নিশাতুর স্বপ্নজাল– কবিতার পরীক্ষাগার

সংহিতা মুখোপাধ্যায়

 

দুই কবি শ্রী পবিত্র আচার্য্য এবং শ্রী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার সম্মিলিত সংগ্রহ “নিশাতুর স্বপ্নজাল”। সংকলনের নামটি দুই কবির দুটি কবিতার নাম জুড়ে রচিত - পবিত্র আচার্য্যের কবিতা “নির্ঘুমের নিশাতুর স্বপ্ন” এবং সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা “স্বপ্নজাল”। বইটিও দুইভাগে গ্রন্থিত। প্রথমে কবি পবিত্র আচার্য্যের কবিতা এবং তারপর কবি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা। বিষয়ে, বক্তব্যে দুই কবির কবিতাতে বেশ মিল পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকরণে কবিতাগুলি বেশ আলাদা। আবার পুরো বইতেই শব্দ ব্যবহারের বৈচিত্র্য নজরকাড়া। পুরো বইতে খুব স্পষ্টতায় মূর্ত তথ্যবিস্ফোরণের কালটি এবং মুষ্টির পরিসরে বন্দী দুনিয়ার তাবৎ জ্ঞানভাণ্ডারের আঁচ। আর সেই জন্যই কবিতাগুলি মূলত বৈঠকী এবং নাগরিক। তাই আলোকিত বহুতল আর বিজলিবাতির খানিক আলো, সেই আলোতে কেন্দ্রীভুত মনোযোগ আর পড়ে থাকা খানিকটা অপরিচিত অজ্ঞাত অন্ধকারের ব্যঞ্জনাময় প্রচ্ছদটিও খুবই সার্থক। সংকলনের কবিতাগুলির আভাস হিসেবে প্রচ্ছদটি এভাবেও ভাবায় যে যাবতীয় বিদ্যুৎপ্রবাহ শুধুমাত্র বিজলিবাতির ঝলক তৈরীতেই খরচ হয়ে যায়, অম্লান থেকে যায় আঁধারের গভীরতা, অপ্রকাশিত রয়ে যায় বিদ্যুতের অমিত শক্তির পরিচয়ও।
কবি পবিত্র আচার্য্যের কবিতা – শব্দময় চিত্রের সংকল্প
এই কবিতাগুলির প্রেক্ষিত মূলত রাজনৈতিক। পশ্চিমবঙ্গে বিশ শতকের শেষ চতুর্থাংশে বেড়ে ওঠা কোনো মানুষের অভিজ্ঞতা আর পূর্ণ যৌবনে নতুন শতকের শুরুর পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার অনুভব এই কবিতাগুলোতে স্পষ্ট। তাছাড়াও প্রকরণে নতুন/আধুনিক পেরিয়ে সমসাময়িক হয়ে ওঠার অনেক লক্ষণ আছে এই কবিতাগুলোতে। নতুন শব্দ, বিদেশী শব্দ (স্ক্যান্ডিনেভিয়ান, নেটিভ ইন্ডিয়ান, ইংরেজি এবং ইন্দোনেশিয়ান[?]), বাক্যে প্রচলিত অর্থের থেকে একদম আলাদাভাবে ব্যবহার করা অতি প্রচলিত শব্দ, অন্য ভাষার সৌষ্ঠবে লেখা বাংলা ভাষা - এইসব পরীক্ষা আছে এই কবিতাগুলিতে।
কবিতাগুলো প্রকাশের সময়ে আপাতভাবে সারা পৃথিবী গণতন্ত্রকামী হয়ে পড়েছে। কিন্তু তখনও বাকি ছিল ক্রিমিয়া দখল করে কমিউনিজমের ধ্বজাধারী রুশ সাম্রাজ্যবাদ যে “মরিয়াও মরে নাই” পুটিনের সেই হুঙ্কারটি শোনা যেতে। আবার নববিশ্বে যে অবজেকটিভিজম অল্প অল্প গা-ঝাড়া দিচ্ছে কিন্তু এখনও মাথাচাড়া দেয় নি যথেষ্ট এবং সেইহেতু সেই মতবাদটি ফ্যাশন ম্যাগাজিন থেকে পাঠ্যপুস্তকে এখনও অনুপস্থিত বলে প্রাচ্যকাব্যে সেটির চর্চার কালও উপস্থিত হয় নি। তাই আলোচ্য কবিতাগুলির রাজনৈতিক প্রেক্ষিতটি দেশকালের নিরিখে সীমাবদ্ধ। সেই প্রেক্ষিতে এই বইয়ের কবিতাগুলি শোষণ ও ষড়যন্ত্রের মুখোশ খোলার হাতিয়ার। বলাবাহুল্য কবিতাগুলির উৎস যে ধারণায় বা ধারণাবলীতে তা এখনও মানবগোষ্ঠি আর জমির ওপর দখলদারী ফলাতে ব্যবহৃত হয় নি বলে বৈজ্ঞানিক সত্য এবং মতবাদ বলেও প্রতিষ্ঠা পায় নি। এই কবিতাগুলিতে সেই আশু মতবাদের উন্মেষক্ষেত্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে।
আশি, নব্বইয়ের দশকে ট্রেনে, বাসে, চা - দোকানে যেমন দুজন বুদ্ধিমান লোক জড়ো হলেই ঘনিয়ে উঠত সোশ্যালিস্ট - কমিউনিস্ট মহত্ব আর মার্কিন পুঁজিবাদ প্রসূত সি-আই-এর চক্রান্তের রগরগে আলোচনা বা গান্ধী পরিবারের কেলেঙ্কারির কথা, আজও তেমনি আলোচিত হয় কমিউনিস্ট - সোশ্যালিস্ট ইত্যাদি মতবাদের এবং সারদা ব্যবসার মতো পুঁজি - লগ্নী ব্যবসার গরীবমানুষকে রাতারাতি শাসক কিংবা বড়োলোক করে দেওয়ার ভাঁওতাবাজি আর চক্রান্তের কথা। কিংবা খুব মতবাদের তাত্ত্বিকতায় না গিয়েও দলমতনির্বিশেষে রাজনীতিকদের মুন্ডপাতের রক্ত টগবগানো চর্চাটিও বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়। তার প্রতিফলন আজকের নাগরিক কবিতায় থাকাটাই স্বাভাবিক। আলোচ্য কবিতা সংকলনের এক আলেখ্য থেকে আরেক আলেখ্যে সেই আলোচনাই রয়েছে। অথচ আলেখ্যগুলি সেই আলোচনার বৃত্তের বাইরে মুকুন্দরামের ভাঁড়ুদত্তের আখ্যানের মতো বৃহত্তর জীবনের সাথে মিলে যেতে পারে নি। “ইজম”-এর বদমাইসির কথা বলতে বলতে “ইজম”-এর সাথে জীবনের লেন - দেন, ঘাত - প্রতিঘাত, বিচ্ছেদ - মিশ্রণ এবং “ইজম”- কে অতিক্রম করে জীবনের টিকে থাকার সত্যোন্মোচন ঘটে নি। তাই সৌষ্ঠবে নতুনের প্রকরণ থাকলেও আলেখ্যগুলি বিষয়ে নিতান্ত প্রচলিত এবং পরিচিত। বিষয়গত নতুনত্ব, বৈচিত্র্য এবং ব্যাপকতার প্রত্যাশাই যে শুধু অপূর্ণ রয়েছে তা নয়, প্রকরণের সব পরীক্ষাগুলি সার্থক না হওয়ায় আলেখ্যগুলি সৌষ্ঠ্যবেও দুর্বল। পরপর কয়েকটি কবিতায় স্টাইলের আইকন বা স্বকীয়তার স্বাক্ষর বলে গাঁথা শব্দগুলোতে সমস্ত কবিতার বাঁধুনিটা হোঁচট খেয়ে পড়ছে। আর খান খান টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে কবিতার আবহ।
উদাহরণঃ-
“বেড়ে ওঠা” কবিতায় “কসমেটিক” শব্দটি হতে পারত “মেকি” কিংবা “ভূষণ মাত্র”। মাত্রাভাগ বজায় রাখতে হলে “অঙ্গরাগ” কিংবা “বাইরের সাজ”। শব্দটা পুরো কবিতার আঙ্গিকে মানানসই অলঙ্কারের মতো মেশে নি বরং একটা ফোঁড়ার মতো জেগে অস্বস্তি দিচ্ছে।
“ভগবানের দেখা” কবিতায় ব্যবহৃত “বারামখানা” শব্দে সাধারণত বোঝায় “লালনের মাজার”। কিন্তু ফকিরী গানে শব্দটার মানে “অধরার আধার”, সেই দর্শনানুসারে অপরার্থ “মানবদেহ”। হিব্রুতে “বারাম” মানে “ভূমিপুত্র” বা “কুলনিধি”। তার সাথে “খানা” প্রত্যয়যোগে শব্দার্থ বিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ বদলে গেছে বাংলায়। আলোচ্য কবিতায় “বারামখানা” বলতে মনে হচ্ছে “ভূমিপত্রের ঘর”। এটা কী শব্দের অভিনব প্রয়োগ নাকি ভুল প্রয়োগ? আবার এই কবিতাতেই ধর্মের মতো বিপ্লবও নেশা একথা বোঝাতে “দ্রাক্ষা রস”-এর তুলনা আনা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে “অহিফেন”-টাই বেশি উপযোগী হতো বলে মনে হয়, লোহাকে লোহায় কাটার মতো, আফিমের নেশায় নেশার আফিম।
শব্দপ্রয়োগ আর বিষয় প্রকরণ মিলিয়ে কবিতার সৌষ্ঠব চুরমার হয়ে গেছে এমন কয়েকটা কবিতাও আছে। যেমন “ডিসেকশন”। এই কবিতার নামটা বাংলায় “ব্যবচ্ছেদ” হলেও “উই মার্ডার টু ডিসেক্ট” উদ্ধৃত করাটা অসংলগ্ন হতো না। তারওপর ওয়ার্ডসওয়ার্থের বাণী শরীরে গেঁথেও কবিতাটি “দ্য টেবিল টার্নড”-এর হৃদয়খানা পায় নি। যা দিয়েছে তা অ্যাপেন্ডিক্সও নয়। যে শাহজাহান তাজমহল দিয়েছিলেন সভ্যতাকে, তিনিই তো স্থপতির আঙুলটি নিয়েছিলেন। জীবনে আর ইতিহাসে উপভোগ্য শ্রী আর সহনীয় কদর্যতা দুইয়েরই সহবাস। পৃথিবী, অস্তিত্ব, জীবন, কবিতা - এগুলির বিশ্লেষণ করলেই সেটা নারকীয়তা বা ক্লেদ হয়ে যায় না। নাহলে নিশ্চয়ই মঞ্চস্থ নাটকে লিখিত নাটকের কলুষটাই চোখে পড়ত; কারণ প্রযোজনার আগে নাটকের পাঠ ও বিশ্লেষণ দুইই ঘটে। এই যে কবিতাকে আত্মস্থ করতে না পেরে, অনুভব করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে বোঝার চেষ্টা করা সেটা তো কবিতার প্রতি অনুরাগ থেকেই। সেটা মোটেই কবিতার হত্যালীলা নয়। আবার আলোচ্য কবিতায় “...... লুকানো আয়নায় স্তনে/ রাখা অরিগ্যামি স্বপ্নরা ভেসে যায় রোদ্দুরে” অভিব্যক্তিতে নির্মাণের স্বপ্নের আভাসটিও পূর্ণ তৃপ্তিতে মূর্ত হতে পারে নি কারণ নির্মাণের বর্ণনায় বিশেষণ ব্যববহার না করে বিশেষ্য (অরিগ্যামি) ব্যবহারহেতু অষ্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। কবিতার শর্ত নানন্দিকতা, মনোরঞ্জন, চিন্তোন্মেষ; কিন্তু কখনই অস্পষ্টতা নয়, সেটা ধাঁধার শর্ত। কবিতায় অল্প কথায় অনেকটা অনুভূতি রাখতে গেলে কবিতা আপাতভাবে অস্পষ্ট হয়ে যায় কখনও কখনও, কিন্তু এইভাবে শব্দ ব্যববহারে (নাকি প্রক্ষেপে?) তৈরি অস্পষ্টতা আরোপিত লাগে।
এই অসুখ সংক্রামিত পরের কবিতা “পাহাড়ের কথা”-তেও। এই কবিতার প্রথম স্তবকে বেশ বিভোর হওয়া যায়, কিন্তু দ্বিতীয় স্তবকের প্রথম পঙক্তি কুয়াশার চুপকথাকে অনুরণিত করতে গিয়ে এমন আছাড় খেয়েছে যে শান্তির প্রকৃতিতে শ্বাপদ সঙ্কুল ভয়ের আবহতে ডোবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও কিছুতেই ডুবতে পারা যায় না। তারপরের কবিতা “পিস হেভেন”-এর নাম “স্বর্গশান্তি” বা “শান্তির স্বর্গ” লিখলে হয়তো কলকাতার মর্গের প্রতি ইশারাটা সার্থক হতো না, তাই নামটা ইংরেজিতে লেখা। কিন্তু বহ্বার্থিক এবং বহুমাত্রিক শব্দের ব্যবহার এই কবিতাতে এতো প্রবল হয়ে উঠেছে যে কাব্যে বহ্বার্থিক এবং বহুমাত্রিক শব্দের ব্যবহারের রেওয়াজটাই বিষাক্ত লাগছে, কারণ কবিতার মধ্যে কাব্যগুণের থেকে শব্দের ব্যবহারটা তুলনামূলকভাবে প্রকটতর। তারওপর বেশ কিছু শব্দ নাম নাকি বিবরণ তাও বোঝা দুষ্কর। যেমন “অ্যালকুইনান” বাক্যে ব্যবহার হয়েছে স্থাননামের মতো, কিন্তু বোঝা যায় না এটা মুদ্রণপ্রমাদ কিনা। কারণ আরেকটা শব্দ “রিজুক” যা নাকি জলপ্রপাতের নাম তা আসলে “রিওখ্যান” জলপ্রপাত (নরওয়েজিয়ান ভাষায় Rjukanfossen [রিওখানফসেন]) যার উৎপত্তি “রিওখ্যা-অ্যা” (Rjuke) শব্দ থেকে, মানে “ধোঁয়া ছাড়া”। ফলে এস্পান্যল কিংবা আরবি থেকে নরওয়েজিয়ান শব্দ পার করে শব্দ যখন নেটিভ ইন্ডিয়ান তখন প্রশ্ন আসে যে কল্পনা “অ্যাজটেক” কেন? কেনই বা “ইয়ানোমামি”/ “ইয়ানোমামো”/ “ইয়ানোমামা” নয়? কেনই বা “নাভাখো” বা “চেরোকি” বা “সিওয়াক্ষ্‌” বা “চিকাস-অ” বা “চকটাও” বা “সনি” নয়? আবার নিতান্ত বাংলা উপমার ক্ষেত্রেও মনে হলো একটা উপমার বহুমাত্রিকতায় অর্থারোপ ঘটেছে, যা থেকে একটা অযথা অস্পষ্টতা তৈরি হয়ে কাব্যগুণ আহত হয়েছে। যেমন “শিমুল রঙাপায়রা”। এখানে মুদ্রণপ্রমাদটা উপেক্ষা করলে দাঁড়ায় “শিমুলরঙা পায়রা”। তার থেকে যে ছবিটা মনে আসে সেটা শিমুল ফুলের মতো লাল রঙের রক্তাক্ত পায়রার। কিন্তু “শিমুল রঙাপায়রা”-র কাছে শান্তির বীজ পুঁতে দেওয়ার আর্জি জানানো হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে শিমুলতুলোর সাদারঙের কথা বলা হয়েছে “শিমুল রঙাপায়রা”-তে। ব্যাখ্যার এই দ্বন্দ তৈরি হওয়ায় কবিতা পাঠে একটা অতৃপ্তি তৈরি হয়।
শব্দ আর উপমার পরীক্ষায় ধ্বংস হয়ে গেছে এমন কবিতাও কম নয়। “গাছের চলন” নটে গাছ মুড়োনোর কথায় কেমন যেন বখে গেল। তারপর খুব ভালো লাগল যখন বড় ফাঁকি বা শূণ্য বানানোর চালাক ফিকিরটাকে “আকাশ” বলা হলো। কিন্তু এই সমস্ত কারুকর্মে আন্তরিকতার অভাবটি ফুটে উঠল “সূচ-সুতো” দিয়ে “বোনার” কথা বলতে। “মৃত্যুপরগণা”-ভর্তি “চৌবৃত্ত”, “জেনেটিক জিপটান”। এই কবিতাতেই “বুকের বাঁদিকের কোলাজে বাইনারি ধুকপুক” –এ কাব্যিক আবেদন ঘন হলেও “কোলাজে” শব্দে পুরো ছবিটা থতমত খায়। পড়তে পড়তে মনে হয় একী শাব্দিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা নাকি সশরীরে তারই ব্যঙ্গ! [কারণ “বাইনারি লাবডুব” শব্দগুচ্ছটি গত পাঁচবছরে অন্তত বারপঁচিশেক পড়েছি। তাই “বাইনারি ধুকপুক” পড়ে নতুন লাগল না। বরং ব্যঙ্গ বলেই মনে হলো।] “নির্ঘুমের নিশাতুর স্বপ্ন”-তে “পিঁপড়ে”-র কামড় আর “গিগাবাইট”-এর ঠোক্কর সহ্য করে “বেশ আছি”-তে মনে হলো যে একবই বাংলা কবিতা লিখেও বাংলা কবিতার প্রতি অনুরাগ, দরদ, বা অন্তরে গেড়ে বসা তার শিকড়টার তল বোঝাতে “চিলেকোঠা” নিয়ে টানাটানি করাটা কবির জন্য বাধ্যতামূলক, না হলে কবিতার অভিভাবকেরা বোধ হয় দলে নেবেন না। কল্কে দেবেন না বললাম না কারণ “শরীরের নেশায় আঁশটে গন্ধ” পড়লাম। শরীরের নেশায় চাঁপা কিংবা চন্দনের গন্ধ না হয়ে গন্ধ “আঁশটে” হওয়াতে খানিকটা শাব্দিক, বৌদ্ধিক এবং অনুভবের নতুনত্ব আছে। নতুনত্ব এই ভাবনাতেও যে বুড়ো মনে নাকি সে যৌন গন্ধ তীব্রতা হারায়। কিন্তু বুড়ো মানে কী “ফসিল”? যদি পাথর হয়ে যাওয়া জীবনের মতো মন জীবাশ্ম হয়ে যায় তাহলে তো আর তার অনুভূতি তাতে সংরক্ষিত থাকার কথা, কোনো নোনাজল, কুয়াশা (?), হিমবাহের ক্ষয় ক্ষমতায় কুলোয় না বলেই তো জীবাশ্ম তৈরি হয়, থেকে যায়, পাওয়া যায় সূদুর ভবিষ্যতে। বার্ধ্যকে স্মৃতি মলিন হতে পারে, “ফসিল মন”-এ কী করে শরীরের গন্ধ “ডাইল্যুটেড” হবে? “ফসিল” শব্দটি তাই যথার্থ অপপ্রয়োগ এবং এই প্রয়োগটি কবিতাটিকে হত্যার করার জন্য যথেষ্ট বিষপ্রয়োগ। “ক্লেদজ কুসুম” বলেছে, “পাথরের পাঁকে”, “হাজারো মৃত্যু-ভ্রূণ ডুবে আছে” “শঙ্কাহীন”। কবিতার অভাবনীয় শুরুটা “মাটি বুক খুঁড়তে খুঁড়তে/ বিরাট দীঘি” হলেও পরের দুলাইনে কবিতার ভ্রূণহত্যা ঘটে গেল! এই ঘটনা আবার ঘটল “ভাত-থালা বৃত্ত”-তে। “তূল্যমূল্য”-তে কবি উপমার অঙ্গীকারে আগুন, স্ফুলিঙ্গ আর ভলক্যানো মানে আগ্নেয়গিরিকে প্রকৃতিগতভাবে একাসনে বসালেন অবলীলায়! এতে হয় আগুনকে অতিধ্বংসী করা হলো নয়তো আগ্নেয়গিরি নামক প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যপ্তিকে সংক্ষিপ্ত করা হলো। এর ফলে যে কবিতার রূপটিও পঙ্গুত্ব পেল সেটাই দুঃখের। তারওপর পুরো কবিতা পড়ার পরেও বোঝা গেল না “মনোতাব” মানে কী; “আলিশান মনোতাব” শব্দগুচ্ছ কী সোজাসুজি প্রশংসা নাকি ব্যঙ্গ।
বেশ ইস্তাহারের মতো পড়তে লাগল “এক শরীর এক ঈশ্বর নীতি” থেকে “তূল্যমূল্য”। মতবাদের সপক্ষের কাব্যচর্চা যেহেতু ইস্তাহার বলেই বিবেচিত হয় সেহেতু মতবাদের বিরুদ্ধতায় করা কাব্যচর্চাটি বিরুদ্ধমতের সপক্ষের মেজাজ-লেহাজ ধরলে তাকে ইস্তাহার ছাড়া কীইবা বলি? “উড়ান” আর “মৃত্যুপরগণা” পরিবেশনায় বেশ একরকম। আবার ভাবনায় “ডেকোরেট” আর “উড়ান” একরকম। “গাছপুরাণ”-এর শরীরজুড়ে অসংলগ্নতা অথবা এক শিরোনামে তিনটে আলাদা কবিতাকে পরপর রেখে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এই কবিতার দাঁতের পাটি আর পাটীগণিতের অনুপ্রাসটা যথেষ্ট আবেদন তৈরি করলেও সংখ্যায় লেখা “বত্রিশ” তা ধরে রাখতে পারল না। আবার পাটির পাটীগণিতটাও গোলমেলে ঠেকছে যেহেতু “খাপছাড়া” সংযোজনে পড়েছিলাম “দাঁতের পাটিতে দেখি দুটো দাঁত ফাঁক তার।” “পাখির চোখ” শেষে পৌঁছে গূহ্যকথা বলতে গিয়ে কেমন করে যেন থেঁতলে মেরে ফেলল জমে ওঠা একটা একটা আস্ত কবিতাকে।
বেশ অবাক করা কবিতা “লাইফ অফ পাই”। কবিতার বাক্যগঠনের ধাঁচ থেকে মনে হয় কবিতাটি নিশ্চয়ই কবি ইংরেজিতে লিখেছিলেন। ভাষার সংমিশ্রণে কবিতাটি বুকনিতে পর্যবসিত। আবার এই কবিতার ভাবনাটি সমকালে প্রচলিত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সামাজিক ভাবনাস্রোতের অনুগামী। পড়তে পড়তে মনে হয় যে ইয়ান মার্টেলের ভয়ানক ধীরগতিতে একঘেয়ে এককথা, মানে স্লথের রোদ পোহানোর কথা (যা আলোচ্য কবিতায় নির্দেশিত হয়েছে “খোলস ছেড়ে শামুকের রোদ পোহানো”-র কথায়), বারবার বলে যাওয়াটা কী চমৎকার গল্প হতে পারত এই ভাবনাটি পেলে! কিংবা pi (π) কিংবা pie [ ] ভাগের কোন্দলটা যদি জীব আর আধ্যাত্মিক জগতের কচকচানিতে মার্টেল পথে না বসাতেন তাহলে নিশ্চয়ই “লাইফ অফ পাই” একটা মুখরোচক সৃষ্টিধর্মী মননশীল সাহিত্য হতে পারত! কিন্তু মার্টেলের ভাবনা আর পরিবেশনাটি চলতি বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শনী পথের থেকে আলাদা ছিল। সেই ভাবনাটি বরং এই সংকলনের অন্য কবিতা প্রসঙ্গে আলোচিত ওয়ার্ডসওয়ার্থের “দ্য টেবিল টার্নড”-এর কাছাকাছি ছিল, সমকালীন সৃষ্টিশীল দুনিয়ার ভাবনার রাজ্য থেকে একদম আলাদা ছিল, অস্তিত্বের মধ্যে অস্তিস্বসংগ্রাম জয় করার আর সংগ্রামের ভয়াবহ জৈবিকতা অতিক্রম করার মানবিক দর্শন ছিল। এ কবিতা ইয়ান মার্টেলের কথকতার মানে বদলাতে চেয়ে যে বুদ্ধিজাত শব্দপুঞ্জ দিল তাতে দৈনন্দিনের ক্ষারে পোড়াটা কোনো নতুন উপলব্ধির উন্মোচনে আরামের হলো না। বরং চায়ের কাপটা তুফানি তর্কে কেঁপে উঠল মাত্র।
শব্দে, প্রকরণে, আঙ্গিকে, সৌষ্ঠবে এই কবিতাগুলি দুঃসাহসী পরীক্ষার নিদর্শন। আগামীর কবিতার রূপটি নির্দিষ্ট হওয়ার আগে বিবর্তনের সংকীর্ণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপের সামিল হয়তো এই কবিতাগুলি। কিন্তু সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যত দেবে। আপাতত মনে হলো যে বহু চর্চিত, বহু চর্বিত নাগরিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলিকে কবিতার দেশে ঠাঁই করে দিতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কয়েকটি অসংলগ্ন শব্দ অসমঞ্জস প্রক্ষেপের আশ্চর্য উদাহরণ।
কবি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা – চিত্রময় শব্দের অলঙ্করণ
কবিতার কাছে প্রত্যাশা মূলত নান্দনিকতার, সৌন্দর্যের, মনোরঞ্জনের। শব্দের পর শব্দ গেঁথে কবিতার শরীরে কবি ফুটিয়ে তোলেন নানা নকশা মূলত সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য। কবি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন “সরীসৃপ” ও “আতঙ্ক” কবিতা দুটিতে। তাই তুষ্ট পাঠকের প্রয়োজন হয় না এই দুটি কবিতা ছিন্ন-ভিন্ন করার, কবিতার সাথে একাত্মতার অনির্বান বাসনায়। বাকি কবিতাগুলোতে শব্দ আর প্রকরণের সাহসী পরীক্ষা বিধৃত। বক্তব্যও খুব স্পষ্ট। যে সময় আর যে দেশকে কবি পবিত্র আচার্য্যের কবিতায় পাই সেই দেশ, সেই সময়ই সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কবিতাগুলিতে।
কিন্তু এই কবিতাগুলিও হতাশ করে কখনও ডায়েরির আত্মকথনের চেহারা ধরে। যেমন “বিষাক্ত” কবিতাটিতে একটা ছিন্ন-ভিন্ন আহত হওয়ার অনুভব পাই, যেমন ঘাসের পাতায় সিলিকন থাকে বলে অসাবধানে ঘাসের গায়ে হাত বুলোলে হাত কেটে যায়, তেমন। কিন্তু শরীরের উপমায় লুকানো দর্শন, সত্য, উপলব্ধি - কিছুই উন্মোচিত হয় না। সেরকমই কয়েকটি কবিতা হলো “ভোজপুরী গান”, “ভাপ”, “সনদপত্র”, “দলছুট”, “ভাং”। “ভাং”-এ আবার দর্শন-বিজ্ঞান নিয়ে অদ্বৈত, দ্বৈতাদ্বৈত, অচিন্ত্যভেদাভেদ থেকে ঈশ্বরকণা পর্যন্ত টানা-হ্যাঁচড়া এমন বেয়াড়া চেহারা নিয়েছে যে সেটা খাপছাড়া নামপাতের উটকো উদাহরণ হয়ে গেছে।
শব্দ নিয়ে পরীক্ষাগুলো অসংগতি তৈরি করেছে এমন কবিতাও আছে কয়েকটা। যেমন, “স্মৃতির পাখা”। এতে “তরিত্ব ঘড়ির বিপরীতে ছুটে গিয়ে” পড়ে বোঝা যায় না যে বিদ্যুতবেগে স্মৃতিপথে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে কিনা। একে তো “তর” শব্দের যত অর্থ ক্রিয়ায় এবং বিশেষণে হয়, তাদের থেকে “তরিত্ব” বিশেষ্য তৈরি করা যায় না। তার ওপর আবার ঘড়ির বিপরীতে ছোটার ঘটনাকে বিশেষিত করাটাই স্বভাবিক, সেখানে একটা বিশেষ্যরূপ শব্দ কেন তৈরি এবং ব্যবহার করেছেন কবি সে কারণটাও অস্পষ্ট। হতে পারে শব্দটা ঔপভাষিক। সেক্ষেত্রে কবিতার শরীর থেকে শব্দটার মানে বুঝতে পারার কথা। সেরকম কোনো সন্ধান বার বার পাঠেও পাওয়া গেল না। যেমন “স্কিমা ১৯৯৫”। এখানে “পাখি-সময় ধরে ডানা মেলছে কয়লা পোড়া ট্রেন” বেশ কেতাদুরস্ত (stylish) শব্দচয়ন কাব্যিক সংবাদ (poetic message)-এর আভাস দেয়। কিন্তু “শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা নামে” পড়ে যেমন তৎক্ষণাৎ বোঝা যায় যে ‘টুপ’ (শিশিরের শব্দ বা যেমন ধ্বনিবাচক বিশেষণে শিশির পড়ার ঘটনা বর্ণিত হয়) করে সন্ধে নামার কথা বলা হয়েছে সেরকম কিছু অর্থপ্রকাশ করে না। এই কবিতাতেই আরেকটা শব্দ “প্রবলন”। চল থেকে প্রচলনের মতো বল থেকে প্রবলন? নাকি “চলতি কথা” মানে যা “বলা” হয়েই থাকে তার থেকে “প্রবলন”? যদি দুটোই বোঝাতে মানে “জোর করে বলে যাওয়া চালু কথা” বোঝাতে “প্রবলন” লেখা হয়ে থাকে তাহলে নতুন শব্দের ব্যবহারটি অপ্রতুল। জোরটুকু টের পাওয়া গেলেও “প্রচলিত কথা”-র ভাবটুকু এই শব্দে অনুপস্থিত। আরেকটা কবিতা “ম্যালিংগারিং” যেখানে “ভানাসুখ” নামটাও সৃষ্টিশীল ও জোরালো হতো, অথচ বাংলা কবিতায় বাংলা শব্দই ব্যবহৃত হতো। এই কবিতায় “সমস্ত শহর হসপিট্যালাইজড” পড়ে মনে হলো যেন শহর জুড়ে চলতে থাকা নানা গঠনমূলক কাজের ছবি আর তাতে গতিময় ভাবীকালের স্বপ্নে বিভোর এক উপভোক্তা সমাজের সাময়িক অসুবিধের প্রতি বিরক্তি প্রকাশের অসুখ। কিন্তু পুরো কবিতা পড়ে মনে হলো যে শহরের আনাচে-কানাচে গজানো হাসপাতাল নার্সিং হোমের কথাও বলার চেষ্টা ছিল উদ্ধৃতাংশে। সেক্ষেত্রে “হসপিট্যালাইজড” শব্দটা যথেষ্ট নয়, বরং বিভ্রান্তিকর। তেমনই “ডাইনোসর”। প্রাচীনতা, আদিমতা অব্দি ঠিক ছিল, হিংস্রতা বা অস্তিত্বের সংগ্রামে মারকুটে গোষ্ঠী বোঝাতে এটি নিতান্তই অপপ্রয়োগ। যেহেতু আজ ডাইনোসর অবলুপ্ত সেহেতু প্রাকৃতিক অমোঘতা, চিরন্তন সত্য আর প্রাচীনতার দ্যোতনা এই শব্দে নিশ্চয়ই হয়। কিন্তু অবলুপ্ত জীবনাম বলেই হিংসুটে, মারকুটে এসব বোঝাতে “ডাইনোসর” উপযুক্ত শব্দ নয়। সত্যিই হিংসুটে মারকুটে হলে অন্তর্প্রজাতিক সংগ্রামে কোনো না কোনো প্রজাতির ডাইনোসরের জেতার সম্ভাবনা বেশি ছিল। তাছাড়া ডাইনোসর স্পিলবার্গের সৃষ্টি নয়, প্রকৃতির সৃষ্টি। স্পিলবার্গের সৃষ্টিতেও ডাইনোসর কিন্তু নিছক প্রাকৃতিক, নিরামিশাষী এবং আমিশাষী; কখনোই নেহাৎ রক্তলোভী, হিংস্র নয়। তাই “ডাইনোসর” শব্দটি আর এই শব্দটির বর্ণনায় ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে রচিত শব্দগুচ্ছের ব্যবহারও বেশ বিভ্রান্তিজনক।
অন্যান্য কবিতার মধ্যে “বীজ” পরিবেশনায় বেশ সুকান্ত ভট্টাচার্য আর বব ডিলানের ককটেল। আর এতে “অন্তিম” শব্দটা লাগসই নয়। “ফিরেওয়ালা” কবিতার নামকরণে চাতুরী আছে। কিন্তু নস্ট্যালজিয়া জড়াল না। বরং মজা লাগল। “ক্যলেন্ডার”-ও মজার আখ্যান। এই দুই কবিতার কোনোটির মধ্যেই কথন ছাপিয়ে কবিতা পাওয়া যায় না। আবার “কলপ” কবিতায় এইসময়ের সমালোচনায় লেখা বাক্যগুলোতে নিন্দের বিষ আছে যথেষ্ট, আর তারই চোটে কবিতাটি নষ্ট এবং ভ্রষ্ট। “স্বপ্নজাল” কবিতায় বক্তব্য শুরুর থেকে শেষ অবধি অবিচল কিন্তু পরিবেশনা অসঙ্গত। বিশেষত উপমাগুলো কিছুতেই মানানসই হলো না। যেমন স্বপ্নের সাথে তারার উপমা, কবিতার সাথে মিল্কিওয়ের। এবং মিল্কিওয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে পড়াটা বেশ জোর করে চিন্তা থেকে কবিতা হয়ে ওঠার ঘটনাকে কাব্যিক করার চেষ্টার মতো লাগল। একই ভাবে উপমা অস্পষ্ট হয়েছে “অ্যাকোয়ারিয়াম” নামের কবিতাতেও। এই কবিতায় অ্যাকোয়ারিয়াম কিসের ছবি সমাজের নাকি টিভি সিরিয়ালের সেটা বোঝা যায় না। মাছের মাছ খাওয়ার প্রবাদের সাথে তুলনা করে মনে করা যায় সমাজের ছবি। আবার সেটাকে অত্যুজ্জ্বল আলোকসম্পাতে দৃশ্যমান করার প্রয়াসটা কি সামাজিক বজ্জাতি নাকি টেলিভাইসড অতিনাটক সে সন্দেহের নিরসন হয় না। “গণতন্ত্র” এবং “হেডলাইন” বিষয়ে, উপমাতে এবং অলঙ্কারে বহু চর্চিত, ব্যবহৃত, চর্বিত চর্বন। “সম্পর্ক” দারুণ কবিতা হতে পারত প্রথম চারলাইনের জন্য, কিন্তু হলো না শেষ চারলাইনের জন্য।
“নিশাতুর স্বপ্নজাল” কবিতার আঙ্গিকের দুঃসাহসিক পরীক্ষার নথি। হয়তো বর্তমানে এই কবিতাগুলি নিছকই বৈঠকী, আড্ডার, আলোচনার, অথচ এতে এত ঝাঁঝ নেই যে সমস্ত নিউরোন ব্রাইনে চুবিয়ে তরতাজা করে দেবে। হয়তো অধিকাংশ কবিতাতেই নতুনত্বের মরিয়া চেষ্টায় সংশ্লেষটি আবেদনহীন। হয়তো এই সব কবিতায় তর্ক জাগানো চিন্তা নেই, জীবনকে ঋদ্ধ করা উপলব্ধি নেই, নেই বাকরহিত করা সৌন্দর্যও। কিন্তু এতে আছে আগামীর কবিতাকে সৌষ্ঠবে নতুন করে তোলার অঙ্গীকার। তাতেই আশা জাগে যে আগামীর কোনো কবিতায় এই বইতে বোনা আকরগুলি হয়ে উঠবে মেঘের ফাঁকে রোদের মতো ঊজ্জ্বল উপলব্ধির উচ্চারণ, সেজে উঠবে শতক পেরিয়ে মনে রাখার মতো উপমায়, আর পাঠককে উপহার দেবে সমস্ত স্নায়ুকোষ নুনজলে চুবিয়ে তরতাজা করে দেওয়ার মতো চিন্তাসূত্র।


বইটি কিনুন এখান থেকে

আপনার মতামত জানান