সুনীলদা- দেখা না দেখায় মেশা

কেয়া মুখোপাধ্যায়

 



এবার তাহলে ফোনটা করে ফেলা যাক। এই নিয়ে প্রায় বার দশেক হল নিজেকে বলছি কথাটা। হাতে ফোন নম্বরটা ধরা, মনে মনে প্রস্তুতি চলছে কী বলব তার। কিন্তু ওই অবধিই। ফোনটা করা আর হয়ে উঠছে না। ব্যাপারটা হল, সেবার ৭ই সেপ্টেম্বর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আকাশবাণীর এফএম-এ কফিহাউসের আড্ডা নিয়ে অনুষ্ঠান। সেদিন রাত দশটা থেকে বারোটা ‘আজ রাতে’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তাঁকে স্টুডিওতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ। তখন কলেজ। সবে চারদিন আগে বিকেলবেলা জীবনের প্রথম দু’ঘন্টার লাইভ টক শো হোস্ট করেছি। তারপরই আজ রাতে এবং কফি হাউস। কফিহাউসের আড্ডা নিয়ে অনুষ্ঠানের ইচ্ছে আমিই প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু জীবনের দ্বিতীয় অনুষ্ঠানই সেটা হবে, ভাবতে পারিনি। তারপর আবার প্রোগ্রাম এক্সিকিউটভ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ফোন নম্বরটা লিখে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, তাহলে কাল সকালে কথা বলে নিয়ে আমাকে জানিও। সেই ফোনেরই প্রস্তুতি।
সেই ছোটবেলা থেকে তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচয়। কিন্তু সরাসরি কথা বলা! যাইহোক, দ্বিধা কাটিয়ে শেষমেশ করেই ফেললাম।
রিং হবার পর ওদিক থেকে একটা শান্ত গলায় দীর্ঘ ‘হ্যালো...’
ব্যস! গড়গড় করে বলে ফেললাম,
‘আগামী সাতই সেপ্টেম্বর কফিহাউস নিয়ে আড্ডা এফএমে। আপনাকে স্টুডিওতে অতিথি হিসেবে চাই। আপনাকে ছাড়া কি কফি হাউসের আড্ডা হয়?
ওদিকে মৃদু হাসি। তারপর উত্তর এল,
-কেন হবে না? মান্না দে-কে নিয়েও চমৎকার হয়। আহা কি দারুণ গানটা বলো।।
শুনিয়েই দিলেন দু-কলি। ব্যস! আমি পুরো বোল্ড আউট। তবু একটু যুক্তি খাড়া করার আপ্রাণ চেষ্টা-
-নিশ্চয়ই। ওই গানটা তো ইতিহাস। কিন্তু আমরা আসলে শুনতে চাইছি আমাদের কবি- সাহিত্যিকদের কথা, তাঁদের সৃষ্টির গোড়ার দিনগুলোতে কী অনিবার্যভাবে মিশে ছিল কফিহাউস – সেই সব গল্প।
-শুধু পুরোন দিন? এখনো তো যান অনেকে। আমি অবশ্য পারি না খুব বেশি যেতে...কফি হাউস পত্রিকায় কফি হাউস নিয়ে আমার একটা কবিতা বেরিয়েছিল জানো অনেকদিন আগে...
এইভাবে গল্প শুরু হল। কী ভেবেছি, কেমন করে তিনি স্টুডিওতে থাকলে তাঁর বন্ধু সাহিত্যিকদেরও ফোন করা যেতে পারে আড্ডা দিতে, শ্রোতারাও যে সরাসরি ফোন করে প্রশ্ন করতে পারেন, সেসব শুনে বেশ মজা পেলেন।
-কিন্তু ওই সাত তারিখ দিনটাই বড় গোলমাল করে দিল। আসলে ওইদিন আমার জন্মদিন তো। কলকাতায় থাকলে আমার বন্ধুরা এবং বান্ধবীরাও সবাই এক সঙ্গে এক জায়গায় মিলে একটু হৈ চৈ করে আনন্দ করে। তাই আমি মোটেও ছাড়া পাবো না তার থেকে। আর সে সব শেষ হলে, ছাড়া পেলে, তখন আর তোমাদের ওখানে গিয়ে আড্ডা দেবার মত অবস্থায় আর থাকবো না।
মন খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু নিজেই একটা সমাধান করে দিলেন।
-তুমি বরং এক কাজ করো। রোববার সকালবেলা আমার বাড়িতে চলে এস। তখনই আডা দিতে দিতে যা জানার জেনে নিও।
ব্যস! হাতে শুধু চাঁদ নয়; গোটা আকাশটাই প্রায় হাতের মুঠোয়।
পৌঁছে গেলাম রোববারের সকালে পারিজাতে। কিন্তু এ কি! এই অ্যাত্তো লোক সকাল বেলা! কী করছেন সবাই!
নিজেই বললেন, ‘কি জানো, আমি কলকাতায় থাকলে বেশির ভাগ রোববার সকালেই অনেকে চলে আসেন। নতুন যেসব ছেলেমেয়েরা লিখছে তারাও অনেকে আসে। নতুন লেখা শোনায়। আড্ডা হয়। তোমার তাড়া নেই তো? তুমিও আড্ডায় ঢুকে পড়। সবরকম আড্ডা চলে, শুধু নিন্দে-মন্দ ছাড়া। ওসবে মন বড় ছোট হয়ে যায়। এই দেখো, একজন তালের বড়া করে এনেছেন। শুরু করে দাও। তারপর চা আসছে।’
এত লেখা, এত নাম, তারপরেও কি সহজ! যেন কতকালের চেনা! আর সবার মত নিমেষে আমারও সুনীলদা হয়ে গেলেন। তাই আড্ডায় মিশে যেতে দেরি হল না একটুও। এ-বাঁক ও-বাঁক ঘুরে আড্ডা বয়ে চলল তরতরিয়ে। মাঝে মাঝে কেউ ব্যাগ থেকে খাতা বের করে কবিতা শোনাচ্ছেন। সুনীলদা শুনছেন নিবিষ্ট মনে। কখনো মাথা ঝাঁকাচ্ছেন। মতামত দিচ্ছেন। আবার কখনো ‘আমি হলে হয়তো এই রকম বলতাম’, বলে শোনাচ্ছেন নিজের ভাবনার কথা। চেনা মুখদের মধ্যে শ্রীজাত ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে এসে ঢুকলেন লম্বা, ছিপছিপে এক তরুণী; হাতে কয়েকটি গন্ধরাজ। চোখ বন্ধ করে ঘ্রাণ নিয়ে বললেন ‘আহ! সত্যি ফুলের রাজা।’ গন্ধরাজই তাঁর সেদিনের সেরা উপহার। ওই তরুণীই মন্দাক্রান্তা সেন। সর্বকনিষ্ঠ কবি হিসেবে আনন্দ পুরস্কার পেয়ে গেছেন ততদিনে। কবিতা পড়ার মাঝে বসে ভাবছিলাম, এই মানুষটি তো এখন খ্যাতির মধ্য গগনে। দেশের সেরা সাহিত্যিকদের প্রাপ্য প্রায় সব পুরস্কারও (জ্ঞানপীঠ ছাড়া) পাওয়া হয়ে গেছে। এর পরে শুধু নিজের লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারতেন কিংবা মাঝে মধ্যে কাটাতে পারতেন অখন্ড অবসর। কিন্তু না, নিজের জন্যে নয়; প্রতি রবিবারের সকালটা রেখেছেন নতুন যাঁরা লিখছেন তাঁদের জন্যে! মন্দাক্রান্তা, শ্রীজাতর মত অনেক তরুণ লেখক-কবিকেই সুনীলদা আবিষ্কার করেছিলেন। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ পুরস্কৃতও হয়েছিলেন। সুনীলদার কথায়, ‘অনেক হিজিবিজি লেখা পড়তে পড়তে যদি মাত্র একটাও যথার্থ কবিতার স্বর আবিষ্কার করা যায়, তখন ভারি আনন্দ।’ রোববারের সকালগুলো রেখেছিলেন সেই আনন্দে অবগাহনের জন্যে। অনেক খ্যাতির পরও এভাবেই নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে, চরিত্রের মাধুর্য আর আন্তরিকতা দিয়ে সহজে কাছের মানুষ, মনের মানুষ হয়ে উঠতেন সুনীলদা। ‘ভালবাসার জন্য আমার কাঙালপনা আর গেল না’ বলেছেন যেমন, অকুন্ঠ ভালোবাসা দিয়েও গেছেন। সেদিনের ওই আড্ডা থেকে বুঝেছিলাম মানুষটার কি অফুরান প্রাণশক্তি, সেইসঙ্গে পৃথিবীর প্রায় সব বিষয়ে কি অপার কৌতূহল আর অগাধ পড়াশোনা।
তার মধ্যেই একবার ছন্দপতন হল যেন। জমজমাট ওই আড্ডার তাল কাটলো। দু’জন অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। সুযোগ পেয়ে সুনীলদাকে অনুরোধ করলেন পুজো উদ্বোধনে যাবার জন্যে। এই প্রথম দেখলাম খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন। খানিকটা নিভে গেলেন যেন। অন্যরাও সবাই চুপ। একটু পরে বললেন, ‘আমি নাস্তিক। পুজো উদ্বোধনে কখনো যাই না। অন্তর থেকে যা বিশ্বাস করি না, সেটা কখনো করি না। কত টাকা বাজেট তোমাদের? তার খানিকটাও কি রেখেছ আশে পাশে ছেঁড়া জামা পরে ঘুরে বেড়ানো কচি মুখগুলোর জন্যে? ওদের শিক্ষার জন্যে যদি কখনো কিছু কর, সেদিন এসে বল, নিশ্চয়ই যাব। পুজোতে আমি নেই।’ তারপর নিজেই কাউকে বললেন আর একটা কবিতা শোনাতে। আবারও স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এল আড্ডায়।
একে একে সকলে চলে গেলে শুরু হল আমাদের গল্প। গল্পের প্রাণ কেন্দ্রে কফিহাউস। সুনীল-নীল লোহিত মিলেমিশে আড্ডা চলল প্রথম লেখা, কৃত্তিবাস, হাংরি জেনারেশন, আর অবশ্যই তাঁর বন্ধু ও সমসাময়িক কবিদের নিয়ে- শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, মলয় রায়চৌধুরী, সমীর রায়চৌধুরী আরো অনেককে নিয়ে, আর সেইসব কিছুতে কীভাবে এক অনিবার্য ভূমিকায় ছিল কফিহাউস। তারপরেও আমার আবদার শেষ হয়নি। বললাম, কফিহাউস পত্রিকায় কফিহাউস নিয়ে আপনার কবিতাটা খুঁজে পেয়েছি। পড়ে শোনাবেন শ্রোতাদের জন্যে? উজ্জ্বল হয়ে উঠল মুখটা, ‘কই দেখি!’ তারপর পড়তে শুরু করলেন। প্রায় অর্ধেকটা পড়ার পর হঠাৎ থেমে গেলেন। উঠে গিয়ে ফ্যানের সুইচটা বন্ধ করে এলেন। বললেন, ‘কবিতার মধ্যে এই আওয়াজটা ভালো লাগবে না শুনতে। তুমি তো মনে করিয়ে দেবে!’ এত খ্যাতির পরও এতটা সহজ থাকা যায়! স্টুডিওতে উপস্থিত না থাকতে পারলেও, যে কাজটা করছেন, যেটা অনেক মানুষ শুনবেন, তার জন্যে এতটা আন্তরিকতা! এই দীর্ঘ আড্ডা আর কবিতার রেকর্ডিং আজীবনের একটা সম্পদ হয়ে রয়ে গেছে।
গল্প শেষ। চলে আসব। সুনীলদা বললেন, ‘এবার তোমাকে একটা প্রশ্ন করি। তোমরা তো এখনকার প্রজন্ম। এই যে পুজো নিয়ে এত মাতামাতি, কেমন লাগে তোমার এই ব্যাপারটা?’ বললাম বাড়াবাড়ি টা ভালো লাগে না মোটেই। লক্ষ্য ছাড়িয়ে উপলক্ষ্য যেন বড় হয়ে যাচ্ছে আজকাল। বললেন, ‘ওই ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াও একবার। এই ন’ তলার ওপর থেকে সব কিছু অন্যরকম লাগে।’ নীচে তাকিয়ে দেখি বিশাল পুজোর প্যান্ডেল তৈরির প্রস্তুতি চলছে। ‘ক’দিন পর থেকে কত আলো, জাঁকজমক। কিন্তু আশেপাশে ফুটপাথে যারা থাকে, তাদের কোন জায়গা হবে না এখানে এ কদিন। কোনরকমে তৈরি অস্থায়ী মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু ছেড়ে তাদের সরে যেতে হবে। নইলে পুজো কমিটির অসুবিধে। শুকনো মুখে তারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াবে। দেশ ভাগের সময়ে এদেশে এসেছিলাম তো; সেই দিনগুলো ভেতরে রয়ে গেছে আজও। ভুলতে পারিনি। তাই এই অপচয় দেখলে ভালো লাগে না একটুও। কি জানো, রবীন্দ্রনাথকে ফুল মালা দিয়ে ঠাকুর করে তুলে ঘরে সাজিয়ে রাখলাম আমরা; কিন্তু তাঁর নিজেদের জীবনে শিক্ষাটা নিলাম না। কাঙালিনীর কথা ভাবো- ওর প্রাণ আঁধার যখন/ করুণ শুনায় বড় বাঁশি/ দুয়ারেতে সজল-নয়ন/ এ বড় নিষ্ঠুর হাসিরাশি।’
অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তাঁর দিকে। এই মানুষটা এভাবে ভাবেন! ওই কথাগুলো আমাকে খুব প্রভাবিত করেছিল। আমার দৃষ্টিভঙ্গিটাও পাল্টে দিয়েছিল। পুজোর কি উৎসবের জাঁকজমক আর অকারণ অপচয় দেখলে এই কথাগুলো মনে পড়ে যায়। আজও তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এভাবে ভাবতে পারল না!
এরপর থেকে সুনীলদার সঙ্গে দেখা হয়েছে অনেকবার। নানা অনুষ্ঠানে, বইমেলায়, কবিতা উৎসবে, আর শেষবার ২০০৮-এ ওহাইয়োর কলম্বাসে, বঙ্গমেলায়। তিনদিনের বঙ্গমেলা, একই হোটেলে শিল্পী, সাহিত্যিক, অনুরাগী সবাই। তাই গল্প করার অনেক অবসর। ২০০৭ এ ঘটে গেছে নন্দীগ্রাম। সাহিত্যিক-শিল্পী মহলেও আমরা-ওরার বিভাজন স্পষ্ট। ‘সাদা না কালো? কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যে’ নামে অসামান্য একটা প্রবন্ধে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর কথায় বুঝেছিলাম, আমরা-ওরার এই শিবির বিভাজন বড় কষ্ট দেয় তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে তখন অভিযোগ, নন্দীগ্রামে গুলি চলার পরও চলচ্চিত্র উৎসবের সরকারী আয়োজন সমর্থন করেছেন তিনি। বিরোধিতা করেননি। বরাবরের স্পষ্টবাদী সুনীলদা বলেছিলেন, ‘মর্মাহত হয়েছি বলে কি আমারা নাওয়াখাওয়া বন্ধ করেছি? হাস্য-পরিহাস একেবারে নিস্তব্ধ? চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি লাগে অনেক দিন, আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে একটি নির্দিষ্ট দিনে শুরু করতে হয়, বিদেশিদের প্লেনের টিকিট কাটা হয় কয়েক মাস আগে, এ সম্মেলন ঝট করে বন্ধ করে দিলে দেশের বদনাম হয়, পরের বছর কেউ আসে না। তবু বেশ কিছু শিল্পী বুদ্ধিজীবি প্রতিবাদ করতে চাইলে করতেই পারেন, অন্য দেশেও হয়; কিন্তু সেসব প্রতীকি প্রতিবাদ, কোথাও উৎসব বন্ধ করার দাবি করা হয় না...বাতাসে নানা রকম মিথ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায় এই ভেবে যে হঠাৎ এই যে অবিশ্বাস ও বিদ্বেষের বাতাবরণ সৃষ্টি হল, তাতে আমাদের এ রাজ্যের উন্নয়ন প্রক্রিয়া থমকে যাবে না তো?’
এই স্পষ্টবাদিতা আর ঋজু ব্যক্তিত্ব হয়তো তাঁকে সংখ্যালঘু করে দিয়েছিল, কিন্তু তাঁকে টলাতে পারেনি।
কীরকম ভাবে বেঁচে ছিলেন তিনি, নতুন দিনের পাঠকরা জানবে তাঁর কবিতা পড়ে। তাঁর সাহিত্যকীর্তির মধ্যে দিয়ে। কেন ‘সেই সময়’ আর ‘প্রথম আলো’-র মত অসামান্য ক্লাসিক আরো বেশি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল না, কেন রবীন্দ্রনাথের পর সাহিত্যের নোবেল আরও একবার এল না, ভেবে আক্ষেপ করব আমরা। কিন্তু তার থেকে বেশি জরুরী বাংলা ভাষার জন্যে তাঁর যা অবদান- সেটাকে মনে রাখা; সর্বস্ব জড়িয়ে নিয়ে এই দেশটাকে যিনি ভালোবেসেছেন, তাঁর কথা মনে রাখা। বাংলাদেশ পারলে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো পারলে আমরা কেন বাংলা হরফে সাইন বোর্ড করতে পারব না, এই কথা ভেবে, ‘ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি’-র পক্ষ থেকে সারাদিন এস্প্ল্যানেডের দোকানে দোকানে ঘুরে আবেদন করে চলা মানুষটার কথা। পুরোপুরি সাদা কি পুরোপুরি কালো কেউ হন না। কিন্তু সাদা-কালোর মধ্যে অনেকখানি ভারি উজ্জ্বল আলো ছিল সুনীলদাকে ঘিরে। রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি বুঝি রূপকথার আলোকিত ডানার বিস্তার/ তুমি এক অতলান্ত আশ্চর্য উষ্ণতা।’ আলো আর উষ্ণতার আশ্চর্য মিশেল ছিল সুনীলদার ব্যক্তিত্বে। সেই আলো আর উষ্ণতা নিয়ে যমুনার হাত ধরে স্বর্গের বাগানে এখন তাঁর ছুটোছুটির সময়।

আপনার মতামত জানান