অ্যাপ-কথাঃ Whisper

পৃথা পাত্র

 

“a guy walked up to me and said: ‘your eyes are so blue. They remind me of the cat that shits on my lawn’.”
“am I the only one to hide when someone rings the doorbell?”
“I will never let my wife know I am starting to enjoy washing dishes”
“my little sister, in 6th grade ks getting more guys than I do. Don’t know how I feel about this”.
“I always fantasize others while I am in bed with my wife”
“I saw my dad was making love with the girl of our maid when I was 6”

-------------------------
Wikipedia:
"Whisper is a free iOS and Android mobile app, and an associated paid online service, which allow users to send messages anonymously and receive replies. Users post messages which are displayed as text superimposed over an image, similar to greeting cards. (This app should not be confused with WhisperPush, an encrypted messaging protocol from Open WhisperSystems)"

প্রথমে দিলাম কিছু ফিসফিসানির নমুনা।

উইকিপিডিয়া থেকে সংজ্ঞাটা তুলে দিলাম তারপরে। এমন একটা অ্যাপ যেটা আপনার নাম না জানিয়ে আপনার গোপন কথাগুলি দুনিয়ার সামনে হাজির করবে। আর আপনিও মনের ভার লাঘব করার জন্য নিশ্চিন্তে আপনার মনের দুঃখ পৃথিবীর সাথে শেয়ার করে ফেলতে পারেন। করতে পারেন ভয়ংকর কনফেশনও। অথচ কেউ আপনার নাম জানল না! মার্চ ২০১২তে দিনের আলো দেখার পরে জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এটির।
কিছুদিন আগে ফেসবুকে নাম্বার গেম খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।কোন এক বন্ধুকে তার একটা নম্বর বলে দিয়ে সাংকেতিক কথাবার্তা তার সাথে। একদিকে সে জানতে পারছে কি বলছে তার বন্ধু, আর গোটা দুনিয়া অবাক হয়ে ভাবছে “এ কি রে বাবা?”

তারপরে শুরু হয়েছিল কনফেশনের পালা। কনফেশন পেজগুলির অ্যাডমিনগুলির অবস্থা হল গির্জার পাদ্রীর মত যার কাছে সবাই এসে কনফেস করে চলে যাচ্ছিল। কে কোন মেয়েকে পছন্দ করে থেকে শুরু করে কবে কলেজের কোন ম্যাডামের ক্লিভেজ দেখা গেছে মোটামুটি সবই এই পেজগুলিতে পাওয়া যাচ্ছিল।


কিন্তু এই অ্যাপটি যেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের সংজ্ঞাটাই বদলে দেওয়া শুরু করল। একেকজন মনের সুখে তার মনের কথা বলে যাচ্ছে, আর হনোলুলু থেকে হন্ডুরাস, পৃথিবীর সবাই সেই মনের কথা পড়তে পারছে, সেই সাংকেতিক ব্যক্তির সাথে চ্যাট করতে পারছে অথচ নামটি কিন্তু জানা যাচ্ছে না। আপনি বলে চলেছেন, দুনিয়ার পাবলিক চলে আসছে আপনার সাথে সেই বিষয়ে কথা বলতে, আর এদিকে আপনার পরিচয়ও গোপন থাকল। এ যেন অনেকটা কোন পত্রিকার পেজে সাহায্য চাইবার মত ব্যাপার, ব্র্যাকেটে যেখানে লেখা থাকবে “নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক”।
আর কিছু পাবলিকের “attention seeking tendency” এক্ষেত্রে বেশ মজাদার অবস্থা তৈরি করে। বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, আদতে হয়ত সেগুলি তাদের সাথে ঘটেইনি এমন অনেক পোস্ট থাকতে পারে। চ্যাট করতে করতে চিরাচরিত চাহিদা অনুযায়ী ফোন নম্বর চাওয়ার ঘটনাও হামেশাই ঘটে।


কিন্তু যেটাই হোক এই অ্যাপটি বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে যুব সমাজে। প্রথমে স্বীকারোক্তি, তারপরে তার সাথে সেই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি ফটো(ফটো আপনিও আপলোড করতে পারেন কিংবা অ্যাপটি আপনার জন্য একটি ফটো খুঁজে এনে দেবে) এবং সবশেষে সেটি পোস্টিং। আপনার প্রোফাইলটি এবং আপনার ফিসফিস সম্পূর্ণভাবে পিন দ্বারা সুরক্ষিত থাকে, আপনি ছাড়া আপনার মোবাইল ডিভাইসে তাই সেটা কারও খোলার সুযোগও নেই। আপনার বক্তব্যটি পোস্ট হবার পরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা আপনার সাথে চ্যাটে কিংবা পোস্টটির তলায় মন্তব্য করতে পারবে। এখানে আপনি একটি স্বতন্ত্রসত্ত্বা, আপনার কোন বন্ধু কিংবা গ্রুপ নেই। আপনি খোলা বাজারে কেবল আপনার কথাটি ছেড়ে দিচ্ছেন। তারপরে বাকিরা সেটা নিয়ে ভাবছে, শেয়ার করছে কিংবা একেবারেই অবজ্ঞা করে চলে যাচ্ছে।
অরকুট এবং তারপরে ফেসবুক, টুইটার পৃথিবীটাকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের একটা চশমা দিয়ে দেখেছে। তাতে মানুষ নিজের চরিত্র লুকোতে পারে, “ফেক” করতে পারে, কিন্তু সবটাই আসলে নিজের ইমেজটাকেই তৈরি করতে।
হুইস্পার এখানেই এদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ এক অস্তিত্বহীন অস্তিত্ব। কোন নির্মাণ নেই, সবটাই অদৃশ্য ধর্মযাজকের কাছে মনের সব কিছু সাফ করে দেবার মাধ্যম।

আপনার মতামত জানান