“বোকো হারাম” – চূড়ান্ত “-রামির” এক নাম

ঋজু ঘোষ

 

মিডিয়ার কল্যাণে আমরা এখন অনেক খবরই হাতেনাতে পেয়ে যাই। তথাকথিত সরকারের খবর চাপা দেওয়া ব্যাপারটা এখন প্রায় অসম্ভব। খবরের কাগজ, নিউজ চ্যানেল ছাড়াও আছে ফেসবুক, টুইটার এর মতন স্যোসাল ব্যাপার-স্যাপার। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের যে গত এপ্রিল মাসে নাইজেরিয়ার “চিবক” নামক শহরে হানাদিয়ে তারা প্রায় ২০০ জন স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে। এদের তারা সন্তান উৎপাদনে ব্যবহার করবে। তারপর সেই সন্তানেরা আরও নৃশংসতা চারিদিকে ছড়িয়ে দেবে। ভাবলেই গা ঘিনঘিন করে ওঠে। এদের লড়াই মূলত পাশ্চাত্য শিক্ষার বিরুদ্ধে। তাই যা কিছুর সাথে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে তাই এরা গুঁড়িয়ে দিতে চায়। বস্তুত “হারাম” কথাটা এই অর্থেই এরা ব্যবহার করছে। তাই যে স্কুলের উপর হামলা চালিয়ে এরা ২০০ জন ছাত্রীকে অপহরণ করে, তা একটি পশ্চিমি শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল।
কিছুটা পিছনে ফিরে দেখলে, ২০০২ সালে মহম্মদ ইয়ুসুফ এই দলটির প্রতিষ্ঠা করেন। এরা মূলত ইসলামি আদর্শের দ্বারা পরিচালিত এবং সমস্ত পশ্চিমি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। ২০০২-২০১৩ পর্যন্ত এরা ১০,০০০ এরও বেশী মানুষ খুন করেছে। সরকারী হিসাবে এই সংখ্যা ১২,০০০ ও পঙ্গু হয়েছে প্রায় ৮,০০০ মানুষ। এদের নেতা মহম্মদ ইয়ুসুফ পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন নিহত হওয়ার পর থেকেই এরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এদের নতুন নেতা কে তা এখনও জানা যায়নি। তবে খবরে প্রকাশ এদের সাহায্য আসে মূলত আল-কায়দার থেকে। সাধারণ শহুরে লুটপাট থেকেও এরা নিজেদের রসদ সংগ্রহ করে।
জানিনা এরা কার ভালো চায়। এই ১০,০০০ এর মধ্যে এমনও আছেন যারা ওদের থেকেও ধার্মিক। এমনও হয়ত হয়েছে ঈদের পরে কোলাকুলিও করেছেন। তারপর একজন আরেকজন সেই তাকে গুলি করে মেরেছে। এরা কি চায়?
সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয়, এই অপহরণের পর প্রথম প্রথম না নাইজেরিয়া সরকারের কোন গা ছিল, না ছিল আন্তর্জাতিক শক্তির। কেন? সেখানে কোন তেলের ভান্ডার নেই বলে? না দেশটার উপর রাজত্ব করা যাবে না বলে? এরপর কি কেউ আর স্কুলে যেতে চাইবে? যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা নেই সেখানে কিভাবে একজন কবি কবিতা লিখবে? কেই বা ছবি আঁকবে বা গান গাইবে?
ভাবুন ১০-১২ বছরে শিশু কন্যাদের উপর কি সাঙ্ঘাতিক যৌন অত্যাচার করা হবে সন্তান ধারণের জন্যে। কেউ এর প্রতিবাদ করবে না?


২ জুন, ২০১৪, ব্যাঙ্গালোর
wriju@hotmail.com

আপনার মতামত জানান