রবি-বাওয়াল

বারীন ঘোষাল

 


সংকলনটা পড়ে খুব মজা পেলাম অভীক। চেটেপুটে পড়েছি। এরকম বাওয়ালির প্রয়োজন চিরকালই ফিল এবং উপভোগ করেছে বাঙালি পাঠকদের একাংশ। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় তাঁকে নাস্তানাবুদ করেছিল সেসব খিল্লী। তিনি মোটেই পপুলার ছিলেন না। পথের পাঁচালি ইওরোপে পুরস্কার পাবার পরে বাঙালি দর্শক জেগে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথ নোবেল পাবার পরও সেই জাগরণ হয়নি। পঞ্চাশের দশকে সরকারি নেকনজর আর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার কল্যাণে তাঁর জনপ্রিয়তার উত্থান আর পাহারাদারীর রমরমা শুরু হয়। তোমাদের লেখাগুলিতে তারই কিস্‌সা পড়লাম। সবচেয়ে ভাল লাগল জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা। কৌশিক, অনুপম, সরোজ, যশোধরা, আর তোমার লেখাও ভাল লেগেছে।
এই প্রসঙ্গে একটা কথা শেয়ার করি। ২০০৮ সালে ডিসেম্বরে কৌরবের সমবায়ী কবিতার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন প্যাট্রিক, আমেরিকান কবি, আমি সপ্তাহখানেক তাকে সঙ্গ দিই। সে চাইতে সেই প্রথমবার আমি তাকে নিয়ে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি যাই। সঙ্গে ছিল আর্যনীল আর সাকী মুখোপাধ্যায়। সবকিছু ঘুরে দেখতে দেখতে একটা ঘরে দেখি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিষপত্র, আসবাব রাখা। একটা আরামচেয়ারের সামনে একটা ছোট টেবিলের ওপর একটা কলম আর প্যাড। আমি চেয়ারে বসে কলম তুলে নিলাম ফিল করতে রবীন্দ্রনাথের আরামটা। অমনি একটা গার্ড হাঁই হাঁই করে ছুটে এসে বলে – কি করছেন, উঠুন উঠুন, কোন কিছুতে হাত দেওয়া নিষেধ। আমি উঠে বললাম – ব্যাটা বুঝলি না, কাকে খ্যাদাচ্ছিস। ঠাকুর ওপর থেকে তোকে অভিশাপ দিচ্ছে তার প্রতিকবিকে হ্যাঠা করলি বলে। সে ব্যাটা তো কিছুই বুঝল না। আর্যনীলরা হাসলো। প্যাট্রিক কথাগুলো না বুঝলেও অ্যামিউজড হল। আমার খুব মজা লেগেছিল তোমাদের বাওয়ালির মতো।

বইটি কিনুন এখান থেকে

আপনার মতামত জানান