প্রেমের কবিতা

রিংকু কর্মকার চৌধুরী

 



১)
যা কিছু হারিয়ে যায়

রঙিন কাগজের ঘুড়ি
আকাশের চিলেকোঠায়
উড়ে যায়
   অন্যমনস্ক...

চুপি চুপি পায়ে রোদের
গালিচায় বুনো মেঘ
হারায়
ব্যবধানে...

ঘুড়ির ছেঁড়া খোঁড়া বুকে
এঁকে রাখা ক্ষত
ভালোবাসার

মরে যায় প্রেম, মরা যৌবন,
ভেসে চলে


২)
গল্প ছলে

মন কুড়িয়ে খেলছে বাতাস
পথের ধারে
ইচ্ছে করে
পড়ে থাকি
তোর ঠিকানায়।

দুমুঠো ভাত
রাঁধব বসে
বিকেল বেলার
শেষ সীমানায়
গল্প ছলে।

তোর বাড়িতে নিকানো উঠোন
চাঁদের ছায়া
পড়লে পড়ে
আগলে রাখি
ঠিক নিশানায়।


আকাশ কুসুম
ভাবনা জমুক
মনের খাতায়
টুকব হিসেব
আদর পেলে।


৩)
ঝরাপাতা

দীর্ঘতম কবিতাটি লিখে ফেলব
মৃত্যুর ঠিক সোয়া মিনিট বাকি থাকতে।
দরজার ফাঁক গলে ঢুকে আসলে নিয়তি,
বিছানা ভাগ করে নেব
খেলা ভাঙার আগে।
স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলব
"অপেক্ষা কর! এখন ও প্রেম
শেষ হয়নি"।
আজ ও কবিতার শেষ স্তবক,
তাকেই উৎসর্গীকৃত।
এত মোহ নিয়ে পালাব কোথায় হে?
অপেক্ষা কর !
শেষ বসন্তের মরসুমি ফুলেদের মত।
ঝরে যাওয়ার আগে
আমি দীর্ঘতম কবিতাটি লিখতে চাই,
তুমি আসবে বলে ঠিক সোয়া মিনিট আগে।


৪)
পরিযায়ী -১


হিসেব নিকেষের প্রেমে
খাতা ভরানো,
দু চারটে ভুল অঙ্ক
সে তো সকলেরই হয়।

গোনাগুনতির সিঁকে ছেড়া কথা,
নাজেহাল করলেও
বাহানার চাদরে মোড়া
লাগাতার খোঁচা,
ঠান্ডা করে আঁচ।


প্রেমালাপ পাগলের প্রলাপ বকে
নিশ্চিত করে আগামীর কামনা
সব প্রেম ঘর পায়না
যেমন সব পরিযায়ী পাখি
আপন হয় না।
সে কাল ফুরোলেই
উড়বে নীল বরাবর।।

৫)
ভীষণ ভালো বাসছি তোকে

তুই মফস্বলী হাওয়া ভালো বাসিস,
তোর জন্য কুড়িয়ে আনি আলো, রোদ, জল
মেঠো ধুলো , ছায়া পথ।
মুঠো ভরে নিয়ে যাস সবটাই।
ফাঁকা ফেলে ছবিঘর।

রোজ পৌনে ছটায় আমি
কবিতা দের ঘুমোতে পাঠাই।

আপনার মতামত জানান