মেনোপজ-এ ভাগাভাগি অর্ধেক আকাশ

সরোজ দরবার

 



৬ পাতার রায়ে একটা শব্দই ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধিয়ে দিল।
ঘটনা ২০১০-এর। ৬৫-৭০ বছরের এক মহিলার মৃত্যুর দায়ে অভিযুক্ত হন এক ব্যক্তি। মহিলা আশেপাশের বাড়িতে টুকিটাকি কাজ করতেন। ঘটনার দিনও এক প্রতিবেশীর বাড়িতে তাঁর কাজ করার কথা ছিল। সেই কাজের জন্যই ওই বাড়ির মেয়ে মহিলাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন প্রায় নগ্ন অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে আছেন। প্রাথমিক ভাবে মেয়েটি অনুমান করেন বোধহয় মহিলা সংজ্ঞাহীন। তিনি লোক ডাকেন। তখনই ঘরের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসেন ওই ব্যক্তি। খবর যায় পুলিশে। পুলিশ তদন্তে বোঝে মহিলা মৃত। ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পোস্ট মর্টেমে মহিলার যৌনাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন মেলে। আবার তিনি যে মদ্যপান করেছিলেন তারও প্রমাণ মেলে। (He opined the cause of death as asphyxia due to aspiration of gastric contents consequent upon forceful sexual intercourse which was sufficient to cause death in the ordinary course of nature.)
এই মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারকদের বক্তব্যের সারাংশ ছিল, ‘even if the sexual intercourse was forceful it was not forcible and contrary to the wishes and consent of the deceased.’ এই বক্তব্যের সঙ্গে মেনোপজ শব্দটার আপাত কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। অথচ ঠিক এর ঠিক এক লাইন আগেই বিচারক-দ্বয় জানিয়েছেন, ‘As regards the offence punishable under Section 376 IPC the deceased was aged around 65-70 years, thus beyond the age of menopause.’ তাহলে কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল এই শব্দটি? উল্লেখ্য দুই বিচারকের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। অর্থাৎ উপরের লাইনটির সঙ্গে তিনিও সম্মত হয়েছেন। বিচারক দ্বয় কিন্তু কোনোভাবেই মেনোপজের পর ধর্ষণকে ছাড়পত্র দেননি, তবু শব্দটি এসেছে তাঁদের রায়ে। আচমকা নয়, বরং উঠে এসেছে ভারতীয় সমাজের দীর্ঘকালীন মনস্তত্ত্বের ভিতর থেকেই।
পিরিয়ড, মেনোপজ, সেক্স শব্দগুলো আমাদের সমাজে নিছক বায়োলজিক্যাল টার্ম নয়। সামাজিক বাতাবরণে এদের বিস্তার বহুদূর। মাঝেমধ্যে নিস্তরঙ্গ জলাশয়ে ঢেউ ওঠে বটে, তবে বেশিরভাগ সময় এদের পর্দানশিন করে রাখাটাই দস্তুর। সে আড়াল আবডাল এত জমকালো যে, ট্যাবু ভাঙ্গতে পালটা ক্যাম্পেন করতে হয়। মাস কয়েক আগের এক স্যানিটারি ন্যাপকিন সংস্থার এরকম একটা ক্যাম্পেন করছিলেন পরিণীতি চোপড়া। সাংবাদিকদের দলে বছর ২৪ এর এক পুরুষ সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করতে গিয়ে পড়লেন চরম বিপত্তিতে। যে প্রশ্নই তিনি করতে যান, পরিণীতির দিক থেকে তা হাস্যকর হয়ে ওঠে। শেষমেশ খোলসা হল যে, তিনি মূলত জানতে চাইছিলেন, এই সময়ে মন্দিরে যেতে দেওয়া হয় না, পুজো করতে দেওয়া হয় না, এরকম সমস্যা পরিণীতি ফেস করেছেন কি না? ট্যাবু ভাঙার ক্যাম্পেনে এরকম হাতেগরম উদাহরণ যে পেয়ে যাবেন তা বোধহয় আয়োজকরাও ভাবেননি। প্রশ্ন হল, কীসের সংকোচে বারবার হোঁচট খেলেন সাংবাদিকটি? শুধু তাঁর হোমওয়ার্ক করা না করার উপর বোধহয় এর উত্তর খোঁজা বৃথা। আসলে আমাদের সমাজই পুরুষদের এই হোমওয়ার্ক থেকে বিরত রেখেছে। ‘পারমিতার একদিন’ ছবিতে রজতাভ দত্ত, স্ত্রীর ভূমিকায় থাকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে হিসহিসে স্বরে বলেছিলেন, মায়ের সম্পর্কে এসব নোংরা কথা বলতে লজ্জা করে না। অর্থাৎ বিষয়টি তো লজ্জার এবং গোপন রাখার। বাংলা কিংবা হিন্দি বলয় নয়, গোটা ভারতীয় সমাজেই বসবাস করছে এই দীর্ঘকালীন গোপনীয়তা ও সংকোচ।
ঐ প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষের দিকে এক মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে পরিণীতি যখন পিরিয়ডস নিয়ে ট্যাবু ভাঙার কথা বললেন, তখন ভালো ভালো অনেক কথার সঙ্গে, তিনি বলে ফেললেন, এটা মহিলাদের কোনও সমস্যা নয়, মহিলারা এ সময় পুরো সুস্থই থাকেন এবং ‘she is fertile who বাচ্চা পয়দা কর সাকতি হ্যায়’।
অর্থাৎ হরেদরে সেই ‘প্রজনার্থং মহাভাগা’। ঠিক এখান থেকেই খোঁজা যায় কেন মেনোপজ বিষয়টি বিচারপর্বে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়েও জায়গা করে নিল। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিত থেকে মেনোপজ এবং সে সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের মহিলাদের মনোভাব নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। দেদার ‘ক্রস কালচার’ সমীক্ষার সারমর্ম হিসেবে যা উঠে এসেছে তা হল, নারীর সামাজিক অবস্থানের নিরিখে বদলে যায় মেনোপজের অর্থও। যেমন মায়ান নারীরা জন্ম দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে মেনোপজের মুখ দেখে স্বাধীনতার আশ্বাস পেতেন। গ্রীক নারীরা আবার চার্চের সব কাজে অংশ নিতে পারবেন ভেবে মেনোপজকে খুব সদর্থক ভাবে গ্রহণ করতেন। পশ্চিম দেশে নারীদের ক্ষেত্রে যৌনতার আবেদনকে অবদমিত করে প্রসূতিগারে দিন কাটানো স্বপ্নের অতীত। তাঁদের ক্ষেত্রে মেনোপজের অর্থ তাই খানিকটা নেতিবাচক। বয়স গড়িয়ে যাওয়ার মনখারাপ এক্ষেত্রে তাঁদের পেয়ে বসে। কিন্তু যে দেশে নারী ও নারীর যৌনতা প্রায় যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখার বিষয়, সেখানে মেনোপজ আলাদা মাত্রা বহন করাটাই স্বাভাবিক। শুধু শারীরিক চক্রের পরিসমাপ্তি না হয়ে, তা অনেকাংশেই হয়ে ওঠে সামাজিক অনুশাসনের এপার-ওপারের মাঝের চৌকাঠ।
বৈদিক যুগের তুলনা টেনে আমাদের ভাবতে ভালোলাগে যে, এককালে নারীদের অবস্থা আজকের মতো ছিল না। উদাহরণস্বরূপ বলে দেওয়া যায়, অপালা, বিশ্ববারার মতো নারীর নাম। কিছু বৈদিক সূক্তের রচয়িতা হিসেবে যাঁরা স্মরণীয়। বলা যায়, একসময় মাতৃপরিচয়ই ছিল শিশুর পরিচয়। পুরুষের বহুবিবাহের পাশাপাশি নারীর পছন্দ অপছন্দও ফেলনা ছিল না। সঙ্গী নির্বাচন এবং যৌনতার ক্ষেত্রটি ছিল উদার। মহাভারতকার নিজেই উপমা দিয়ে বলেছেন, সে সময় মেয়েদের অবস্থা ছিল নাকি ছাড়া গরুর মতো।যম ও যমীর গল্প যেমন বলে, ভাই বোনের মধ্যেও সম্পর্কও হয়তো কোনও একসময় গড়ে উঠতে পারত। মহাভারতের নারী যথা কুন্তী- গান্ধারী- দ্রৌপদীরা প্রমাণ দেন নারীদের অবস্থা মোটেও হেলাফেলার ছিল না। যদিও এঁরা উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মহিলা ছিলেন, এবং অপালা-বিশ্ববারার মতো নারীরাও প্রতিনিধিস্থানীয় ছিলেন না, তবু এই পর্বে নারীদের অবস্থানের একটা রূপরেখা এঁদের মাধ্যমে মেলে।
মোটামুটি বেদের মন্ত্রভাগে নারী-পুরুষে তেমন কোনও ভেদ ছিল না। ব্রাহ্মণভাগ থেকেই দেখা গেল নারীর অধিকার ক্রমশ খর্ব হতে থাকে। যে মন্ত্রভাগে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণ করলে দেবতারা খুশি হবেন বলা হল, তার পর থেকেই নারীরা যজ্ঞ, উপনয়ন ইত্যাদির অধিকার হারালেন। ততোদিনে পশুপালন ছেড়ে বৈদিক সভ্যতা মন দিয়েছে কৃষিকথায়। আলগা বাঁধন ছেড়ে জমাট বাঁধছে স্থিতিশীল পরিবারের ধারণা। সম্পত্তি রক্ষা করতে প্রয়োজন পড়ছে উত্তরাধিকারের। উত্তরাধিকারীর জন্ম দিতে পারেন নারীরাই। তাই বিবাহও ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উদ্দেশ্য পালটে ফেলছে। যে বিবাহ ছিল অর্ধেক আকাশের অধিকার, এবং যে পুরুষের হওয়ার কথা ছিল ‘জায়াত্মা’, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কারণে তা ভোল পালটে নিল। পলিটিক্যালি কারেক্ট হয়ে আমাদের সমাজ মুখে যথাসম্ভব সম্মান জারি রেখে, নারীদের উপর টেনে দিল লম্বা সীমারেখা। ফলত শ্বেতকেতু যখন তাঁর মাকে অন্য এক ঋষির সঙ্গে চলে যেতে দেখলেন, তখনই নারীদের একবিবাহের পক্ষে সওয়ালে মুখর হলেন। নারীদের একবিবাহ সম্পত্তিরক্ষা এবং উত্তরাধিকারীর পরিচয় রক্ষার্থেই জরুরী হয়ে উঠেছিল। শ্বেতকেতুর কাহিনি তার একটা যথাযোগ্য সাফাই হয়ে উঠল। নারীর পরিসর ফলত বেশ খানিকটা সীমিত হয়ে উঠল। ধর্মশাস্ত্রগুলি পদে পদে ছোট ছোট নিষেধের ডোরে বাঁধতে বাঁধতে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি করে তুলল। বলা হল, নারী ‘শ্রীশক্তি’। পঞ্চস্বামীর দ্রৌপদীকে স্ত্রী রূপে গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই সম্পত্তির তুলনাই এসেছিল। সম্ভবত সম্পত্তি রক্ষার সঙ্গে নারীর যোগও এই ‘শ্রীশক্তি’ উপমায় মেলে। সামাজিক অধিকার খর্ব হতে হতে নারী আদতে হয়ে উঠল পণ্য। তাই যে দ্রৌপদী এককালে সয়ম্বর করে স্বামী বেছেছিলেন, তিনিই পরে স্বামীর জুয়ার দান হয়ে যাবেন। গুরুদক্ষিণাস্বরূপ গালব তুলে দেবেন মাধবীকে। বৈদিক যুগের গোড়ার দিকের সমস্ত শিথিলতাকে বিদেয় করে, সব দিক খুইয়ে জেগে থাকল শুধু নারীর সন্তান উৎপাদনের উপযোগিতা। অর্ধনারীশ্বর কল্পনায় জল ঢেলে, স্বামীর অনুগত ‘দাসী’ হয়ে থাকার সব অনুশাসনের উপর জ্বলজ্বলে ট্যাগ বসল-‘প্রজনার্থং মহাভাগা’। অপত্য, ধর্ম, শুশ্রূষা এবং রতি এই চার উপযোগিতাতেই মনু বেঁধে দিলেন ভারতীয় নারীর ভূমিকা। আজ অবধি এই স্ট্যান্ডার্ডের বিশেষ কিছু হেরফের হয়েছে বলে মনে হয় না।
সেকালে বরং খানিকটা ব্যতিক্রমী স্বাধীন জীবন ছিল গণিকাদের। কিন্তু সেও পুরুষতান্ত্রিকতার প্রয়োজনেই। ফলত অম্বপালীর গল্পে দেখা যায় রাষ্ট্রই তাঁকে ছাড়পত্র দিচ্ছে সকলের ভোগ্যা হিসেবে। অন্যদিকে পুরুষের যথেচ্ছারেও স্ত্রীকে ক্ষমাশীলা হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ধর্মশাস্ত্র। যাইহোক, নারী স্বাধীনতা লোপাটের আর একটা পর্ব শুরু হল মুসলমান শাসনকালে। এবার তাদের গতিবিধিও হল নিয়ন্ত্রিত। এমনিতেই ব্যাপক লুন্ঠনের ফলে প্রাচীন ভারতে আর্থ-সামাজিক বুনিয়াদ তখন ধসে গেছে, তার উপর ‘স্ত্রীধন’টিকে খোয়াতে রাজি হল না সমাজ। সুরক্ষার কারণেই এ পথটি বন্ধ হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজন ছিল জাতীয়তাবাদের প্রয়োজনমাফিক এক প্রাচীন ভারত গড়ে তোলা। ফলত নারীর ইতিহাসের অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ, চাওয়া পাওয়া, হওয়া না হোয়া, উচিত অনুচিতের অলংকার শাস্ত্র রচনার দরকার ছিল না, প্রয়োজন ছিল শুধু নারীর উজ্জ্বল ভাবমূর্তির। সেই মূর্তিই সমস্ত ভাবাবেগ এবং শুদ্ধতা নিয়ে প্রতিষ্ঠা পেল। ব্রিটিশ শাসন এবং পরবর্তী আধুনিক যুগে নারীর অবস্থানের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আজ বিজ্ঞাপন আমাদের দেখায় যে, পুরুষ ছেলে কোলে করে ‘কমপ্লিট ইভলভড ম্যান’ হচ্ছে, অন্যদিকে নারী পুরুষের বস হয়েও আদর্শ স্ত্রী হয়ে বাড়ি ফিরে স্বামীর জন্য রান্না করছে। রঙ বদলালে ঘরের লুক বদলায় বটে, কিন্তু ইট কাঠগুলো বদলায় না। ফলত সমস্ত সম্মান এবং অধিকারের শেষেও, কোথাও যেন দৃষ্টিভঙ্গিটা এসে দাঁড়ায় সেই মনুকথিত- অপত্যং ধর্মকার্জানি শুশ্রূষা রতিরুত্তমা-র দরজায়।
যে দেশের নারীর আঁচলে বাঁধা আছে এহেন ইতিহাস, সে দেশে পিরিয়ডস এবং মেনোপজ স্বভাবতই স্রেফ শারীরিক বিষয় নয়। ছেলেদের বরাবরই এ সব থেকে দূরে রাখা হয়েছে। কেননা এ সবে মাথা ঘামানো তাদের দায় নয়। ছেলেদের যৌনতার ধারণা গড়ার পাঠশালায় সবিতা ভাবীই মাস্টারণি থাকবেন-এমনটাই দস্তুর। পরিবারের হাতে কোনও বর্ণপরিচয় নেই। তাই বাড়িতে সন্তানসম্ভবা কেউ হসপিটালে গেলে বাড়ির ছোট বাচ্চাটিকে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে তোমার ভাই/বোন আনতে গেছে।এই লুকিয়ে রাখা কি নারীদের সম্বন্ধে ভারতীয় সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির ডিপ্লোম্যাসিকে আড়াল করার প্রয়োজনেই? মহামতি ভীষ্ম নারীদের শ্রদ্ধা, সম্মান, অধিকার সম্পর্কে যুধিষ্ঠিরকে বহু উপদেশ দিয়ে শেষমেশ পুরুষের হাতে যা তুলে রেখেছিলেন তা হল স্বাধীনতা। এই দ্বৈততাই পুরুষতান্ত্রিকতা কায়েম রাখার অস্ত্র। অতএব পুরুষ শিশুটি যদি ভাবতে শেখে এ নিছকই শারীরিক ব্যাপার, তবে তো স্বাধীনতা এবং অধিকারের অধ্যায়ে নারীরা নতুন এক অনুচ্ছেদে প্রবেশ করবে। তার থেকে গোপনীয়তাই শ্রেয়। যতদিন গোপনীয়তা থাকবে, ততোদিন ধর্মশাস্ত্রের অনুশাসনরা ঘুরপথে এসে দিব্যি বাতানুকুল বেডরুমেও অধিকার ফলিয়ে যাবে।
আর মেনোপজ তো এমন এক পূর্ণচ্ছেদ যেখানে এতশত ভাবার কারণই নেই। কেননা নারীর সন্তান উৎপাদনের উপযোগিতা সেখানেই শেষ হচ্ছে। ধর্ষণে নারীর অবস্থান কোথায় দাঁড়াল, সেটা আলাদা বিচারের বিষয়, মেনোপজ অন্তত এই নিশ্চিন্তি দেয় যে, সেখানে সন্তান সম্ভাবনা এবং সে হেতু হাজারো সামাজিক ঝক্কির বালাই নেই। তাই আচমকা নয়, লতায় পাতায় জড়ানো গভীর অতীত থেকেই সম্ভবত বিচারকদের কলমে উঠে এসেছে মেনোপজ শব্দটি।
এই শব্দপ্রয়োগ অন্তত একটা বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তা হল, আধুনিক সমাজের এই পর্ব সমস্ত প্রগতিশীলতা নিয়েও এখনও মনু মহারাজেরই অনুসারী। মেনোপজের লম্বা রেখার দু’দিকে তা ভাগাভাগি করে রাখে অর্ধেক আকাশ। যা কেবলমাত্র নারীর ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয় হতে পারত তার প্রয়োগ ব্যবহারিকও। কেননা মূল ফ্যাক্টর তো সেই সন্তান উৎপাদন, নইলে ‘বিয়ন্ড দ্য এজ অফ মেনোপজ’-এর আর আলাদা ভূমিকা কোথায়?

আপনার মতামত জানান