নিবিড় সুখের মধুর দুখের অনিরুদ্ধ সঙ্গীত

কেয়া মুখোপাধ্যায়

 



একটা ৭৮ আরপিএম-এর লং-প্লেইং রেকর্ড গ্রামোফোনে ঘুরছে আর সারা ঘর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মেঘমন্দ্র কন্ঠের এক আশ্চর্য উচ্চারণঃ
‘This weariness forgive me O my Lord
If ever on my way, I fall behind
This trembling in my heart
That shakes me so today
This aching pain forgive O Lord,
Forgive O Lord, forgive O Lord forgive..’

কী অসামান্য ব্যারিটোন! কে গেয়েছেন এমন গান? বাবা বললেন, জর্জ বিশ্বাস। জর্জ? ও, সাহেব! তাই এমন অমোঘ, অপূর্ব উচ্চারণ! সুরটা গুনগুন করতে ঘর থেকে বেরোতে যাচ্ছি, শুরু হল- ‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু।’ আর যাওয়া হল না। সেই যে এক অদম্য আকর্ষণে পর পর বাকি গানগুলো শুনতে বসে পড়লাম, ছোটবেলার সেই মুগ্ধতা বয়ে চলেছি আজও। এ মুগ্ধতা রবীন্দ্রনাথের গানের এক সাধকের গায়কীতে। তিনি দেবব্রত বিশ্বাস। না, গায়ক নন; তিনি রবীন্দ্র গানের এক সাধক।
অবিভক্ত বাংলার কিশোরগঞ্জের বালকটির সুরের দীক্ষা মায়ের কাছে। পরে বলেছেন ‘আমি মায়ের কোলে বইস্যা রবিবাবুর গান শিখছি।’ তিন ভাইবোন মায়ের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইতেন ব্রহ্মসঙ্গীত, উপাসনার গান; লুকিয়ে চলে যেতেন মুকুন্দদাসের গান শুনতে। সন্ধ্যের আলো জ্বলবার আগে, বাবা বাড়ি ফেরবার আগেই দৌড়তে দৌড়তে বাড়ি। কিন্তু ব্রাহ্ম ছিলেন বলে ওই বালক বয়স থেকেই হিন্দুদের প্রাতিষ্ঠানিকতার কাছে তাঁকে বার বার লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। ‘ম্লেচ্ছ’ বলে ঠেলে দেওয়া হয়েছে সমাজের প্রান্তে; সমবয়সী ছেলেদের সঙ্গে প্রাণ ভরে খেলতে পারেননি, মন খুলে কথা বলতে পারেন নি। তখন থেকেই বোধহয় প্রথা ভাঙার মানসিকতা গড়ে উঠছিল ধীরে ধীরে। গানেও তিনি ছিলেন এক স্বতন্ত্র পথের পথিক। স্বরলিপির অন্ধ অনুসরণ নয়, রবীন্দ্রনাথের গানের প্রকৃত মর্মার্থ যাতে হৃদয়ে পৌঁছতে পারে, তাই ছিল তাঁর আজীবনের সাধনা।
কেন ভালোবাসি তাঁর গান? সেই ছোটবেলায় সব থেকে বেশি যা মন কেড়ে নিয়েছিল তা হল ওই কন্ঠস্বর। ওই মেঘমন্দ্র কন্ঠে এক একটি শব্দের গভীর অনুভবময় উচ্চারণ একেবারে মর্মে গিয়ে লাগে। গানের অর্থ যেন আপনি ধরা দেয়। ‘তোমার কাছে এ বর মাগি, মরণ হতে যেন জাগি/ গানের সুরে’- ‘গানের সুরে’-শব্দ দুটির উচ্চারণে মৃত্যুকে অতিক্রম করে যাবার গৌরব যেন ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। ‘বড় আশা ক'রে এসেছি গো, কাছে ডেকে লও’ গাইতে গাইতে যখন বলেন- ‘দীনহীনে কেহ চাহে না, তুমি তারে রাখিবে জানি গো,’ তখন জননীর প্রতি সকরুণ অভিমান যেভাবে ফুটে ওঠে ‘কেহ চাহে না’-র মধ্যে, তেমনটা আর শুনিনি। এ যেন গায়কের অন্তরের একান্ত অভিমানের প্রকাশ জননীর কাছে। ওই ভাবে শুধু দেবব্রত বিশ্বাসই বলতে পারেন। কিন্তু মায়ের প্রতি এই অভিমানের জায়গাটি তো শুধু গায়কের নয়; সে তো শ্রোতার মনেও থাকতে পারে। আর তাই তাঁর গায়কীতে গায়ক আর শ্রোতার অন্তর জুড়ে যেন অভিমানের সেতু বাঁধা হয়ে যায়। তাঁর গাওয়া এ গান একবার কানে বসে গেলে আর কারও গাওয়াটা কানে ধরবে না। ঠিক তেমনই, ‘কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে’ গানে অমন করে ‘মা’ বলতে শুধু তিনিই পারেন। সুরের দীক্ষা, সঙ্গীতের অনুভব কতখানি গভীরতাস্পর্শী হলে তবে ‘মা, আমি তোর কী করেছি’ গানের শুরুতেই ওইভাবে ‘মা’ বলা যায়! এই ‘মা’ ডাকে যেন সব সন্তানের অন্তরের আকূতি ফুটে ওঠে, এই ‘মা’ ডাক সম্মোহিত করে। এ কখনো স্বরলিপির অন্ধ অনুসরণ করে সম্ভব নয়, এ যেন বলা কথার মধ্যেকার না বলা কথাগুলিকেও ছুঁয়ে গভীর চলাচল, গভীর বোধ ছাড়া যা অসম্ভব।
দেবব্রত বিশ্বাসের গায়কীতে আর একটি গান আমার ভারি প্রিয়- ‘আমার যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে।’ এ গানে ‘আজি পুবের হাওয়ায় হাওয়ায় হায় হায় হায় রে’ গাইবার সময় ‘হায় হায় হায়’ এর হাহাকার অমন করে শুধু দেবব্রত বিশ্বাসই করতে পারেন; ‘তার ছিঁড়ে গেছে কবে এক দিন কোন্‌ হাহারবে’-র মত অমন ‘হাহা’ রবও আর শুনিনি কোনওদিন। আজকাল ‘র’ আর ‘ড়’ এর তফাৎ ধরা পড়ে না অনেকের গানে। তাই সম্মোহিত হই ‘বহু যুগের ও পার হতে আষাঢ় এল আমার মনে’ শুনে। মেঘমন্দ্র উচ্চারণে অমন ‘আষাঢ়’ আর কাউকে বলতে শুনলাম না! সেইরকম ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি’ একবার ওই কন্ঠে শুনলে আর কি অন্য কোন গায়কী কানে বসবে? ঝড়ের রাতে পরমের আগমনের গভীর বার্তা তাঁর মত এমন আবেগে আর কেউ কি জানাতে পেরেছেন!
আর যে গানটির কথা না বললেই নয়, তা হল ‘আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ।’ যতবার শুনি, ওই মেঘগম্ভীর ‘ভরা’ উচ্চারণ মন কেড়ে নেয়! ঘাসে ঘাসে পা ফেলে চলার আনন্দ আর বিস্ময় এমন মরমিতায় কে গেয়েছেন আর! ফুলের গন্ধের চমক স্পর্শ করে ‘বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান’- এইটুকু অংশ যেন বার বার শুনতে ইচ্ছে করে। ছাত্রদের এই গানটি শেখাবার সময় দেবব্রত বিশ্বাস ‘তাহারি মাঝখানে’ জায়গাটি বার বার গাইতে বলতেন। বলতেন- ‘feel করেন you are surrounded by the cosmic elements and energies। আপনি তার মাঝখানে, feel করেন।’ বলতেন, ওই মাঝখানের ‘খান’ এর মধ্যে ধরা আছে ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’-র শাশ্বত সুরটি।
একবার এক বিশিষ্ট গায়িকা আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিক্ষিকা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সকাল বেলায় এসেছেন জর্জদার কাছে, ‘তোমার দ্বারে কেন আসি ভুলেই যে যাই’ গানটি শিখবেন। হাতে স্বরবিতান। দ্বিতীয় অন্তরা শেখানো চলছে- ‘একটি চাওয়া ভিতর হতে ফুটবে তোমার ভোর-আলোতে/প্রাণের স্রোতে-/অন্তরে সেই গভীর আশা বয়ে বেড়াই।’ গায়িকা শিক্ষিকাটি যতবার ‘একটি চাওয়া’ লাইনটি গাইছেন, ততবার জর্জদা একটু হেসে বলছেন- ‘অইলো না। আবার গান।’ নিজে গেয়ে দেখিয়েও দিচ্ছেন। গায়িকাটি আবার গাইছেন, জর্জদা আবারও বাতিল করে দিচ্ছেন। খানিকক্ষণ এমন চলার পর গায়িকাটি বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন- ‘আপনার প্রব্লেমটা কী বলুন তো জর্জদা! স্বরলিপি দেখে আপনি যা গাইছেন, আমিও তো তাই গাইছি। তবে হচ্ছে না কেন?’ দুটো পান মুখে পুরে জর্জদা হেসে বললেন- ‘দিদিমণি, রবীন্দ্রনাথ সেরিব্রাল। সে দোষডা কি আমার? প্রথম অন্তরায় কইসেন ‘সে-সব চাওয়া ’ আর দ্বিতীয় অন্তরায় কইত্যাসেন ‘একটি চাওয়া।’ সব চাওয়া আর একটি চাওয়া কি একই ভাবে কওন যায়? A single solitary desire…from within। আর ওই যে ‘ভোর-আলোতে’- শুনেন, রবীন্দ্রনাথের ভোর হয় চাইরটার সময়। আপনার ভোর হইত্যাছে বেলা দশটায়। অমন জোরে, অমন স্পষ্ট কইর‍্যা ভোর হয় না। ভোর হয় অস্ফুটে। সেটা ফিল করতে হইবো। ভিস্যুয়ালাইজ করতে হইবো। তবে গিয়া রবীন্দ্রনাথের গান হইবো।’ কী গভীর দৃষ্টি, কী অসামান্য বিশ্লেষণ তাঁর প্রতিটি গানে। এই হলেন দেবব্রত বিশ্বাস।
আর একবার এক ছাত্রকে শেখাচ্ছিলেন ‘গোধূলিগগনে মেঘে ঢেকেছিল তারা।’ গানের ‘চেয়েছিনু যবে মুখে তোলো নাই আঁখি/ আঁধারে নীরব ব্যথা দিয়েছিল ঢাকি’ অংশটি ঠিক মত হচ্ছিল না। জর্জদা বললেন, ‘Co-ed এ তো পড়েন, প্র্যাম করেন? আপনার গান শুইন্যা আপনার প্র্যামে কেউ পড়ে? কি জানেন, এই “আঁখি”-ডা প্র্যামে না পড়লে দেহন যায় না।’
‘আজি শ্রাবণঘন গহন মোহে’ আর একটি গান, যা তাঁর অনবদ্য গায়নে হৃদয় স্পর্শ করে। আগের দিনের শেখা গানটি গাইবার সময় পকেট থেকে কাগজ বের করে শুরু করতে যাবেন এক ছাত্র, জর্জদা তো রেগে আগুন! বললেন, “‘কূজনহীন কাননভূমি’ আপনি পাতা দেইখ্যা গাইবেন? এদ্দূর গ্যাসেন! আপনার পিতার নাম কেউ জিগাইলে তহন কি আপনি পকেট থিক্যা কাগজ বায়ের করেন!” রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত ভাবনার নির্যাস হৃদয়ে না নিতে পারলে যে তাঁর গান হয় না, এই হল তাঁর স্পষ্ট কথা।
তাঁর বাড়ি ছিল অবারিত দ্বার। আড্ডা চলত, বিশিষ্ট জনেরা আসতেন। একবার নিজেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার গান লোকের এত ভালো লাগে কেন? যদি বলেন গলার আওয়াজ, তবে হেমন্তবাবুর গলার আওয়াজ আমার থেকে অনেক গুণ ভালো- তবু রবীন্দ্রনাথের গানে আমাকে লোকে এত চায় কেন? এত ভালোবাসা কেন?’ সবাই চুপ। নিজেই বললেন- ‘শোনেন, আমার গান হুইন্যা হক্কলের মনে হয় গানডা যেন আমারই লিখা, আমারই সুর করা আর আমারই গাওয়া- অর্থাৎ ইডা রবিবাবুর গান নয়, আমার গান। এই বোধটা আমি বুঝাইতে পারসি। I do believe those songs.’
১৯২৮ সালে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথকে প্রথম দেখলেন দেবব্রত বিশ্বাস। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, যতদিন পর্যন্ত এদেশে শিক্ষার প্রসার না হবে, ততদিন পর্যন্ত আধ্যাত্মিকতা আর দেশাত্মবোধ কথা দুটি অর্থহীন। এই কথাটা গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল তাঁর জীবনে। রবীন্দ্রনাথের গান বোঝার জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতেন তিনি। ছাত্র ছাত্রীদেরও বলতেন, গানের বাণীটা পড়ো। অন্তরে অনুভব করো। নান্দনিকতা বা বিনোদনের চেয়ে রবীন্দ্রনাথের গানের গঠনের দিকেই তাঁর নজর ছিল বেশি, যাতে প্রকৃত অর্থটুকু সকলের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়।
বিশ্বভারতী মিউজিক বোর্ডের সঙ্গে তাঁর বিরোধের কথা সবাই জানি। শেষ কয়েক বছর অভিমানে গান রেকর্ড করেননি। বাইরের অনুষ্ঠান থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর ভালোবাসা, সে গান গাইতেন শুধু বাড়িতে, নিজের মত করে। তবু তারই মধ্যে একবার একটি ব্যতিক্রম ঘটেছিল। একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন তিনি। সে ঘটনার কথা বলে গেছেন ৩০ শে জুলাই, ১৯৮০ সালে করা একটি টেপে, যেখানে অন্তরঙ্গ গল্পের মধ্যে দিয়ে নিজের সঙ্গীত জীবন সম্পর্কে নানা কথা বলেছেন তাঁর গভীর রসবোধের মিশেল দিয়ে। “একদিন আমার এইখানে একজন আইস্যা উপস্থিত। আমি কই, আপনি কে? তা কয় ‘আমি উত্তম কুমার। সিনেমা করি।’ আমি কই, মিথ্যা কথা! আপনে যদি সত্যই উত্তমকুমার হইতেন, তো আমার বাসার সামনে ভিড় ভাইঙ্গা পড়ত। তা যখন হয় নাই, আপনে উত্তম কুমার নন। তা সে প্রণাম কইর‍্যা কইল, ‘আমি রুমালে মুখ ঢাইক্যা দৌড়ে আসছি। কেউ দ্যাখে নাই।’ আমি কই, বসেন। কী বলবেন বলেন। কয়, ‘আমি একটা চ্যারিটি শো করত্যাছি শিল্পী সংসদের জন্য। দুঃস্থ শিল্পীদের সাহায্য করা হইব। আপনি যদি একটু গান গাইতেন।’ আমি কই, আমি তো গান গাওয়া বন্ধ কইর‍্যা দিছি। কয়, ‘ওইজন্যই তো আমি নিজে এসেছি। যদি অনুগ্রহ করেন, আমাদের উদ্দেশ্য সফল হয়।’ মানে টিকিট ফিকিট বিক্রি হইব আর কি! শ্যাষ পর্যন্ত রাজি হইলাম। তবে কইলাম, আমার একটা শর্ত আছে। কয়, বলুন কী শর্ত? আমি কই, আমি গান গামু কিন্তু আমার নাম আপনারা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁর তো মাথায় বজ্রাঘাত। শ্যাষে কী করল জান? বিজ্ঞাপন দিল, ‘...ও একজন প্রখ্যাত ও বিতর্কিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী।’ এটিই সম্ভবত দেবব্রত বিশ্বাসের শেষ অনুষ্ঠান; আর উত্তমকুমারের আয়োজনে শিল্পী সংসদের শেষ অনুষ্ঠানও। ১৯৮০ সালের ২৪ শে জুলাই উত্তমকুমার প্রয়াত হন। আর তার কয়েকদিন পরেই ১৮ই অগাস্ট খুব জানা, অল্প জানা আর না-জানা গানের বিপুল সম্ভার রেখে চলে গেলেন দেবব্রত বিশ্বাস।
যে কোন গান তো প্রথমে গায়কের নিজের- ‘এক মনে তোর এক তারাতে/একটি যে সুর সেইটি বাজা।’ তারপর সে গান হয় দু’জনের, একজন গায়ক আর একজন শ্রোতার- ‘একাকী গায়কের নহে তো গান/ মিলিতে হবে দুইজনে।’ নিজের অনুভব আর স্বতন্ত্র গায়কীতে, গায়ক আর শ্রোতার হৃদয়ের সেই নিবিড় যোগ তৈরি করে গেছেন দেবব্রত বিশ্বাস। আমাদের অন্তরে দিয়ে গেছেন অনুভবের সেই আগুনের পরশমণি।
দেবব্রত বিশ্বাস বলতেন- ‘একজন শিল্পীর আসল জীবন শুরু হয় তার মৃত্যুর পর। ওখানে দল পাকানো চলে না। ক্ষমতা যে দ্যাখাইবা তার উপায় নাই। তখন আগামী দিনের দর্শক শ্রোতারাই শুধু সত্যি। তারাই বিচারক, কিন্তু যার বিচা্র অইবো, সে পঞ্চভূতে মিলাইয়া গেছে।’ এ যে কত বড় সত্য, আমরা জানি। তাঁর গায়ন চিরজীবিত, চিরউজ্জ্বল আমাদের হৃদয়ে।
রবি ঠাকুরের গান তানের নয়, প্রাণের। আর দেবব্রত বিশ্বাস আমার কছে সেই প্রাণের গানের এক অলৌকিক গন্ধর্ব কিংবা এক মুকুটহীন রাজা। আমি তাঁর চিরকালের শ্রোতা। নব ঘন বরিষনে ছায়া ঘনিয়ে ওঠা বনে বনে পাতায় পাতায় বিন্দু বিন্দু জল কেমন করে ঝরে কিংবা কুসুমে কুসুমে আগামী বসন্ত কীভাবে চরণ চিহ্ন এঁকে যায়, তা মূর্ত হয়ে ওঠে তাঁর গানে। আর তা শুনতে শুনতে যেন রবীন্দ্রনাথের গানের হৃদয়কে স্পর্শ করা যায়।

আপনার মতামত জানান