কয়েকটা অপরিষ্কার ডায়েরির পাতা?

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়

 

“ওভাবে মাজায় কেউ মারে? শালা শুয়ারের বাচ্চা”... “মেসি কেঁদেই ফেলেছিলো গোল্ডেন বল নেবার সময়”... “ জার্মানির প্লেয়ার গুলোর মাল গুলো কে দেখেছি? একঘর... উফ”... “ মারাদোনা মারাদোনাই... “... উফ ... আর পারছি না নিতে... একে কাল হেরেছি... সকাল থেকে হেব্বি প্যাঁক খাচ্ছি... তার মধ্যে এসব... “কিহে চন্দননগর তো চেপে গ্যালো”... “অণু ও কিচ্ছু বলছে না...খবরের কাগজের লোক গুলর পেট চলবে কি করে বলো তো?”... আবার শুরু করেছে... “কাল একটা বাংলা সিনেমা দেখলাম... মেয়ে মেয়ে কে চুমু খাচ্ছে”... “কি নাম গো?” ... “নাম দেখিনি...খালি সিন টা দেখেছি”... ব্লা ব্লা...

পাড়ার গলিতে মুষড়ে পড়া ব্রাজিল আর্জেন্তিনার পতাকা... একটা মেসির কাট আউট... বুকের কাছে একখাবলা ছেড়া... উফ... কি মারাত্মক... ডি.এস.এল.আর কিনেই যারা ফটোগ্রাফার, তারা এরকম সাবজেক্ট ছাড়তোই না... ক্লাবে যথারীতি টিভি তে বেবি ডল আর ক্যারামের খটাখট...

আজ স্টুডেন্টের জ্বালানি তে মরেছি... উফ... একটাও এইচ. ডাব্লু করবে না... পড়ানোর মাঝখানে হোয়াটস অ্যাপ ডেকে উঠবে... তার সেকি সংযম... যেভাবে আচ্ছে দিন আনেওয়ালে সরকার সিগারেটের তুলতুলে পেছনে আখাম্বা একখান দিলো... ছোটো সিল্ক কাট ৩টাকা... গড


তাপস পাল নিয়ে আমার আর নোতুন করে কিছু বলার নেই... ইভেন নিজেকেও না... সবাই সব বলে দিয়েছি... ফর্ম ফিল আপ... রোববার রোববার নতুন স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাও... ৬টা দিনে এবেলা অবেলা ওবেলা টিউশান... এরকম একটা মানুষের বিশেষ কিছু বলার থাকতে পরে মনে হচ্ছে না...

এক বন্ধু পেন্ড্রাইভে (তার নিজের পেনড্রাইভেই) সবিতা ভাবি ভরে দিলো... বাংলা চটি... আমাকে নাকি রোজ একটা করে পড়তে ও করতে হবে... আদেশ প্রায়... কোন এপিসোডে কি আছে রীতিমতো পড়া ধরে... না পারলেই খিস্তি... আমাকে সেই বন্ধু বলেছে,আমি আগামী ৫ বছরের মধ্যে পাগল হবো... (ট্রেন থেকে “সহজে হাত দেখা শিখুন” বলে একটা বই আমার সামনেই কিনেছিলো হারামিটা)।। বাড়ি গাড়ী নাকি হবে... আন্তর্জাতিক মানের পুরস্কার পাবর থেকে বড়ো খিল্লি আর হয় না)... “সাল্লা পাগলের এত কিচু নাকি হয়!!”... “ হয় হয়...তোর হাতে লেখা আছে...তুই একটা লাল পলা পর দেখি”... “বা_ পরবো...”... ন” পর পর... কাজে দেবে।।আর খালি অই বই টাই না... আমি আরো অনেক কিছু পরেছি... নে... খালি হাতে হাত দেখাতে নেই... একটা সিগারেট খাওয়া”...

আমার একসময় একটা হেব্বি নেশা ছিলো রিংটোন আর ওয়ালপেপার জমানোর... সে সব বিদঘুটে রিংটোনের কালেকশান... মেমরি কার্ড টা হারিয়ে গেছিলো কিভাবে মনে নেই... এখন বন্ধুরাও কেউ রিংটোন জমাই না... একটা ২৫৬ এম বি’র মেমরি কার্ড কেনে হয়েছিলো কাউন্টারে... বলাই বাহুল্য সেটা কি পারপাসে কেনা হয়েছিলো... রোজ এক এক জনের কাছে থাকত... ভুল করে এক বন্ধু তার প্রেমিকার সাথে গরম গরম কথা রেকর্ড করেছিলো... কোন বাজে উদ্দেশ্যে না... পরে শুনে করবে আর কি... কিন্তু পরেরদিনের টার্ম আমার... আমি ঘাটতে ঘাটতে সেই রেকর্ডিং টা আবিষ্কার করি... (ভাগ্যিস ল্যাংটো হয়ে সেই ইউরেকা গল্পের রিপিটশান হয় নি)... সারারাত ভিডিও ছেড়ে সেই রেকর্ডিং... আমার তখন মরুভুমি...স্লাঈড শো... “ তোর মাল যে এতো সেক্সি দেখলে তো বোঝা যায় না”... “ দেখ অর্ঘ্য লাইনে ঢুকিস না।। বাওয়াল হয়ে যাবে”... “ বাওয়াল তো তুই করেছিস... ছনছন কথা রেকর্ডিং?... দেবো ছড়িয়ে?... এমনিই লাইন ভোগে”... “ ভাই প্লিজ ডিলিট করে দে... আমার মনে ছিল না... পায়ে পড়ছি,... ওকে খুব ভালোবাসি... তুই তো আগে বলিস নি ওকে ভালবাসিস... বাবা জানতে পারলে মেরে ফেলবে... সুইসাইড করবো”... “ধুর মারা... থাম তো।। বকেই যাচ্ছে... আমি ভাই সাইডিং কাটি না... কাল ভুল করে শুনে ফেলেছিলাম... সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করে দিয়েছি... আমি শালা হারামি না...নে ধর।। দেখে নে... আমি সিগারেট খেয়ে আসি...”... “ বড় নে... আমি টাকা দেবো”... “থাক...কুকুরের পেটে ঘি সহ্য হবে না... ছোটোই নিচ্ছি”...



- কোথায় আছিস?
_ ওদের স্কুলের গেটের বাইরে...এক্ষুনি টিফিন হবে...
- ক্যাডবেরি তা এক্ষুন খেয়ে নে
-আমি?
- হ্যাঁ... এখুনি... কার্ড তা ছিড়ে পুকুরে ফ্যাল... ব্যাক কর... কেউ য্যানি কিচ্ছু না জানে...
- কিছু শান্তু ভালো না... ও’ তোকে চায়। শম্পা কে বলেছে... শান্তু খালি নাকি হাত দিতে চায়... ও চাইছে না রিলেশান টা... এটা হাই টাইম... শান্তু বাওয়াল করলে কেলিয়ে দেবো... ক্যানো বাওয়াল করছিস?
- তোকে যা বলছি কর... কুইক...
- ও বেরচ্ছে
- তুই বা_ ব্যাক কর... ক্যালাবো কিন্তু...
- আচ্ছা



সারারাত বন্ধুর প্রেমিকার গলা... চোখ লাল ... ৩৫ মিনিটের রেকর্ডিং... সায়ন কি জানে ওই রেকর্ডিং টা না শুনলে ওই মেয়েটাকে ভালই লাগতোনা? ... আমি শান্তুর থেকেও নোংরা ...


শান্তু আমাকে পড়া ধরছে ... “ ১৬ নম্বর এপিসোডে কি আছে?”... আমি পড়া বলছি... আজও শান্তুর ফোনে বছর তিনেক হলো সেই একটাই ওয়ালপেপার... সেই মেয়েটার ছবি... আমার সেই দূত বন্ধু লাইনে ঢুকেছিল মাস তিনেক বাদে... মেয়েটা সুইসাইড করে তার মাস ছয়েক বাদে... জানা গেছিল কটা সেই ছবি ব্লুটুথ পেয়ে গেছিলো... পুলিশ শান্তু কে তুলেছিলো ... যদিও মেয়েটাও জানতো ছবি গুলো শান্তুর কাছে কোনোকালেই ছিলো না... সেই কথা অবশ্য চিঠি তে লিখেছিলো... শান্তু ওই জন্যই ছাড়া পায়... আমার সেই দূত বন্ধু এখন কোথায় জানি না... ওকে সামনে পেলে একবার জিজ্ঞেস বলতাম, “ আমি বা শান্তু তোর থেকে অনেক কম নোংরা ছিলাম”...


ওহ বলতে ভুলে গেছি একটু আগে হসপিটাল থেকে ফিরেছি... শান্তুর ফোন টা পিকপরেট হয়েছিলো ট্রেনে... ওর কাছে ওই ছবিটার কোনো কপি ছিল না... চলন্ত ট্রেন থেকে ...... শান্তুর সাথে আমার শেষ কথা ... “ তুই যখন পাগোল হবি, তখন আমি থাকবো না”...

আপনার মতামত জানান