কয়েকটা কবিতা

সরোজ দরবার

 



হ্যাপি টু ব্লিড

রক্তের আভাস আসছে পরপর-কবিতায়,
ট্যাবুর মাথায় চাঁটি মেরে ঋতুরক্ত
মুখরা কিশোরী, বলে দিতে এসেছে যা বলার;
এক আটপৌরে ষাটের বুড়ি তাকে
ধিঙ্গি বলতে গিয়েও থমকালেন-

যে যন্ত্রণা রক্ত হলে কবিতা হয়,
প্রকৃতিগত তা নারীর শুধু, অতএব
সে কবিতাও, পুরুষ অনেকবার
আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে
হয় প্যানপেনে সিরিয়াল করে ছেড়েছে
নয় শৌখিন গান...

রক্ত বলতে পুরুষ তাই খুন-জখম
রাজনীতি বুঝে সচেতন হয় সমাজে,
এদিকে সকলই কৌতুক সমান হলে
হলদেটে হয় ইতিহাস, পুরুষ দেখে
কবিতা তার জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা
যন্ত্রণা কাঙ্খায় যে ঘুমোতে পারেনি সারা রাত...

পুরুষের কবিতা তখন ব্যালকনিতে দাঁড়ায়,
সিগারেট ধরায়- দেখে দূরের আকাশ লাল,
বোঝে, কোনও এক নারী তার রাতজাগা
কবিতাখানা শেষ করে এইমাত্র ঘুমোতে গিয়েছে।












খেলনা- বুড়ো


ডুগ ডুগ শব্দ করে হাতের বাজনা বাজাচ্ছে
যে লোকটা, ‘কালের মন্দিরা’ খায় না মাখে
সে জানে না...

জানে শুধু, এই বাজনা ছেলেপিলেদের ডাকে,
বায়না ধরায়, মায়েরা রেগে যায়, তারপর
স্নেহ, তারপর বেচাকেনা- শর্ত শুধু একটাই
ভাল করে বাজাতে হবে বাজনা

বাজনা আজও বাজাচ্ছে, ছেলেপিলে আসছে না,
এই স্বাভাবিক পরিণতির ভিতর দাঁড়িয়ে বুড়ো
খেলনাওয়ালা আর এক খেলুড়ে ওস্তাদের দেখা পায়,
বিড়বিড় করে, গালাগাল দেয় তাকে, তারপর

দু’জনেই আঁকড়ে ধরে দু’জনের খেলনাটিকে।




সেকুলার



‘অসিহষ্ণুতা একরকমের চর্মরোগ’-
কমলালেবুর খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে
এ কথা বলল রগুড়ে মলম বিক্রেতা।
সকালের বিক্রি সেরে তার লাঞ্চ সারা,
ফল খেতে খেতে সে রোজ এই সময়ে
নিয়ম করে কাগজ পড়ে আর ফুট কাটে

‘গরমে ঘাম, ঘামাচি, চুলকুনি,
বর্ষায় জল-হাজা আছে অতএব,
শীতে ফাটা চামড়া, আর বসন্তে
কিছু না পেলে মোজা ঢাকা পা-
ইস্যু কোনওদিন কম পড়ে না, তাই
এটাও বিকনেবালা’- বলে ওষুধ হাতে
চোখ মটকে ব্যবসায় ফেরে

সম্ভ্রান্ত মলমওয়ালা।





অক্ষমতা


এসো জীবন, বোসো জীবন
পান সেজে দি-খাও হে জীবন
দু’দন্ড জিরিয়ে যাও আমার এখানে

বলার তো মাত্র ছিল এই

সে এসে বয়েও তো যাচ্ছে,
বসতে বলতে পারলে কই!









পলাতক

আসলে প্রত্যেকে বীতশ্রদ্ধ
আসলে কেউ কাউকে পছন্দ করছে না,
কথাবার্তা যা সব চলছে পরিশীলিত
আসলে বলতে হলে খিস্তি-খেউড়

এখানেই আটকা পড়ে গিয়ে
কেউ কেউ খোঁজ করছে মাধবীলতা,
হাওয়া দিলে কী সহজে দোলে

আসলে কেউ দুলে উঠছে না
আসলে প্রত্যেকে পাথর, তাই
প্রত্যেকে হাই-রাইজ, বিচ্ছিন্ন আবাসন

এক আধদিন জামা কাপড় ছাড়তে গিয়ে
কারও কারও তবু মনে পড়ে যায়, চেয়েছিল
তরুণ মজুমদারের সিনেমার মতো জীবন।

আপনার মতামত জানান