উনিশ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীট

কৌস্তভ ভট্টাচার্য

 

১৯ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীটে টিপিক্যাল উত্তর কোলকাতা হবার জন্য যা যা দরকার প্রায় সবই আছে। মধ্যিখানে কলতলা, তার চারপাশ দিয়ে উঠে যাওয়া ঘরকন্না। নীচের কলতলা জুড়ে জেগে থাকা অবধারিত শ্যাওলা। ডানপাশে একটা জালে ঢাকা কুয়ো।
একতলায় পুরোনো বাড়ির নিয়মমাফিক একঘর ভাড়াটে। কবে থেকে রয়েছে তারা কেউ জানেনা। বোধহয় দেশভাগের সময় থেকে। সেইসময় রেন্ট কন্ট্রোল হয়ে মামলা টামলা হয়ে, যে ভাড়া ঠিক হয়েছিলো এখন মুদ্রাস্ফীতি ধরে টরে প্রায় তাই আছে। তবে সেকালে বোধহয় মালিক ভাড়াটের মধ্যে কিঞ্চিৎ সখ্যতা ছিলো, এখন আর নেই।
কারণটা যথেষ্ট বেহিসেবী। আগের মালিক মানে ঠাকুর্দার সেজো ছেলে মানে আমার সেজোকাকা একবার কথা বলতে গিয়েছিলেন – তখনকার ভাড়াটে নরেনদাদুর সাথে। নরেনদাদু বাড়ি ছিলোনা। নরেনদাদুর বড়ো ছেলের বউ মালা কাকিমা তখন প্রেগনেন্ট ছিলো। সেজোকাকুর জন্য চা আনতে গিয়ে পা হড়কে পড়ে উঠোনের শ্যাওলায়। উঠোনের উল্টোদিকে ওদের রান্নাঘর ছিলো। বাচ্চাটা নষ্ট হয়। সেজোকাকুই ধরে টরে তুলে আরজিকরে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপর থেকে নরেনদাদু আর ঠাকুর্দার সাথে তাস খেলতে আসতো না সন্ধ্যেবেলা। আমরাও কিছু বলিনি। তারপর থেকে শুধু ভাড়া নিতে গেলে, আর বাড়ির মেইনটেনেন্স, পালাপার্বণে দুই পরিবার মুখোমুখি হয়। তাছাড়া বাক্যালাপ নেই। মালা কাকিমার আর বাচ্চাকাচ্চা হয়নি। সেজোকাকু তারপর থেকে চা খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
সেজোকাকুরা অবশ্য আর এই বাড়িতে থাকেনা এখন। ওদের ছেলে ভুতুম, যার ভালো নাম প্রদ্যুম্ন সে এখন পুণেতে সেটল করে গেছে। ওখানে হিঞ্জেওয়াড়ির কাছে একটা ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছে। ওর বাবা মাকেও নিয়ে চলে গেছে।
বাবাদের জেনারেশানে একমাত্র সেজোকাকুই বেঁচে আছে এখনো। বাকিরা সবাই মরে হেজে গেছে কবেই। সেজোকাকু অল্পবয়েসে সাঁতার কাটতো। হেদুয়া এপার ওপার করতে আমিও দেখেছি।
ভুতুম ছোটোবেলা থেকেই ভালো ছাত্র ছিলো – স্কটিশে পড়েছিলো স্কুললাইফটা, তারপর অবশ্য সাউথে – যাদবপুর – ইলেকট্রিকাল এঞ্জিনিয়ারিং। তারপর সেই আইটিতেই ঢুকলো যদিও। প্রথমে কোচিতে ট্রেনিং – তারপর পুণেতে পোস্টিং।
ভুতুম ছোটোবেলা খুব উত্তর কোলকাতা ঘেঁষা ছিলো – আমি যখন এসআরএফটিআইতে সাউন্ড এঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি – তখন আমার এইচফোর এন রেকর্ডারটা নিয়ে বেরিয়ে একদিন গোটা রাজবল্লভ স্ট্রীটের সাউন্ড তুলে এনেছিলো। মাথাটা শার্প ছিলো – রেকর্ডিঙের খুঁটিনাটি ধরতে বেশি সময় লাগেনি।
সেই সাউন্ডটা তুলে আমায় দেখিয়েছিলো – সকালে কুকুরের আওয়াজ আর বিকেলে আওয়াজ আলাদা হয়। সকালে একটা নরম নরম ব্যাপার থাকে, বেলা বাড়লে গলার ফ্রিকোয়েন্সিটা চেঞ্জ হয় – গলাটা আরো কর্কশ হয়। রাজবল্লভ স্ট্রীটে সকালের তুলনায় বিকেলে কুকুরকোন্দলির আওয়াজ বেশি পাওয়া যায় তাই। ভুতুমের থিয়োরি ছিলো এই এক্সপেরিমেন্টটা শীতকালে রিপিট করলে আরো ডাইভার্স প্যাটার্ন বেরোবে। ওর ধারণা শীতকালে কুকুরদের ঝগড়া কম হয়।
আমি আর এসব নিয়ে বেশি এগোইনি। আমার তখন ধারণা ছিলো সাউন্ড এঞ্জিনিয়ারিং একটা মারাত্মক টেকনিক্যাল ব্যাপার। সেটায় এসব এক্সপেরিমেন্টের জায়গা নেই – আর নেড়ি কুকুরের গলার আওয়াজের জন্য আমার কাছে পাঁচটা স্যাম্পেল আছে – খামোখা রেকর্ড করতে যাবো কেন! ভুতুম মানতে চাইতো না – ওর ঝোঁকটা এইসব এক্সপেরিমেন্টের দিকে বেশি ছিলো। বাইরে গিয়ে রিসার্চ করতে পারতো ছেলেটা – সেসব না করে চাকরি করেই কাটাচ্ছে।
সেজোকাকুরা চলে যাবার পর এই ১৯ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীটে একাই থাকি। চিলেকোঠার ঘরটাকে কাজের জায়গা বানিয়ে নিয়েছি। একটু খরচাপাতি হয়েছে যাতে বাইরের আওয়াজ ঘরে না ঢোকে সেটা ঠিক করতে।
ইন্ডাস্ট্রিতে ঢোকার তিন নম্বর দিনে তোমার সাথে আলাপ। আমি সেকেন্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলাম, তুমি নায়িকার বান্ধবীর রোলে। পাতি কমার্শিয়াল সিনেমা। আউটডোর শুট হবে সিঙ্গাপুরে। তুমি তখন ইংলিশ অনার্স পড়ছো – ব্রেবোর্নে - তার সাথে মডেলিং করো। ওটাই বোধহয় প্রথম ব্রেক ছিলো – এর আগে সিরিয়ালও করোনি সেরকম।
তদ্দিনে লগান হয়ে গেছে তৈরী, বোম্বেতে সবাই আস্তে আস্তে সিঙ্ক সাউন্ডের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু টালিগঞ্জ যে তিমিরে ছিলো সেই তিমিরেই। কেউ সিঙ্কে কাজ করেনা – সেই ডাবিঙ। কাজ করতে ভালো লাগতোনা। সেহেতু বকাঝকাও খাচ্ছিলাম সিনিয়রগুলোর কাছে। ওসব অবশ্য গায়ে মাখলে টালিগঞ্জে কাজ করা যায়না।
সেদিন ড্রপের সময় জানতে পারলাম তোমার বাড়িও এদিকেই।রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রীটে। একসাথেই পাঠাতো আমাদের – একই গাড়িতে। বাকিরা সবাই সাউথের দিকেই নামতো, তুমি আর আমি অনেকটা একসাথে যেতাম।
তোমার পক্ষে কোলকাতায় হিরোইন হওয়া মুশকিল আমি আগেই বুঝেছিলাম। অতো কাঠ কাঠ লাবণ্যহীন চোখ মুখ নিয়ে কোলকাতায় কাজ করা যায়না। ওই হিরোইনের বান্ধবী মেরেকেটে।
প্রথম প্রথম এসব ভাবতাম তোমাকে দেখে।
গৌরীবেড়িয়ায় একদিন গাড়ি খারাপ হলো – রাত হয়ে গেছিলো। নিজেই এগিয়ে দিয়ে এলাম তোমাকে বাড়ি অবধি। সেদিন ওই আধভাঙা বাড়ির সিঁড়িতে ওঠার আগে তুমি হেসে বললে একদিন তোমাদের বাড়ি আসতে- তারপর থেকে ভাবনা চিন্তা ছেড়ে দিয়েছি।
অবশ্য ভেবে দেখলেই ভালো হতো। তোমার বাড়ি গিয়ে দেখলাম তুমি কোনো ফিল্ম স্কুলের মধ্যে না থেকেই সিনেমার জন্য অনেক বেশি তৈরী – গড়পড়তা অনেকের চেয়ে।
ছুটির দিন মাঝেমাঝেই যেতাম তোমার বাড়ি। কাকিমা তখন বেসব্রিজের ওখানে কাজ করতো, তাই বাড়ি থাকতোনা। আমার বাড়িতে তোমাকে আনার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা ছিলো মালা কাকিমা। পুরো দুপুরটা উঠোনের পাশে হাঁ করে বসে থাকতো।
একবারই এনেছিলাম তোমায় আমাদের বাড়িতে। ভুতুমের সাথে আলাপ করাতে। ও একাই এসেছিলো কোলকাতায় কলেজের কনভোকেশানে। তখনো প্রেমিকা বলার সাহস হয়নি। ভুতুমকে বলেছিলাম – আমরা একই ফিল্মে কাজ করছি – তুমি সাউথে থাকো – উত্তর কোলকাতার পুরোনো বাড়ি দেখতে চাও।
মনে আছে আমাদের খড়খড়ি দেখে তুমি বলেছিলে এটা দিয়ে বেশ ফিল্ম নোঁয়ার ভেনেশিয়ান ব্লাইন্ড লাইটিং বানানো যায়। খড়খড়ি তোমার বাড়িতেও ছিলো। কিন্তু তুমি একান্ত সাউথ কোলকাতা হবার চেষ্টা করছিলে ভুতুমের সামনে।
আমার মনে আছে আমি তোমার বাড়িতে, তোমার ঘরে, যখন তোমার খোলাপিঠে আঁকিবুঁকি কাটছি – তুমি তখন ‘টাচ অফ ইভল’-এর ওপেনিং শটের কথা বলছিলে। সিনেমা তোমার কাছে সবচেয়ে গভীর আদর ছিলো বোধহয় – উষ্ণবুকে পুরুষ ঠোঁট ছোঁয়াবার চেয়েও গোপন।
আমাদের প্রথমবারের সময় আমার ঠিকঠাক – ইয়ে মানে, ঠিকঠাক হয়নি ব্যাপারটা । অ্যাংজাইটি থেকেই বোধহয়। তুমি একদম কিছু মাইন্ড করোনি – বলেছিলে প্রথমবার হতেই পারে।
আমি একান্ত লজ্জা থেকেই সাউন্ডে ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্টকে বলেছিলাম কথাটা – একদিন প্যাকআপের পর মাল খেতে খেতে।
পরদিন দেখলাম পুরো ইউনিটই জানে ব্যাপারটা। মাল খেয়ে তারপর লোকে অতোকিছু মনে রাখতে পারে জানতাম না।
আর তারপর কোনোদিন তুমি ফিল্ম নোঁয়ার গল্প কাউকে বলেছিলে? জানিনা। কথাই হয়নি আমাদের।
~
এরপরে এতোদিন পর আবার একফ্লোরে তোমাকে দেখে খুশি হইনি। যেই অতীতটার ঘটমান বর্তমানে কোনো জায়গা নেই – সেটাকে ফিরে আসতে দেখলে খুশি হওয়ার কথাও নয়।
এটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা। তাই এটায় তুমিই লিড – আর আমি ফুলটাইম সাউন্ড এঞ্জিনিয়ার। আমি যদিও বাঙলার ইন্ডিপেন্ডেট সিনেমা টার্মটা ঠিক বুঝিনা। ওটা তো হলিউডি কথা – বড়ো Studio গুলোর বাইরের সিনেমাগুলোর জন্য। টালিগঞ্জে নিউ থিয়েটার্সের পর Studio সিস্টেমে কাজ হয় কই? এখানে অসংখ্য ছোটো বড়ো প্রোডিউসার – কারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কারা নয় এটা খুব ঘাঁটা।
একদিনে তুমি সিরিয়ালে বেশ চেনা মুখ হয়ে গেছো। আমি এখন ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে গেছি।
টালিগঞ্জের এতো কেচ্ছার মধ্যে আমাদেরটাও চাপা পড়ে গেছে।
সিনেমাটার গল্পটা যদিও আমার ভালো লাগেনি। আজকাল এই লো বাজেটগুলো গ্রাফিক এলিমেন্টে ভরে দেয় পয়সার অভাব ঢাকতে – তো সেই মেনে এটাও মার্ডার মিস্ট্রি। তোমার ক্যারেক্টারটাই মার্ডার হয়,তারপর থেকে কোর্টরুম ড্রামা।
তবে ডিরেক্টরটা নতুন – তেজে টগবগ করছে। তারপর পুরো সাউন্ডের কাজ। কাজটা মন দিয়েই করলাম। ডিরেক্টর ছেলেটা সিঙ্কেই করতে বলেছিলো। কিন্তু ক্লাইম্যাক্স সীনটা – মানে ওই মার্ডার সীনটার সাউন্ডটা ঠিকঠাক এলোনা। বিষ খাইয়ে খুন। ওটা ডাব করতে হবে।
নিজের মেশিনে বসে এসব কথাই ভাবছিলাম। জানুয়ারির সন্ধ্যে। কোলকাতায় জমিয়ে শীত পড়েছে এবার। তার জন্যই বোধহয় রাজবল্লভ স্ট্রীটের পাঁচমেশালি আওয়াজটা একটু থমথমে। সামনে সাউন্ড ওয়েভগুলো জ্বলজ্বল করছে – মেশিনের স্ক্রিণে।
আমার বিশেষ ঠান্ডা লাগেনা কোনোকালে। একটা শাল জড়িয়ে বসে ছিলাম – খয়েরী রঙের শাল – মা হরিদ্বার থেকে এনেছিলো।
অনেকক্ষণ কাজ করতে করতে চোখটা জ্বলছিলো। বেরিয়ে গিয়ে ছাদে একটা সিগ্রেট ধরালাম। তখনই ফোনটা এলো। অচেনা নাম্বার – চেনা গলা।
তুমি বললে – ‘চিনতে পারছো?’
‘নাম্বার দেখে পারিনি, এখন পারছি’।
‘রাজবল্লভ স্ট্রীটের মোড়েই দাঁড়িয়ে আছি’।
‘আচ্ছা’।
‘আসবো?’
‘আসবে? আমার বাড়ি?’
‘হ্যাঁ। আসবো?’
‘চিনতে পারবে?’
তুমি ফোনটা কেটে দিলে।
এর কিছুক্ষণ পর কম্পিউটার স্ক্রীণে নুয়েন্ডোটা তখনো খোলা। এলইডি স্ক্রিণের আলোটা চারদিকে। এই ঘরটায় আমি টিউব লাগাইনি, একটা ডিম লাইট লাগানো আছে শুধু। পাশের খড়খড়ি দিয়ে একটা আলগা আলো আসছে।
তুমি একটা হাল্কা আকাশি রঙের শাড়ি পরে বসেছিলে সামনে। যেটা এই আলোতে প্রায় সাদা লাগছিলো। হাল্কা নেশা করে এসেছিলে মনে হয়।
আমি সামনেই বসেছিলাম। জিজ্ঞেস করলাম – ‘নাম্বার কোথা থেকে পেলে?’
‘ডিরেক্টরের থেকে’।
‘এতোদিন পর আমার নাম্বার জোগাড় করলে শখ করে?’
‘কখন কাজে লাগে’।
তোমার সামনের চা’টা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে আস্তে আস্তে।
তুমিই একটু পরে বললে – ‘কাজ কেমন এগোচ্ছে?’
‘সবই ঠিক আছে, শুধু মার্ডার সীনটার সাউন্ডটা –‘
‘কী?’
‘সিঙ্কে ঠিক আসেনি’।
‘ওহ’।
‘যাগগে ছাড়ো ওসব, ওইটুকু ডাব করা যাবে। তুমি বলো এদিকে কী মনে করে?’
‘ওই আর কি। পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটতে’।
‘এতোদিন পর?’
তুমি চুপচাপ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে কিছুক্ষণ। তারপর উঠে গিয়ে আমার এইচফোরএনটা অন করলে।
আমি একটু অবাক হয়ে তাকালাম।
‘কী হলো?’
‘তোমার একটা সরি বলতে ইচ্ছে করেনা?’
আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ। তুমিও – একদৃষ্টিতে। আমি চোখ নামিয়ে ফেললাম।
‘কী? করে?’
‘করে। ছোটো ছিলাম তখন’।
তাকালাম তোমার দিকে, তোমার চোখে খানিকটা জল দেখতে পাবো আশা করে বোধহয়।
কিন্তু তুমি আশ্চর্যভাবে হাসলে। এইচফোরএন রেকর্ডারটাকে হাতে নিলে, চায়ের টেবিলে নিয়ে এসে রাখলে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
তারপর চা টা নিলে। নিয়ে ব্যাগ থেকে একটা সুগার ফ্রি বের করে দুটো ট্যাবলেট ঢাললে সেটায়।
‘তুমি তো চায়ে চিনি খেতেনা!’
‘এখনো খাইনা’।
তারপর চারদিকে তাকালে – ‘সেটিংটা নোঁয়া ফিল্মের মতোই – ডিম লাইট, জানুয়ারি ইভনিং, ভেনেশিয়ান ব্লাইন্ডের আলো, একা ঘরে হিরো আর – আর ফেম ফাতাল- পারফেক্ট নোঁয়া’।
হি হি করে হাসতে থাকলে।
হঠাৎ করে তোমার মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোতে লাগলো, দুমড়ে মুচড়ে যেতে লাগলো সুন্দর চেহারাটা। কি বিষ ছিলো জানিনা – কিন্তু সাউন্ডটা এইচফোরএনে ঠিকঠাক আসবে তা’তে সন্দেহ নেই। আমি নড়াচড়া করার আগেই সব শেষ।
~
তুমি তখন মাটিতে পড়েছিলে – আমার তখনো পুরো ব্যাপারটার চটকা যায়নি।
১৯ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীট তখন পরের সীনের জন্য ওয়েট করছে বোধহয়, হঠাত আমার ফোনটা বাজলো। ফিল্মের ডিরেক্টর।
‘খবর পেয়েছিস?’
‘কী?’ – নিজের গলার আওয়াজের ফ্রিকোয়েন্সি অ্যামপ্লিচিউড পালটে গেছে মনে হলো।
‘সুইসাইড করেছে’।
‘কে?’
‘কে আবার! ফিল্মের হিরোইন। আজ দুপুরে – ঘুমের ওষুধ। শালা আমারই কপালে এসব জোটে’।
১৯ নম্বর রাজবল্লভ স্ট্রীট থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে ডিরেক্টরই বললো – ‘কাল কাগজ দেখিস। তোর তো পুরোনো চেনা ছিলো। ওই বলেছিলো। তাই খবরটা দিলাম’।

আপনার মতামত জানান