রক্তাক্ত গাজা ...

সুশোভন

 


বিপন্ন শৈশব, এর শেষ কোথায়?


এক

সময়টা ২০০৬। স্থান অবরুদ্ধ প্যালেস্তাইন। বাবা আবদুল্লাহ তাঁর ছেলে মাহমুদ আল জাক-এর দেহাবশেষ শনাক্ত করেছিলেন শরীরের কোন অংশ দেখে নয় বরং ইজরায়লি সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত ছেলের কোমরের বেল্ট আর পায়ের মোজাতে জড়িয়ে থাকা মাংস পিণ্ড দেখে । একদিন পর চৌদ্দবছর বয়সী মাহমুদের শরীরের বাকি অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। ইজরাইলি সেনাবাহিনী ওই হামলার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন অটাম ক্লাউড’।

সময়টা ২০০৮। স্থান আবার অবরুদ্ধ প্যালেস্তাইনই। হাসপাতালের মেঝেতে যখন তাঁর তিন সন্তানের নিথর দেহ শুইয়ে রাখা হল, সেসময় শিফা হাসপাতালের উপর তলায় সামুনি একটি বিছানায় শুয়ে তাঁর পায়ের ক্ষত সারাচ্ছেন এবং হাত -ভেঙে -যাওয়া তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মহম্মদের চোখের জল মুছিয়ে দিচ্ছেন রক্তে ভেজা আঁচল দিয়ে৷ ‘আমরা তো শুধু শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই' - সাদা ফসফরাস ভর্তি ক্লান্ত জীর্ণ মুখে বলেছিল সামুনি। এবার ‘অপারেশন কাস্ট লিড’।

সময়টা ২০১৪ ।স্থান সেই অবরুদ্ধ প্যালেস্তাইন। বুলডোজার এবং ক্রেন নিয়ে গাজা সীমান্তের পথে ইজরায়ল সেনাবাহিনী। রাতের মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ আর আকাশ পথে বোমারু বিমানের টহলদারির পর এক আপাত শান্ত সকালবেলা। গাজার কোন এক ঘরে টেলিফোন বেজে উঠল। টেলিফোনের অপর প্রান্তে ইজরাইলি সেনাবাহিনীর কমান্ডার। সদম্ভে জানাচ্ছেন যেকোনো সময় ‘ইজরাইলের আত্মরক্ষার’ স্বার্থে বোম মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন তাঁদের বাড়ি । ২০ জনের বিশাল পরিবারের সকলে জীবনের নুন্যতম চাহিদার সরঞ্জাম সাথে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে গাজার অলিতে গলিতে পাগলের মত দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। রক্তের চোরাস্রোত বইছে গাজার রাস্তায়। এবার ‘অপারেশন প্রটেকটিভ এজ’ ।

দীর্ঘদিন ধরেই রণক্লান্ত গাজা। আক্রমন প্রতি আক্রমনের নিষ্ঠুর খেলায় গাজার রাস্তায়, আনাচে-কানাচে গতবারের রক্তের দাগ মোছার আগেই শুরু হয়ে যায় নতুন হত্যালীলা। যে হত্যালীলা - এর আগে , তার আগে এবং তারও আগে , যা ঘটানো হয়েছে তারই এক অশ্লীল পুনরাবৃত্তি৷ ২০০৬ -এর ২৮ ডিসেম্বর ইজরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা বি ’ত্সেলেম একটি পরিসংখ্যান দিয়েছিল৷ বামপন্থী ইজরায়েলি ইতিহাসকার ইলান পাপ্পে তার উল্লেখ করেছেন , শুধু ২০০৬ সালেই ৬৬০ জন প্যালেস্টিনিয়কে হত্যা করা হয়৷ এবং ২০০০ সালের পর থেকে ইজরায়েলের বাহিনী ৪০০০ প্যালেস্টিনিয়কে হত্যা করেছে৷ আহত হয়েছেন ২০০০০ জন৷


দুই

ইজরায়ল মূলত ইহুদিদের। গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যঙ্ক আরবদের। সহজ ভাবে আরব বলতে যারা আরবি ভাষায় কথা বলেন আর মূলত ইসলাম ধর্মাবলম্বী। গাজা, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক সহ আরব দের স্বাধীন রাষ্ট্র (প্যালেস্তাইন) ঘোষণা, না ‘বৃহত্তর ইজরায়ল’ গঠন, এ নিয়ে বিবাদ দীর্ঘ দিনের। পূরবর্তী সময়ে গাজা ছিল মিশরের অংশ। ১৯৬৭-র যুদ্ধের পর থেকেই কার্যত ইজরায়ল অধিকৃত প্যালেস্তাইন। ১৯৯৩-র চুক্তিতে অধিকৃত এলাকার কিছু অংশে প্যালেস্তাইন অথরিটির মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের কিছু অধিকার মিলেছে মাত্র। কিন্তু আজও গড়ে ওঠেনি পুরোদস্তুর পূর্ব জেরুজালেম কেন্দ্রিক স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র। বস্তুত ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গাজায় অধিকৃত এলাকা হলো ঐতিহাসিক প্যালেস্তাইনের ভৌগোলিক এলাকার ২২শতাংশ মাত্র। ঐতিহাসিক প্যালেস্তাইনের ৮০শতাংশ ইজরায়েলের দখলে ছিল। কিন্তু ইজরায়েলর সম্প্রসারণনীতির ফলে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০শতাংশে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৪নম্বর প্রস্তাব মানছে না ইজরায়েল। যেখানে বলা হয়েছে, প্যালেস্তিনীয় শরণার্থীদের তাঁদের পিতৃভূমিতে বাস করার অধিকার আছে। উল্টে ইজরায়েল ১৯৬৭সালের সীমানার দ্বিগুণ, ৬৬৩কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত প্রাচীর তৈরি করছে । যে প্রাচীর বিভেদ ও বিভাজনের প্রাচীর। যে প্রাচীরের বেড়াজালে অবরুদ্ধ আজ প্যালেস্তাইন। বহির্বিশ্বের সাথে গাজার সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বলতে সর্বসাকুল্যে দুটি ‘পাস’। গাজার দক্ষিন প্রান্তে মিশরের সাথে ‘রাফহা পাস’ আর উত্তর প্রান্তের ‘এরেজ পাস’। স্বাভাবিক ভাবেই এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ জনজীবনে। অর্থনীতির অবস্থা রুগ্ন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত জরুরি পরিষেবা ব্যাহত দীর্ঘদিন। প্রায় ৪০% মানুষ কর্মহীন। ৮০ % মানুষ দিনযাপন করেন আন্তর্জাতিক শরনার্থী ত্রান শিবিরেরে ভরসায়। বাস্তবিক অর্থেই প্যালেস্তাইন তাই খোলা আকাশের নিচে ‘অবরুদ্ধ কারাগারেরই’ নামান্তর। রাষ্ট্রসঙ্ঘ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, ইজরায়েলের দখলদারি অবৈধ। কিন্তু ইজরায়েল তোয়াক্কা করে না। বিভিন্ন কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে ইজরায়েল এই স্পর্ধার পিছনে আছে বিশ্বের ‘স্বঘোষিত অভিভাবক’ আমেরিকা। প্রতিদিন ইজরায়েল সরকার ও তার সেনাবাহিনীকে আমেরিকা দেয় ৭০লক্ষ ২৩হাজার ২৮৮ডলার। কারণ গাজার ভৈগোলিক অবস্থানের তাৎপর্য। এমনিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভার অন্যদিকে ভুমধ্যসাগরের উপকূল সংলগ্ন এলাকার দখল। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রেক্ষাপটে গাজা অতি সংবেদনশীল। ‘ইংল্যান্ড যেমন ইংলিশদের, ফ্রান্স যেমন ফরাসীদের, প্যালেস্তাইনও সেভাবে আরবদের। সে কারণে আরবদের উপরে ইহুদীদের চাপিয়ে দেওয়া ভুল ও অমানবিক।



তিন

নতুন করে ঘটনার সূত্রপাত ২০০৫ -২০০৬-র সময়। ‘হামাস’ ২০০৬-র নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পায়। প্যালেস্তাইনদের কাছে সুবিধাবাদী বলে পরিচিত ফাতাহ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ওই নির্বাচনে। কিন্তু ফাতাহ প্রধান মাহমুদ আব্বাস স্রেফ গায়ের জোরে ওই নির্বাচিত সরকারকে অস্বীকার করেন, নতুন সরকার গঠন করেন। রক্ত ঝরানো কয়েকদিনের দীর্ঘ লড়াইয়ের বিনিময়ে হামাস পুনরায় গাজার নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। চারিত্রিক ভাবে হামাস যেমন ছিল প্যালেস্তাইন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সশস্ত্র ‘জিহাদে’ বিশ্বাসী অন্যদিকে ফাতাহা ছিল কিছুটা নরমপন্থী ।এখানে উল্লেখ্য হামাসদের ব্যপক উত্থানের নেপথ্যে আমেরিকা এবং ইজরাইলের ভুমিকাও নিতান্তই কম নয় । আসলে এই দশকের শুরুর দিকে গাজাতে বিভিন্ন ধর্মনিরপেক্ষ এবং বামপন্থী শক্তির জনপ্রিয়তার বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতেই আমেরিকা এবং ইজরাইল তখন হামাসের উত্থানকে নৈতিক সমর্থন জানায় এবং মদত দেয়। কিন্তু গাজার সাধারন মানুষের জনপ্রিয় স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে সামনে রেখে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে হামাস। প্রমাদ গোনে ইজরাইয়েল । আমারিকা , ইজরাইল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান সহ জাপানের মত আরও কয়েকটি দেশ হামাস কে জঙ্গি সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করলে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। ইসলাম ও ইহুদীর নামে শুরু হয় জাতিসত্তার প্রবল মেরুকরন। বিভাজন ও বিদ্বেষের পরিসরে রক্ত ঝরানো কালো দিনের সূচনা হয়। ২০০৬, ২০০৮-০৯, ২০১২ তে হামাসদের সামরিক শক্তিকে প্রতিরোধের অজুহাতে ইজরাইয়েল আক্রমন শুরু হয়। বারুদের স্তূপ প্রস্তুত থাকলে আগুন জ্বালাতে একটি স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট। গত মাসে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক অঞ্চলে তিন ইজরায়েলি কিশোরের অপহরণ ও হত্যাই সেই স্ফুলিঙ্গের কাজ করছে । ঘটনার পরেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, এই অপহরণ কাণ্ড জঙ্গি প্যালেস্তিনীয় সংগঠন হামাস-এর কীর্তি এবং এর ‘সমুচিত’ জবাব দেওয়া হবে । ইতিমধ্যে অপহরণের ‘বদলা’ হিসাবে এক প্যালেস্তিনীয় কিশোরের অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে । ইজরায়েলে হামাসের রকেট হানা এবং প্রত্যুত্তরে ইজরায়েলের বিমান থেকে গাজায় বোমাবর্ষণ ও আপাতত সীমিত ভাবে স্থল-অভিযান। সেই অভিযান যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের চাপেও বন্ধ করা হবে না , সে কথা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সদম্ভে ঘোষণা করেছেন। হামাসদের জঙ্গি ঘাটি ভাঙ্গার বাহানায় মুহুর্মুহু গোলা বর্ষণ করা হয় গাজার সাধারন মানুষের জনবহুল এলাকায়।এখানে উল্লেখ্য গাজা বিশ্বের ৪০ টি সর্বোচ্চ ঘন জনবসতি পূর্ণ শহরে ইজরাইয়েলের আক্রমন প্রতিরোধে হামাসরা গাজার সাধারন মানুষকে মানবঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। আর শিশু মৃত্যুর আড়ালে বিশ্বের ইসলামদের কাছে ‘জিহাদের’ নামে সহানুভুতি আদায় করার চেষ্টা করে। গত দশ দিনের ইজরায়েলের আক্রমনে নিহতের সংখ্যা ২২০। আহত প্রায় ২০০০। যার সিংহভাগ জুড়ে শুধুই শিশু মহিলারা। হসপিটালে ওষুধ নেই, শহর নরককুন্ড, জল খাদ্য বিদ্যুত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। প্রতিবন্ধী আশ্রম, ত্রান শিবিরের ওপরেও আঘাত হেনেছে ইজরায়েলি রকেট, গত ছ দিনে ১৫০০ এর বেশি বিমান হানায় প্রান গেছে ৪০ টির বেশি শিশুর! গাজায় এই হামলা চালানোর জন্য এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, অ্যাপাসে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধজাহাজ কিছুই বাদ যায়নি। আসলে ইজরাইলের সামরিক ক্ষমতার সাথে প্যালেস্তাইনের সামরিক ক্ষমতার কোনও তুলনায় হয় না । তাই প্যালেস্তাইনে কোন যুদ্ধ হচ্ছে না। অসম সামরিক প্রতিযোগিতার আড়ালে যা হচ্ছে তা হল গনহত্যা ।


চার
যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী ফল মৃত্যু। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় এই গণহত্যা পাশবিক। অথচ পশুর থেকে বেশি মানুষই যুদ্ধ করে। যুদ্ধের কার্য কারণ, ফলাফল, পরিনাম, প্রভাব বোঝার ক্ষমতা নেই যাদের বলি হচ্ছে তারাও। আর যারা কোনোক্রমে বেঁচে আছেন তাদের যন্ত্রণা মৃত্যুর শীতলতার থেকেই বা কম কিসের ? রক্তস্নাত গাজা শহরের অলি-গলিতে ক্ষতচিহ্ন প্রত্যক্ষ হলেও শিশুদের মনের ক্ষতের প্রভাব সুদূরপ্রসারি। তথাকথিত এই গণতন্ত্র অর্জনের চেষ্টার লড়াইয়ে যে পক্ষেরই জয় হোক না কেন, দীর্ঘ এই গৃহযুদ্ধে ক্ষতির পরিমাণ অপরিমাপযোগ্য। একদিন হয়ত ঝড় থেমে যাবে। যুদ্ধ শেষে শান্তি ফিরলেও, সংহতি এলেও কোনদিন ফিরবে না শিশুদের সেই সারল্য, মহিলাদের প্রাণ, থামবে না শত শত পরিবারের স্বজন হারানোর আর্তনাদ হাজার হাজার মানুষের ঘরছাড়া হবার হাহাকার। ভবিষ্যৎ সাক্ষী থাকবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক প্রজন্মের।প্লেটো বলেছিলেন—‘ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে আর চরম ক্ষমতা মানুষকে চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে।’ আর প্লেটোর এ বিখ্যাত উক্তিই আজ বাস্তব রূপে দৃশ্যমান।কি আশ্চর্য রাবণও নাকি একদা খুবই ভগবানভক্ত ছিলেন। কঠিন তপস্যায় যখন তিনি অমরত্ব লাভ করলেন, তখন থেকেই তিনি প্রচণ্ড অহঙ্কারী হয়ে উঠলেন। এমনকি ভগবান রামের সঙ্গেও যুদ্ধ করতে তার বুক কাঁপল না। কোথায় আজ মানবতা ? মনুষ্যত্ব কি জিনিস ? বিশ্ব শান্তি কাকে বলে ? এসব খায় না মাথায় দেয় ? রাজনীতি, কূটনীতি, বিদেশনীতি ,পররাষ্ট্রনীতি , ধর্ম, জিহাদ, ইসলাম, ইহুদি কে, কখন কবে সমর্থন করেছে এই হত্যালীলা ? আল্লহ আজ কাদের পক্ষে ? হাসপাতালের করিডরে শুয়ে থাকা সারি সারি নিথর দেহ বা কবরে চিরনিদ্রিত শিশুদের জীবনের বিনিময়ে কোন উদ্দেশ্য চরিতার্থ হচ্ছে ? মুসলমান আর ইহুদির দের রক্তের রং কি আলাদা ?
আমরা বৃহত্তম গণতন্ত্রের গর্ব করি। কিন্তু দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সুদিন আনার সরকার গত দশ দিনে এই ভয়াভয়তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা তো দুরের কথা সংসদে এই নিয়ে আলোচনার সুযোগও দেয়নি। ‘বন্ধু’ ইজরায়েল কে আড়াল করতে ধরি মাছ না ছুই পানি -র অবস্থা। বিশাল রাষ্ট্র শক্তি যখন ঠুটো জগন্নাথ কার কাছে প্রতিকার চাইব আমরা? এইরূপ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই, শান্তি চাই। অনুরোধে, মিনতিতে, দাবি-দাওয়ায় এবং আরতির ছলে বলছি—আমরা সাধারণ জনতার শুধু আর শুধুই স্বাভাবিক মৃত্যুই চাই।
আর ‘মানুষ’ হয়ে আমরা যদি যুদ্ধের পাশবিকতা কে মেনে নিতে পারি, সবকিছু ভুলে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একসাথে গর্জে না উঠতে পারি তাহলে বোধহয় সেই তাসের দেশেই ফিরে যাওয়া ভালো যেখানে যুদ্ধে নেই রাগারাগি, রস, কামান, বন্দুক ...

রাজপুত্রঃ ... একটা কথা জিজ্ঞাসা করি, ঐ পাড়ির উপরে কী করছিলে দল বেঁধে।
ছক্কাঃ যুদ্ধ ।
রাজপুত্রঃ তাকে বলে যুদ্ধ?
পঞ্জাঃ নিশ্চয়! অতি বিশুদ্ধ নিয়মে। তাসবংশোচিত আচার-অনুসারে।

আমরা চিত্র, অতি বিচিত্র,
অতি বিশুদ্ধ, অতি পবিত্র।

সদাগরঃ তা হোক। যুদ্ধে একটু রাগারাগি না হলে রস থাকে না।
ছক্কাঃ আমাদের রাগ রঙে।
আমাদের যুদ্ধ—

নহে কেহ ক্রুদ্ধ,
ওই দেখো গোলাম
অতিশয় মোলাম।

সদাগরঃ তা হোক্‌-না, তবু কামান-বন্দুকটা যুদ্ধক্ষেত্রে মানায় ভালো।

পঞ্জাঃ
নাহি কোনো অস্ত্র,
খাকি-রাঙা বস্ত্র।
নাহি লোভ,
নাহি ক্ষোভ,
নাহি লাফ,
নাহি ঝাঁপ।

রাজপুত্রঃ নাই রইল, তবু একটা নালিশ থাকা চাই তো। তাই নিয়েই তো দুই পক্ষে লড়াই।

ছক্কাঃ
যথারীতি জানি
সেইমতে মানি,
কে তোমার শত্রু, কে তোমার মিত্র,
কে তোমার টক্কা, কে তোমার ফক্কা।


photo courtesy: blood palestine

আপনার মতামত জানান