দুটি অণুগল্প

অনুপম মুখোপাধ্যায়

 


পোঁদ

কেমন একটা ঝাঁঝালো উত্তেজক দুর্গন্ধ আটকে আছে, ফিকে লাল ল্যাম্পপোস্টগুলোর আলোয়। এগোতে এগোতে মনে হচ্ছে আলোটা এই গলির অংশ। দুপাশের পুরনো বাড়িগুলোর দেওয়াল, দরজা জানালা, অ্যাডাল্ট সিনেমার পোস্টারগুলো, গানবাজনার আওয়াজ, কোনো একটা ঘরে বেশ লাউড ভল্যুমে ব্লু-ফিল্ম চলছে... যেন হাওয়ার হড়হড়ে মাংসপেশীগুলো এঁটে বসতে চাইছে গলিটায়।
তার বাঁড়া সেই যে বিকেলে উঠেছে, আর নামছেই না। মাথা কাজ করছে না। হাল্কা হতে হবে। ঠান্ডা হতে হবে। এটা কোনো শহরে প্রথম দিনেই তার হয়।
এই সেই বাড়ি। এই সেই একশ বছরের পুরনো দরজা।
এই সেই মাসি। এই শহরে আসার পরেই জেনে গেছে সে, তাকে বলে দেওয়া হয়েছে, সে যেটা চায়, সেটা একমাত্র দিতে পারে এই বাড়ি, এই দরজা, এই মাসি... একবার তাকে আসতেই হবে।
সামনে দাঁড়াতেই মাসি চিনতে পারল, ‘অ্যাদ্দিন পরে যে?’
সে বুঝতে পারল না। মাসি কি তাকে অন্য কারও সঙ্গে ঘুলিয়ে ফেলেছে! নাকি এটাই মাসির স্টাইল! নাকি মাসি চোখে একটু কম দ্যাখে!
‘আজই তো এসেছি গো!’
‘এসেই ছুটে চলে এলে! হি হি হি হি... নিজেই বেছে নেবে? নাকি আমিই বলব?’
‘আমার একটু অন্যরকম চাই...’
‘বলো না... সব মিলবে।’
‘আমি... সামনে নয়, পেছনে...ইয়ে...’
‘পোঁদ মারাবে। গান্ডু চাই, না মাগী?’
‘মাগী।’
‘সে তোমার মুখেই লেখা আছে... যাও, দোতলার ৪ নম্বর ঘর। মেয়েটার নাম সলমা। সল-মা।’
সব পোঁদমারানির নাম সলমা কেন হয়!
সে দোতলায় গেল। নক করল ৪ নম্বর ঘরে। অন্য কোনো ঘর থেকে আওয়াজ আসছে না। এত চুপচাপ কেন! খদ্দের নেই নাকি আজ কোনো!
সলমা দরজা খুলল। শুধু একটা কালো প্যান্টি। শুধু একটা মোমবাতি জ্বলছে। আদিবাসী সমাজের মেয়ে। সাঙ্ঘাতিক ফিগার। কিন্তু সে চোখ নামিয়ে নিল। মেয়েদের ন্যাংটো দেখে তার হয় না।
মেয়েটা কানের কাছে গরম ঠোঁট এনে বলল, ‘আমি সলমা। পোঁদ মারি। রোজই মারি, জানো। তোমার চাই? বলো! চাই?’
এতক্ষণে তার উত্তেজনা আরো বাড়ল। তার গলা শুকোল। সে উপরে নীচে ঘাড় নাড়ল।
তাকে ঘরের মধ্যে টেনে নিয়ে সলমা ফিসফিসিয়ে বলল, ‘আমি কিন্তু তোমার হাত বাঁধব। নাহলে আমি ও কাজটা করি না। চলবে তো সোনা?’
আবার উপরে নীচে ঘাড় নাড়ল সে। এটা তার ক্ষেত্রে আগেও হয়েছে। এই মেয়েরা রিস্ক নেয় না। পুরুষরা কন্ট্রোল হারালে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বড়রকমের।
সে দেখল সিলিং থেকে দুটো হলদে দড়ি ঝোলানোই আছে। তার দুটো হাত আদর করতে করতেই বাঁধল সলমা। তারপর তার জামা খুলল। ঘামে ভেজা গেঞ্জি খুলল। তার লোমশ বুকে নিজের স্তনদুটো একটু ঘসল। প্যান্টের বেল্ট সময় নিয়ে খুলল। প্যান্ট নামাল। জাঙিয়া নামাল। তার দীর্ঘ শক্ত লিঙ্গটা হাতে নিয়ে চটকাল। তারপর ‘ফুঃ!’ বলে সেটাকে ছেড়ে দিল। লিঙ্গটা থরথর করে কাঁপছিল।
সলমা বলল, ‘একটু ঝোঁকো। তোমার পোঁদটা আগে আমাকে একটু দাও... প্লীজ দাও... দেবে... আ!... প্লীজ... ও!... দাও না... আমি পোঁদ ভালোবাসি... দাও গো!’
ইচ্ছে ছিল না। অবাকও হোল। কিন্তু সে ঝুঁকল।
সলমা বেশ কিছুক্ষণ আঙুল দিল তার পায়ুতে। এটা তার সঙ্গে নতুন হচ্ছে। কিন্তু তার ভালো লাগছিল। বেশ ভালো লাগছিল। তারপর সলমা থামল। এক ফুঁ-এ মোমবাতি নেভাল। পোড়া মোমের গন্ধ...
এবার বাকিটা সে জানে কী হবে। এবার সলমা নিজে সামনে আসবে। তার সামনে খেলিয়ে খেলিয়ে প্যান্টি খুলবে। ঝুঁকবে। দু-পাছা দু-হাতে টেনে মেলে দেবে নিজের পায়ু... একটুও অসুবিধা নিশ্চয়ই হবে না। নিজেই তো মেয়েটা বলল ও প্রতিদিন করে। এতদিনের ব্যবহারে ওর...
‘আআআআআআআআআঃ...আআআআআআআআ আআআআআআআঃ...আআআআআআআআআআআ আআআআআআআআআআঃ...আআআআআঃ!!!!!! !!!!!!!!!!!!!!!’
ঠিক দশ সেকেন্ড পরেই আর্ত চীৎকারটা ছড়িয়ে পড়ল বাড়িটায়। মাসি তখনও একইভাবে দরজায় দাঁড়িয়েছিল।
মুখে পান নয়, চ্যুইং গাম ছিল।







ভালো


দু-দিন লেগে থেকেও ক্লাস এইটের কেউই ভালো কিছু কিছু করতে পারল না। অন্য ক্লাসগুলোয় চেষ্টা করেও লাভ নেই। এরা এই কাজের জন্য নয় আসলে। একমাত্র সবুজ নামক ছেলেটি পারল। ও শিক্ষিতবাড়ির ছেলে। একটু বেশি বয়সে ভর্তি হয়েছে। ওর বাবা স্থানীয় একজন হাতুড়ে। আর কেউ পারল না।
‘সোনার তরী’ আবৃত্তি করাচ্ছেন সঞ্জয়বাবু। চারজনকে বেছেছেন। কিন্তু হচ্ছে না। উনি নিজেও আবৃত্তি করতে পারেন না। অগত্যা হতাশ হয়ে পকেট থেকে মোবাইল আর হেডফোন বের করলেন।
‘এই তোরা একে একে আয়। এটাকে কানে লাগিয়ে দিচ্ছি। শোন কেমন করে করতে হয়। গতকাল সবুজ আমার বাড়িতে গিয়েছিল। এটা ইউ টিউব থেকে নিয়েছি। ওকে শোনালাম। কাজ হয়েছে বুঝলি তো? আজ তো ভালোই করল। তোরা শোন একে একে। সাথী, আগে তুই আয়...তোর গলা তো ভালোই, একটু শিখে নিলেই মোটামুটি পেরে যাবি।’
ময়লা ক্লাসরুম। দেওয়ালে প্লাস্টার নেই। মেঝেতেও ইট দাঁত বের করে আছে। ক্লাস এইটের এই ছেলেমেয়েগুলো সকলেই প্রায় দরিদ্র পরিবারের। সবুজ ছাড়া সকলেই স্কুলে মিড-ডে মিল খায়। কেউ কেউ একটু বেশি করেই খায় যাতে রাত অবধি খিদে না পায়। এদের কারো উচ্চারণ ঠিক নেই। সামনে সরস্বতী পুজো। একটা ছোট অনুষ্ঠান তো করতেই হয়।
সাথী শুনল। মিলন শুনল। আবীর শুনল। একজন যখন শুনছে অন্যরা একটু হাসাহাসি করছে। সবুজকে আর শোনালেন না সঞ্জয়বাবু। তারপর আবার ফোটোকপি করা কবিতাটা পড়ে শোনাল। এবার আবেগ বেড়েছে। একটু কায়দা এসেছে গলায়। অবিশ্যি ‘স’-এর দোষ কাটেনি। ওটা এই এলাকায় কাটা সম্ভব নয়।
পরের দিন ওরা মুখস্থ করে আনবে।
সবুজ নিজের খেয়ালেই আরেকবার শুরু করে দিল। ওর গলাতেও আরেকবার মন দিয়ে শুনল সবাই। সবুজকে নিয়ে সঞ্জয়বাবুর চিন্তা নেই। ও অবিশ্যি পড়াশোনাতেও সবার মধ্যে ভালো।
পরের দিন প্রথমে সবুজ মুখস্থ দিল। ভালোই করেছে আগের দিনে মতো।
সাথী মুখস্থ দিল। মিলন। আবীর। সবার আজ অনেক উন্নতি হয়েছে। সবাই আজ সবুজের চেয়ে ভালো।
সঞ্জয়বাবু মনের খুশিতে বলে ফেললেন, ‘বাঃ! দারুণ করছিস তো রে তোরা! আমি তো আশাই করিনি তোরা এত ভালো পারবি!’
আচমকা সবুজ দাঁড়িয়ে উঠল। তার মুখ লাল হয়ে গেছে।
‘স্যার, এইটা ঠিক লয়।’
সঞ্জয়বাবু ঘাবড়ে গেলেন। সবুজকে অস্বাভাবিক লাগছে। এত রেগে গেছে কেন! হাত শক্ত হচ্ছে, যেন খিচুনি আসবে এখুনি।
‘কী হোল রে তোর সবুজ?’
‘স্যার, অরা মোকে নকল করতিছে!’
‘কী?’
‘স্যার, মুই কালকে নিজে নিজে যেটা করেছিলম, অরা সেটা শুনে লিয়েছিল। আজ তো সেটাকেই করতিছে! অরা তো ওই ফোনের মতন করে বললনি! মোকে নকল করতিছে দেখুন।’
‘কী বকছিস? ভালোই তো করছে রে ওরা বাবা!’
‘না স্যার!’ উত্তেজনায় সবুজের বয়ঃসন্ধিকালীন গলা এবার চিরে ফেটে গেল। ‘স্যার, জেরক্স কুনুদিন অজ্জিনালের মতন ভালো লয়! জেরক্সকে ভালো বলতিছেন ক্যানে? অজ্জিনালের দাম নাই স্যার?’


আপনার মতামত জানান