প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য নিয়মিত বিভাগ


ছবি সুদাস

নয়নিকার প্রেমিক

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

(১)

নয়নিকা,
ছোটবেলা থেকেই, কিম্বা বলা যায় প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই আমার চোখে লাগানো পুরু কাঁচ। মধ্যে মধ্যে শুধু ফ্রেম পালটে পালটে গেছে।
আমরা এইট্টিজের সন্তান। মানে যখন আমাদের জন্ম, তখনো সচিন টিনএজার, লোকে সাদা পোশাকের ক্রিকেট খেলা দেখতে যেত টিকিট কেটে। লোকজন লাল কোকাবুরা বলে খেলতো, আর বোলার হওয়ার মানে ব্যাটসম্যানদের সামনে বাঁধা পাঁঠার চেয়ে বেশি কিছু ছিলো।
তখন আমাদের এই দক্ষিণ কোলকাতার শহরতলিতে, পাড়ায় পাড়ায় অধুনা সল্টলেকের মতো সাজানো পার্ক ছ

আরও পড়ুন

তোমার প্রেম হত যে মিছে

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়


রামমোহন রায়ের হাত ধরে যে ব্রাহ্মধর্ম বাংলা সমাজে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, ওনার মৃত্যুর পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে সেই ব্রাহ্মসমাজ একটা অন্যরকম বিকাশ পায়। এবং আরও কয়েক দশক পর তার পরিচিতি হয় ‘আদি ব্রাহ্ম সমাজ’, যা কিনা উলটোদিকে দাঁড়ানো নবজাগরণের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কেশব চন্দ্র সেনের ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ (নবিবিধান) থেকে নিজেকে পৃথক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করারই সফল প্রয়াস। কেশব সেন এবং মহর্ষির (ও তাঁদের অনুগামীদের) মধ্যে যে একটা বিভেদ ছিল (সংঘাতও) তা উন

আরও পড়ুন

দুটি অণুগল্প

অনুপম মুখোপাধ্যায়


পোঁদ

কেমন একটা ঝাঁঝালো উত্তেজক দুর্গন্ধ আটকে আছে, ফিকে লাল ল্যাম্পপোস্টগুলোর আলোয়। এগোতে এগোতে মনে হচ্ছে আলোটা এই গলির অংশ। দুপাশের পুরনো বাড়িগুলোর দেওয়াল, দরজা জানালা, অ্যাডাল্ট সিনেমার পোস্টারগুলো, গানবাজনার আওয়াজ, কোনো একটা ঘরে বেশ লাউড ভল্যুমে ব্লু-ফিল্ম চলছে... যেন হাওয়ার হড়হড়ে মাংসপেশীগুলো এঁটে বসতে চাইছে গলিটায়।
তার বাঁড়া সেই যে বিকেলে উঠেছে, আর নামছেই না। মাথা কাজ করছে না। হাল্কা হতে হব

আরও পড়ুন

সে এক অপ্রচলিত দীপাবলি

সরোজ দরবার

'সবার ঘরে আলো জ্বলবে আর আমরা পাবুনি?', একরকম বিরক্ত হয়েই বলল ললিত মাস্টার। গ্রাম প্রধান অনিল তার ছোটবেলার বন্ধু। ললিতের কাঁধে হাত রেখে সে বলল, ‘শোন মাস্টার এত উতলা হসনি। এতটা যখন হয়েছে তোরটাও হবে। আমি তো কাজ করছি, করছি কি না বল?’
অনিল বলল বটে হবে, তবে কবে যে ললিতের ঘর আলো হবে, তা সে নিজেও জানে না। তাদের পার্টি ক্ষমতায় আছে বহু বছর। হ্যাঁ, হিসেব করলে তো বছর কুড়ি হবেই। এই তুলসিপুর গ্রামে এই এক পার্টি ভিন্ন আর কিছু এই সেদিন পর্যন্তও ছিল না। তবু কেন কে জানে, তাদের

আরও পড়ুন

উনিশ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীট

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

১৯ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীটে টিপিক্যাল উত্তর কোলকাতা হবার জন্য যা যা দরকার প্রায় সবই আছে। মধ্যিখানে কলতলা, তার চারপাশ দিয়ে উঠে যাওয়া ঘরকন্না। নীচের কলতলা জুড়ে জেগে থাকা অবধারিত শ্যাওলা। ডানপাশে একটা জালে ঢাকা কুয়ো।
একতলায় পুরোনো বাড়ির নিয়মমাফিক একঘর ভাড়াটে। কবে থেকে রয়েছে তারা কেউ জানেনা। বোধহয় দেশভাগের সময় থেকে। সেইসময় রেন্ট কন্ট্রোল হয়ে মামলা টামলা হয়ে, যে ভাড়া ঠিক হয়েছিলো এখন মুদ্রাস্ফীতি ধরে টরে প্রায় তাই আছে। তবে সেকালে বোধহয় মালিক ভাড়াটের ম

আরও পড়ুন

বনেদি কলকাতার ঘরবাড়ি: স্থাপত্যদর্পণে সমাজ প্রতিকৃতি

আবেশ কুমার দাস

Thus the midday halt of Charnock—more’s the pity!
Grew a City.
As the fungus sprouts chaotic from its bed,
So it spread—
Chance-directed, chance-erected, laid and built
On the silt—
Palace, byre, hovel—poverty and pride—
Side by side;

(A Tale of Two Cities/Rudyard Kipling)

নিমতলা ঘাট স্ট্রিট ধরে যাচ্ছিলাম মিনার্ভা থিয়েটারের দিকে। বিডন স্কোয়ারের পাঁচিলের লাগোয়া ফুটপাথে বেওয়ারিশের ঢঙে পড়েছিল টিয়াপাখির খাঁচাটা। আসনের কায়দায় বিছানো সবুজ একফালি ময়লা কাপড়ের একধারে। রংবেরঙের একরাশ সস্তা পাথরও সাজানো ছিল কাপড়ের ওপর। আকছার না হলেও উত্তর কলকাতার পথঘাটের এক পরিচিত ছবি। জানি না দশ-

আরও পড়ুন

এরোটিকা : ৩টি পুনরাধুনিক কবিতা

অনুপম মুখোপাধ্যায়






যে কোনো দরজা। থেকে মাংসের খরচ
উঠে আসে। আরো খোলা দরজার হয়ে

যেন ১ মন্ত্র যন্ত্র। তার বিস্তার পেয়েছে
পায়রার দিব্যি তার যতটা পাওয়ার

গুদ। থেকে দ্যাখা দেয় খিলের আদল
বাঁড়া কাঁদে। যন্ত্রণার নাম বেড়ে যায়

আরে রাণী। যদি তুমি রাজা হতে চাও
কোমরের অহেতুকে পকাৎ রেখো না







সেই হোল দেহ দান যেটা শরীরে ছড়ায়
অনেক অজানা। আর অনেক অজানা

পাখি যত ঘন হয়

আরও পড়ুন

আমি ও সুনীল, অর্থাৎ সুনীল ও আমি : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণে একটি চিঠি

জয়ন্ত দেবব্রত চৌধুরী

প্রিয় অনিমেষদা,
প্রথমেই বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করি। কেমন আছো সকলে? আমি ভালোমন্দ মিশিয়ে আছি একরকম। তোমার মনে পড়ে, আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগের এই দিনেই তোমাদের প্রিয় কবি সুনীল গাঙ্গুলি মারা গেছিলেন আচমকা? তুমি বলবে আচমকা মোটেই নয়, কোথাও ‘অকালপ্রয়াণ’ কথাটা ব্যবহৃত হয়নি তেমন একটা, আটাত্তর বছর বয়স মোটেও কম নয় বরং কিছুটা বেশিই। তোমরা বলবে আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের যোগ্য উত্তরসূরি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আয়ুতেও ওনাকে প্রায় স্পর্শ করেছিলেন। কিন্ত

আরও পড়ুন

হারানো মেয়ের গপ্পোটি

সরোজ দরবার

‘বাপের মতো, বাপ তো নয়, তাহলে আপত্তি কীসের?’- প্রহরে প্রহরে দেওয়ালঘড়ির ঘন্টা বাজার মতোই কথাটা কানে বাজছে সরস্বতীর। এখন কত রাত হল কে জানে! চোখে একফোঁটা ঘুম নেই তার। আসলে এমন আজব প্রস্তাবও যে সে জীবনে পেতে পারে ভাবেনি কোনওদিন। জীবনটা তো তেমন সুখের কিছু নয়। কে যে তার মা-বাবা সে জানে না। তবু একটা বড় মস্ত মানুষের নামে তার পরিচয়। এই এলাকার তাবৎ জনগণ লোকটাকে ভগবানের মতো মানেন। যেন তিনিই সৃষ্টিকর্তা। কথাটা মিথ্যে তা নয়। এতবড় একটা জনপদ তৈরি করা তো চাট্টিখানি কথা নয়।

আরও পড়ুন

সহিষ্ণুতার শেষ নক্ষত্র

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়

১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দ। ইতিমধ্যেই পৃথিবী একটা বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে। মিত্রশক্তি ভার্সাইয়ের চুক্তির মাধ্যমে জার্মানীর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে কিছু কঠোর শর্তাবলী। অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সবদিক দিয়ে ধুঁকছে দেশটা। কোনো মৃতপ্রায় মানুষ যেমন মৃত্যুর আগে শেষ আঁচড়- কামড় দিয়ে নিঃশ্বাসের সময়সীমাকে প্রলম্বিত করে, জার্মানীর অবস্থাও সেরকম। এরই মাঝে তীব্র প্রতিশোধস্পৃহা নিয়ে উঠে এসেছে একটি নতুন দল, “ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট পার্টি” (নাৎসি)। রাইখস্ট্যাগ পুড়িয়েছে তারা গোপন

আরও পড়ুন

কাক

দেবব্রত কর বিশ্বাস


“ওই যে, এসে গেছে।”
পুরোহিত রাজেশের কথা শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সুমন্ত। একটি কাক লাফাতে লাফাতে এসে পাঁচিলের ওপরে রাখা অবশিষ্ট পিণ্ড মুখে দিয়েই উড়ে গেল। সেই দিকে তাকিয়েই রইল সুমন্ত। কাকটা গাছের আড়ালে মিলিয়ে যেতেই সে ফিসফিস করে বলে উঠল- ‘বাবা!’

বাবা চলে গেছে বেশ কিছুদিন হয়ে গেল। এখন ঘরদোর অনেক শান্ত। নিরিবিলি। শোক নামক মায়া সব কেমন শান্ত করে দেয়। তেমনই শান্ত হয়ে আছে বাড়ির উঠোন। কলাগাছ। কুয়োতলা। সবাই বলেছে, ধীরে ধ

আরও পড়ুন

চারটে পুনরাধুনিক কবিতা

অনুপম মুখোপাধ্যায়




গৃহস্থী



সকল। ভালোবাসা ফেলে
বাড়ি হয়ে আছে

সমস্ত জায়গায় ফুল ইট
সামনে। লম্বাআআআআআ হয়ে
পড়েছে তার পুড়ে ছাই ইট ফুল

তোমার। মেয়ে তোমাকে বলছে
ছেলে হওয়ার দুঃখ

দমকল থেকে
পড়ে যাওয়ার দুঃখ

আগুন ছাড়াই

নূপুর থেকে
কাদা ধুয়ে নিচ্ছে



সে


জাহাজ থেকে ১টা অনুপম নেমেছে
এই গুণ। কি। জাহাজের

তাকে। কেউ
ব্যাখ্

আরও পড়ুন

কয়েকটা কবিতা

সরোজ দরবার



হ্যাপি টু ব্লিড

রক্তের আভাস আসছে পরপর-কবিতায়,
ট্যাবুর মাথায় চাঁটি মেরে ঋতুরক্ত
মুখরা কিশোরী, বলে দিতে এসেছে যা বলার;
এক আটপৌরে ষাটের বুড়ি তাকে
ধিঙ্গি বলতে গিয়েও থমকালেন-

যে যন্ত্রণা রক্ত হলে কবিতা হয়,
প্রকৃতিগত তা নারীর শুধু, অতএব
সে কবিতাও, পুরুষ অনেকবার
আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে
হয় প্যানপেনে সিরিয়াল করে ছেড়েছে
নয় শৌখিন গান...

রক্ত বলতে পুরুষ তাই খুন-জখম
রাজনীতি বুঝে সচেতন হয় সমাজে,
এদিকে সকলই কৌতুক

আরও পড়ুন

ভূতের গল্প

কৌস্তভ ভট্টাচার্য



রাজারহাট থেকে ডিরেক্ট ঠাকুরপুকুরের দিকে আসার শেষ বাসটা আগে ছাড়তো রাত্তির আটটায়। এখন ব্যাপারটার একটু উন্নতি হয়েছে – বাসটা উঠে গেছে। এখন ঠাকুরপুকুর বেহালা ইত্যাদির দিকে আসতে গেলে শাটল ইত্যাদি ধরতে সেক্টর ফাইভের দিকে আসা অথবা রাসবিহারী-টালিগঞ্জের দিকে এসে তারপর অটো না ধরে উপায় নেই।
এখন এদিক থেকে বাড়ি ফিরতে রাতবিরেতে অফিসের বাস কিম্বা ক্যাবগুলোই ভরসা। বাসে আসার সমস্যা হচ্ছে – বাসগুলো চৌরাস্তার দিকে নামিয়ে দে

আরও পড়ুন

চার টুকরো ছোটশহর : পুনরাধুনিক অবলোকন

অনুপম মুখোপাধ্যায়






ছোটশহরে। বানান ভুল কম হয়। তরুণ সেখানে তরুন। নিউইয়র্ক টেলার্সের পাশে স্টুডিও। ডাক দ্যায়। আসুন। আপনার ছোবি তুলে দিই। অ্যামন ছোবি আপনার অন্য কোনো দুপুরবেলায় তুলতে পারব না





সকাল ৯টায় যে ড্রেনে শ্যাম্পু ভাসে। সকাল ১০টায় মৃগেলচারার আঁশ। সেই ড্রেন এই শহরের জান। সেই ড্রেনের পাশে আপনি চা খান





সসেজ থেকে ক্যান্সার হয়। বেকন থেকে। হ্যাম থেকেও নাকি। ছোট শহরের মাখন

আরও পড়ুন

পুনরাধুনিক কবিতাগুচ্ছ

অনুপম মুখোপাধ্যায়



১।
বানানের cunt বানানের dick



যে বানান দাঁড়িয়ে থাকে। আমি তাকে বিশ্বাস করি না
ওর জাঙিয়া। ময়লা
ওর প্যান্টিতে বিচ্ছিরি ঝনাৎ লেগে আছে

ওই যে। দ্যাখা যাচ্ছে। ১টা গোলাপি বালতি
নীলাভ সাদা দেওয়ালের আড়াল
ডিটারজেন্ট। যে আছে
এর আগে এত স্পষ্ট করে
বলার দরকার। হয়নি

কেন যে কিছু বানান দাঁড়িয়ে থাকে
কেন যে কিছুতেই। পা তুলতে পারেনা
অ্যাত কী চ্যাটচেটে

নজর। রাখছে
কি

আরও পড়ুন

অঞ্জলিক : পুনরাধুনিক কাব্যনাটক

অনুপম মুখোপাধ্যায়


karna by amit biswas

[মহাভারত ১ নয়। মহাভারত অনেক। মহাভারত একটা বই নয়, দুই মলাটে তাকে রাখা যায় না। আমাদের সকলের আছে এক নিজস্ব মহাভারত। আমার এই লেখাকে গবেষণামূলক বলা যেতে পারে। আবার সংগ্রহমূলকও বটে। সেই প্রথম কৈশোর থেকেই, কর্ণ আমার প্রিয়তম চরিত্র। তার সম্পর্কে যেখানে যা পেয়েছি খুঁটিয়ে পড়েছি প্রায় গোগ্রাসে। ফলে অনেকগুলো দৃষ্টিকোণ থেকে এই চরিত্রকে আমার দেখা হয়ে গেছে। পরে অনেক কবিলেখকবন্ধুকে শুধিয়েছি তাঁদের মত কর্ণ সম্পর্

আরও পড়ুন

মেঘদূত না হওয়ার কার্যকারণ সহ ব্যাখ্যা ইত্যাদি

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

[কোলকাতা শহরটা নাকি একসময় বৃহত্তর সুন্দরবনের অংশ ছিলো। এও শোনা যায় ওয়ারেন হেস্টিংস নাকি সহস্তে বাঘ মেরেছেন কোলকাতায় – যেখানে সেখানে নয়, খোদ পার্ক স্ট্রীটে। তো ম্যানগ্রোভের জনশূন্যতা ছেড়ে টিপটপ তিলোত্তমার প্রাচুর্যে গড়িয়ে গড়িয়ে ফিরে আসার মধ্যে কোথাও একটা কোলকাতা হয়ে ওঠার ব্যাপার আছে, কোলকাতা হয়ে থাকার চেষ্টা আছে। এইসব বিজ্ঞের ড্যাশ মার্কা ভেবেই অধুনা সিরিজের চতুর্থ পর্ব। ।গল্পের সময়কাল ২০১৫। তো এটা শেষ গল্পটার প্রিকুয়েলই বলা যায়। কিছুদিন দেরি হয়

আরও পড়ুন

তিরিশ শতাংশ প্রেম, পাতাল, আঠেরো ভাঁটি

কৌস্তভ ভট্টাচার্য


[যেকোনো প্রেমের গল্পের মাঝেরটা খুব বোরিং হয়, তাই এক কাজ করলাম, মাঝেরটা লিখলামই না। এটা একদম শেষেরদিকের গল্প – যেখান থেকে গল্পটা হয়তো পিচকিরির মতো ছিটকে বেরোবে, নাহলে ঝর্ণার মতো হঠাৎ - যাই হোক, মাঝে কি হলো , যে যার মতো ভেবে নেবেন – অতো বলতে পারিনা বাপ – বয়েস হচ্ছে]
আরো কিছু প্রারম্ভিক কচকচিঃ শেষ গল্পের সাথে এই গল্পের ব্যবধান সময়ের নিরিখে প্রায় সাত বছর। সদা প্রয়োজন ডিসক্লেইমার – বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই – থাকার

আরও পড়ুন

ভাদ্র, নিষাদ, মিশেল

কৌস্তভ ভট্টাচার্য


(১)
আশ্বিণের বাড়াবাড়ি গ্ল্যামারের চাপে ভাদ্র মাসটা প্রায় দেউলে হয়ে গেছে। তার ওপর সারমেয়দের বচ্ছরকালীন জীবনবৃত্তি মাসটাকে নেহাৎ আমজনতার কাছে হাসি ঠাট্টার খোরাক করে দিয়েছে।
বিদ্যাপতি বেশ কিছুদিন আগেই হাত-পা তুলে অমরত্ব অর্জন করে – নেহাৎ বেঁচে গেছেন। নইলে ‘এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর’ নিয়ে এই একবিংশ শতকীয় বাঁদুরে লাফঝাঁপ আবার করে দেখলে ভদ্রলোক হয়তো মৈথিলী ভুলে কাঁচা বাঙলায় খিস্তি মারতেন।
তবে বিদ্যাপতি আমা

আরও পড়ুন

অপ্রেম, হলদে সিগনাল আর মিউজিক ক্যাফে

কৌস্তভ ভট্টাচার্য



‘কোলকাতা শহরটার রং কি বল তো?’
‘ব্ল্যাক’।
‘ইয়েলো’।
‘এই আলোগুলোর জন্য?’
...
বিয়াস আর প্রান্তিককে ঠিক দারুণ বন্ধু বলা যায়না। এক কলেজে পড়তো – অনেকদিন মাঝে দেখাসাক্ষাৎ হয়নি – ফেসবুকে কথাবার্তা ছিলো যদিও। প্রান্তিক বেশ কিছুদিন পর কোলকাতা ফিরেছে – কিন্তু বিয়াস তার আগেই ‘পাতা’ ফেলে দিয়েছে। পড়তে টড়তে যাবে। তার আগে একটা গুড বাই ফেয়ারওয়েল টাইপ সব জায়গায় ভিজিট করবে ঠিক করেছে।
বিকেলের সেক্টর ফাইভের আক

আরও পড়ুন

গুচ্ছ কবিতা

সার্থক মজুমদার



১।
রসদ
একটা অহেতুক জীবন কাটানোর জন্য,
কিছু অহেতুক রসদ চাই।
রাত বাড়লেই মীরাক্কেল,
শীত পড়লেই দু-চারটে পিকনিক
গুঁজে দাও এখানে-ওখানে।

টি ভি জুড়ে জোকারদের
মহোৎসব চলে বছরভর।
হরদম মশা মাছি মরে
(মাঝে মাঝে আরশোলাও)।
আঙুলের ছোঁয়ায় বাতাসে ভাসে
টাটকা গুড়ের মতো প্রগাঢ় খিল্লি।
এছাড়াও! ওফ কী ভীষণ,
ক্রিকেট দিয়েছেন ভগবান!

একটা স্বাভাবিক জীবন
কেটেকুটে যায় যাতে, রক্ত না পড়

আরও পড়ুন

হেলমেট

বিশ্বজিৎ রায়



এক দেশে এক বাড়ি ছিল । সেই বড়িতে থাকত একজন ছেলে আর একজন মেয়ে । তাদের নাম ছিল – মানুষের নাম থাকে । পশুদের নাম থাকে কি না বলা মুশকিল । তবে মানুষ তাদের নাম দেয় । একদিন সেই ছেলে আর মেয়ের ময়দা মিশে তৈরি হল আর একটা ছেলে । তারা সেই নতুন মানুষের নাম রাখল বাবুই । বাবুই বালিশের সমান লম্বা । শীতকালে দিব্যি কাঁথা চাপা দিয়ে একটা বালিশে শুইয়ে দুপাশে দুটো পাশবালিশ দিয়ে বেড়া দেওয়া যেত । বাবুই আরাম করে ফুস-ফুসিয়ে নিঃশ্বাস নিত আর ঘ

আরও পড়ুন

মেধায়ূধ দিবস

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়


অলংকরণ- তৌসিফ হক


উৎসর্গ- দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায় এবং মেধাশ্রী মোহান্তিকে

এমনই এক রবিবারে, ঝিরঝিরে বৃষ্টি মেখে গায়ে
ওই ছেলে- মাতাল, প্রেমিক, কবি মিশেছিল হরিণী ঝর্ণায়
চন্দননগর, স্ট্র্যান্ডের কাছে, বাইরে মেঘ হাওয়া নদী, চোরাকুঠুরিতে বাড়ে স্রোত
আজ এই মেধায়ূধ দিবসে, যা হবার যা হবার হোক
জীবন বাউল গান, সেই কথা হরিণীটি জানে
ছেলেটিও ঠোঁটে ঠোঁটে লিখেছিল নেরুদার মানে
বেপরোয়া প্রথাহীন, এই সব মে

আরও পড়ুন

দুটি পুনরাধুনিক কবিতা

অনুপম মুখোপাধ্যায়

১।
দ্য গসপেল অব জুডাস




আমাকে যন্ত্রণা দাও। চেঁচিয়ে বলেছি উঠেছি
ছায়া যত দ্রুত সরে। রোদের ভিতর আগের
জেল নয়। ফাঁসি নয়। অপর জুডাস
অসুখে বিসুখ রেখে। ব্যাধি সেরে যায়

মহাপ্রাণ। ১ বাঘ। গরু মোষ পিঠে নিয়ে
অসংখ্য মাইল। আমি। পেরোতে চেয়েছি
পারিনি যে। সেই দোষ। কার তুমি বলো
কেন ছালে ডোরা কেটে দিলে না আমার তখনই

অনেক দূরের ১ মাত্রা নিয়ে। পাখি
ঠোঁটের ঠোকর দ

আরও পড়ুন

যোজন

শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রতীক আজ থেকে ডায়েরি লিখবে, রোজ। বাড়ি ফিরে চান সেরে নিজের স্টাডিতে বসল ও, মৃদু টেবিল ল্যাম্পের আলো একটা ছোট বৃত্তে উজ্জ্বল। এসিটা অন করে দিল ও।

কি ভেবে আবার উঠে বাইরের মেন ডোর পুরো লক করে দিল, যেমন করে শুতে যাবার আগে। কলিং বেলের সাউন্ড অফ করে দিল ভিতর থেকে, কেউ বাজালেও বাজবে না ওটা এখন। নিশ্ছিদ্র নীরবতায় মুড়ে নিতে চাইছে প্রতীক, নিজেকে। একটা পেগ বানিয়ে ফ্রিজ থেকে তিন টুকরো বরফ ফেলল তাতে। এসে বসল টেবিলের সামনে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারে আবার পড়ল তমসার ম

আরও পড়ুন

জুঁই

অনির্বাণ গুহ


অলংকরণ তৌসিফ হক

রোজ সকালে অটোটাকে চান করাতে করাতে ভোর দেখতে হেভী ভাল লাগে।গঙ্গার উপরে আকাশটা অন্ধকার তো কখনই থাকে না। হাল্কা অন্ধকারের ব্যাকড্রপে হ্যালোজেনটা শুধু সূ্য্যি হয়ে যায়। ঝাড়া একঘন্টা ধরে আগে-পিছে-উপর-নীচে ঝাপটা মারতে থাকে, যতক্ষণ না “মায়ের আশীর্বাদ” এর চোখগুলো জ্বলজ্বল করে ওঠে।ততক্ষণে ভোলাদা এসে যায়।মন্তর পড়ে, মালা চড়িয়ে, ধূপ জ্বালিয়ে, সিঁদূর লাগাতে লাগাতে বাপির চান কমপ্লিট।সীটে বসে চায়ে চুমুক মার

আরও পড়ুন

প্রেমের কবিতা

রিংকু কর্মকার চৌধুরী



১)
যা কিছু হারিয়ে যায়

রঙিন কাগজের ঘুড়ি
আকাশের চিলেকোঠায়
উড়ে যায়
   অন্যমনস্ক...

চুপি চুপি পায়ে রোদের
গালিচায় বুনো মেঘ
হারায়
ব্যবধানে...

ঘুড়ির ছেঁড়া খোঁড়া বুকে
এঁকে রাখা ক্ষত
ভালোবাসার

মরে যায় প্রেম, মরা যৌবন,
ভেসে চলে


২)
গল্প ছলে

মন কুড়িয়ে খেলছে বাতাস
পথের ধারে
ইচ্ছে করে
পড়ে থাকি
তোর ঠিকানায়।

দুমুঠো ভাত
রাঁধব বসে
বি

আরও পড়ুন

আমার সাগরিকা বোরদোলোই

দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়

প্রণব কুমার বর্মণের এই যুগান্তকারী কবিতাটির সঙ্গে পরিচয় হয় নভেম্বরের এক বিষণ্ণবিধুর সন্ধ্যায়, আমার সহপাঠী রূপম এবং আমি, দুজনেই সেমিস্টারের চাপে বিহ্বল হয়ে গঞ্জিকার শরণাপন্ন হয়েছিলাম। নেশা ঈষৎ চড়ার পর আমি ওকে শক্তি চট্টোপাধ্যায় পড়ে শুনিয়েছিলাম, ও আমাকে পড়ে শোনালো এই কবিতাটা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি লেখা, লেখামাত্র তা সেই সময়ের বিক্ষুদ্ধ যুবসমাজের ম্যানিফেস্টো হয়ে অসমের কলেজে কলেজে হোস্টেলে হোস্টেলে ছড়িয়ে পড়ে। রূপম আমাকে মূল অহমীয়া তো বটেই, ওর বন্ধু

আরও পড়ুন

গুচ্ছ কবিতা

রঙ্গীত মিত্র


ছবি- গুগল সূত্রে প্রাপ্ত

জমি-নীতি

টিকটিকিদের বাঁকা চোখ দেখে
ধুলোরা কার্বন-মনোক্সাইড ছাড়ে।
তারপর গলায় গরমকাল নিয়ে
আইসক্রিমঅলা ডেকে যায়,তার ভাবি খদ্দেরদের।
ওদিকে পেয়ারা গাছে,সেতু বাঁধা মাকড়শাকে
খেতে না পেরে
রাগি বুলবুলিটা বেশ রাগি চোখে আমাকে দেখে।
এদিকে কয়েকটা কাক আবার বাকু মামাদের কার্নিশ
থেকে বুলবুলিটাকে দেখে।
জমি-নীতি নিয়ে প্রকৃতিতেই এতো সমস্যা,
তাহলে আর কমিটি বানিয়ে ক

আরও পড়ুন

কিল বিল, মার্টিনার চুমু, অথবা মেয়েদের কবিতা নিয়ে দু-চার কথা

অনুপম মুখোপাধ্যায়



খুব ছেলেবেলা থেকেই আমি বিশুদ্ধ আবেগ পছন্দ করি। আর, হিংসার মতো শুদ্ধতা কোনো আবেগে তো থাকে না, একমাত্র প্রতিহিংসা ছাড়া। ইন্দ্রজাল কমিকসের মাতাল পাঠক ছিলাম। একটা বিরাট সংগ্রহ ছিল। কোথায় হারিয়ে গেল... ভাবলেই এখনও মন খারাপ হয়। তারপর সিনেমা। অমিতাভ বচ্চনের ৭০ দশকীয় সিনেমাগুলো আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে। হিংস্র যদি হতে হয়, সিস্টেমের ভিতরে-বাইরে ওইভাবেই হতে হয়, ‘আমি যখন মারি, তখন ভিতরে ঢুকেই মারি’... একটি কিশোরের মনে স

আরও পড়ুন

চারটি পুনরাধুনিক কবিতা

অনুপম মুখোপাধ্যায়



১)
অশোক



২)
সর্দারজির মেয়ে



৩)
কপোতাক্ষ নদ


৪)
মাঠবই


আরও পড়ুন

প্রভুদাস

বিশ্বজিৎ রায়



কোথায় পড়াস তুই প্রভুদাস ?
কারখানা ঘরে ?
উৎপন্ন করাতের ফলা ধারহীন হলে
গ্রান্ট বন্ধ করে দেবে কমিশন ?
সবার মাথার চুল যাতে হয় ঠিকমতো খাড়া
তার জন্য সারিবদ্ধ ভোরে
দিয়ে যাবি বিনিদ্র পাহারা ?
বল বল, বলে ফেল প্রভু।
চেপে চুপে রাখা ভালো কাজ নয় ।
ধানের বিবিধ রূপ কবে হেজে মজে গেছে
পড়ানোর কারখানা ঘরে তোদের রেখেছে তাই
বিস্তর বেতন দিয়ে তারা,
কেবল ছাঁটার জন্য ।
ছাঁট ছাঁট প্রভুদাস
বেস

আরও পড়ুন

আসি, ভাষা : একগুচ্ছ পুনরাধুনিক অবলোকন

অনুপম মুখোপাধ্যায়







আরও পড়ুন

এপিটাফ

বিশ্বজিৎ রায়



সাহিত্য পড়ানো বন্ধ করে দিন
সাহিত্য পোড়ানো হোক আপনার কাজ
বাজারে যেভাবে দেখে ঢ্যাঁড়শ সুকচি
সেভাবে ডগাটি ভেঙে
সামিল করেছে কাজে ।
আপনার কি পড়ানো সাজে ?
পোড়ান , পুড়িয়ে দিন
রক্তকরবীর পাতা
শীতকাল এসে গেছে ।

আরও পড়ুন

কলকাতার কাছেই

প্রবুদ্ধ বাগচী



সদ্য শেষ হওয়া শারদোৎসবের অষ্টমী সন্ধ্যা । আলোকমালা থেকে দূরে , প্রায় নির্জনে আমি হাঁটছিলাম । শহরের মূল লাইফলাইন থেকে বেশ কিছুটা দূরত্বে এক জনপদের রাস্তায় । মিনিট দশেক হাঁটার পর রাজপথের আলোকসজ্জা উধাও, পুজো প্যান্ডেলের মাইকের আওয়াজ আর তেমন শোনা যায় না । শুনশান চওড়া রাস্তার একদিকে উঁচু পাঁচিল, তার ওপারে বিমানবন্দরের বিমানগুলির বিশ্রামস্থল, পরিভাষায় যাকে বলে হ্যাঙ্গার । অন্যদিকে যতদূর চোখ যায় নির্মী

আরও পড়ুন

ভোকাট্টা!

অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়


ছবি-অর্পিশ চট্টোপাধ্যায়


ছেলেটা ছুটছে। বাঁই বাঁই করে। হাঁটু পর্যন্ত কাদা। পেছনে আরও তিনজন। রাস্তা দিয়ে, পাঁচিল দিয়ে, নর্দমার ধার দিয়ে, কার্নিশ দিয়ে ওই আবার রাস্তায় এসে নামল। ততক্ষণে অন্য পাড়ার আরেক দলও সেখানে হাজির। সবার চোখ আকাশে।কিন্তু যে বস্তুটির জন্য এত কসরত সেটা সবাইকে ধোঁকা দিয়ে তক্ষুনি জড়িয়ে গেল একটা দেড়তলা বাড়ির বাংলাদেশ এন্টেনায়। তখন শুরু হলো কাকুতি মিনতি - ওই বাড়ির কর্তা, যিনি এখন ব্যস্ত ছ

আরও পড়ুন

দৃষ্টিছায়া এলাকা

দেবার্ক মণ্ডল

বর্তমানে আমরা উন্নত সভ্য আধুনিক মানুষ। বহু প্রচলিত এই বাক্যবন্ধটি নতুন কোন তথ্য নয়। বাক্যবন্ধটিতে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি বিশেষণগুলির বিপরীতে কিছু শব্দ আছে। এই সময়ের মানুষ হিসেবে আমাদের বিপরীতার্থক ওই বিশেষণ থেকে নিজেদেরকে আলাদা ভাবতেই ভালো লাগে। সভ্যতা ও সময়ের প্রগতির পথে এরকম কিছু বিযুক্তি বা নতুন কোন সংযুক্তি অনভিপ্রেত নয় বরং কাঙ্খিত একটি প্রক্রিয়া। ক্রমান্বয়ে সংশোধনের প্রক্রিয়ায় হয়তো খাঁটি জিনিস পাওয়া যায়। তা বলে সমস্ত খাঁটি জিনিসেরই কি ব্যাব

আরও পড়ুন

ভাগ ডিকে বোস

অভীক দত্ত

(সব চরিত্র কাল্পনিক, স্থান এদেশে না, হনোলুলু বা ম্যাডাগাস্কার কোথাও একটা হবে)

এই লাইনে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। যে কেউ, যখন তখন বিপদে ফেলে দিতে পারে। না আমি কিন্তু কোন মাফিয়া লাইনের কথা বলছি না। আমি বলছি লেখালেখির লাইনের কথা। এখানকার গোষ্ঠীবাজি বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি অনেক বিখ্যাত মাফিয়া গোষ্ঠীকে হার মানিয়ে দিতে পারে। আর এখানেও আছে কিছু ফ্রি এজেন্ট। যাদের কাজ হল বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ঢুকে সেই গোষ্ঠীগুলিকে ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া। এখানেও আছে কিছু মক্ষ

আরও পড়ুন

একটি কবিতা ও তার হয়ে ওঠার বৃত্তান্ত

যশোধরা রায়চৌধুরী

অপর পুরুষ
যশোধরা রায়চৌধুরী

একদিন গল্পের শুরু । তোমার একাকী সন্ধে তখন সামান্য সিরিয়ালে
মজে আছে । এমন সময়ে
ঘরে ঢুকল পর্দা সরিয়ে
অন্ধকার মুখচ্ছবি, কালো জার্সি, শক্ত, পেশল
অব্যর্থ পুরুষ , যার অতর্কিত ফাঁস
তোমার গলায় বসল - আর তুমি উঠে পড়লে কি জানি কি ভেবে
সোফা থেকে – সাঁৎ করে সে-ও সরে গেল
বারন্দায় বয়ে গেল এলোমেলো হাওয়ার ঝলক
তুমি গেলে রান্নাঘরে- হাত যায় অন্বেষণে – ফ্রিজে
টিংগোর চুইং গাম, ডার্ক চকোলেট
লুকিয়ে আস্বাদ করলে – টিংগো গ

আরও পড়ুন

পান্থজনের সখা

শুভদীপ দত্ত চৌধুরী





এক
২০১৪ কলকাতা বইমেলায় যখন প্রকাশিত হল আমার প্রথম কবিতার বই ‘ব্যথার বন্দিশ’, স্বাভাবিক ভাবেই আমার বেশ অপার্থিব এক আনন্দ হয়েছিল। সাথে ছিল গভীর আফসোস, এটা ভেবে যে আমার বইয়ের প্রথম কপি-টা আমি রেখে আসতে পারলাম না গুরুদেবের পায়ের কাছে একটি সামান্য কারণে; তা হল আমার জন্মেরও মাত্র ৫২ বছর আগে উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন গীতবিতানের দেশে। পরে ভেবে দেখলাম উনি ছিলেন তো, উনি আছেন, আমি যে ভাষায় লিখি সে ভাষার অলিন্

আরও পড়ুন

এ কেমন শুভ্র অবয়ব?

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়


'তপস্যারত সন্ন্যাসী'... 'প্রার্থনারত সৌম্যমূর্তি'... এই সবকিছুই কেমন বার বার এক প্রশান্তির প্রতিভূ হিসেবে চোখের সামনে তুলে ধরা হয়। কখনও বাস্তব চিত্র, কখনও রূপক... তবে এই যেন চিরাচরিত নির্মোহ, নিষ্কাম অস্তিত্বের প্রতীক। আচ্ছা, একে কি প্রতিষ্ঠিত ধ্রুব সত্যর মত মেনে নেওয়া যায়? নাকি এই প্রতীকও আসলে একরকম সামাজিক অভিস্রবন? ঠিক কাকে দেখতে পছন্দ করি আমরা - সন্ন্যাসীর ওই ইমেজ? নাকি প্রার্থনার মুদ্রা? নাকি মন্ত্রোচ্চারণ?... ভাবতে ভাবতে কেমন জানি, পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভ

আরও পড়ুন

যাত্রাকালীন

কৌস্তভ ভট্টাচার্য


অতঃপর অর্জুনের নিষেধে উদ্যত অনুরোধ, মিনতি, চিৎকার উপেক্ষা করে ধৃষ্টদ্যুম্ন নিখাদ আঘাতটি করলেন। অতঃপর কুরু-পান্ডব-পাঞ্চাল সেনানীর সম্মুখে নিতান্ত হেলায় অশীতিপর বৃদ্ধের ছিন্ন মস্তকটি প্রদর্শন করে হেলায় ফেলে দিলেন ভূমিতে। অতঃপর ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে সংঘটিত হলো একটি পান্ডবপক্ষীয় পাপ। অতঃপর সসাগরা পৃথিবী তাঁর কিংবদন্তীপ্রতিম অস্ত্রগুরুকে হারালো।
গাঙ্গেয় ভীষ্মের পতনের পর পাঁচদিন যুদ্ধ পরিচাল

আরও পড়ুন

এক স্বপ্নের মৃত্যু

রঙ্গীত মিত্র




কখনো ঘুম যুদ্ধের উত্তরে লাল হয়ে যায়। কখনো স্পিড ব্রেকার কমিয়ে দেয় আমাদের হাঁটার স্পীড। এইবার একটু পিছিয়ে যাই। তখন আমি বিটেক পড়ি। চারপাশের অসুস্থ ও অস্থির পরিবেশ। উত্তেজনা পারদ থেকে স্পার্ম কাউন্ট। সিসিডির হাত থেকে ফ্ল্যাট উঁচু শহর পালাতে চাইছে। রাষ্ট্র আর মানুষের সেই স্ট্র্যাগেলের মধ্যে শুনলাম হারবার্ট আবার নন্দনে দেখাচ্ছে । (যদিও এর আগে রাষ্ট্র ভয় পেয়ে আটকে দিয়েছিলো...)।
আমার কলেজ তখন রুবীর ভিতর। বন্ধুদে

আরও পড়ুন

এই মৃত্যু উপত্যকা তাঁর দেশ নয়

অনুপম মুখোপাধ্যায়



এই মুহূর্তে কলম সরছে না। সেটা শোকে নয়। ত্রাসে। শোকের কোনো সুযোগ আমার নেই। দু-বার মোটে দেখা হয়েছে নবারুণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে, একবার ফোনে কথা হয়েছে। ওঁর পত্রিকায় আমি দুবার লিখেছি। সেটা ওঁর আমন্ত্রণে নয়। সহ সম্পাদক অনীক রুদ্র আমার লেখা চেয়েছিলেন। উনি আমার নিকটজন ছিলেন না। শারীরিক অর্থেই এই কথাগুলো বলছি। কোনো আধ্যাত্মিক বাতাবরণের অবতারণা করছি না।
কিন্তু আজ ফাঁকা লাগছে। এই শূন্যতা, কোনো প্রদেশে বসে য

আরও পড়ুন

সেলাম ক্যাপ্টেন ফ্যাতাড়ু/ নবারুণলোকে/ পান্ডুলিপিরা পুড়ে যায় না

সরোজ দরবার



‘ভালো করে ঘুমোক। ঘুমোলেই ঠিক হয়ে যাবে। - এভাবেই শুরু হয়েছিল ৯৭ এর অকাদেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত তাঁর উপন্যাস। অথচ এবার সব ঠিক হল না বলেই তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। এবং আমরা কাঙাল হলাম। খানিকটা স্পর্ধা কমে গেল। তবু সত্যিই কি কমে গেল? আমরা কি জানতাম না, হ্যালোজেনের হলুদ আলোয় ফ্যাতাড়ু একদিন ঠিক উড়ে যায়? জানতাম হয়তো। আর তাই আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই মনে পড়ে যায়, সেই হিসেবটা। ‘মানুষ যদি ১ হয় তাহলে ০ হল মরা মানুষ। মানুষ+মরা মানু

আরও পড়ুন

নবারুণ ভট্টাচার্য- বাক্য মধ্যবর্তী নীরবতা

অগ্নি রায়




গণমাধ্যম-বিস্ফোরণ পরবর্তী ছাই, স্প্লিণ্টার, লোহাকুচি সমূহে ধূসর এই বিক্ষিপ্ত রোড রেসে দাঁড়িয়ে কীভাবে লেখা হতে পারে আজকের ইউলিসিস?পুতুলরা যখন প্রোগ্রামড হয়ে রয়েছে পূর্ব নির্ধারিত কম্বিনেশনে, তখন তার নাচের ইতিকথা কেমন হবে দেখতে? ক্ষমতার রঙিন ফ্লেভারে (হ্যাঁ, বানানাও যেখানে দামী এবং মোস্ট সট আফটার!) যখন বিক্রী হছে শিল্পমসল্লা – কোন কারুবাসনায় একবারের জন্যও ছুঁয়ে দেওয়া সম্ভব একটি না-লেখা উপন্যাসের নাভি?

অসুস

আরও পড়ুন

কেন পুনরাধুনিক কবিতার কথা?

অনুপম মুখোপাধ্যায়

গত প্রায় আটটি দশকে বাংলা কবিতাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমাদের এখানে অবিশ্যি এটাই সমকালীন প্রথা। সমালোচনার ধারণাটাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ নামক বিন্ধ্য পর্বতকে পেরোনোর জন্য ‘আধুনিক’ শব্দটিকে কবিতায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মানসিকতা নিয়ে প্রয়োগ করা হল! আবু সায়ীদ আইয়ুবের মতো কিছু মানুষ ছাড়া কেউ মুখই খুললেন না! এটা সত্যিই অভাবনীয়! আলোকপ্রাপ্তি ছাড়া আধুনিক হয় না, হতে পারে না।
রবিবাবু যেমন বলেছিলে

আরও পড়ুন

উৎপত্তিগত ব্যাখ্যা-প্রবাদ প্রবচন

সৈকত মুখোপাধ্যায়

(কোন চরিত্রের সাথে বাস্তবের মিল নেই, মিল থাকলে জানি না)



"কুমিরের কান্না "

চার্লি চ্যাপলিন বলেছিলেন "আমি বৃষ্টিতে হাঁটি , যাতে কেউ আমার কান্না দেখতে না পায়। "

সুন্দরবনের কুমিররা তার প্রতিবাদ করে বললো "আমরা জলে থাকি , তাই আমরা কাঁদলেও কেউ দেখতে পায় না " এবং মানুষ গুলো "কথা " বলতে পারে বলে , হেব্বি বড় বড় জ্ঞানবাণী মেরে Footage খাবে ... এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রতিবাদে জলপথ অবরোধ করল

আরও পড়ুন

কয়েকটা অপরিষ্কার ডায়েরির পাতা?

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়

“ওভাবে মাজায় কেউ মারে? শালা শুয়ারের বাচ্চা”... “মেসি কেঁদেই ফেলেছিলো গোল্ডেন বল নেবার সময়”... “ জার্মানির প্লেয়ার গুলোর মাল গুলো কে দেখেছি? একঘর... উফ”... “ মারাদোনা মারাদোনাই... “... উফ ... আর পারছি না নিতে... একে কাল হেরেছি... সকাল থেকে হেব্বি প্যাঁক খাচ্ছি... তার মধ্যে এসব... “কিহে চন্দননগর তো চেপে গ্যালো”... “অণু ও কিচ্ছু বলছে না...খবরের কাগজের লোক গুলর পেট চলবে কি করে বলো তো?”... আবার শুরু করেছে... “কাল একটা বাংলা সিনেমা দেখলাম... মেয়ে মেয়ে কে চুমু খাচ্ছে”... “কি নাম গো?” ... “নাম দে

আরও পড়ুন

জাদুকরের কলম

কেয়া মুখোপাধ্যায়

‘আচ্ছা শোন, আমার হাতের এই ডাস্টারটার দিকে তাকাও। ডাস্টারটা যদি আমরা ভাঙতে থাকি তাহলে কি পাব?’
‘অণু পাব।’
‘হ্যাঁ,অণু পাব।অণুটা যখন ভাঙব তখন কি পাব?’
‘পরমাণু।’
‘পরমাণু ভাঙলে?’
‘ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন।’
‘এদের যদি ভাঙা যায় তাহলে কি পাব?’
‘জানিনা স্যার।’
আমার ধারণা, ভাঙতে ভাঙতে এক সময় কিছুই নেই। শূন্য। এই জগৎ সংসার, বিশ্বব্রহ্মান্ড, গাছপালা, পর্বত-নদী, সব তৈরি হয়েছে শূন্য দিয়ে- সব কিছুই শূন্যের উপর। শুরুটা হল শূন্যে। যার শুরু শূন্যে তার

আরও পড়ুন

হুমায়ূন আহমেদের ছোট গল্প এবং তার চরিত্রেরা

অভীক দত্ত

হুমায়ূন আহমেদের সাথে প্রথম পরিচয় আমার শারদীয়া “দেশ” এর মাধ্যমে। ওনার “নীল মানুষ” উপন্যাসটি পড়ে বেশ চমকে গিয়েছিলাম। আসলে কখন যে শুরু করেছিলাম পড়তে আর কখন যে শেষ হয়ে গেছিল নিজেই বুঝতে পারি নি। হুমায়ূন আহমেদ পড়ার সময় এক অদ্ভুত আনন্দ পাই। তরতরিয়ে চলা নদীর মত ভাষা, সহজ সরল গদ্যে পাঠককে আকৃষ্ট করার এক অন্য রকম ক্ষমতা আছে ভদ্রলোকের। ঠিক যে গদ্যের ভাষা টেনে রেখেছে ওনার পাঠকদের। অকারণ হেঁয়ালি নেই, ন্যাকামি নেই, টানটান পাঠ অভিজ্ঞতা।
তারপর থেকে যেটা আমি করলাম

আরও পড়ুন

আজ আমি কোথাও যাবো না...

সামিউল আজিজ সিয়াম

কি বলব আপনাকে ?

কিছুই তো বলা হয়নি। এখন আর কি লাভ ! কতবার ভেবেছি শুধু একবার ছুটে যাবো আপনার স্বপ্নের নন্দন কাননে। যেই ছুটে গেছে আপনি কাওকেই ছোট করে দেখেননি, সবার ভালবাসাকেই আপন করে নিয়েছেন। হয়ত আমাকে আর দশটা গুণগ্রাহীর মতই ভাববেন, আপনার গুণগ্রাহীর তালিকার নাম গুলো ভীতিকর ও বটে, তাতে স্থান হবে ভাবাই দুঃসাহস। তারপর ও আমার পৃথিবীতে আমি আপনার আপন একজন। অনেক কাছের একজন। যে আপনার ভেতরের জগত কে চিনেছে, আপনার অনুভূতিগুলো কে চিনেছে, আপনার সত্ত্বা কে কত লক্

আরও পড়ুন

একটি সহজবোধ্য ব্যাখ্যা

আষিক

জনৈক একটি চলতি হাওয়ার থেকে অনেক দূরের লিটল ম্যাগাজিনে একটি কবিতা পড়লাম। পড়লাম বলাটা ভুল হবে। বলা উচিৎ দেখলাম- মানে ঠিক দেখলাম বলাটাও ঠিক হবে না, বলা উচিৎ কবিতাটা আমাকে দেখল- আর আমি ঠিক মতো দেখতেই পেলাম না। মাথার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া বলে বটে, তবে কবিতাটি মাথার ওপর দিয়ে গেছে না পায়ের নিচ দিয়ে গেছে, নাকি এখনও যায়নি, কিছুই বলা গেল না। বিশ্বাস করুন, ওর মধ্যে একাধিক শব্দ ছিল যেগুলো বাংলায় নয়, ইয়ে, মানে বাংলায় নয়, উর্দুতে নয়, ইংলিশে নয়, গুগল ট্রান্সলেটরে ফেলে দেখলাম গু

আরও পড়ুন

অসমাপ্ত রিপোর্টিং , লোকাল-ট্রেনঃ কলকাতা থেকে লিখছি

রঙ্গীত মিত্র



If you miss the train I'm on, you will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles,
A hundred miles, a hundred miles, a hundred miles, a hundred miles,
You can hear the whistle blow a hundred miles.
Lord I'm one, Lord I'm two, Lord I'm three, Lord I'm four,
Lord I'm 500 miles from my home.
500 miles, 500 miles, 500 miles, 500 miles
Lord I'm five hundred miles from my home.
Not a shirt on my back, not a penny to my name
Lord I can't go a-home this a-way
This a-away, this a-way, this a-way, this a-way,
Lord I can't go a-home this a-way.
If you miss the train I'm on you will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles.
(Peter, Paul & Mary – 500 Miles Lyrics)
লোকাল ট্রেন একটা হেভি জিনিস।গুঁতো মেরে একেবারে ঢুকে যেতে পারলে আপনি গোল্ডেন বুট না পেলেও কি কি পেতে পা

আরও পড়ুন

শরশয্যা উপান্তে

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

(১)

সে দিনের মতো যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘোষিত হয়েছে কৌরব সেনাপতি রাধেয়র পতনের অব্যবহিত পরেই। ধরণীর প্রতি কোনো এক গভীর অভিমানে দিনমণি সেদিন আকস্মিক অস্তগত হয়েছেন। কুরুক্ষেত্রের রণভেরী আজকের মতো স্তিমিত। পান্ডব শিবিরগুলিতে মহা ধনুর্ধরের পতনের সাময়িক উচ্ছাস এখন থিতিয়ে এসেছে। কৌরব শিবিরে মহামতি শল্য সেনাপতিত্বে বরণ হয়েছেন আগামী সমরের জন্য। কর্ণ পতনের প্রারম্ভিক শোক কাটিয়ে কিছুটা ক্ষত্রিয়চিতো বাঙ্ময় নীরবতা পালন করছে একদা একাদশ অক্ষৌহিণীতে গৌরবম

আরও পড়ুন

ওয়ার্ল্ডকাপ

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

(১)
আবার শুরু হয়েছে।
এবার আবার সোনায় সোহাগা। এই সবে মাসখানেক আগে ভোট শেষ হয়েছে। ভোটের সময় দেওয়াল লেখা এখন অনেক কমেছে। কিন্তু এখনো পাড়ার মাথায় মাথায় ঝুলছে সিপি(আই)এম-তৃণমূল। নিয়োগীদের বাড়ির তেতলার ছাদটা দেখাই যাচ্ছেনা প্রায়।
এর মধ্যে আবার পাড়ার আদ্ধেকটা ব্রাজিল তো বাকি আদ্ধেকটা আর্জেন্তিনা। ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টসের কল্যাণে দু’একটা স্পেন-ফেনও দেখা যাচ্ছে আজকাল কোলকাতায়। তবে গ্রাহামস রোডে এখনো তারা ভ্রূণেই রয়েছে – ভূমিষ্ঠ হয়ে খাপ খোলেনি।

আরও পড়ুন

প্রসঙ্গঃ রবীন্দ্রনাথ

উমাপদ কর


এই লেখাটা আমাকে কেউ লিখতে বলেনি। মানে কোনো পত্রিকা সম্পাদক তার কাগজের ইচ্ছে বা চাহিদা অনুসারে আমাকে লিখতে বলেননি। আমি নিজেই লেখার কথা ভাবলাম। সেও এক বিশেষ অবস্থান থেকে। ক’দিন আগে ট্রেনে বাড়ি আসছিলাম কলকাতা থেকে। কানে লাগিয়েছিলাম ইয়ারফোন, আর শুনছিলাম রবীন্দ্র সঙ্গীত। মূলত দেবব্রত হেমন্ত পীযুষ সুবিনয় সাগর সুচিত্রা কণিকা সুমিত্রা স্বাগতালক্ষ্মী। আর সামান্য সুমন। এ গান আগেও শুনেছি বহুবার। ফিরেফিরে। এমনকি স্টেজ়ে সা

আরও পড়ুন

নজরুল

প্রকল্প ভট্টাচার্য

আমি নিশ্চিত, কাজী নজরুল ইসলাম নামে আমাদের দেশে কোনও কবি গীতিকার সুরকার সাহিত্যিক কোনোদিন জন্মান নি। কখনোই নয়। নজরুলগীতি বা নজরুলের কবিতা বলে আমরা আজকাল যা শুনি, তা লোকমুখে সৃষ্ট সাহিত্য। কিছু প্রবাদ, কিছু গুজব। সম্ভবতঃ নজরুল ছিল একটি ঝড়ের নাম, যা আইলা-র মতো বাংলার জল মাটি মানুষদের তোলপাড় করে দিয়েছিল কয়েক বছরের জন্য।
নজরুল কোনও রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন না, তার বড় প্রমাণ হল এই, যে ভাবনার অতো বৈচিত্র, ভাষা ছন্দ ও আবেগের অমন মিশেল কোনো রক্তমাংসের মস্তিষ্কে

আরও পড়ুন

বিভেদ যেথায় সুরেতে মিলায়...

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

গতবছর শীতকালে, হঠাৎ করেই বাংলাদেশের নাম বড় বড় সংবাদ মাধ্যমের আন্তর্জাতিক খবরের পাতায়, বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে... এমন কি বিবিসিতেও আসতে শুরু করেছিল নিয়মিত। হঠাৎ করেই একটা জাগরণ। উপমহাদেশ তো দাক্ষিণ্যের জায়গা। পশ্চিম থেকে সেখানে সাহায্য আর ত্রাণ আসে। কোনও প্রাকৃতিক দূর্যোগ, অথবা অন্যরকম কোনও গুরুতর অসহায়তার মধ্যে কিংবা পশ্চিমের রাজাদের ভ্রুকুটি হতে পারে এমন রাজনৈতিক টানাপোড়েন হ'লেই ওনারা এই দিকে ফিরে তাকান। সেই রকম একটা নিজের মনে থাকা ছোট্ট রাষ্ট্র বা

আরও পড়ুন

নজরুল কি প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছেন

অনুপম মুখোপাধ্যায়

‘আদরের নৌকা’-র সম্পাদক আমার কাছে জানতে চেয়েছেন নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আমার ধারণা ঠিক কী। নজরুল ইসলাম আজও প্রাসঙ্গিক। কিন্তু তাঁর মতো করে কবিতা লেখার চেষ্টা আশা করি কেউ করবেন না। বাংলা কবিতা নির্মাণের দিক থেকে আজ হাজার আলোকবর্ষ আরো পেরিয়ে এসেছে। আর, নজরুল ইসলামের গুরুত্ব কোনোকালেই কবিতার ফর্মে নয়, বরং কনটেন্টে, ভাববস্তুতে। হয়তো এর ফলেই তিনি সমকালেই জনগণের মন জয় করে নিয়েছিলেন অনায়াসে।
বলতে পারি, তাঁর তুঙ্গ সময়ে নজরুল ছিলেন বাংলার সবচেয়ে জনপ্রি

আরও পড়ুন

নষ্ট সময়ের উপাখ্যান

অভীক দত্ত



কিছু কথাঃ

একটা টালমাটাল সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি। বিশ্বাসহীনতা, বিশ্বাসভঙ্গতা আর মানুষে মানুষে মারামারি এগুলি সব সাধারন ঘটনা এখন। সব দোষ রাজনীতিকদের ঘাড়ে ফেলে কি নিশ্চিন্তে আমরা চলাফেরা করি! আমরা ভুলে যাই, চেয়ারে বসা লোকজনেরা আসলে আমরাই। আমাদেরই বিভিন্ন রূপে আসলে আমরা নিজেদেরই ক্ষতি করে চলেছি।

নষ্ট সময়ের উপাখ্যান সেই আমাদেরই গল্প। আমাদের মত সাধারণ মানুষের গল্প। স্থান, কাল, পাত্র সমস্ত কিছুই যে কাল্পনিক তা বলাই বাহুল্য।

লে

আরও পড়ুন

অপেক্ষার বড়দিন... আসে আর যায়

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

শীতকাল শুনলে পাতা ঝড়ে যাওয়া ন্যাড়া গাছগুলোর কথা মনে পড়ে তোমার? অপেক্ষা করো শীতকালের? বার বার একে ওকে জিজ্ঞেস করো - 'জড়িয়ে' থাকার ওই ঋতু কবে আসবে… আবার কোথাও দুপুরের রোদ্দুর, কোথাও কুয়াশা আর কোথাও শাদা বরফ নিয়ে? কেন করো? কি হবে আবার একটা শীতকাল এলে? নতুন করে আর কীই বা চিনবে শীতে... যা বিগত পঁচিশ শীতেও তোমার জানলার কার্নিশের কাক হয়ে এসেছে, আর ডানা ঝাপটিয়ে চলে গেছে?
ওহ্... তোমাদের বাড়ির ছাত... তোমার এখনকার ফ্ল্যাটে সাজানো দুপুরের রোদ... কোলেস্টেরল সামলে বানানো তোমা

আরও পড়ুন

পা পিছলে ইঞ্জিনিয়ার

তন্ময় ভট্টাচার্য

(উৎসর্গ – পৃথিবীর প্রত্যেক ‘তন্ময় ভট্টাচার্য’কে)

হতে চেয়েছিলাম সাহিত্য বা ইতিহাসের ছাত্র, হয়ে গেলাম ইঞ্জিনিয়ার। কেন, সে প্রশ্ন তুলবেন না। শিং ভেঙে বাছুরের দলে ঢুকে পড়ার সেই রাগ সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে আমায়। আর যাই হোক, ‘ইঞ্জিনিয়ার’সুলভ আচরণ রপ্ত করতে পারিনি কোনোদিনই। তারই ফাঁকে ফাঁকে, বিভিন্ন সময়ে লেখা কলেজজীবন সংক্রান্ত কিছু গদ্য বা গদ্যাংশ এখানে জড়ো করলাম, হাজার হলেও অস্বীকার করা যায় না যেগুলো...

পরীক্ষা - ১
পরীক্ষা মানে

আরও পড়ুন