এক স্বপ্নের মৃত্যু

রঙ্গীত মিত্র

 




কখনো ঘুম যুদ্ধের উত্তরে লাল হয়ে যায়। কখনো স্পিড ব্রেকার কমিয়ে দেয় আমাদের হাঁটার স্পীড। এইবার একটু পিছিয়ে যাই। তখন আমি বিটেক পড়ি। চারপাশের অসুস্থ ও অস্থির পরিবেশ। উত্তেজনা পারদ থেকে স্পার্ম কাউন্ট। সিসিডির হাত থেকে ফ্ল্যাট উঁচু শহর পালাতে চাইছে। রাষ্ট্র আর মানুষের সেই স্ট্র্যাগেলের মধ্যে শুনলাম হারবার্ট আবার নন্দনে দেখাচ্ছে । (যদিও এর আগে রাষ্ট্র ভয় পেয়ে আটকে দিয়েছিলো...)।
আমার কলেজ তখন রুবীর ভিতর। বন্ধুদের বললাম।তারা তখন বলিউডে ভিজে আছে। তখন সবে মেকি-আমেরিকান সংস্কৃতি ঢুকছে। তাই আমি দেখলাম,আমাকে একাই যেতে হবে।
ঘড়িতে একটা বাজে। সুতরাং বাইরে কোনো ভ্যান নেই।তারপর প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে রুবী।আর রুবী থেকে বাস ধরে যাওয়াটা আমার কাছে লং মার্চ হয়ে গিয়েছিলো।যাত্রাপথে যেন আমি দেখছি ওই তো মাও বক্তৃতা দিচ্ছেন । ওই ছেলেটার নাম বোধহয় চে গুয়েভেরা। যাইহোক,কোনো ক্রমে নন্দনে গিয়ে টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেখি দর্শক খুব কম। কয়েকজন এসেছেন,মাত্র। আসলে বাঙালি ট্যাক্সি সেক্স আর হল সেক্স খুব ভালোবাসে। নুডিটি ছাড়া আর তাদের কি ভালো লাগবে? তাই পিন- পি- সি মোড়া হাফ পর্ণ ছবিই তারা দেখে। সিনেমাটা দেখে,বাড়ি এসে রেডবুক খুলে দেখেছিলাম,ভোরের থেকেও জোড়ালো স্বপ্ন আছে আমার স্টমাকে। হুলিয়ে পড়তে লাগলাম,নবারুণের লেখা। তার সাথে গেরিলাওয়্যার ফেয়ার,দুনিয়াকাঁপানো দশদিন,চায়নাস লং রেভলিউসন... কলকাতা শহরকে অন্যরকম করে দিয়েছিলো।আসলে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মানুষ তিনি। সব সময় তিনি সিস্টেমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অল্টারনেটিভ বেঁচে থাকার রাস্তা দেখিয়েছেন। কখনোই ক্ষমতার পিছনে তাঁকে ছুটতে দেখিনি। আমরা যারা নতুন লিখছি ,তাদের কাছে নবারুণের গদ্য,কবিতা লড়াই-এর স্বপ্ন দেখায়।আজ কবির মৃত্যুদিন। খুব যন্ত্রণার। ফেসবুকের এক একটা আপডেট আমাকে কেটে ফেলছে। এ যেন আমার শরীরে,মাথার ভিতর যৌণাঙ্গে কে অ্যাসিড ফেলে দিয়েছে।আমি ছটফট করছি। ক্রমাগত মৃত্যু । রক্ত। হিপোক্রেসির সোনাগাছিতে।আমাদের রাজনীতির মধ্যবিত্তকরণ বাজার হয়ে গেছে।যখন আর অন্য লেখা পড়তে ইচ্ছে করছেনা। তখন একদিকে সুমনের গান অন্যদিকে নবারুণের লেখা... পিলারের মতো আমাদের ধরে রেখেছিলো। আজ এমন একটা দিন,আমার ইচ্ছে করছে না কিছু বলতে।আমি হয়তো নবারুণের কোনো লেখা এখানে ব্যবহার করতে পারতাম।কিন্তু এ যেন সহযোদ্ধার মৃত্যু। ঠিক পিট সিগারের মৃত্যু যেমন অনিশ্চয়তা এনে দিয়েছিল,আজ নবারুণের মৃত্যু আমার গায়ে অন্ধকার ঢেলে দিলো। যে আমি ফ্যাতাড়ু হয়েছি,যে আমি বিপ্লবের গলায় গলা তুলে বলেছি,বদল চাই। কিন্তু সব কিছু হয়ে যাবার আগে। যখন আমরা সবাই এক হয়ে এক সাথে মিছিল হয়ে যাচ্ছি,ঠিক সেই সময় ফ্যাতাড়ু ঘুমিয়ে পড়লে? স্বপ্নরা মদের বোতলের ফ্যানার মতো...গাঁজার কল্কের উত্তাপের মতো...বমি পাচ্ছে।খুব চিৎকার করে জমা হওয়া প্রতিশব্দ সেলাই করা ধ্বংসস্তুপ...আজ বেশ অন্ধকার।আজ বেশ চুপ করে থাকার দিন।তবু এতো অন্ধকারেও কি কমরেড চুপ করে থাকা যায়।তুমি বল,প্লিজ।চুপ করে আছো কেন ?


কবাডি খেলছে লাইব্রেরির টেবিল ।
আমার বাড়া ভাতে লোভ দিচ্ছে, গঙ্গা দূষণ।
আসলে দাঁড়িয়ে থেকে তোমার স্তন, কোমড়
ওই যতটা লাইভ করা যায়।
আমি ঠিক ততটাই বিদেশে ভিসা ।
তবু কারা যেন মুক্তির কথা বলে।
আমি তাদের সাদা পায়রার মাংস খাওয়াই।
তারা সেই সব খেয়ে বলে
বাইজি নাচ হবে না।সুরা পান?
তাদের আমার ক্ষমতা দেখিয়ে

-রঙ্গীত মিত্র

আপনার মতামত জানান