পোতিশ্‌শুতি থেকে পো্রোচনায়

ফুলমণি সরেন

 

আমাদের পাড়ার নিমে পাগলা আবার সেরা টাইম পাস। পাগলা বলেছিল, “মোদী পোধানমন্‌তি হলে, আমি স্যুইসাইড করব।” এবার পাড়ার ছেলেবুড়ো সব্বাই পাগলকে “কী চাই তোর?”, “কী চাই তোর?” জিগ্যেস করে করে, “তালুতে ফেলে থুতু, তাতে ডুবে মর” বলে বলে নিজেরাই পাগল হয়ে গেল। মায় বাচাল মেয়েগুলো অবধি টিটিকিরি দিতে ছাড়ে না, “হে পাগল, কচু গাছে সুতলি দিয়ে ঝুলবি না?”
প্রতিজ্ঞাটা যখন পাগল করেছিল জনসমক্ষে তখন কেউ জানতে চায় নি এমন ভয়াবহ প্রতিজ্ঞার কী কারণ। আজও কেউ জানতে চায় না পাগলার প্রতিজ্ঞা না পালনের কারণ কী। তবু সেদিন যখন খবরে কাগজ খুলে ক্লাবে সবাই বলছিল, “এ যে নিমে জ্ঞানপীঠও গেঁড়িয়েছে দেখচি!”, “সে কীরে সবই কী নিমে নাকি!” তখন নিমে নামের সম্মান রাখতে পাগল আমাদের মরিয়া তক্ক জুড়ল।
গণ্য, মান্য, জঘন্য লোকেদের দলে নিমে কিংবা নিমের দলে নামজাদা বিতর্কিত বিখ্যাত কুখ্যাত লোক দেখে এ দফায় নিমের চেঁচামেচি বেশ গ্রাহ্য হলো। তার কারণ অবশ্য আমাদের ক্লাবের অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব গোপাল দা। গোপাল দার আর্টিক্ল খবরে কাগজে এখনও ছাপা হয় নি বটে, কিন্তু গোপাল দার তিনশো তিরানব্বই জন ফলোয়ার ফেসবুকে। গোপাল দার কথা লোকে খায়, মাখে, হজমও করে। মানে এই আমাদের এলেবেলে ক্লাবে গোপাল দা বেশ একটা অন্যরকম লোক।
সেই গম্ভীর বিবেচক গোপাল দা যখন গলা খাঁকরে বলল, “পাগল, এমন প্রতিজ্ঞা করলি কেন, যা রাখতে পারবি না?” নিমে বলল, “কাল যখন মোদী তোমার বাড়ির বাত্‌থুমটা (বাথরুমটা) ব্যভারের (ব্যবহারের) অযুগ্যি করে দেবে, জিগ্যেস করবে তো যে আমার ঘরে পাতকো পায়খানা বসাতে গিয়ে তোমার সেই-পটি-ট্যাংকি উপচে গেলেও সাফাইওয়ালা এলো না কেন আর সেই বাবদে তুমিও পাতকো পায়খানা বসাতে বাধ্য হলে কেন’?”
লম্বা আর ব্যাকরণের ভূত ভাগানো, নোংরা আর উচ্চারনে পিণ্ডি চটকানো প্রশ্ন শুনে গোপাল দার মতো বিজ্ঞজনও থতমত খেল। তবে বাকপটু তো, তাই সামলে বলল, “বেশ, বেশ, তুই একটা ভয় পাচ্ছিস বুঝলাম। কিন্তু ঘরে ঘরে শৌচালয় হলে আমার সেফটি ট্যাঙ্কের সাফাই সমস্যা হবে কেন? সেটা তো অনেক দিনের একটা ব্যবস্থা-” নিমে গোপাল দার কথা কেড়ে নিল (এমনটা নিমেই পারে), “বাজে বোকো নি। আগেও ওদের পাটি বছর পাঁচেক ছিল। গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানে না চেঁছেছিল পলি, না তুলেছিল প্লাস্টিক। ধার করা না অনুদানের পয়সায় গ্যালন গ্যালন দুধ ঢেলেছিল গঙ্গায়। তোমার মতো বকম্বাগীশ তখন বলতে, (গলার স্বর ভারি করে গোপালদার গম্ভীর বাচনভঙ্গী ভেঙচে) ‘হবেই তো, ওটা যে গ্যাপ, ফাঁক তো থাকবেই।’ পুরোনো কাগজ খুঁটে দেখো ঐ সময়েই কালাহান্ডিতে পচা আমসি খেয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি লোক মরে গিয়েছিল। (হাত তুলে হুকুম করে বলল) থামো, আর জ্ঞান দিও নি যে কালাহান্ডিতে লোকে পরম্পরায় অমনটাই খেয়ে থাকে। পাগলেও জানে যে ডাল-ভাত না জোটাটা পরম্পরা হলে লোকে পেটের জ্বালায় আমসিই খায়। খুব খারাপ হালে পচা আমসিও খায়। কিন্তু গঙ্গায় ঢালা দুধের এক ফোঁটাও সেখানে কেন যায় নি সে প্রশ্ন তোমরা করো নি। (তারপর নিজস্ব বিজ্ঞতম ভঙ্গীতে) কাজের নাম জগদ্দল, উচ্ছে ডাঙায় পটোল তোল।”
পাগল থামতে গোপাল দা সুযোগ পেল, “কিন্তু এবার তো ওদের নেতা বদলে গেছে-” শুনেই খিঁচিয়ে উঠল পাগল, “এক নেতাতে সব আমলাকে চাবকে চালাবে গোটা দেশ! মধ্যে মধ্যে থাকবে কিছু কাঠপুতলি - ফিল্মিস্টার, টিভীস্টার (টিভি + ইস্টার), সাধ্বীস্টার। তাপ্পর তুমি মহিলা কমিশনে ধষ্‌ষিতা কনকের জন্য সুবিচার চেয়ে চিঠি লেখ, জবাব আসবে কনকের ঠিকানায় কিন্তু সনকার নামে, সাধারণ ডাকে, কনকের চিঠি না নেওয়ার কোনো উপায় নেই, ফলে প্রমাণ হয়ে যাবে কনকের ঠিকানাটাই সনকার ঠিকানা, নয়তো কনক বা সনকা একই লোক, নাম ভাঁড়াচ্ছে, বা সনকা কিংবা কনকের মধ্যে যে কোনো একজনের পরিচয় মিথ্যে এবং একজন অস্তিত্বহীন, অতএব অস্তিত্বহীনের ধষ্‌ষণের অভিযোগ অবশ্যই মিথ্যে, সাজানো। এর কারণ হলো কমিশন সভাপতি পোড় খাওয়া মহিলা হলেও ফাইল পড়তে জানেন না, তেএঁট্টে খচ্চর ঘুষখোর কেরানির আঁচড়টা ভুল না কায়দা, বোকামি না শয়তানি ঠাহর করতে পারেন না। পেশাদার তিনি নাচে হতে পারেন, কিন্তু ফাইল পড়ায় নন। একটা লোক সততার সাথে উঠোন ঝাঁটাতে পারলেই যে আপিস সামলাতে পারবে এমন কোনো ভরসা তো নেই। তুমি আমি নিশ্চয়ই সন্দেহ করব ধষ্‌ষণ নিবারণে নেতার সদ্দিচ্ছা নিয়ে, পরিবত্তনের পর রং বদলে যাওয়া, কিন্তু আগে থেকেই দুন্নিতিতে চোস্ত টেনিং পাওয়া সরকারী কম্মচারীকুল কার হাত শক্ত করছে – শাসকের নাকি বিরোধীর, কেই বা অপদাত্থ - কমিশন সভাপতি, তার নিয়োগ করেছে যে নেতা সে, নাকি শাসক কিংবা বিরোধী নেতারা আর তাদের মদতদাতা বা তাদের মদতপুরুষ্ট কেরানিকুল। যাচ্ছেতাই ছড়ানো হাল। এমন করে এক নেতাতে লাগাম ধরে চাট্টি জড়ভরতকে জুতে দিলে কী আর গাড়ি চলবে? উঁহু নড়বেই না। উলটে ছিঁচকে নেপোয় দই মেরে যাবে।”
এইবার গোপাল দা নয়, রে রে করে তেড়ে এলো পরিবর্তনবাগীশরা, “আগেই বলেই ছিলাম, নিমেটা পাগল না সিপিএম?” জবাবটা নিমেই দিল, “ড্যাকরা যতো! সিপিএমের দেখলি কী করে? আমার মতো জম্মেই দেখেছিলি কী সিপিএমে বাপমাকে গিলে নিয়েছে? বেয়াড়া কাকাকে লাশ করেছে, মুখফোঁড় মাসিকে রেপ করে মুখ পুড়িয়ে দিয়েছে, আর তোমার গুষ্টি সুদ্ধু সিপিএম হয়ে গেছে? ভগবান আর সিপিএমের একই মানে বাড়িতে কিংবা ইস্কুলে, গ্যালারিতে আর মাঝমাঠে? তোমার মা-মাসি তোমাকে ইতিহাস পড়াতে গিয়ে থতমত খাচ্ছে কারণ তাদের পড়া নেহের্ব্য (নেহেরু+ইয়) ইতিহাসটি বামপন্থী থেকে রুশপন্থী চীনপন্থী হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে খিড়কি দিয়ে তোমার নম্বরটা হরিদাসপালকে বেচে দিচ্ছে রেজাল্ট টাইপ করে যে লোকটা সেই লোকটা। আর বাথ (বার্থ?) সাট্টিফি (সার্টিফিকেট) থেকে ডেড (ডেথ?) সাট্টিফি সবের জন্যই পাঁচ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বেড়াও নানান টেবিলের তলা দিয়ে। এসব ছিল বলেই নাকি তোমার মাবাবা, মাসিমেসো, কাকাকাকিরা কংগ্রেস তায়ড়ে সিপিএম এনেছিল। কিন্তু তাতে যেসব টেবিলের তলা দিয়ে টাকা লেনদেন হতো সেগুলোর গুণতি বেড়ে গেছে। আবার তুমি চাকরি খুঁজতে গেলে আরেক ইতিহাস পড়তে বাধ্য হলে যেটাতে রামরাজত্বের পর ভাজপার রাজত্বই সেরা বলে লেখা আছে। সিপিএম! পাগলে কখনও জগৎ সংসারের ধান্দাবাজি পেজোমিকে তোল্লাই দিয়ে সব্বাইকে অতিষ্ঠ করে দেয় না। কিন্তু সিপিএমে ভালো কথা, মিষ্টি কথা, হুমকি কথা, দালাল কথা, গুলির কথা, চাকুর কথা সব দিয়ে সমাজের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত লোকগুলোকে অশিক্ষিত খেয়োখেয়িতে টেনে আনে। সিপিএমের আগে মা-মাসিরা সবাই আধপেটা খেয়ে কিংবা না খেতে পেয়েও, শহরব্যাপী খুনোখুনি ডিঙিয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েও পাশ দিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিল, চাকরি বাগিয়েছিল। আর এখন দেখ ঘরে ঘরে ডিগ্‌গি (ডিগ্রি) থিকথিক কচ্চে, কিন্তু কেউই মাত্তিভাষাটাও ঠিকঠাক গুছিয়ে বলতে পারে না। এটাই সিপিএমগিরি, সক্কলকে ভালো রাখা যাবে না বলে সক্কলকে খারাপ করে রাখতে হবে। হ্যাঁ, এখন ঘরে ঘরে অনেক চাকুরে লোক, ভাতের অভাব নেই, সেটার কারণ পচ্চিমবঙ্গ ভারতের অঙ্গরাজ্য। নয়ের দশকের শুরুতে আর শূন্য দশকের মাঝে দুদফায় ভারতের রোজগার বেড়েছিল তাই-”
ক্লাবের একমাত্র সিপিএমও এবার মোদীজীর সমর্থকদের সাথে গলা মেলালো, “শালা, পাগল না শাহজাদার চামচা তুই, নিমে?” নিমে মুচকি হেসে বলল, “আমি মুখ খুললেই তেতো আওয়াজ বেরোয়। তাই আমার নাম নিমে। শাহজাদার ওস্তাদিতেই তো এখন অনিদ্দিষ্ট কালের জন্য দুদ্দিন এলো। তুমি গেরামে গিয়ে ইট বইবে আম আদমি সাজতে, বড়লোককে রেশনে এলপিজি দেবে যাতে যে গুন্ডাদের পেট্টল পাম্প মালিকানা আর গ্যাসের দোকানদারির লাইসেন্স দিয়েছ তারা বশে থাকে, আবার লাইসেন্সবিহীন ফুটপাথের ফেরিওলার ভোটটাও পাবে বলে খুচরো পাইকারি জিনিসের নিয়মিত যোগানের দোকানদানিও বসতে দেবে না কোথাও, তাতে গুছিয়ে লোকে আড়তদারি করবে, কালোবাজারি করবে, চাষির কপাল পুড়বে, তাঁতি-দরজির কপাল পুড়বে, আর খাবার, কাপড়, ওষুধ কিনতে বাজারে গেলে হাত পুড়বে নিমে পাগলার। কাঠগড়ায় তোলা হলো কেজো কিন্তু কথা কম বলা লোকটাকে। তোরা তো আবার বলবি যে হুঙ্কার না থাকলে নেতা কিসের! আর পাগলে মনে করে যে নিঃসাড়ে দেশসুদ্ধু আহাম্মককে বিদেশি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ করে দেওয়াটা, সেই সুবাদে স্বাধীন ব্যবসার বিক্কিরি আর খরিদ্দার বাড়িয়ে দেওয়াটা, দেশের লোকের রেলে, আইপিএলে, শপিং মলে কাজ জুগিয়ে পড়শি দেশের লোকের মনে এদেশে ঝাঁপিয়ে পড়ার লোভ জাগানোটাই নেতাগিরি, এর জন্য যতো এলেম লাগে হুঙ্কার দিতে তার এক কণাও লাগে না।”
গোপাল দা পরামর্শ দিলেন, “সেসব পুরোনো কাসুন্দি থাক। এটা তো মানবে যে মোদীজীর এতো বছরের সুশাসনের রেকর্ড – সে তো গুজরাটে তাঁর ফিরে ফিরে নির্বাচিত হওয়াতেই প্রমাণ...” আবার পাগল কথা কেড়ে নিল, “এরাজ্যে সিপিএম ছিল চৌতিরিশ বছর। সেটা কি সুশাসনের নজির ছিল? চামড়ার তলায় রক্তটা সব্বার লাল। তফাৎ হয়ে যায় জামাতে। তোমারটা মাড় দেওয়া ইস্তিরি করা। আমারটা চিটে ধরা। তুমি ভদ্দরলোক, আমি পাগল।” ফিচেল ফন্টে ফস করে বলে উঠল, “তো পাগল, এতে তোর স্যুইসাইড করার কী হলো? মোদীজী তো প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন...” নিমে তেতো হাসি মেখে বলল, “আমি জম্মে থেকে তেত্তিরিশ বচ্ছর এরাজ্যে সিপিএমের ঘর করেছি। সেরকম একটা কান্ড ভারতব্যপী হলে কী সহ্য করতে পারব? আমার তো বয়স বেড়েছে, তাই ভাবছিলাম মরে যাওয়াই ভালো।” গোপাল দা বলল, “তুই যে মোদী আর সিপিএম এক করে দিলি!” পাগল বলল, “তফাৎ কিসে? এরাও ক্যাডার পোষে, ওরাও সংঘে লেঠেল রাখে। এরা সক্কলকে ভালো রাখা যাবে না বলে, সক্কলকে চোর করে রাখার ফন্দি ফেঁদেছিল, মানে, ‘তুমি ঘুষ খাও না, কিন্তু ঘুষ দাও তো, দিতে বাধ্য করেছি যে তোমাকে, তবে তুমি কোন যুদিষ্টির (যুধিষ্ঠির)?’; ওরাও বলছে সক্কলের জন্য সস্তা (সস্তায়?) সমৃদ্ধি দেবে, মানে সবার ঘরে ঘরে পাতকো পায়খানা দেবে, দরকার পড়লে সে-পটি ট্যাংকির মালিকদের ট্যাংকি ভেঙে দিয়ে বোঝাবে পাতকো পায়খানা জরুরি কিনা-” এবার গোপাল দা কথা কাড়লেন, “তুমি যে পাগল বড্ড নৈরাশ্যবাদী। নতুন নেতা নতুন আশা -” পাগল হা হা করে হেসে উঠে বলল, “আমাশা। রক্ত আমাশা হবে। কিসের আশা বলো তো? তুমি যদি টের পাও এতোগুলো বছর বৌদি তোমার সাথে ছলনা করেছেন, তোমার মাইনের কমতির দোহাই দিয়ে, তোমাকে ফাটা গেঞ্জি আর হাতে রিফু করা ফাটা প্যান্ট পরিয়েছেন আর বোনকে বেনারসি কিনে দিয়ে বাপের বাড়ির রমরমা দেখিয়েছেন; ঘর করেছেন তোমার, আর সোহাগ দিয়েছেন বটাদাকেও; তাহলে তিনি তোমাকে ছেড়ে গেলে কী তুমি আরেকবার বিয়ে করতে ভরসা পাবে, নাকি আত্মহত্যা করবে?”
ধৈর্যচ্যুত গোপাল দা বললেন, “বান্‌চোত, বলে কী!” ব্যক্তিগত আক্রমণের হিড়িকে ফন্টে বলে, “কিন্তু নিমে, যাই বল, ‘কেউ কথা রাখে না’ কথাটা কিন্তু সত্যি, পলিটিশিয়ানদের বেলাতেও সত্যি, তোর বেলাতেও সত্যি-” নিমে এবার বেশ খিঁচিয়ে ওঠে, “পলিটিশানরা বলে ওদের কথা শুনলে ওরা এক টাকায় মাসের চাল দেবে, খাটা পায়খানা সোনায় মুড়ে দেবে, সব পুরুষকে রেপ করার ছাড়পত্র দেবে কিংবা সব পুরুষকে বেধে রাখবে যাতে একটাও রেপ না হয় কিংবা সব মেয়েমানুষকে গায়েব করে দেবে যাতে পুরুষে রেপ করার জন্য মেয়েমানুষ না পায়, জনতাকে পরকালের স্বগ্‌গবাসের সুখ ইহকালেই দেবে। সে কথাটা না রাখলে জনতা হুলোবেই। কিন্তু আমি কী বলেছিলাম যে আমি আত্মহত্যা করে তোমাদের উদ্ধার করে দেব? আমি ম’লে তোমরা সক্কলে দশটা-পাঁচটার বাঁধা কাজের নিয়মিত খাটনির ক্লান্তি আর রোজগারের নিশ্চিন্দির আরাম পাবে, আর তোমাদের কথায় কথায় পোতিবাদ করার আর বিপ্লব মাড়ানোর বাই ছেড়ে যাবে? তোমরা সব্বাই অন্যরকম অনন্যসাধারণ থেকে সাধারণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে? তাহলে আমার আত্মহত্যার পোতিশ্‌শুতি না রাখায় তোমাদের কী আসে যায়? আমার মনে হয়েছিল যে ভাজপা মানে, প্রায় সিপিএমের মতো একটা দল, শাসক হলে, তায় তাতে ভারত ছেয়ে গেলে, আমার বেঁচে থাকতে খুব, খু-উ-ব কষ্ট হবে। আবার নিজেকে ধৈর্য্য ধরতে বললুম, ‘ধুর পাগল, নেহাত কথার কথা রাখতেই মরবি শুধু শুধু? দেশটা কী শুধু মোদীর? তোরও না? তোকে যদিও পাগল বলে ভোট দিতে দেয় না, তবু কী তোর কিছুই করার নেই? বেঁচে থেকে দেখ অন্তত বাঁচাটা তেমন অসহ্য হয়ে উঠলে ঘুরে দাঁড়ানো যায় কিনা।’ কিন্তু সেসব আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তাতে জনতা আসে কোত্থেকে? গবমেন বসে মাসও পোয়াই নি; তেমন অসহ্য হলে আমাকে আত্মহত্যা করতেও হতে পারে। কিন্তু মোদী পোধানমোনতি হওয়া মাত্তই আমার আত্মহত্যা না করাটা আর ভোট ভিখিরির গবমেনে বসে পোতিশ্‌শুতি না রাখাটা এক হলো? ” নিমে খচেছে দেখে ফন্টে বলল, “সে যাই হোক, তা হলে তুমিও কিন্তু কথা রাখো নি...” নিমে এবার সতর্ক করার ভঙ্গিতে বলল, “তোমরা কিন্তু আমাকে আত্মহত্যায় পোরোচনা দিচ্চ......”

আপনার মতামত জানান