...৯/১১!

সীমা ব্যানার্জী-রায়

 



দিনটা আজও আমার মনে আছে। হয়ত ভুলবো না কোনদিনও। দেখতে দেখতে ১৩ বছর পার হয়ে গেল। সেদিনকার সেই ছোট্ট বাচ্চাগুলো আজ বড় হয়ে গেছে। জানলো না তাদের আদরের বাবাকে-মাকে-ভাইকে-বোনক ে... শুধু আঁকড়ে আছে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি ঝাঁপিতে কিছু কথা, কিছু আশা, আর কিছু ভালবাসা।
*
9/11- 2001-মঙ্গলবার। কী সুন্দর ঝকঝকে এক হালকা শীতের সকাল। আমাদের ২য় দিনের 9/10 থেকে 9/13 এনভাইরণমেন্টাল কনফারেন্স-এর মিটিং আর গ্রিটিং শুরু হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকায় অবস্থিত লুইজিয়ানার নিউ-অর্লিন্স শহরে।
আমার বাপের বাড়ি লুইজিয়ানার রাজধানী ব্যাটনরুজে। আমি বাড়ী থেকেই ওখানকার Department Of Envirnmental Quality-এর অফিস বাসে করেই যাতায়াত করছি। সেইদিনও অন্যান্য কলিগদের সাথে ভোর ৬টায় রওনা দিলাম। মুখরোচক ব্রেকফাস্ট, সুস্বাদু স্ন্যাক্স, অভিনব লাঞ্চ, হালকা স্ন্যাক্স -এর ব্যবস্থা আছে।
ব্যটনরুজ থেকে নিউ-অর্লিন্স যেতে বাস-এ সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। গাড়ীতে গেলে ৪৫ মিনিটের মতন লাগে। অত ভোরে ট্র্যাফিকের ঝামেলা নেই। আগের দিনের বেশ জুতসই খাবারের লোভে আমরা সবাই আজকের দিনের জন্য পুরোদমে তৈ্রী।
বিজনেস Attire-এ ভোর ৬-৩০টায় অফিস পৌঁছে গেলাম। অফিস থেকে ২৫ জন বাসে করে নিউ-অর্লিন্সের দিকে রওনা হলাম। চারদিনের কনফারেন্স-কাজেই বেশ মজ়া। আগেই শুনেছিলাম এই বড় বড় কনফারেন্সে নাকি খাবার দাবার খুব ভাল থাকে। আমেরিকানরাও তো খুব খাদ্যরসিক।
হৈ-চৈ আর গান করতে করতে আমরা নিউঅর্লিন্স ট্রেড সেন্টার বিল্ডিং- এ পৌছে গেলাম। একে একে নেমে পড়লাম। তারপর এলিভেটর-এ সোজা ৯ তলায় ঢুকে পড়লাম। Attendance পেপারে নাম সাইন করলাম। আগের দিনের মত যে যার নাম লেখা টেবিলে ঝুপঝাপ বসে পড়লাম। নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ডালাস, নিউ জার্সি, আটলান্টা থেকেও অনেকে এসেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ -এর কাছাকাছি।
প্রত্যেকেরসামনের টেবিলে- বাহারি ট্রেতে জলের বোতল, আর আঙ্গুর সাজানো রাখা আছে।
পেছনের দিকের টেবিলে ব্রেড-বাটার, জ্যাম, মাফিন, অরেন্স জ্যুস, গ্রেপ জ্যুস, ডোনাট, আপেল, কলা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে।
যেহেতু ৮টায় কনফারেন্স আরম্ভ হবার কথা-তাই খেতে খেতেই সবাই যে যার সীটে বসে পড়লাম। ইন্সট্রাক্টর এসেছে্ন এনভাইরণমেনটাল প্রো্টেকশান এজেন্সি(ওয়াশিংটন-হেড অফিস) থেকে। নেশন ওয়াইজ এনভাইরনমেন্টাল কনফারেন্স। জোর কদমে মিটিং আর গ্রিটিং চলছে।
সবাই যে খুব একটা মনো্যোগী তা কিন্তু নয়। কেউ কেউ মাঝে মাঝে উঠে অরেন্স জ্যুস আর এটা ওটা নিয়ে আসছেন। আমার বাঁপাশের একজন কোলের ওপর পকেট টিভি রেখে দেখছে আর ডানপাশের জন কাগজে আঁকিবুঁকি খেলছে। তাও আমি আড়চোখে একবার দেখে নিলাম ওদের।
একটু বয়স্ক-রা ঢুলতেও ভুলছেন না। পাশে বসা স্ত্রীর ধাক্কায় বিরক্ত হয়ে আবার ধড়মড়িয়ে জেগেও উঠছেন। কি আশ্চর্য্য! ইন্সট্রাক্টরের কিন্তু কোনদিকে খেয়াল নেই। আমার আবার চোখ সর্ব যায়গায়। বোরিং লাগছে দেখে মনে হল সবার। এইভাবেই চলবে এই চারদিন, নিজের মনেই বলে নিলাম।
পেটে সুস্বাদু খাবার, ঠান্ডা ঘর, আর তার সাথে বকবকম কি আর সকলের ভাল লাগে। হাসিও পাচ্ছে। কাজেই এদিক ওদিক একটু চোখ ঘোরালে বেশ স্পষ্ট নজরে পড়ছে ঘুমের রকমফের। কিন্তু হাসলে যদি কেউ কিছু বলে? কারণ এবার আমার প্রথম এত্তবড় কনফারেন্সে আসা।
'মনোযোগী' নামক আমাকে হঠাৎ বাঁপাশের বান্ধবী টিজান দেখি ধাক্কা মারছে। সকাল তখন ৮-৪৫- “Oh! GOD! Hey! Seema! Plane hit the twin Tower”! দেখি ওর হাতে পকেট টিভি। আমার তো চোখ ছানাবড়া। দেশের কথা মনে পড়ল। যদি ধরা পড়ি, আমাকেও ছাড়বে না। আর এটা তো বিদেশ বিভুঁই। একটু ভয়ে তো থাকি-ই। এখন অবশ্য বেশ মানিয়ে নিয়েছি।
আবার excited হয়েঃ “Again Hit!” আমি বিরক্তির সুরে বল্লামঃ “What! please, let me follow the lecture.”
সে তো এবার ছটফট শুরু করেছে। দেখল আমাকে বলে কোনোই লাভ হবে না। বুঝে গেছে ভালভাবে এ মেয়ে কিচ্ছুটি বুঝছে না। তখন সে পেছনদিকে ওর পকেট টিভিটা পাস করে দিল...পেছিনদিকে ছিল একটা ছেলে। সে তো সোজা দাঁড়িয়ে উত্তেজি হয়ে বললঃ “ Sir! Twin Tower has been attacked...”
এইবার আমি বুঝতে পেরেছি কেন আমাকে টিজান বলছিল। কিন্তু! আশ্চর্য হয়ে গেলাম কোন হুড়োহুড়ি নেই। কোন চিতকার ঝামেলা নেই।। Instructor যেমন লেকচার দিচ্ছিলেন, তেমনি পেছনের ছেলেটাক 'Please! Sit quietly' বলে আবার শুরু করে দিলেন। প্রায় ১/২ হাওয়ার লেকচার চললো। কারুর তাতে মন ছিল কিনা জানা নেই। তবে আমি ঠিক বুঝি নি ব্যাপারটা। মনে মনে ভাবছি Instructor যখন লেকচার Continued রেখেছেন, তাহলে এমন কিছু ব্যাপার নয়। দেখলাম দুটো ছেলে হঠাৎ একটু গ্যাপ দিয়ে দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেল। তারপরেই ট্রেড বিল্ডিং -এর ইন্টারকমে ঘোষণ এলো … “৭৬৭ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমান নিউ ইয়র্ক টুইন টাওয়ার(ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার)-এ দুবার- আর তার ঠিক ১৮ মিনিট ( ৯ টা ৩ মিনিটে) পরে পেন্টাগন, পেন্সিল্ভিনিয়ার মাঠে ৭৬৭ ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমান আক্রান্ত করেছে। তাড়াতাড়ি action নেবার নোটিস এসেছে ওয়াশিংটন থেকে।
আমাদেরও পুরো বিল্ডিং ১ ঘন্টার মধ্যে খালি করতে হবে। এমার্জেন্সি জারি হয়ে গিয়েছে। টিজানের চোখ কিন্তু টিভিতেই। ইস্ট্রাক্টর হুকুম দিলেনঃ “Turned off the TV, Please!”
সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই অ্যা্রেস্ট করা হবে। বুকে ধুকপু্কানির শব্দ শুনতে পাচ্ছি নিজেই। আরেক বান্ধবী আমার মুখচোখ দেখে বুঝতে পেরে বলে ওঠে, “Seema! Do'nt be panicked। We all are together. Nothing will happened”। এমনিতেই আমি বেশ নার্ভাস টাইপের। তারপর এসব শুনে আমাতে আর আমি নেই।
তখন এত হাতে হাতে সেল ফোনের স্টাইল ওঠে নি। লিমিটেড এমপ্লয়ী-র হাতে... যারা উচ্চপদস্থ। সবাইকে আসতে আসতে কোন রকম আওয়াজ না করেই সিঁড়ি দিয়ে নামবার অর্ডার এল। সত্যি দেখতে হয়-কেন একটা দেশ এত বড় হয়েছে। এত বড় একটা বিপদের সময়ও সবাই কত Diciplined। স্যালুট দেবার মত!
কারুর মুখে কথা নেই। চারিদিকে একটা থমথমে ভাব। সিঁড়ি দিয়ে এত লোক নামছে - কিন্তু খুব মাইল্ড আওয়াজ জুতোর। Elevator সব locked করা হয়ে গেছে। হীল জুতো পড়ে যাওয়ার দলের মধ্যে আমিও আছি। জুতো হাতে খুলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলাম। চারিদিক পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সাইরেন বেজে উঠছে ঘনঘন। এমার্জেন্সি Declared। মুহূর্তের মধ্যে এত্ত পুলিশ কোত্থেকে এলো? মনে একটা প্রশ্ন চুপিচুপি উঁকি দিল।
চুপচাপ বাস এ উঠে পড়লাম সবাই। নিস্তব্দঃ! বাস চলতে আরম্ভ করলো মডারেট স্পীড বজায় রেখে। চারিদিক জনমানবশূণ্য। অত busy শহর কেমন যেন খাঁ খা করছে...আর আকাশও যেন হঠাত করে ছাই রঙ্গের হয়ে গেছে। চিলেরা খুব উঁচু দিয়ে উড়ে চলেছে কি পালিয়ে আসছে বোধহয় সেই ধূমায়িত চিরপরিচিত শহর থেকে। ... আমাদের বাসেও কিছু মিলিটারী পুলিশকে উঠে পড়তে দেখলাম। নিরাপত্তার জন্য বোধহয়। অদ্ভুত আওয়াজ করে সাইরেন বেজে চলেছে...... আর কোন যানবাহনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
সবার হাত কোলের কাছে জড়ো করা। হয়ত যে যার ঠাকুরকে স্মরণ করছে। চোখমুখ ভয়ে কাতর সবার। এমনিতেই বলে আমেরিকান-রা নাকি খুব ভীতু হয়। আমিও আমার ঠাকুরকে ডাকতে লেগে গেছিঃ “হে ঠাকুর, নিরাপদে যেন বাড়ি পৌঁছে যাই সকলে।”
অফিস যাবার সময়-এর দৃশ্য অদ্ভুতভাবে পুরো পালটে গেছিল সেদিন। আকাশ বাতাস পশু পাখীরা সব যেন নীরব। অফিসে নেমে যে যার গাড়ি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। চারিদিকে থিক থিক করছে পুলিশ! আমার নার্ভাসনেস এর জন্য আমার গাড়ির স্পীড একেবারে নীচের দিকে। বন্দুকধারী মিলিটারী পুলিশ আনাচে কানাচে ঘুরছে...... এসব দেখেও কেন জানি না হাত পা কাঁপছিল।
যাই হোক, বাড়ি পৌঁছালাম, দেখলাম দাদারা সব এসে গেছে অফিস থেকে। ভাইপো ভাইঝিদের স্কুল ছুটি হয়ে গেছে পুরো সপ্তাহের জন্য। আমিই খালি বাইরে ছিলাম। তাই আমাকে দেখে সবাইকে নিশ্চিন্ত হতে দেখলাম। ডালাস থেকেও আমার কর্তার ফোন এসে গেছে আগেই। আমি বাড়ী ফিরলে যেন তাকে ফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়। সে নিরাপদে তার বাড়িতে পৌঁছে গেছে।
আমার মুখচোখের অবস্থা দেখে সবাই বললঃ “ তোর জন্য আমরা সবাই চিন্তায় ছিলাম, আসতে কোন অসুবিধা হয় নি তো। ভয় খাস নি তো”...হাজারো প্রশ্ন!
মুখ দিয়ে তো কথাই বেরুচ্ছে না। একটু ধাতস্থ হয়ে সব গল্প করলাম তাদের। ইতিমধ্যে নিউইয়র্কের দিদি, নিউ জার্সিতে মামা শ্বশুরদের সব ফোন করা হল.। ..কেমন যেন একটা থমথমে ভাবে কথা বলছে সবাই।
ন মামাশ্বশুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-এই অফিস। ওখানেই কাজে যান রোজ।
*
কথায় আছে, “ রাখে হরি, মারে কে।” সেটা যে সত্য হয়েছিল সেদিন তা কিছু উদাহরণ স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল। -তা শুনে নাস্তিকরা নিশ্চয়ই উপেক্ষা করবে না।
সেইদিনই নমামাশ্বশুরের মেয়ে বলেছিল তার ড্যাডিকে যে, সে স্কুল বাস মিস করেছে ড্যাডি যেন তাকে স্কুল পৌঁছে দেয়। নমামা মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গেলে জানতে পারে্ন ট্রেড বিল্ডিং সাঙ্ঘাতিকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। তাই সব ছুটী declared করেছে। চারিদিকে এত ধুলো যে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এমনকি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেছিল...। নিজের জামা আর গেঞ্জি খুলে দুজনে নাকের মধ্যে চাপা দিয়ে কোনরকমে বাড়ি ফিরে এসেছেন।
সেইদিন আবার ওই ট্রেড সেন্টারে 'সীমা' নামে একটা বাংলা মুভির শুটিং হয়েছিল সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। তারপর পুরো মুভি টীম পরের শুটিং -এর জন্য চিকাগো অভিমুখে রওনা হয়ে যায়। এর থেকেই বোঝা যায় যে, “ বিধাতার লিখন কে খন্ডিতে পারে রে ভাই, কে খন্ডিতে পারে?”
ভাগ্যবান তারা যারা নীচের তলায় কাজ করতেন, তারা বেড়িয়ে আসতে পেরেছে্ন। তবে ধোঁয়ার কুন্ডলীতে চোখ ঝলসে গেছে অনেকের। আজও অনেকে নিথর হয়ে আছেন।
*
নিউ ইয়র্কে ছোটাছুটি...পাগড়িওয়ালা পাঞ্জাবীদের টেরোরিস্ট ভেবে গণধোলাই দেখছি টিভিতে। নিরীহ কিছু মানুষের অকাল মৃত্যু আর হাহাকার চারিদিকে। ভাবলে আজও কেমন যেন কান্না চেপে বসে বুকে। পুরো সপ্তাহ কার্ফ্যু চালু থাকার জন্য আমরা কেউই বাড়ির বাইরে যাই নি ঐ কদিন। দাদারাও দেখলাম ভয় পাচ্ছিল...কারণ ওদের না ভেবে বসে টেরোরিস্ট। কার্ফ্যু উঠে গেলেও নর্ম্যাল হতে সময় লেগেছিল বিদেশীদের(আমাদের) বেশ কিছু মাস। ওদের বারে বারে বোঝাতে চাইছিলাম আমরা ভালবাসি আমেরিকা... আমাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকাকে। কত শত আমেরিকান Flags, pins, wall papers বিক্রি হয়েছিল তা বলার নয়। আমিও সেই থেকে অফিসে US পিন লাগিয়ে যেতে শুরু করেছিলাম।
৯/১১ দিনটায় আজও অফিসে সবাই হাত ধরে মাথা নীচু করে নীরবতা পালন করে ৫ মিনিট। ঘরে ঘরে আমেরিকান flag অর্ধনমিত অবস্থায় ঝোলানো থাকে।
*
বিল্ডিং ভেঙ্গে আবার তৈ্রী হচ্ছে কিন্তু সেইসব মায়েরা-বাবারা, সন্তানরা, আত্মীয়পরিজন তারা কি আর ফিরে আসবে? না! না! কোনদিন না... এ এক অসম্পূর্ণ ইতিহাস!
আজ ও ফোনে ৯/১১ উচ্চারণ করতেও ভয়পায় আমেরিকায় বসবাসকারীরা...
পরের সপ্তাহে অফিস খোলার সাথে সাথেই বেশ একটা থমথমে ভাব। কারুর মুখে কথা নেই। সবাই মিলে এক যায়গায় হয়ে হাতে হাত ধরে ৫ মিনিট নীরবতা পালন করা হল।
সেদিন থেকেই শুরু হল নতুন টুইন টাওয়ারের জন্য ডলার কালেকশন। এগিয়ে এল আমেরিকান রেড ক্রশ, ইউনাইটেড ওয়ে... আরো কত কত প্রতিষ্ঠান।
কত গল্প -হ্যাঁ আজ গল্পই বটে। অনেকে অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে আর ফেরেনি ঘরে, অনেকে সেল ফোনে খবর দিয়েছে সুস্থ আছে, ফিরছে ঘরে। আর ফেরা হয় নি তাই অপেক্ষা করে আছে আজও সেইসব বাড়ির লোকজন।
আমাদের অফিসে এমপ্লয়ী বাছাই শুরু হল এইভাবেঃ যাদের অফিসের ওয়ার্ক লোড কম( মানে যাদের কাজের চাপ কম) শুধু তাদের নিয়ে শুরু হল ডলার কালেকশনের যাত্রা। সব ডিপার্টমেন্ট থেকে এমপ্লয়ী বাছা হল-আমি হলাম Air থেকে। সত্যি এই দেশের জন্য কিছু করতে পারছি বলে আমি আজ খুব গর্বিত। হয়ত এ করা কিছুই না। তবু কেন জানি মানসিক শান্তি!!
আজও 9/11 ফিরে ফিরে আসে। সাথে করে আনে পুরানো চোখের জল আর আর সেই সব হারাদের হারানো বিশাল স্মৃতি। তবু ভাবি...কত বাচ্চাদের পৃথিবী দেখার আগেই নিষ্ঠুর যন্ত্রণায় চলে যেতে হয়েছিল। যারা অসময়ে চলে গেছে তারা তো ফিরবে না আর... কোনদিনও। আসুন আমরা সবাই মিলে সেইসব পরলোকগত আত্মার শান্তি কামনা করি!!!!!


আপনার মতামত জানান