গুচ্ছ কবিতা

রঙ্গীত মিত্র

 


ছবি- গুগল সূত্রে প্রাপ্ত

জমি-নীতি

টিকটিকিদের বাঁকা চোখ দেখে
ধুলোরা কার্বন-মনোক্সাইড ছাড়ে।
তারপর গলায় গরমকাল নিয়ে
আইসক্রিমঅলা ডেকে যায়,তার ভাবি খদ্দেরদের।
ওদিকে পেয়ারা গাছে,সেতু বাঁধা মাকড়শাকে
খেতে না পেরে
রাগি বুলবুলিটা বেশ রাগি চোখে আমাকে দেখে।
এদিকে কয়েকটা কাক আবার বাকু মামাদের কার্নিশ
থেকে বুলবুলিটাকে দেখে।
জমি-নীতি নিয়ে প্রকৃতিতেই এতো সমস্যা,
তাহলে আর কমিটি বানিয়ে কি হবে?

সুবিধাবাদী

অসন্তোষের মোববাতী জ্বলে ওঠে।
মোমের আগুনে
শয়তানের চোখ ঝলসে যাবে বলে
আগে থেকে এতো নিরাপত্তা।
এমনি আমাদের গলার সুর কেড়ে নেওয়া হয়েছে ;
ওরা হুমকি দিচ্ছে,আমি চুপ করে না থাকলে
সুবিধাবাদীর তালিকায়
আমার নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।


বন্ধু

ফোন বেজে ওঠে।
ফোন তুলে দেখি,আমার এক বন্ধু ফোন করেছিলেন।
তার মিসড কলে , জিজ্ঞাসা লেগে আছে।
আমি তাই আবার কল ব্যাগ করলাম।
বন্ধুটি,ফোন ধরে বলল , “ হ্যালো,কে বলছেন?”
আমি ,তাকে আমার নাম ও পরিচয় দিলাম।
প্রথমে সে চিনতে পারলো না।
তারপর বললও, “ব্যস্ত আছি।পরে ফোন করবো।”
বুঝলাম,বন্ধুত্ব নামাক ক্যানসারে আমি আক্রান্ত।
আর কোনোদিনও তাই কাউকে বন্ধু বলে ভাববো না।


তৃষ্ণা

মুখ যেন ভোরের সূর্য,
শরীরে তিস্তার স্রোত।
স্রোতের হাত ধরে,আমার নৌকা
এ নদী, তোমায় আমি মহাভারত স্পর্শ করি,
যদিও বয়সের অনেক পার্থক্য।
তবু এই অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ
আমাকে নিয়ে যায় মোহের দিকে।
কিন্তু আমি তো সমুদ্রে যেতে চাই না,
অথচ তোমার অনেক প্রেমিক ;
আমি শুধু তোমাকে পান করতে চাই।



হে রাজনীতি

কে কি রকম কবিতা লেখা
কে কি রকম আলাদা আলাদা দল
আমি জানি না।
আমি শুধু ভালো-লাগাকে আপন করতে গিয়ে
শত্রু বাড়িয়ে যাচ্ছি।
আসলে সবাই সব কিছু করতে পারে
আমার নিজের স্বাধীনতা চাওয়া মানে
কি উগ্রপন্থা?
দরকার হলে,আমি সবার সামনে
আমার যৌনতাকে উন্মুক্ত করে দিতে পারি,
হে রাজনীতি...

আমাকে

যৌনতা দেখলেই সবাই লাফিয়ে পড়ে।
কারণ নাম আর জনপ্রিয়তা
রঙিন মদের মতো।
কিন্তু আমি তো ঐসব চাইনি বলেই
ছেড়ে এসেছি,সাধারণের জীবন।
আমার গায়ের উপর নারকেল গাছ
ঐ দেখো,
কাপড় শুকোতে দেবার তারকে ধরে আছে।
তাই আমি ছাড়া সব অর্থহীন।
আমাকে না দেখেও,একটু দেখো।

চাওয়া পাওয়া

ভালোকে ভালো
খারাপকে খারাপ
বলতে শেখার
নিয়মগুলো
যদিও একঘেয়ে
তবু আমি
মুখোশে নেই।
বরং আপনার সামনে দাঁড়ালে,গুলিয়ে যায়
নিজের বিজ্ঞাপনও করতে পারিনা।
নিজেকে নিয়ে কিছুই করতে পারলাম না বলে
হকারিও জোটেনি।
শুধু আমার পিঠে ছোরা লেগে আছে।
ওই দেখুন,রক্ত পড়ছে।খুব যন্ত্রণা।খুব যন্ত্রণা।
আপনি এবার আনন্দ পান।
কারণে এটাই তো আপনি চেয়ে ছিলেন?
তাই না?

আপনার মতামত জানান