আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ সামনে

মাসকাওয়াথ আহসান

 

২০১৪ সালে এসে স্পষ্টতই বোঝা যায়; গান্ধীজীর অভিনব এক পোশাক পরে 'ইংরেজ ভারত ছাড়' আন্দোলনের কোন প্রয়োজন ছিলোনা। যদি প্রয়োজন থাকতো তাহলে নিও-এলিট ভারতবর্ষীয়
চোরের দলের নতুন করে সেই ইংলন্ড - ক্যানাডা -এ মিরিকায় অভিবাসী হবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতো না।হিসেব করে দেখুন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারত - বর্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ লুট করেছিল; তার চেয়ে অনেক বেশী টাকা পাচার হচ্ছে অভিবাসী 'চোর সম্প্রদায়ে'র মাধ্যমে।

ইংলন্ডে পড়তে ও ঘুরতে গিয়ে স্যূট টাই পরে জিন্নাহ ও নেহেরুর মনে হয়েছিল তারা বিরাট হয়ে গেছেন; এখন তারা তাদের গ্রামে ফিরে গিয়ে 'রাজা' হতে পারেন।তার ফলাফল আজকের দক্ষিণ এশিয়ার চোরের খনির অগ্নুৎপাত।

ইংরেজরা যখন অক্সফোর্ড ও কেমব্রীজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানাচ্ছিলেন; ভারত-বর্ষের মুঘল অশিক্ষিত শাসকেরা তখন হারেম নির্মাণ করছিলেন। আর ছোট ছোট রাজাদের একমাত্র কাজ ছিল বিলাসিতা।ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী আসার পর এই ছোট ছোট রাজারা প্রচুর ধার-কর্জ করে। শোধ দিতে না পারায় ধীরে ধীরে সেসব ছোট ছোট রাজ্যে খাজনা আদায় করে নেয়ার সুযোগ পায় কোম্পানী। এমনকি সেই ছোট ছোট রাজারা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ বা মারপিট করার জন্য কোম্পানীর সেনা হায়ার করতেন।
এইভাবে বসে খেয়ে; প্রজাকূলের জীবন-মৃত্যুকে পিঁপড়ের উপস্থিতি ভেবে ভেবেই পলাশীর আম্রকাননে সিরাজের পতনের দিনটি এগিয়ে আসে। তারপরও বাহাদুর শাহ জাফর পর্যন্ত দিল্লীর শেষ সম্রাট হিসেবে কোন মতে ঝুলে ছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময় ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গার কারণেই বাহাদুর শাহ জাফর অধ্যায় শেষ হয়; চলে আসে সরাসরি বৃটিশ রাণীর যুগ।

এরকম বৃটিশ উপনিবেশগুলোর দিকে যদি ফিরে তাকানো যায়; দেখা যাবে যারা দেরীতে বৃটিশ শাসনমুক্ত হয়েছে; অস্ট্রেলিয়া - নিউজিল্যান্ড; তাদের অবস্থা এখন ভালো। ১৯৪৭ সালে উইনস্টন চার্চিল স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ভারতকে এখন মুক্ত করে দিলে লুটেরারা দখল নেবে। এরা গণতন্ত্র চর্চার জন্য প্রস্তুত নয়। চার্চিলের কথা আজ ঠিক হয়েছে। পাকিস্তানের রাজনীতি এখন লুটেরাদের হাতে। লুন্ঠনে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে দেশটি। আর সেনাবাহিনী সেখানে ভয়ংকর এক লুন্ঠনের সুবিধাবাদী শ্রেণী। ভারতের বেশীর ভাগ ঝাঁঝরা হয়ে যাবার চিত্রটি লুকানো ছিলো তাদের বলিউড রূপকথা আর ইমেজ বিপনন কারিশমায়। অথচ ভেতরে ঘোর অন্ধকার। ভারতের রাজনীতিবিদেরা লুন্ঠক। বাংলাদেশ যদিও এ আলোচনায় গৌণ। কারণ এতো ক্ষুদ্র আকৃতি ও মনের রাষ্ট্র নিয়ে দুটি কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেখানে চোরের মায়েদের বিরাট গলা। কিছু বললেই খিস্তি করে দেবে।

সুতরাং বৌদ্ধিক শাসনের পর শিক্ষাবিস্তার থেমে গেলে হিন্দু-মুসলিম শাসনে ভারতের যে হারেম হাল হয়েছিল; তার চেয়ে বৃটিশ অনেক গঠনমূলক ছিলো। ভারত-বর্ষের গর্বিত ইতিহাস বৌদ্ধ রাজাদের পতনের পর থেকে কেবল নিমজ্জনের ইতিহাস। আমার এই বিশ্লেষণ পড়ে যে লোকটি এসে ঘাড় গুঁজ করে বলবে, ব্যাটা বৃটিশের দালাল; দেখবেন তাকে চেতনা বা ধর্মের ওপিয়াম বেচে খেতে হয়। পরিবার ইংলন্ডে। অথবা চেতনা ও আত্মপরিচয়ের ফেনসিডিল বেচে তাদের সেলিব্রেটি হতে হয়।

এখন তারুণ্য যদি এটুকু উপলব্ধি করতে পারে; তারা রাজনীতির নামে প্রতিদিন লুন্ঠিত হচ্ছে; গণতন্ত্রের নামে তারেক রহমানের মেয়েকে বৃটেনে পড়াচ্ছে; ছাগ-বান্দরদের দোয়েল পাখী ও মানুষ ভক্ষণের সুযোগ করে দিচ্ছে; এভাবে আর চলবে না; তাহলেই ইউরোপের মত একটি নবজাগরণের মাধ্যমে সভ্যতার উন্মেষ সম্ভব দক্ষিণ এশিয়ায়। দুর্নীতির বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটাতে না পারলে; এই তৈলাক্ত বাঁশে ওঠানামা করতে হবে। ফরমালিন যুক্ত খাবার খেয়ে বিকলাংগ হবে আমাদের শিশু। যুবরাজ জয়-ববিদের শিশুরা আবার নেহেরু-জিন্নাহ হয়ে গ্রামে ফিরে আসবে হৃষ্টপুষ্ট দেহ নিয়ে।

এই পুরো ইতিহাস পাঠে বৌদ্ধিক শাসনের পর আর একজন সুপারম্যান জনমানুষের মুক্তি চেয়েছিলেন; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার এই একজন নেতা ছাড়া বাকি সবাই আমাদের দিকভ্রান্ত করেছে। মুজিবের অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যবাদের লড়াইটিকে লক্ষ্য করে এগুলে; আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ সামনে। দিব্য চোখে দেখতে পাই।



গুম প্রশিক্ষণ

(মতামত ব্যক্তিগত)

আপনার মতামত জানান