উৎপত্তিগত ব্যাখ্যা-প্রবাদ প্রবচন

সৈকত মুখোপাধ্যায়

 

(কোন চরিত্রের সাথে বাস্তবের মিল নেই, মিল থাকলে জানি না)



"কুমিরের কান্না "

চার্লি চ্যাপলিন বলেছিলেন "আমি বৃষ্টিতে হাঁটি , যাতে কেউ আমার কান্না দেখতে না পায়। "

সুন্দরবনের কুমিররা তার প্রতিবাদ করে বললো "আমরা জলে থাকি , তাই আমরা কাঁদলেও কেউ দেখতে পায় না " এবং মানুষ গুলো "কথা " বলতে পারে বলে , হেব্বি বড় বড় জ্ঞানবাণী মেরে Footage খাবে ... এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রতিবাদে জলপথ অবরোধ করলো ..... বাংলার ব্যবসা-বানিজ্য ধসে পড়ল ...

জঙ্গলসভা তে বিল পাশ হল , তার ফলস্বরূপ বাংলা অভিধানে অন্তর্ভুক্ত হল আরেকটি প্রবাদ

"কুমিরের কান্না "




যত বড় মুখ নয় , তত বড় "কথা
কোলকাতার ঐতিহ্যশালী ময়রা ভীমনাগ , একদিন একটা পেল্লাই সাইজের সন্দেশ তৈরী করলো ...আর নাম রাখল "কথা সন্দেশ " ..... লোকজন কেউই সেই সন্দেশ একবারে মুখে পুরতে পারে না।
সেই থেকেই আরও একটি নতুন প্রবাদ চালু হল : ~ যত বড় মুখ নয় , তত বড় "কথা "


আঙুল ফুলে কলাগাছ
জাপান সরকার হঠাৎ একদিন ঘোষণা করলো , যে বিশেষ তেল এর সাথে তাদের দেশের নাম জড়িত আছে অর্থাৎ সারা বিশ্ব যার মাধ্যমে জাপান কে একডাকে চেনে , সেই জিনিসের বিজ্ঞাপনে কোনো "চুদুরবুদুর " মার্কা ছবি দেওয়া যাবে না। এতে জাপানী বৃদ্ধরা দিন কে দিন চূড়ান্ত Frustrated হয়ে পড়ছে , হীনমন্যতায় ভুগছে ...
বাধ্য হয়েই তেল কোম্পানিটি তাদের Tagline Change করলো। তারপর থেকেই অভিধানে আরেকটি নতুন প্রবাদ সংযোজিত হল : ~ "আঙুল ফুলে কলাগাছ "


যেমন শিল তেমনি নোড়া
বিদ্যাসাগর মহাশয় বীরসিংহ গ্রাম থেকে বাবার সাথে পায়ে হেঁটে কোলকাতা আসার পথে মাইলস্টোন কে দেখে "বাটনা বাটা শিল" ভেবেছিলেন এ কথা আমাদের সবারই জানা , কিন্তু আরেকটা ব্যাপার তিনি বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন , তা হল ~ তার পিতৃদেব যখন একটি বটগাছ তলায় ছোট একটি শিবলিঙ্গ কে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলেছিলেন , "এটা কি বলতো ?"
~ তখন তিনি শিবলিঙ্গ টিকে "নোড়া " বলেছিলেন ... এই কথা শুনেই রাস্তার এক নেড়ি কুকুর ঝড়ের বেগে তাড়া করেছিল এবং এর ফলস্বরূপ তিনি ধুতি টুতি ছিঁড়ে হাফপ্যান্ট পরে কোলকাতা এসেছিলেন ...
পরবর্তীকালে তিনি বার বার ভেবেও কুকুরটি কেন তাড়া করেছিল সেই রহস্যের সমাধান করতে পারেন নি , তিনি নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার ছিলেন ... কারণ তিনি জানতেন
- "যেমন শিল তেমনি নোড়া "


মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা
তারপর মা কালীর একদিন করার ইচ্ছে হল Bold fashion করবে , ডাকিনী -যোগিনীর সাথে অনেক শলা-পরামর্শ সেরে, fashion mag ঘেঁটে শেষমেষ ঠিক করলো হাতের ভ্যানিটি ব্যাগ টা ছেড়ে হাতে মুন্ড মালা নিয়ে ঘুরবে ...
এসব ভেবে মহাদেব কে মা ফোন করে বলল "ওগো !তুমি শ্মশান থেকে ফেরার পথে
কয়েকটা body নিয়ে এস তো !" বৌয়ের এরকম আবদার শুনে মহাদেবের নেশা গেল ছুটে ....
যাই হোক মিশেল ওবামার আবদার .. না রাখতে পারলেই কৈলাশ পুরো বারাকপুর হয়ে যাবে ... আবার বুকে টুকে পা তুলে দিয়ে দাড়াবে ... .. তাই এসব ঝক্কি
নেওয়ার থেকে খান চারেক লাশ চাপিয়ে দিলেন নন্দী ভৃঙ্গির ঘাড়ে ...
লাশ তো নেওয়া হল, কিন্তু বাড়ি ফিরে আরেক ঝামেলা ... মাছের আঁশ বটি দিয়ে
তো আর মানুষ কাটা যায় নাহ ! তাই মা কালী খাঁড়া দিল ঝপাঝপ কোপ !
ভোলে বাবা রসিক লোক , তাই চেপে না থাকতে পেরে , ফুট কাটলেন ..."মড়ার ওপর
খাঁড়ার ঘা "


ঘুঁটে পোড়ে , গোবর হাসে
অনেক বছর আগে , নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে গোবর নামে একটা ছেলে তার বিধবা মাকে নিয়ে কুঁড়ে ঘরে বাস করতো। অতিশয় গরীব পরিবার। একদিন গোবরের মা, ভাত রাঁধতে গিয়ে দেখল ঘরে এক ফোঁটাও কেরোসিন তেল নেই।
সেই শুনে গোবর বেরলো কেরোসিন খুঁজতে .... এদিকে খিদেয় পেট চুই চুই করছে , তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফেরার পথে , গ্রামের মোড়লের গোয়াল থেকে খান কতক ঘুঁটে নিয়ে এল ... সেই ঘুঁটে দিয়ে তার মা ভাত রাঁধল ... তারপর দুজনে একসাথে পাত পেড়ে হাসি মুখে ভাত খেতে বসলো ..
খেতে খেতেই তার মা মনে মনে বললো ... "ঘুঁটে পোড়ে , গোবর হাসে "


ধুস, এরা সাত চড়েও রা কাটে না
চম্পার সাত ভাই ফুটবলে বরাবরই জার্মান সমর্থক ..এবারে জার্মানি বিশ্বকাপ জেতায় তারা বেজায় খুশি , কিন্তু জার্মান অধিনায়ক "লাম " অবসর নেওয়ায় তারা কিছুটা দুঃখ পেয়েছে। তাই ফুটবল খেলা দেখতে বসলেই "হা লাম ! হা লাম !" করছে ...
এমনকি চম্পা ভাইদের "রামায়ণের " গল্প শোনাতে বসলেও , তারা কেবলই "লামায়ণ " বলছে ... (অনেকে যেমন "শরীর" কে "শরীল" বলে )
চম্পা এদিকে ব্রাজিল সমর্থক , সাত গোলের ঝাল এখনও ঝাড়তে পারে নি জার্মানির ওপর, তাই ভাইয়েদের জার্মান আদিখ্যেতা দেখে চম্পা সবাই কে ঠাস ঠাস করে সপাটে থাপ্পড় মারল। কিন্তু তারপরেও চম্পার সাত ভাই "লামায়ণ ! লামায়ণ" করে যাচ্ছে ...
বিরক্ত হয়ে চম্পা, দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বলল - ""ধুস, এরা সাত চড়েও রা কাটে না "


নেপোয় মারে দই
সম্রাট নেপোলিয়ন , রান্না ঘর থেকে দই চুরি করে খেত

তার বউ একদিন তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে , চিৎকার করে বললো "নেপোয় মারে দই "

~ সেদিন থেকেই বাংলায় আরেকটা নতুন প্রবাদ জন্ম নিল

বেদের ছা Bed পড়ে ... ইঁদুরের ছা মাটি খোঁড়ে
জঙ্গলে সাপ ধরতে গিয়ে কেউটের ছোবলে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই শ্যামা বেদেনি আর তার মেয়ে জোস্ন্যার বসবাস ওই কুঁড়ে ঘরেই ... শ্যামার সাধ মেয়ে কে উচ্চশিক্ষিত করবে ... "বেদের মেয়ে জোস্ন্যা" বদনাম ঘোঁচাবে ... এদিকে আটচালায় ইঁদুরের উৎপাত বেড়েই চলেছে ... দিন কে দিন ...কাপড় জামা তো কাটেই ... মাঝে মাঝে ঘরের মেঝেও গর্ত করে দেয় ...

দিনের শেষে হাড়ভাঙা খাটুনি সেরে বাসায় ফিরে দেখে ... জোস্ন্যা বিছানায় উপুর হয়ে এক মনে বই পড়েই যাচ্ছে ... ওদিকে ইঁদুরের দল ঘরে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চলেছে ...

সেই দেখে শ্যামার স্বগোতক্তি ... "বেদের ছা Bed পড়ে ... ইঁদুরের ছা মাটি খোঁড়ে "

আপনার মতামত জানান