পুনরাধুনিক কবিতাগুচ্ছ

অনুপম মুখোপাধ্যায়

 



১।
বানানের cunt বানানের dick



যে বানান দাঁড়িয়ে থাকে। আমি তাকে বিশ্বাস করি না
ওর জাঙিয়া। ময়লা
ওর প্যান্টিতে বিচ্ছিরি ঝনাৎ লেগে আছে

ওই যে। দ্যাখা যাচ্ছে। ১টা গোলাপি বালতি
নীলাভ সাদা দেওয়ালের আড়াল
ডিটারজেন্ট। যে আছে
এর আগে এত স্পষ্ট করে
বলার দরকার। হয়নি

কেন যে কিছু বানান দাঁড়িয়ে থাকে
কেন যে কিছুতেই। পা তুলতে পারেনা
অ্যাত কী চ্যাটচেটে

নজর। রাখছে
কিংবা। অনুসরণই করছে হয়তো
কাউকে ফলো করতে হলে। হাঁটা। এবং দাঁড়ানো
বহু করতে হয়

১টা চারকোণা সূচিপত্রের মতো নয়
ওই আটকে যাওয়া বানানটার বানান

যেমন ১টা ময়লা শুক্রবার। তারিখ তুলে দেখাচ্ছে
তার ভিতরে কোনোকালেই
১টা সাদা ভাদ্র ছিলনা। cunt বা dick
কোনোরকম শুক্কুরবারই ছিলনা

সাবানের সামনে তুমি বুক ধরবে। নাকি
বই






২।
অশেষ ও মাংসের কবিতা



চোখ হল ১ রকমের নৌকো
ইতরতা নেই। ফালতুর হুইশল নেই
ফাইন আর্টের ক্লাস
মাটির। ১ দানাহীন পাখি

কিংবা। 1 শামুক তার শরীর
খারাপ। ব্রিটিশ নীলকুঠির
শেষ বারান্দায় উঠে
অশেষের শব্দ পেল
একটুও বাড়তি মাংস পেলনা

১ পা। চলার নাম ১০০০ মাইলস
পুষ্টি আর অপুষ্টির নজর পেরিয়ে
কিছু ভাবনা। খাঁটি ঘুম। কোনো হাট
যখন আর ভালো লাগবে না

হার্ড ডিস্ক। পুড়ে গেলে
শব্দ উঠবে সেই ফসল জ্বলার


৩।
গর্জন তেল


সেই কিরকিরে ১ম লাইন। তোর দাঁতের চেয়ে জোরে। তোর জিভ। জিভের কষলাগা দূর। মুখ তুলছিস আমার মায়ের কোল থেকে। ফুঁসছিস। লাগছিস। এই বিকাল। আমার ফড়িং। এই সকাল। আমার রোমকূপ। চাপ খেলে লাল হয়। উঁচু হয়। তোকে যায়। তোকে যায় না নিমেষ

অত কালো করে ভোমরা এঁকেছিস। ঠোঁট। বিশ্রী। খুলে নেব হুল লাগিয়ে বললাম

মায়ের কোলের চেয়ে পৃথিবীটা ছোট
এমন কনুই আমি রাখিনি কোথাও

তোর চামড়া। ওহ্ রং। ফাঁক। বিফাঁক। জিভ দিলে থুতু মিশে যায়। বিশ্রী

বিলেখা। বিদেশ
ও বালি

তোর রোমে আমার শুকনো-শুকনো লাগে। আমি তাতার হই। ভাতার হই। অন্ধ। কার। ফাগুনকুঁড়িতে ক্লিক্। ক্লিক্ হয়। ক্লিক্ হয়। ক্লিক্

এবং টং

পায়ের বদলে রোদে পাথর ছড়াস
চোখে দেখি তোর গাঁড়। তোর গাঢ় নুন

স্তন। আমাকে এই স্টাইল দিয়েছে। রূপে। রেখায়। গর্জনে। ও তেলে। পায়ের ডিম কী। কমলফুল। বিমলফুল। বিরলে খাদ হলে। তলিয়ে যাবি বোন
মনে রাখিস

ঝিনুকে আমি আজ পিছল যদি হই
পিছল তিমি হই
যদি পিছল





৪।
কর্পূরের প্যারাস্যুট


হাল্কা ভাবনার ধুম লেগে গেছে। যেন
১টা ঊরু খুললেই হয়
যেন। 1টা বন্দুক নামালেই হয়

২-1টা পরিষ্কার। বালতি। ও জীবন
মুঠোর মধ্যে ভরে
ওজন রেঁধেছ। লোহা-লোহা যত
নুন-ঝাল লেগে গেছে

ছাইঢাকা স্টেশনের ধীইর নীইইল ট্রেন
সেই হাল্কাকে কল্পনা করা
অসম্ভব। যেমন
ওই ভারিগুলো হাজার হাজার
সবাই মিলেই ওরা সুদূর
ও শেখানো

দিল-এ-নাদান। তুই। চিন্তার ছুরিতে লাগা
ভাবনার রোম

কাল আবার শালিখের ঝাল রাঁধা হবে




আপনার মতামত জানান