একটি (অ)মানবিক শ্বেতপত্র

ইন্দ্রনীল বক্সী

 


ফটো- সজারু



মাননীয় ......
ঈশে ( ! ! ঠিক বুঝতে পারছি না কাকে এড্রেস করা উচিত ! )
আপনাকে আমার / আমদিগের বিনীত প্রণাম

আপনি হয়তো অবগত আছেন যে, কিছুদিন যাবতই আমাদের সকলেই, বিভিন্ন গোষ্ঠী-বর্ণ নির্বিশেষে এক চূড়ান্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি । আমাদের মতো নিরীহ , শান্তি প্রিয়দের কোন এক অভিশাপে বিগত মাস খানেক যাবৎ নানান নিপীড়ন – শোষণ সহ্য করতে হচ্ছে । এমনিতেই আপনাদের স্বজাতিরা আমাদের নানা ভাবে হীন-জ্ঞান ও অপমান করেই থাকে । এমনকি কাউকে হেয় করতে , রোষ প্রকাশে , অপমানার্থে আমাদের ‘জাত’ তুলে আমাদের সন্তানদের সঙ্গে তুল্য করে সম্বোধন করে থাকে চূড়ান্ত অবমাননার সঙ্গে , তার ওপর এই বিপত্তি ! কি বলবো ! আমাদের নিয়ে যা নয় তাই করা হচ্ছে স্যার ! আমাদের মান –ইজ্জতের পরোয়া করা হচ্ছে না ! আমাদের ব্যাক্তি স্বাধীনতা , ‘জঞ্জালের অধিকার’ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে ক্রমাগত । এতদিনের গণতান্ত্রিক সৌহার্দ ও সহাবস্থানের পরিবেশকে কলুষিত করা হচ্ছে , পাইকারি রেটে আমাদের গ্রেফতার করে চালান করা হচ্ছে বিভিন্ন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে । এর সঙ্গে শুধু হিটলারের হোলা-কাস্টেরই তুলনা চলে বলে মতামত আমাদের ‘জঞ্জাল ও ডোবা-রক্ষা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদকের । এমনকি ‘ শহরের বস্তি এলাকার খারাপ ও গ্রামের মুক্ত পরিবেশে ভালো’ – এভাবে প্রচার করে আমাদের ঐক্যে বিভাজন আনার চেষ্টাও করা হচ্ছে । এসবে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা আমাদের মালিকদের ,তারাও এই সুযোগে কিছু মুনাফা ঘরে তুলছেন ! কেউ কেউ বিনিময়ে প্রথাতেও লাভবান হচ্ছেন । কিন্তু আমাদের ! কি বলবো স্যার হিটলারের আইখম্যানের মতো নিত্য নতুন বন্দোবস্ত করা হচ্ছে আমাদের অত্যাচারের , কোথাও পরিষ্কার ফাঁকা ময়দানে বেড়া দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে কোথাও বা মশারি নামক এক মিহি জালে আমাদের ঘিরে ফেলা হচ্ছে । মানসিক অত্যাচারের জন্য এক জায়গায় আবার সি সি ক্যামেরাও লাগানো হয়েছে আমাদের প্রতি মুহূর্তের ছবি ধরে রাখার জন্য ! আমাদের স্যার প্রাইভেসি বলে আর কিছু রইলোনা । আপনিই বলুন আমরাও তো আপনাদের মতোই বউ-মেয়ে নিয়ে বাস করি ! এটা কি একটা বিরাট অন্যায় হলোনা ?
পত্রের দীর্ঘতা বাড়িয়ে আপনার বিরক্তি বাড়াবোনা । প্রসঙ্গত শুধু বলি এসবের জন্য কিন্তু আমাদের বিন্দুমাত্র দোষ নেই । যে এনকেফেলাইটিস( ইদানীং শুনছি এনসেফেলাইটিস) রোগের জাপানি জ্ঞাতির প্রকোপে আপনারা যারপরনাই ভীত , সেটি ছড়ানোর মূল চক্রী মশারা । আমরাতো স্যার আপনাদেরই আশেপাশে বসবাস করেই অভ্যস্থ , আমরা কাউকে কামড়াইনা ,বরং আমরাই শহীদ হই আপনাদের রসনা তৃপ্তিতে। যাইহোক স্যার আপাতত একটা স্থিতাবস্থায় আসুন নইলে যে আর পারা যাচ্ছে না , কিছুদিন পরে নাহয় আবার আমাদের হাসপাতাল এলাকার অভয় উদ্যানে ফিরে যাবো , যেমন এতদিন আপনাদের আনুকূল্যে ছিলাম । আপনাদের ডাক্তারেরা আপনাদের ঢপ দিয়েছে তার রাগ স্যার আমাদের ওপর নাই বা নিলেন । বেশতো ছিলাম এক সঙ্গে , আসুন একত্রে হাত মিলিয়ে জঞ্জাল ও খোঁয়াড় দিয়ে শহর ঘিরি । আপনাদের মধ্যে ধর্মে ও কর্মে আমাদের সঙ্গে সাদৃশ্য আছে এমন কয়েকজন আমাদের নেক নজরে আছে , আমাদের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতেই পারেন ।

আমাদের আর্জি সমবেদনার সঙ্গে বিচার করবেন এই আশা রাখছি
ধন্যবাদসহ
‘নিপীড়িত বরাহ মঞ্চ’-এর পক্ষে
তাং ১০/০৮/১৪ শ্রী মিহির বরাহ
বরাহনগর

আপনার মতামত জানান