রুমালে বিয়ারের গন্ধ

কিঙ্কিণী বন্দ্যোপাধ্যায়

 


রুমালে বিয়ারের গন্ধ, রঙ্গিত মিত্র, অভিযান পাবলিশার্স, মূল্য ৫০টাকা

কবির প্রথম কবিতার বইয়ের নাম ‘রুমালে বিয়ারের গন্ধ’। আর গন্ধেই মালুম, বা নামেই প্রকাশ যে এর প্রতিটা পাতায়, প্রত্যেক কবিতায় রয়েছে এক মাদকতার নেশাড়ু আহ্বান। রঙ্গীত মিত্র শুন্য দশকের কবি। এই শুন্য দশকের শুন্যতা, শহর কলকাতার নগরবিলাসের আড়ালের একাকিত্ব তাই তাঁর এত চেনা। তিনি আমাদের চিরচেনা শহরকে চিনতে শেখান এক গতিশীল চুম্বকের মাধ্যমে। কবিতাগুলো পরপর পড়তে পড়তে পাঠকও ধীরে ধীরে রঙ্গীতের চোখ দিয়ে দেখতে থাকেন সেক্টর ফাইভ, ঘ্রাণ নেন যানজটে ঠাসা ধূসর শহরের, তারপর রঙ্গীতের কবিতার নেশায় আসক্ত হয়ে যান যখন কবি ‘ফুটপাত’ কবিতায় বলেন
“তোমার নীলচে রঙিন জিন্স
একটানে খেয়ে ফেলা সিগারেট
স্যারের কোচিং, ব্যস্ততার গড়িয়াহাট
রুমালে বিয়ারের গন্ধ লেগে। “

কবি দেখেন এই শহরের ধাবমানতা, অসহায় বাধ্যতামূলক শহুরেপনা, তিনি উপলব্ধি করেন “ধানখেতের মতো বাড়ি ফুটে উঠছে। / অবশ্য এখন বাড়ির ফলনই বেশি।“
এবং বলাই বাহুল্য যে এই মেট্রোপলিটন শহরের বিভিন্ন উপাদান শিল্পীর দক্ষতায় চিত্রকল্পের মতো ব্যবহার করেছেন কবি- উল্টোডাঙ্গা ব্রীজ, লাইট পোস্ট, ক্লায়েন্ট হ্যান্ডলিং, ফেসবুক, রিংটোন, ধর্মঘট, বাসভাড়া বাড়ানোর দাবীতে মিছিল, ভিক্টোরিয়া, নিউমার্কেট, গিজারের গরম জল এইসব অনুষঙ্গ দিয়ে আপাতদৃষ্টিতে আধুনিক, কিন্তু একাকী কোনো শহরের কাহিনী বলে গেছেন তিনি। যে শহরের সঙ্গে তাঁর আজন্ম সখ্য, আকৈশোর প্রেম, তার আনাচ কানাচ ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেছেন কবি। বলেন
“ ছুটিগুলো কে যেন পকেটে নিয়ে পালিয়েছে।
বারবার মেল লিখতে গিয়ে, বাউন্স হয়
এল-আই-সি থেকে ফোন করে, কোনো শান্ত গলার মেয়ে।
জ্যামের ভিতর
গাড়ির ভিতর
ঘুমিয়ে পড়ি
সাদা পোশাকের পুলিশ হুইসিল দিয়ে চলে যায় ওই দিকে
সে আপনাকে দেখতে পেয়েও আমাকে জানায়,
আপনার বর কাল ফোন করেছিল।
আমি তাকে বলেছি, আপনাকে আর ফোন করব না। “
এমনই এক একটি একাকী স্বগতোক্তি প্রতি কবিতার লাইনে লাইনে মিশে ‘রুমালে বিয়ারের গন্ধ’কে করে তুলেছে নাগরিক যাপনতার জঙ্গম আখ্যান।

আপনার মতামত জানান