে ধরছিলাম, তার সঙ্গে আরো কিছু কথা মিলিয়ে এই লেখাটা লিখলাম।
১। আমি এবার নোটায় ভোট দিয়েছিলাম। কেননা নোটায় ভোট দেওয়া এইবারই প্রথম সম্ভব হয়েছিল।
আজ আনন্দবা

আরও পড়ুন

লালবর্ণ শৃগাল

প্রকল্প ভট্টাচার্য

একদিন একটি শৃগাল কুকুরদের তাড়া খাইয়া পলাইতে গিয়া একটি চৌবাচ্চার ভিতর পড়িয়া গেল। সেই চৌবাচ্চায় কেহ লাল রঙ গুলিয়াছিল। তাহাতে পড়িয়া শৃগালটি লালবর্ণ হইয়া গেল।
তাহার লালবর্ণ দেখিয়া অরণ্যের অন্য জীবজন্তু ভয় পাইয়া গেল। স্বয়ং পশুরাজকেও ভয় পাইতে দেখিয়া ধূর্ত শৃগাল বুঝিল যে এ হেন রক্তিম বর্ণের সাহায্যে সে সমস্ত অরণ্যবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম হইবে। সে অবিলম্বে নিজেকে তাহাদিগের নেতা ঘোষণা করিল এবং নূতন নিয়ম কায়েম করিল। সেটি হইল, কোনও প্রাণী কোনও শিক

আরও পড়ুন

ভুলে যাওয়া রং ভলোবাসা যায় না

অঙ্কুর কুণ্ডু

স্বভাবতই মিলে যায় ২০১৪ থেকে আগামী কয়েক বছরের জন্য লোকসভার সংসদে অধিকাংশ রং , বিজয়ী দলের প্রতীকী রং এবং দেশের দ্বাদশতম হবু প্রধানমন্ত্রীর প্রায়শই পরিধেয় পোশাকের রং –গেরুয়া ৷ যদ ইন্টেলেকচ্যূয়ালি ভাবি , তবে গেরুয়া হল ত্যাগের প্রতীক , সন্ন্যাসের রং , সর্বোপরি প্রণম্য রং ; এবং যদি আঁতলামি করি , তবে শ্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারা উচ্চারিত ‘নমো’র অপর নামও কিন্তু ‘প্রণাম’ ৷ অতএব আপাতদৃষ্টিতে অঙ্কটা ‘(a+b)*(a+b)=a*a+2ab+b*b’ মিলে যাচ্ছে এবং যোগ্য হাতেই যাচ্ছে দেশের প্রধানমন্ত

আরও পড়ুন

১৬ ই মে, মোদি দিবস

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

হাওয়াটা দু’বছর আগেই বইতে শুরু করেছিল। এমনিতেই এই দীর্ঘমেয়াদী শাসনকালে ‘অ্যাণ্টি ইনকাম্বেন্সি’ বলে একটা শব্দ জন্ম নেয়, যা নির্বাচনের আগে থেকেই ধুনোর ধোঁয়ার মত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার ওপর বিদায়ী কংগ্রেসী সরকার (ইউ পি এ নামটা খুব ছেঁদো মনে হয়, কারণ অন্য জোট শরিকরা নিজের মন্ত্রীপদ গুছিয়েই চুপ থেকেছেন) এমন কিছু কাণ্ড বাধিয়ে বসল, এবং পারিপার্শিক আরও সব কিছু... ওই হাওয়াটাই যেন ক্রমে একটা ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ল। গত বছরও, রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর একটা আস্থা ছি

আরও পড়ুন

আব কি বার, মোদী সরকার...

অতনু প্রজ্ঞান বন্দ্যোপাধ্যায়

আশপাশে এখন দুটো শব্দ ঘোরাফেরা করছে। কেউ বলছে, এই দেশ এখন "আমাদের"। আমরাই আসলি জাতীয়তাবাদী। কারন, আমরাই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ।
আরেকদল বলছে, একটা "সাম্প্রদায়িক" দল এখন পাহাড়চুড়ায়। গেষ্টাপো বাহিনী নিয়ে মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে ছুট্টে এল বলে। আগামী দিনে সাবধান বন্ধুরা... !!!

আমি কি করব? এই আমি, রাজনীতি নিয়ে যার ততটা আগ্রহই নেই। রাজনীতি মানে যার কাছে মানুষের কিংবা সমাজের 'ভালো' করা ছাড়া আর কিছু নয়। জানি এ অতিসরলীকরন, কিন্তু এর বাইরে কিছু ভাবতে মন ও মাথ

আরও পড়ুন

আমার আপত্তি আছে

সৌরাংশু

আমার আপত্তি আছে ধর্মের নামে রাজনীতিতে । কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় সত্তর বছর পরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তফসিলি জাতি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ করতে হচ্ছে বলেও আমার আপত্তি আছে। সংরক্ষণের নামে বিভেদ না বাড়িয়ে পিছিয়ে পড়া জাতি উপজাতিদের উন্নয়নের দিকে একটু নজর দিতে পারলে বোধহয় আমার আপত্তি থাকত না।

আমার আপত্তি আছে আপাত বামপন্থার নামে ১.৬ টন এসির সুমেদুর হাওয়ায় চামড়ায় মোড়া সোফায় বসে আলোআঁধারির খেলায় সিভ্যাস রিগালের পেয়ালায় সুর তুলে এনআরআইদের কম্যুনিজ

আরও পড়ুন

নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া-২

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়

" পক পক পকাত” আর “ ড্রিপ ড্রিপ”... শব্দ দুটো কোথা থেকে এলো বোজা যাচ্ছে না ঠিক... কার ফাটলো? কি পরছে টোপীয়ে?... (কি ফাটলো, এই প্রশ্ন টা করা অবান্তর...)... নমো নমো নমো ... সুন্দরী মম ... কেলো ... ইভ চিটিংএর কেস ... লেহ পাগ্লু ড্যাঁস ড্যাঁস ড্যাঁস ... চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচো যেথা শির ... এ.র.রহমান গাওয়ার পর থেকে কিছু বাঙালি গানটা এই উচ্চারণেই গায় ... আলিমুদ্দিনের ব্যাকডোরে ধুলো জমার চ্যাঁস’ই নেই ... সব্বাই ওটাই বেবার কোচ্চে ... যে সব দোকান্দার কিছু কেজি হলেও লাল আবির তুলে ছিলো তাদের বউ রা হে

আরও পড়ুন

দুটি কার্টুন

রাজীব মুখোপাধ্যায়

 

  • nirbachani protikriya
  • nirbachani protikriya

আরও পড়ুন

গণতন্ত্রের চরম অপমান?

আবেশ কুমার দাস

প্রতিটি ব্যক্তিমানুষেরই যার যার মতো নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকে। আমিও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নই। কিন্তু আমাদের দেশের সামগ্রিক পটভূমিতেই এই রাজনৈতিক বিশ্বাসটুকু আদপে দলীয় রাজনৈতিক আনুগত্যের নামান্তর। তাই এ দেশের সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলেরই ভোটব্যাঙ্ক থাকে। আমাদের রাজ্যের প্রেক্ষিতেই যেমন বুদ্ধিজীবী মাত্রেই বামপন্থী, শহরের সাবেকি পাড়ার বাসিন্দা মাত্রেই কংগ্রেসি বা বড়বাজারের অবাঙালি ব্যবসায়ী মাত্রেই বিজেপি সমর্থক বলে ছকে নেওয়াটা কেন য

আরও পড়ুন

গণতন্ত্রের জন্যে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক?

সরোজ দরবার

সোস্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে কে যেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বয়ানে মস্করা করে লিখেছেন, তাঁর ফাইভ মিস্টেক অফ লাইফ হল, ২জি, ৩জি, সোনিয়াজি, রাহুলজি, আর জিজাজি। যতই মস্করা হোক, ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের এহেন নির্মল ব্যাখ্যা আর নেই। দীর্ঘদিন প্রসাসনের অন্দরমহলে বিচরণ করা এবং তথাকথিত ‘অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ অবশ্য সিঁদুরে মেঘ বহুদিন আগেই দেখেছিলেন। শুধু সেই আশঙ্কা মেঘের রঙের ৩৩৪ ছটা আজ হীরাবেন মোদীর কপালে পরিয়ে দিলেন এই যা।
সত্যি বলতে এমন সাজে

আরও পড়ুন

ঢাকা থেকে

অমিত বান্ধব

উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবার বা আরএসএস’র রাজনৈতিক উইং হচ্ছে বিজেপি (আরেকটি হচ্ছে শিবসেনা)। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (কংগ্রেসের পরে)। এ দলটি ভারতে সব সময়ই মুসলিম নিধনে অগ্রগামী। অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গন ও তার পরবর্তী দাঙ্গা কিংবা গুজরাট দাঙ্গার মত বড় দাঙ্গাগুলো তাদের ক্ষমতার আমলেই ঘটনো হয়েছিল।
আমার নিজের ব্যক্তিগত মতামতের প্রেক্ষিতে ,ভারতের বিজেপি আর এদেশের জামায়াত ইসলামীর মধ্যে বেসিক কোনও পার

আরও পড়ুন

১৬.০৫.২০১৪

অনুপম মুখোপাধ্যায়

যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই- করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজও মানুষের প্রতি,
এখনও যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।


একটা কথা প্রথমেই বলি, আমি মনে করি না আজ সবচেয়ে খারাপ সময় এসেছে। আমি অবিশ্যি সময় বলতে এখানে পরিসর বললাম। সময়ে আমার আস্থা নেই। উপরের কবিতাটা পড়লেই বুঝবেন, খারাপ সময়টা আবহমান চলছে। কোনো স্বর্ণ

আরও পড়ুন

নির্বাচন ফল পরবর্তী প্রতিক্রিয়া-১

সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘুম ভাঙল এক প্রচন্ড ভয়ে...বাড়িতে টি।ভি র শব্দ , আজ-ই সেই দিন। মোদী তবে এসে গেলেন...? এখন অবশ্য আর আশঙ্কার কোনো জায়গা নেই। এসেই গেছেন। আমার স্মৃতি অল্প দিনের...তার মধ্যে আমার কাছে আজ ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ের দিন। আরো ভয় পেলাম, যখন টি।ভি তে বারবার দেখাচ্ছে যে ম্যাজিক নাম্বারের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে বি জে পি র আসন। তবে কী ধর্মের অন্ধতা কাটেনি? তবে কী মুখে যতই বলি...আজ ও সব্বাই কোনো না কোনো ধর্মে belong করি? ধর্ম বলতে আজ ও religion বুঝি? নইলে তো এটা হতে পারত না।

ভারত বর্ষের

আরও পড়ুন