ভোটের ভাট ও আমরা

সুশোভন

 



বাংলাদেশের মেয়ে সুমি। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বাচ্চা মেয়ের মন জুড়ে শুধুই মহানায়ক দেব। ঘরের দেওয়াল জুড়ে শুধুই মহানায়ক দেবের পোস্টার। কথায় কথায় গড়গড় করে বলে দিতে পারে মহানায়ক দেব অভিনীত ‘বিন্দাস’, ‘রংবাজ’ বা ‘আই লাভ ইউ’ ছবির সংলাপ। কিন্তু স্বপ্নের নায়কের দেখা পাওয়া দায়। কিন্তু হাল ছেড়ে দেবার পাত্রীও সুমি নয়। বাড়িতে মা-কে অষ্টম শ্রেণি পাশের সার্টিফিকেট আনতে যাবার কথা বলে, গন্তব্য, সটান স্কুলের ছাদ। সেখান থেকেই ঝাঁপ...
অতঃপর জ্ঞান এল হাসপাতালের বেডে নাকে স্যালাইন গোঁজা অবস্থায়। দুই পায়েই অস্ত্রোপচার করতে হবে। বাবা কাঠের কাজ করেন। সংসারে 'নুন আনতে পান্তা ফোরায়' অবস্থা। এতো খরচার অস্ত্রোপচার করার আর্থিক সামর্থ্য নেই। মেয়ে কিন্তু তখনও ‘বিন্দাস’। হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে দিব্যি সংবাদমাধ্যম কে জানিয়েছে "ভাবসিলাম দেব আইস্যা সিনামার মত বাচাইয়া দিব..."
কি বলবেন বলুন ? সুমি হুজুগে ? সুমি অবুঝ ? সুমি অপরিণত ? সুমির পাগলামো? হয়ত তাই। কিন্তু সুমি তো না হয় অষ্টম শ্রেণীর মেয়ে । কিন্তু আমরাই কি কম হুজুগে বলুন? কিংবা কম অবুঝ ? কিংবা কম অপরিণত ? জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ক্ষেত্র, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি ভাবনাচিন্তা নিয়ন্ত্রণ করে যে রাজনীতি, সেই রাজনীতি থেকে মুখ সরিয়ে নেওয়া কি আদপে বুদ্ধিমানের কাজ ? ফেসবুকে প্রায়শই দেখি আমাদের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা Political Views-এ ‘Apolitical’ বা ‘Not Interested’ লিখে সগর্বে বব মার্লের ছবি পোস্ট করে আধুনিকতার ধ্বজা ওড়ায়। আমার বোনের মত কেউ কেউ আবার একধাপ এগিয়ে বলে “Dirty Politics, they are all corrupted. This whole bloody system is crap”। সত্যি কি তাই ? সবাই কি ‘corrupted’? সবই কি ‘crap’? আর আমিই শুধু ভালো? আমাদের জীবন ও জীবিকার সমস্ত সমস্যার দায় কি ঐ সিস্টেমের উপর চাপিয়ে দিয়ে কুম্ভকর্ণের মত ঘুমিয়ে থাকাই কি তাহলে আমাদের একমাত্র কর্তব্য? নেতা, মন্ত্রীদের উপর গালমন্দ করে একটা সান্ধ্য আড্ডা জমিয়ে দেওয়া যায়, চায়ের কাপের ঝড় তোলা যায়, কিন্তু বাস্তবোচিত সমাধানের পথ কি খুঁজে পাওয়া যায়? ভারতবর্ষের শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি তো আমাদেরই একজন। আমরা যে বিষয়ে গুরুত্ব দিই না,যা নিয়ে ভাবিনা, যা নিয়ে কথা বলিনা, আলোচনা করিনা, যার প্রতিবাদ করিনা, যে দায়িত্ব পালন করিনা সেগুলো আমাদের নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা করবেন এমন কল্পনা আপনাদের অলীক মনে হয় না ? তিনি বা তাঁরা আমাদেরই একজন।রাজনীতির কারবারিরা রাজনীতিই করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরাই বা কবে সচেতন, দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালন করব? কেউ বলতে পারেন যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তলার পরিপন্থী, কিন্তু এই যুক্তি তে কিছুদূর আগানো গেলেও সবটা বোধহয় যায় না। আর তাই নির্বাচন আসে নির্বাচন যায়। নেতারা প্রতি নির্বাচনের আগেই পরিপাটী করে ভাষণ দেন, গুছিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন, মিডিয়া আমাদের কখনও জাতীয়তাবাদী দ্রবণে দ্রবীভূত করে, কখনও আমাদের আসন্ন উন্নয়নের জোয়ারে প্লাবিত করে, কখনও আবার ‘অগ্নিকন্যার’ সততায় ঝলসে দেয়। নির্বাচন শেষ হয়ে যায়। গণনাও। কখনও ৩৪ শেষে ৬৮ আসে। কখনও হাতের তালুতে পদ্ম ফোটে। রাজ্যপাট পরিবর্তন হয়। নতুন রাজার অভিষেক হয়। ওঁরা কলকাতাকে লন্ডন বানানোর শপথ নেন, আর আমরা থেকে যাই সেই কলকাতাতেই। ওঁরা ছয় মাসে সিঙ্গুরে জমি ফেরতের শপথ নেন, আর নন্দীগ্রামের শাসক দলের বিধায়ক ফিরোজা বিবি বিধানসভায় ‘পরিবেশবান্ধব শিল্প’ চেয়ে বসেন, ওঁরা আচ্ছে দিনের গল্প শোনান, আর আমরা বগল বাজাই, ওঁরা বাক্স বন্দী বাজেট ঘোষণা করে আমরা বাজারে গিয়ে পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখের জল ফেলি।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের বর্তমান শাসক দল ও তাঁর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম অঙ্গ ছিল এরকমই কিছু একাধিক জনমুখী এবং বৈচিত্র্যমূলক প্রতিশ্রুতি। আমরা শুধু সেগুলিকে স্বাগত জানায়নি সাথে যে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছি সে কথা বোধহয় আজ আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিন্তু শুধু স্বাগত বা সাদর আমন্ত্রণ জানানোই কি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট ? না প্রতিশ্রুতি গুলি পূরণ হওয়ার যৌক্তিকতা, মৌলিকতা, সাফল্যের বাস্তবতা বা পর্যালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে ?
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত রকমারি প্রতিশ্রুতি গুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি, ১০০ দিনের মধ্যেই বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি। শহরের আনাচে কানাচে এখনও হয়ত চাইলে, এই মর্মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহাস্য মুখের ছবি সহ ব্যানার খুঁজে পাওয়া যাবে। Global Financial Integrity-র ২০১১-র রিপোর্ট অনুসারে আমাদের দেশের ২০ লক্ষ কোটি কালো টাকা (বিশ্বে সর্বাধিক)বিদেশের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত আছে যা রাষ্ট্রের উন্নয়নের কোন কাজেই ব্যবহার করা যায় না। সম্প্রতি বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আইএমএফ-এর এক নূতন পরিসংখ্যানে, ২০১১ সালের হিসাবে, দুনিয়ার ১০১ কোটি দরিদ্রের মধ্যে ৩০ শতাংশের বাস যে ভারতবর্ষে সেখানে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যবহার অযোগ্য করে বিদেশ ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রাখা কি বিলাসিতা নয় ? কিন্তু এই কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি কি শুধুই চমক সর্বস্ব ? কারণ আমরা কি জানি ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়েডেন্স এগ্রিমেন্ট বা DTAA কি ? সাধারণ ছা-পোষ, সংসারী মানুষ আপনি, আমি, আমরা সবাই, DA, TA, HRA অবধি ঠিক আছে। তা বলে এক্কেবারে DTAA । খায় না মাথায় দেয় ? কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ওয়েবসাইটেই কিন্তু লেখা রয়েছে 'দ্বৈত কর ব্যবস্থা রোধ' (DTAA) চুক্তি সই হয়েছিল ১৯৯৬-এ। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার ১৪টি দেশের সঙ্গে দ্বৈত কর ব্যবস্থা রোধ চুক্তি সই করে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশ ভারতবর্ষ মোট ৮৪ টি দেশের সাথে এই দ্বৈত কর ব্যবস্থা রোধ চুক্তিতে আবদ্ধ। সেই সব চুক্তিতেই গোপনীয়তা রক্ষার ধারা ছিল। যে ধারা অনুযায়ী কালো টাকার মালিক দের নাম প্রকাশ সম্ভব নয়। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সময়কালে সরকার তিনটি চুক্তি সংশোধনও করেছিল। তখনও কিন্তু গোপনীয়তার ধারায় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বহুল চর্চিত সুইস ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তিটি ঐ তিনটির অন্যতম।
আসুন এই ইস্যুতে বর্তমানে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শাসক দলের নেতা, মন্ত্রীদের গত পাঁচবছরে আমাদের কে বেচে যাওয়া স্বপ্ন গুলি একবার জাবর কাটি …
“বিদেশের ব্যাঙ্কে যাঁরা কালো টাকা গচ্ছিত রেখেছেন তাঁদের নাম প্রকাশে দ্বৈত করের যে যুক্তি সরকার দিচ্ছে তা ভিত্তিহীন” -কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ( ১৮ই জানুয়ারি,২০১১, সূত্রঃ দি টেলিগ্রাফ ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪)
“সরকার নামের তালিকা প্রকাশ না করায় সরকারের শীর্ষস্থানে বসে থাকা নেতাদের সম্পর্কেই সংশয় তৈরি হচ্ছে।” – কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি (সূত্রঃ দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া , ১৯ শে জানুয়ারি ২০১১)
"সরকার নিজদের বাঁচাতেই কালো টাকা উদ্ধারে সদর্থক ভূমিকা পোল করতে পারছে না " –কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকার (Source : Press Release www. bjp. org 4th July 2011)
"সরকারের উচিত জেনেভা ব্যাঙ্কে গোপন ৭০০ টি ব্যাঙ্ক আকাউণ্টের নাম প্রকাশ করা। যেখানে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা গচ্ছিত আছে। " –কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান (সূত্রঃ দি ইকনমিক্স টাইমস ২রা নভেম্বর, ২০১১)
“বেআইনি ভাবে টাকা লেনদেনের আইন প্রয়োগ করে মনমোহন সরকার কেন কালো টাকা উদ্ধার করছে না " ১০০ দিনের মধ্যে কালো টাকা ফেরত আনলে দেশের প্রতিটি মানুষ ১৫ লক টাকা করে পাবেন" -প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (সূত্রঃ দি হিন্দু ১লা ফেব্রুয়ারি ,২০১১)
আজ তাঁরাই ক্ষমতাসীন, তাঁরাই সর্বশক্তিমান, তাঁদেরই সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে "দ্বৈত কর ব্যবস্থা রোধে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা রয়েছে তার শর্ত মানার বাধ্যবাধকতার কারণেই সুইস ব্যাঙ্কের কালো টাকা সম্বন্ধীয় তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” (সূত্রঃ আনন্দ বাজার পত্রিকা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪) ।
"সরকারের কালো টাকার বিষয়ে কিছুই গোপন করার নেই। আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বুঝতে হবে। আইন গত কারণেই কালো টাকা সম্বন্ধীয় তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়" (সূত্রঃ এনডিটিভি ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১১)।
আচ্ছা আমি না হয় মাথা মোটা তাই হয়ত আমি উপরোক্ত শেষ দুটি বিবৃতিতে কোনো পার্থক্যই খুঁজে পায়নি। কিন্তু আপনিই কি পেলেন? কিন্তু পার্থক্য যে একদমই যে নেই তাতো আবার নয়।আছে। তবে বক্তব্যে নয় , বক্তার পরিচয়ে। প্রথমটির বক্তা শ্রী অরুণ জেটলি। বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। দ্বিতীয়টি শ্রী প্রণব মুখার্জি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাহলে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের যে প্রাক্তন শাসক দলকে কালোটাকা ইস্যুতে এতো আক্রমণ, ১০০ দিনে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার এতো প্রতিশ্রুতি তার কি হবে ? তাহলে রাজ্যাভিষেকের এই অল্পকিছুদিনের মধ্যে এই উল্টে দেখুন পাল্টে গেলাম মনোভাব কার স্বার্থে ?
Center For Media Studies -র হিসাবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোট খরচ ৩০,০০০ কোটি (যা প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, ২৭,০০০ কোটির থেকে বেশি)। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন শাসকদলের একারই খরচা ১০,০০০ কোটি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর ১৫,০০০ রঙ্গিন ছবির প্রতিটির খরচা ছিল ২ থেকে ২০ লক্ষ। এতে আপনার আমার কতটা লাভ হয়েছে বা হবে সময়ই বলবে , তবে শুধু প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার দিনই শেয়ার বাজার থেকে মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানি লাভ করেছেন প্রায় ৭৭৬৪ কোটি টাকা।
অবশ্য এসব আর নতুন কি বরং ঘোষণা আর প্রতিশ্রুতির ঘেরাটোপে আমাদের কে টিকি-টাকা খেলার ইতিহাস ভারতীয় রাজনীতিতে বেশ ধারাবাহিক, সনাতন, এবং ঐতিহ্যবাহী। আমরা আগেও পা পিছলে পড়েছি এখনও পড়ছি আর নিজেদের নাগরিক কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হলে আবার হয়ত পড়ব, এবং আরও একবার মরব । ঠিক যেমন পড়ে ছিলাম সেবার, যেবার ১৯৯১ সালে অর্থমন্ত্রী মনোমোহন সিং উদার অর্থনীতির রূপরেখা প্রকাশ করে বলেছিলেন, "সরকার নিশ্চিত এই পদক্ষেপ প্রথমে কঠিন মনে হলেও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচী অচিরেই আর্থিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হবে। সামাজিক সমতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে। সম্পদ সৃষ্টির জন্য সামাজিক প্রকল্পে ব্যয় সংকোচের পথে হেঁটে সাধারণ মানুষের সার্বিক জীবনযাপনের পথে বাধা সরিয়ে পাঁচ বছর পর দেশে আর গরীব থাকবে না।"
১৯৯১ থেকে আজ ২০১৪, ২৩ বছর পর ভারতবর্ষে গরীব আছে কি নেই সেই প্রশ্ন আপনার শুভ বুদ্ধির উপর ছেড়ে দিয়ে সুকুমার রায়ের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চেয়ে কটা লাইন লিখব...
মরছি মোরা মরছি দেখ,মরছি মোরা আহ্লাদী,
ভোট এলে ভোট দিয়ে মরে'ই মোরা পাল্লা দি।
মরতে মরতে বাঁচছি দাদা ,মরছি আমি,মরছে ভাই,
মরছি কেন কেউ জানে না, মারছে ওরা মরছি তাই।
ভাবছি মনে, মরছি কেন? এবার খেলা ঘুরবে রে,
ভাবতে গিয়ে আবার দেখি, আচ্ছে দিনের স্বপ্ন রে ।
মরছি আমি বাঁচতে গিয়ে , মরছি আমি চোখ বুজে
মরছি আমরা চিমটি কেটে, নাখের ভিতর নখ গুঁজে ।
মরছি আমি, কালো টাকায়, খেলছি আমি কানামাছি
মরছে যারা মরুকগে, আমি তো এখনও বেঁচে আছি ।
মরছি যখন মরবো তখন, কি আর ভাববো পাঁচ- সাত
বেশী ভাবলে বিপদ আছে, পোষা পালের খিস্তি-মাত।

আপনার মতামত জানান