কত্তা রিলোডেড (পর্ব তিন)

ইন্দ্রনীল বক্সী

 

মাঝে বেশকিছুদিন আমাদের মেজ কত্তার সঙ্গে দেখা হয়নি , খবর ছিল প্রবাসে রয়েছেন । তা ফিরেছেন শুনে একঠোঙা গরম ফুলুরি নিয়ে হাজির হলাম কত্তার বাড়ির রোয়াকে সকাল সকাল । কে জানে প্রবাস থেকে ফিরে কিরকম মেজাজ থাকে !
যা ভেবেছিলাম ! তেলেভাজা দেখেই নাক সিঁটকে বলে উঠল
“ উফ তোদের নিয়ে পারা যায়না বুসলি ! ... এই সব আনহাইজেনিক ,ত্যালতেলে বিষ মাল গুলান এখনও তোরা সাবড়ে চলসিস অম্লানবদনে ... আন্ডারডেভেলপ কান্ট্রির এই সমস্যা...”
“সেকি গো ! তেলেভাজা তোমার খুব প্রিয় বলেই তো...” হাত তুলে থামিয়ে দিল আমায় কত্তা ।
“ তেলেভাজা অপ্রিয় এইডা তোরে কে বইল্লো !...তেল মানে তো বুঝস ঐ সরিষার তৈল ... তোদের আই কিউয়ের দৌড় জানা আসে ...”
“তাহলে ! ...কি তেল ?”
“ওরে গন্ডমুর্খ ...অলিভ- অলিভ অয়েল , ...দেখস আবার অলিভতেল বলিস না ! ইজ্জত থাকব না জিনিসটার ...আহা ! কি জিনিস ...এই জন্নেই বিলেতে লোকেরা এত এগিয়ে ...”
একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম , মনটাও মুষড়ে গেল ...কত সাধ করে ফুলুরিগুলো এনেছিলাম প্যালার দোকান থেকে ! ...অলিভের ফুলুরি ঠিক কেমন খেতে লাগবে কল্পনা করার চেষ্টার ফাঁকে এটুকু টের পেলাম যে প্রবাসের হাওয়ায় কত্তার খাদ্যরুচী কিঞ্চিৎ পরিবর্তীত হলেও মেজাজ সেই একই রয়েছে ...
কত্তা স্যাট করে পকেট থেকে সাদা টিস্যুপেপার বের করল । ফুলুরিগুলোকে বেশ করে সেই টিস্যু পেপারে মুড়িয়ে চেপে ধরল ! কি করছে বুঝে ওঠার আগেই ভেসে এলো ব্যাখা –
“বুসলি , এদ্দিন পরে তুই এলি ভালোবেসে কটা ফুলুরি নিয়ে সেকি আর ফেলে দিতে পারি ! তাই এগুলানকে একটু স্টেরিলাইজ করতেসি ...ডিওয়েলিফিকেসানও বলতে পারস ...তৈলমুক্তি ঘটাচ্ছি ব্যাটাদের ।”
ব্যাপারটা এবার আমার মাথায় ঢুকল , নেমন্তন্য বাড়িতে মাঝে সাঝে দেখেছি বটে ! আমাদের এদেশী সাহেব মেমরা এরকম টিস্যু পেপার দিয়ে গা মুছিয়ে দিচ্ছেন রাধাবল্লভির বা নানের !
পুজো পুজো ভাব শরতের অভাব !
কিছুক্ষনের মধ্যেই ফুলুরি সৎকার পর্ব শেষ হলে আমি আবার কত্তাকে খেই ধরিয়ে দিই ...
“ তা কত্তা , এবার পুজোয় কি প্ল্যান , শহরেই থাকবে নাকি বাইরে ?”
“ পুজো ! ধুর ... পুজোর আমেজই নাই আর ... ”
“সেকি ... তা বললে হয় ! সবাইতো প্ল্যান প্রোগ্রাম করতে লেগে গেছে সেই কবে থেকে ...যাই বলো বাঙালির সেরা উৎসব বলে কথা।”
“ ছোঃ ... সেতো ক্যালেন্ডারের হিসাবে হুজুগ... কোথায় সেই আশ্বিণ , কোথায় শরতের আমেজ ...কিস্যু নাই ...শুধু পেপারে আর টিভির বিজ্ঞাপনে জামাকাপড় আর পাতা জোড়া জুতোর ছবি তার সঙ্গে যোগ হইসে আজকাল সব রকম জিনিসেরই বিক্রির গাজর ঝোলানোর কম্পিটিশান ... ”
“ তা বটে , এই সময়ে একটা বায়ার স্প্রে হয় বিপুল হারে ... কনজুউমারিজমের যুগ ...”
“ হ...তাই কইতাসি ...পুজো মানে ট্যাঁক হাল্কা ...হ্যাংলার মতো কেনাকাটা ...এখন আবার রেস্তোরায় খাওন-দাওনের বেশ চল হইসে ...”
“ কিন্তু মন্ডপসজ্জা ,লাইট ...প্রতিমা ... এসবেরও একটা আর্টিস্টিক দিক রয়েছে ...”
“ ভাল কইসিস , পরের ধনে পোদ্দারি যারে কয় ! ...তিন কোটি –পাঁচ কোটির পুজো ...ভাবা যায় !”
“ তা যাই বলো , পুজো এলেই মন কেমন করে ওঠে কিন্তু আজও ... সেই ছোটদের নতুন জামা-কাপড় , বড়দের আড্ডা , সারদসংখ্যা ...”
“ হ ঐ সারদসংখ্যার কথা আর কওস না ... একটা হাউসই হাফ ডজন সারদসংখ্যা বের করত্যাছে আর বাকিরাও একপিস কইরা কোনমতে ...একসময় বছরের সেরা সাহিত্যের সংগ্রহ হইত এগুলান ,আর এহন !”
“ কেন এখন কি ! ... সেরা নয় বলছ?”
“ কে বিচার করবে ! ...সবাই তো লিখতে ব্যাস্ত ...নাহয় বিজ্ঞাপনে ডুবতে ... পড়নের লগে পাঠক কই ?...এবার মজুরী লাগব লেখা পড়ানোর লগে ...হা হা হা...”
“ এটা মানতে পারছিনা কত্তা ! ...পাঠক এখনও রয়েছে ...লোকে এখনও সারদসংখ্যা হাতে পেতে মুখিয়ে থাকে ...আগে আর তেমন কিছু ছিল না , এখন অবসর বিনোদনের অনেককিছু রয়েছে তাই হয়তো ...”
“ ওইডাই ...বিনোদন বিনোদন ... এন্টারটেইনমেন্ট ... সবেতেই এন্টারটেইন হতে হইব ... নাহলেই অবসাদ যে ...ক দিকি সাহিত্য কি শুধুই বিনোদনের বস্তু ?”

সম্পাদক সম্পাদক... তোমার বাড়ি যাব
কথাবার্তা বেশ একটা তাত্ত্বিক দিকে মোড় নিচ্ছে বুঝতে পারছি তাই একটু কায়দা করে অন্যদিকে আলোচনা নিয়ে যাওয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করতে লাগলাম।
“ তা তুমিও তো জানি লেখোটেখো ! ... এবারে কোথাও কিছু পাঠালে নাকি ?”
“ হুম ... সে গুড়েও বালি বুসলি ”
“মানে !”
“ পত্রিকা সম্পাদক হলো গিয়া আজকাল এক ডেঞ্জারাস ইগোযুক্ত প্রজাতির নাম ... হেব্বী মেজাজ তেনাদের আগেও কেউ কেউ এরকম ছিল বলে শুনসি , কিন্তু এরা একদম ওই যারে কয় -এক্সক্লুসিভ !”
“ কেন কেন ! এরকম ধারনার কারণ !” আমার মনে কেন জানি ‘কাস্টিং কাউচ’এর বদ খেয়াল চলে এল আচমকা !
“ হব না ... এক সম্পাদক আর ৫০ জন লিখিয়ে ... ১০০ জনও হতি পারে !... এই এত্তজনের লেখার ছাপামুখের দায়ীত্ব নিয়েসেন সেকি কম কতা !”
“ সেই তো , সম্পাদনা বেশ চাপের কাজ ,খুবই দায়ীত্বের...”
“ ঠিক , তাই লেখা পাঠালে দুই তিন মাস পরেও প্রাপ্তি সংবাদটুকু দেওয়ার সময় হয়না তেনাদের ... বার দুই গুঁতালে তবে কয় আরও মাস দুই পর লেখাটি রাখার ‘চিন্তা’ করত্যাছেন ! ... কি করন যায় ...এত্ত এত্ত লেখা জমা পইরা রয়েসে ...”
“ তা বটে ...এত লেখা, এত লেখক ... কেন যে সবাই চাইছে লিখতে কে জানে !...কে মাথার দিব্যি দিয়েছে লেখার ?... এত সব লেখাতো সেই সম্পাদককেই সামলাতে হয় !”
“ সে তো হবই ! ...আর ক দিহি সম্পাদককেই কোন হালায় মাথার দিব্যি দিয়েসে সম্পাদক হওন লগে ?”
“ না তাও নয়...মানে...”
“ আজকাল আবার একটা রেওয়াজ হয়েসে তেনাদের ... ‘বানান’ নিয়ে তেনারা বেজায় বিরক্ত , এবং পাবলিকলি ধমক-ধামকও দিতেছেন লেখককুলকে ! ... অনেকেই নাকি কোথায় ‘র’ হবে আর কোথায় “ড়’ হবে জানেনই না ! ... ‘আমরা’ লিখতে ‘আমড়া’ লিখসে ! ... দাঁড়ি , কমারও গোলমাল !...”
“ঠিকই তো ! গুচ্ছের বানানভুল হলে কি করবে সম্পাদক ...তাকেই তো সামলাতে হয় ..বানানভুল নিশ্চয়ই লেখকের জন্মগত অধিকার নয়!”
“ ঠিক , আবার ক দিকি তুই কি কইরা সিওর হইতেছিস ৩০ বছর আগেও যারা লিখেসে , বেশ নামী দামী, তাদেরও বানান ভুল হইতো না !...হইতো অজস্র হইতো ,অনেক গল্প আসে ,কিন্তু তহন সম্পাদকেরা এরকম বিলা কইরত না পাবলিকলি ! এবং তহন পত্রিকা-প্রকাশকের দপ্তরে একখান প্রজাতি সি্লো, যা অধুনা লুপ্ত ...তাহাদের নাম ‘প্রুফ রিডার’ ...তার কাজই সিলো লেখার এইসব ত্রুটি শুইধর্যা্ নেওয়া , এখন সম্পাদকই তা কইরা থাকে সাধারণত, বিশেষ কইরা ছোট পত্রিকায় –প্রকাশনায় ...ব্যাস চাপের ঠেলায় এফ বি তে লমবা পোস্ট ! একজন তো প্রশ্নই তুইলা দিল! বানান ভুল করে যারা তাদের লেখার ‘অধিকার’ আসে কি না !...বোঝো ! .. তা বাবুদের এত্ত অসুবিধা যহন ,কে বলসে সম্পাদনা কইরত্যা ? সম্পাদনা কইরত্যা গ্যালে এগুলানও হজম করতে লাগব ...নইলে বাংলার টিউশান দাও গিয়া !”
“ এটা তুমি কি বলছ ? সম্পাদক যা খুশি লেখা ছাপবে তা বলে !”
“ সেটা কে কইসে ! ... বাছাই কজন করে সে পত্রিকা দেখলে বোঝন যায় ... আর এইডাই বা কি কথা! ছদিনের লেখক হয়ে গেলেন দুদিনের সম্পাদক , সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে , কিস্যু করার নেই ... চলো ‘সাহিত্য’ করি ! ...সেও দেখি লম্বা চওড়া পোস্টাচ্ছে লেখকদের হ্যাটা কইরা ‘বানান’ নিইয়ে ,বেশ একটা ‘মালিক মালিক’ ভাব তেনাদের...”
“ তা তোমায় কেউ কিছু বলেছে নাকি ?”
“ আলবাত বলেছে ! ... একাধারে সবাইকে যহন , তখন আমি বাদ যামু কি কইরা ? আমারও তো ইয়ে ...বানান ভুল হয়ই । এর লগে একডা গপ্পো বলি শোন , একবার এক জব্বর ব্যাটসম্যান ব্যাট করত্যেছে তুমুল , আম্পায়ার মশয় হঠাৎ কইরা এল বি দিয়া দিল তারে , ব্যাটসম্যান তো খইচ্চা আগুন !...সে করল কি ধীরে আম্পায়ারের কানের কাসে গিয়া কইল ...এই যে বাহাদুর , দর্শক আমার খেলা দেইখত্যা আইসছে , তোমার আম্পাযারগিরি নয় ।.....বল কি বুসলি ? ”
গল্পটা বেশ মজার হলেও এক্ষেত্রে কতটা খাটে সে বিষয়ে সন্দেহ আছে ,তবে ব্যাপারটা বুঝলাম জলের মত পরিষ্কার ! কত্তাকে কেউ কড়কেছে , কত্তার আঁতে বেশ লেগেছে বোঝাই যাচ্ছে । এইসব আপতকালীন রাগ-অনুরাগের ব্যাপার ধরে নিয়ে আর বেশী ঘাঁটানো ঠিক হবে না বুঝতে পারলাম , আরও বেফাঁস কিছু বলে ফেলার সম্ভাবনা প্রবল কত্তার দিক থেকে , যদিও কাছাকাছি কর্তা বর্ণিত ‘সম্পাদক’ নামের ডেঞ্জারাস ইগোযুক্ত প্রজাতির কেউ নেই ,তবুও সাবধানের মার নেই ।
জাতীয়তাবাদের কলকব্জা vs কাশ্মীরিয়াতের নাটবল্টূ
“ওসব ছাড়ো দেখি , দেশের হাল কি বুঝছ ? আবার তো কাশ্মীরে আগুন জ্বলছে!”
“ হুম ...ব্যাপার খুব সিরিয়াস ... কিন্তু ফোঁড়াকে জিইয়ে রাখলে মাঝে মাঝে টনটনাবেই ...ফেটেও যেতি পারে !”
আবার হেঁয়ালি ! এই হচ্ছে কত্তার মুশকিল ...কিছু না বুঝে অগত্যা জিজ্ঞেস করতে হল...
“ কাশ্মীরের সঙ্গে ফোঁড়া !! ...কি বলছ কিছুই বুঝছি না ...”
“ বুসবিও না , তোরা তো ভুগলে একটাই ম্যাপ দেইখ্যা আসছস ! আচ্ছা ক দেখি ...ইতিহাসে ভারতের ম্যাপে কাশ্মীর ঠিক কোথায় ? ... ছিলো না ...ভারতের সেইখানে একখান ন্যাড়া মাথার ম্যাপই পাবি ...”
“ মানে ? ...কাশ্মীর নিয়েই তো ভারতের ম্যাপ ! তাই তো দেখছি ,পড়েছি...!”
“ ধুর হালায় ... ভারতটা ছিল কবে ! ভারত হলো গিয়া একটা ধারণা , তুই কি বলিস নিজেকে –বাঙালি , যেমন কইরা একটা তামিলনাডুর লোক নিজেকে গর্বিত তামিল বলে , দেখস নাই ব্যাঙ্গলুরুর দাঙ্গা ! ... চিরকালই তাই সিলো , নানা প্রদেশ , তাদের নানা সেন্টি ,নানা হুজুগ ,আর সেইগুলান জোড়াতালি সেলাই কইরা আমাগো ভারতবর্ষ ,আর তাতে ‘ভারত’এর সেন্টিমেন্টই চাপ খাইয়া যায়! ওই এক ক্রিকেট ম্যাচে আর পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ‘দেশপ্রেম’র টেম্পরারি টপ-আপ দেখন যায় !... কি বুসলি ?
আমি প্রবল প্রতিবাদে মাথা নাড়লাম স্বাভাবিক ভাবেই । বলে কি কত্তা ! ভারত ছিলই না ! ...
“ কি যাতা বলছ ! তুমিও তো সেই দেশদ্রোহীদের মতো কথা বলছ ,নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর...ঐ সুডো সেকু আঁতেলদের মতো ! ...”
“ হঃ দেশদ্রোহী ! বটেই তো ... আর তোরা যারা ‘কাশ্মীর অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ’ বইলা ১০০ পাবলিক মারিস তারা সব দেশভক্ত ! আর ঐ ‘সুডোসেকু” পাবলিকদের কতা আর কওস না , মোল্লার দৌড় যেন কত্তদূর ! ... নিজেদের ল্যাজে পা না পড়লে তাঁরা সাধারনত জাগেন না , আর যেকোনো কিছুর উলটো বলাটাই ওই যারে কয়... ইস্টাইল স্টেটমেন্ট বাবিনসোনাদের!! ...ওদের ১০০ মাইলের মধ্যে আমি নাই ।”
“ তা পাবলিক পাথর ছুঁড়লে তাতে দোষ নেই ! ...পুলিশ ছররা ছোটালেই দোষ ? বেশ বেশ ...”
“ হ দোষ !... রাষ্ট্রর গুলিতে নাগরিক মরলে সেইডা হলো গিয়া ল এন্ড অর্ডার ফেলিওর ... সেইডা কার দায় ?”
“ ও ...সব দায় সরকারের বাঃ ...জনতা মারমুখী ,সসস্ত্র পথ নিলে কি করবে পুলিশ ?”
“ ক্যান ! নন্দীগ্রামের বেলায় তো এক্কেরে কেন্দে ভাসাইছিলি ! সেইডা কি সিলো? এক্কেরে নিরীহ আন্দোলন ?...নাকি সেইডা তোর ঘরের বলে ?”
কোথা থেকে কোথায় চলে এলো কত্তা ! কাশ্মীর আর নন্দীগ্রাম এক হল !
“ কিসের সঙ্গে কিসের তুলনা টানছ কত্তা ! ...দুটো একেবারে ভিন্ন ব্যাপার ...”
“জানি , আমি পাবলিক রেজিসট্যান্সের কতা কইছি ...ইস্যু যাই হউক ...বন্দুক মানে ফেলিওর ...ওইখানেও ঐ ফোঁড়া ...এহানেও ...”
“ যাই বলো , ওখানে পাকিস্তানের হাত আছে ...ও ব্যাটারা আমাদের ১০০০ ক্ষত দিয়ে রক্ত ক্ষরণ ঘটানোর নীতি নিয়ে চলছে ...তার সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে এখানকার কিছু বেইমান...”
“ সে তো করবই ! ওইডাই পাকিস্তানের একমাত্র জাতীয় নীতি ... ওরা বাংলাদ্যাশের ঘা ভোলেনি ...কিন্তু সুযোগ দিচ্ছে কেডা ?...আর বেইমানের কতা আর কওস না ! গরু খাইলা জেলে পুরস, জানেও মারিস ...চামড়া বইছে বলে প্যাঁদাস, অন্যধারা কতা কইলেই তারে ‘দেশদ্রোহী’ বইলা দাগায় দিস ! এগুলান বেইমানি নয় ? ... আবার গর্ব কইরা ‘মহান’সংবিধানের বাচন ঝাড়িস ...!”
এইবার একটু দমে যেতেই হল ! কিছু চরম অন্যায় হচ্ছে দেশভক্তির নামে এটা অস্বীকার করা যায় না ,কিন্তু কত্তাকে এসব বলে সহজে পার পেতে দিতে দেবনা কিছুতেই ।
“ কিন্তু ‘কাশ্মীরিয়াতে’র নামে তো ধর্মীয় সন্ত্রাসের জিগির তুলছে কাশ্মীর ! তার কথা বলছ নাতো ...!”
“ কাশ্মীরিয়াৎ এর ভাবের ঘরে চুরি হইয়েসে অনেকদিন আগেই ...যেইদিন মেরে ,ভয় দেখিয়ে কাশ্মীরি পন্ডিতদের তারায় দিসে, সেদিনই ! ... এইডা যা হচ্ছে তা হইল কাশ্মীরের ক্ষোভের কপিকলে মৌলবাদের নাটবল্টু লাগানোর লগে ! ... অবস্থা ডেঞ্জারাস ... ”
কত্তার অবস্থান বুঝতে পারলাম না। ঠিক কোন দিকে কত্তা ! ...ভন্ড সেকুলার নাকি গোঁড়া ‘হিন্দুস্থান’ পন্থী ! ...আমরা যে সাদায় কালোয় দেখতেই চাই সব সময় , মাঝামাঝির কিছু একদম নাপসন্দ । এদিকে বেলা লম্বা হচ্ছে গলি জুড়ে, উঠব বলে আড়মোরা ভেঙে দাঁড়িয়ে পরলাম । কত্তাও একটা সিগারেট নিয়ে মুঠোয় ধরে জব্বর একটা টান দিয়ে মুচকি হেসে বলে উঠল
“ওরে যুদ্ধ হব না রে ... অনেক খরচ তার , যুদ্ধের জিগির বরং অনেক ডিভিডেন্ড দেয় ...”
আমিও ঘাড় নেড়ে হাঁটা লাগালাম ।গলি ছেড়ে বড় রাস্তায় উঠতেই সামনে কুর্তা-পাজামা পরা একটা বছর বারোর ছেলে একদম সামনে চলে এলো , আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকা একটা ক্রিকেট বল তুলে নিয়ে নিমেষে ছুঁড়ে দিল আর এক ওরই বয়সি সঙ্গীর দিকে , আমার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল ! কাল নিউজ চ্যানেলে এরকমই একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখছিলাম ভিড়ের সামনে দাঁড়িয়ে পাথর ছুঁড়ছে শ্রীনগরের রাস্তায় !... কিসের কারনে একই মুদ্রায় ক্রিকেট বল পাথর হয়ে যায় ! ...ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম।







আপনার মতামত জানান