২০১৪ নির্বাচনে একজন সাধারণ নাগরিক কী ভাবছেন

ঋজু ঘোষ

 

১৯ মে, ২০১৪, ব্যাঙ্গালোর
আমি সাধারণ মানুষের দলে পড়ি। আমি ভারতীয় এবং নাগরিক হিসাবে আমার কিছু চিন্তাভাবনা আছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টী সর্বসম্মতভাবে জয়ী হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তারাই হয়ত সরকার গড়বেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে। এখন অনেকেই মনে করছেন এই মোদী সরকার এলে ভারতবর্ষ কি তার ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের কারুরই জানা নেই। এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক কারণ, বিজেপি তাদের চিরকাল হিন্দুবাদী বলে প্রচার করেছে, এবং বাবরী মসজিদ ও গুজরাত দাঙ্গার মতন সাম্প্রদায়িক অপরাধের সাথে নিজেদের জড়িয়েছে।
ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক মাত্রেরই এই আশঙ্কা অমূলক নয়। আমি মনে করি ধর্মনিরপেক্ষতা একটা সভ্যতার মুখোশ মাত্র। একজন মানুষের পক্ষে একসাথে সকালে মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় যাওয়া সম্ভব নয়। বাকী অন্য ধর্ম তো হিসাবেই ধরলাম না। সুতরাং আমাদের কাছে মাত্র দুটো রাস্তাই খোলা আছে, আস্তিক বা নাস্তিক। অঞ্জন দত্তের একটা গান আছে “ধর্ম আমার আমি নিজে বেছে নিই নি/পদবিতে ছিল...”। এর চেয়ে বড় সত্যি কিছু নেই।
তাহলে আমাদের বিকল্প কি? মোদী বা বিজেপি জিতেছে বিগত দশ বছরের ক্ষতির থেকে। স্বজন-পোষণ, অনাচার, নমনীয় মনোভাব এবং সর্বোপরি একজন পুতুলসম প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে মিশিয়ে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। প্রথম পাঁচবছরের পরে যখন আবার কংগ্রেস এল তখন একধরণের আত্মম্ভরিতা তাদের সর্বনাশের পথে টেনে নিয়ে গেছে। মানুষ এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে কংগ্রেস এবারে সবথেকে কম সংখ্যায় জিতেছে। সব রাজনৈতিক দলেরই সমস্যা আছে, কংগ্রেসের তা অত্যন্ত প্রকট। মানুষে কাছে বিকল্প ছিলনা। কে ছিল? মুলায়ম, মমতা, কেজরীওয়াল, নিতীশ কুমার, জয়ললিতা? এরা কেউই মোদীর সাফল্যের ধারেকাছেও নেই। মোদী এবার তার সর্ব শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সাথে ছিল কর্পোরেট দুনিয়ার মতন প্রজেক্ট প্ল্যান। চারিদিয়ে সব জায়গায় অ্যাড। অনেকটা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাথে তুলনা করা চলে। তিনি সাফল্য পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের প্রচার অনেকেই করবেন।
আমাদের আশঙ্কা যেমন আছে তেমনি আশাও আছে। আমি আমার এক সুরাটবাসী পিসির কাছে শুনেছি যে সাধারণ মানুষ সরকারী অফিসে গেলে অতি সহজেই তার কাজ করিয়ে নিতে পারেন। মোদীর জমানায় কোন সরকারী কর্মচারী ঘুষ নিতে সাহস পায় না। সাধারণ মানুষ হিসাবে আমি এগুলোই তো চাই। আমি দীর্ঘকাল প্রবাসে। যেখানেই যাই আমাকে সরকারি অফিসে নিকৃষ্টের মতন ঘোরাঘুরি করতে হয়। আমি চাই আমাকে যেভাবে বেসরকারি দপ্তরগুলোতে আপ্যায়ন করে কাজ করে দেয়, সেইভাবে আমার কাজ হোক। কিছুটা এইকারনেই আমার আশা ছিল আম আদমী পার্টির প্রতি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আরও ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমি চাইলেই আমার র‍্যাশন কার্ড, গ্যাস সিলিন্ডার ট্রান্সফার করতে পারি। আমি পারি না। তাই আমি করিও না। চেষ্টা করেও সুরাহা হয় নি। সাধারণত আমি সরকারি অফিসগুলোকে আমার জীবন থেকে বর্জন করেছি – বীতশ্রদ্ধ হয়ে।
আমি অনেক কিছুই চাই,
১। আমরা যেমন পড়শীর শোবার ঘরে ঢুকে তার বিছানা এলোমেলো করি না তেমনই অন্যের ধর্মেও নাক গলাবো না।
২। জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থে কোন আপোষ করব না। কোন ধর্ন্মের দোহাই দেওয়া চলবে না।
৩। সরকারি কাজকর্ম অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে হতে হবে। ঘুষের উদাহরণমুলক শাস্তি হতে হবে।
৪। সমস্ত করদাতাকে সঠিকভাবে কর দিতে বাধ্য করা হোক। এরমধ্যে প্রধানত ব্যবসায়িরা।
৫। সঠিক সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি নিতে হবে।
৬। দেশের সম্পদ বিক্রী করে দেওয়া চলবে না।
আমি আশাবাদী এবং অন্যের প্রতি দাদাগিরির সমর্থন করি না। আবারও বলি এই সরকার যদি আবার রামমন্দির এর মতন ই্যসু নিয়ে হাজির হয়, তবে তারা নিজেরাই নিজেদের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে ফেলবে।।

আপনার মতামত জানান