গণতন্ত্রের জন্যে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক?

সরোজ দরবার

 

সোস্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে কে যেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বয়ানে মস্করা করে লিখেছেন, তাঁর ফাইভ মিস্টেক অফ লাইফ হল, ২জি, ৩জি, সোনিয়াজি, রাহুলজি, আর জিজাজি। যতই মস্করা হোক, ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের এহেন নির্মল ব্যাখ্যা আর নেই। দীর্ঘদিন প্রসাসনের অন্দরমহলে বিচরণ করা এবং তথাকথিত ‘অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ অবশ্য সিঁদুরে মেঘ বহুদিন আগেই দেখেছিলেন। শুধু সেই আশঙ্কা মেঘের রঙের ৩৩৪ ছটা আজ হীরাবেন মোদীর কপালে পরিয়ে দিলেন এই যা।
সত্যি বলতে এমন সাজেশনের সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলের এমন জলবৎ তরলং সম্পর্ক কোনও মাধ্যমিকের ছেলেও আশা করবে না। সারা দেশ যে এবার উৎফুল্ল চিত্তে ডান্ডিয়া নেচে কোমর বেঁধে পদ্মফুল তুলতে নেমে পড়বে, এ বলতে আর বুথফেরথ সমীক্ষার বিশেষজ্ঞ হওয়ার কী দরকার, নিদেন ফুটপাথে পায়রা নিয়ে বসা জ্যোতিষি হলেও চলত।তবু কেউ কেউ একটু মিহি সুরে বলতে চেয়েছিল, এতই যদি ক্যারিশমা তাহলে দু’জায়গা থেকে দাঁড়ানো কেন? আরে আহাম্মক! বীরভোগ্যা এ বসুন্ধরায় পরাজিতের জন্য যাহা অস্ত্বিত্বের সংকট, জয়ীর জন্য তাহাই তো এলেম। আর সেইসব দাঙ্গা না কী সব যেন, তার স্মৃতিও কি গেল ধুয়ে মুছে?দূর ছাই, যে জেনরেসন ফেসবুকে মোদীর পেজে এত লাইক-শেয়ার দিয়েছিল, তাদের অত মনে রাখার কী দায় আছে? আর আদালত বলেও তো একটা বস্তু আছে না কি। স্মৃতি এমনিতেই বেয়াড়া বস্তু। সুতরাং ওকে বিদেয় দিয়ে বরং সুনামিতে সমর্থনের প্রণামী দিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
বারবাড়ি থেকে অন্দরের দিকে তাকালেও তো সেই অপ্রত্যাশিত সাফল্য। বাবা তারকনাথের কৃপা থাকলে সারদার সাধ্য কি যে চ্যালেঞ্জ ঠুকে দাদার কীর্তি আটকায়? ফস করে কেউ কেউ দলিল দস্তাবেজ বের করে হৈ হল্লা করল বটে, কিন্তু তুমি মহারাজ সাধু হবে, এরা যে এতখানি চোর নয় বটে!সুতরাং অবুঝ মন সব সবুজ হয়ে গেল। কিন্তু হলে কি হবে? ঘরের ছেলে আশাতীত ফল করল, আর স্কুলের ফার্স্ট প্রাইজটা মেরে দিয়ে গেল পাশের বাড়ির ছেলেটা। এ জ্বালা কী যে জ্বালা...যে না বুঝিস সে দিল্লি পালা।
কথা হল, সব চুকেবুকে গেল। হরিদাস পাল আর কোমরের দড়ির আপাতত বছর পাঁচেকের ছুটি। এখন তিস্তার জল গড়ায় না আটকায়, রাম রাজ্য না আম(জনতা) রাজ্য কে বেশি ‘মোদি’র সুরায় মজে সেটাই দেখার। দেশ কর্পোরেট হবে না মাথা হেঁট হবে, সেনসেক্স নাকি থার্ড সেক্স কে বেশি খবরের কাগজের পাতা দখল করবে, সেতো ক্রমশ প্রকাশ্য। আপাতত হাতের তাশ পড়ে গেছে। খেলার দান তুলে নিয়ে গেছে অন্য লোকে। এবার সে কি দান দেয় তার জন্যেই তাকিয়ে থাকতে হবে পাঁচটা বছর?
তবু শুধুই কি তাই? প্রতিনিধি বেছে দিলেই যদি হারানিধি পাওয়া হয়ে যেত, তাহলে আর এত কথার কী! কিন্তু ঘরে কাজের মাসি কতটা কাজ করল তাও তো কড়া নজরে খেয়াল করি। পাছে সে ফাঁকা দেয়। তো এই প্রতিনিধি কতটা কাজ করল তার মনিটারিংটাও তো করতে হবে। আরে প্রতিনিধিত্বমূলক গণত্নত্রেই তো বাস করছেন নাকি? আর গরীবগুর্বো গুলোর কথা ছেড়ে দিন, ওরা দুটো খেতে পরতে থাকতে পারলেই বেঁচে যায়। আপনি, মানে জিনি আরবান এডুকেটেড এলিট, তাঁদের কিন্তু দায়িত্ব থাকল গণতন্ত্রের ইজ্জত রক্ষা করারা।
গণতন্ত্র বলতে গিয়ে একটা কথা হঠাৎ মনে হল, এই একটা কথা বলে শাসক বিরোধী দু দলই ফায়দা লোটে, এ বলে গণতন্ত্র নেই, ও বলে না থাকলে নেই যে সে কথাটাই বা বলছে কি করে প্রকাশ্যে। তবে কি এটাও আসলে পলিটিক্সের খেলনা শব্দই হয়ে উঠছে আসলে?
শুনলাম, রাখি সাওয়ন্তও নাকি কয়েকটা ভোট পেয়েছেন?
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র!
বলি এই ভোট, গণতন্ত্র, আমরা এসবের জন্য আদৌ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠেছি তো?

আপনার মতামত জানান