রাহুকেতু

অভীক মুখোপাধ্যায়

 

হাজার শাল পিয়ালের জঙ্গলে দেখা একটা বট গাছ, জানি শুনলে মনে হবে হাজার দেখা বাস্তবের মাঝে একটা অদেখা অবাস্তব; ঠিক এরকম আবহাওয়া গোটা উপন্যাস জুড়ে, থুড়ি নিরুপন্যাস জুড়ে, ‘রাহুকেতু’, লেখক মলয় রায়চৌধুরী, হাংরি কিংবদন্তি।
গল্প যাকে নিয়ে সেই কেন্দ্রীয় চরিত্র রাহু নামের অবাস্তব একটি গ্রহের নামে হলেও তার গতিপথ খুব অদ্ভুত ভাবে বাস্তব। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লেখা নিয়ে এগিয়েছে এক লেখকের জীবন – যৌবন।
লেখার পরতে পরতে বাস্তবের পেচ্ছাপের ঝাঁঝালো গন্ধ, গা গুলিয়ে উঠলেও এটাই বাস্তব। এমনিতেই মলয় বাবু মানে প্রাপ্তমনস্কদের লেখক। নিজের জীবন ছেঁকে তুলে এনেছেন বিশ্বাস – অবিশ্বাস, প্লেটোনিক(প্রেম) – ফিজিক্যাল (অপ্রেম), ঘরে ফেরা – পলায়ন, হিপিনি – বেশ্যা, চাকরির গল্প – চাকরি যাওয়ার গল্প, পশুরতি (হ্যাঁ ঠিক পড়লেন, অদ্ভুত লাগলেও এটাই) – ভীমরতি।
কি নেই বাস্তবের এই ভূমিতে! বয়সে বড় মেয়ের হাতে Sexually molested হওয়া ছেলের মন আছে মুরগির মাংসের দিকে, এটাই বাস্তব; ঠাকুমা সবাকসুন্দরী এই শুনেও বলেন এমন আগে আকছার হত, (অকাল) বিধবা মেয়ের হাতে কচি ভাসুরপো, দেওর এরকম কত গেছে, এটাই বাস্তব; দেশের বিরুদ্ধে লিখে হাজতবাসের সময় কত লোকের কত কথা, এটাই বাস্তব; কচি খোকা হরমোন নিয়ে চিঠি লেখা যায়, প্রেমপত্র লিখতে লাগে টেস্টোস্টেরন, এটাই বাস্তব।
সম্ভবত জীবনকালীন অভিজ্ঞতা থেকে ছেঁকে আনা চরিত্র প্রদীপন চাটুজ্জে, কেতু (অনিকেত); অদ্ভুত দক্ষতা দিয়ে গল্পে সত্যি ঘটনার মদ পাঞ্চ করেছেন মলয় বাবু। খুঁটিনাটি দেখলেও কোন ভুল পাওয়া মুশকিল। তবে কেতু চরিত্র (নিঃ)উপন্যাসের নামকরণে যতখানি গুরুত্ব পায় কাহিনীতে পায় না। লেখক একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান যে অনিকেত অন্য জায়গায় নিজের উপন্যাসে নিজের কথা বলবে এখন।
তবে না পড়লে এই কাহিনীর স্বাদ বোঝা মুশকিল। এক কথায় বলব মলয় বাবু এখানে ঝড় হয়ে উঠেছেন সামগ্রিক অর্থে। কিংবদন্তি শব্দের প্রতি অবিচার করেননি।

** ‘রাহুকেতু’ - মলয় রায়চৌধুরী, আখর পত্রিকার পঞ্চম বার্ষিক সংকলন, ২০১৪, দাম – ৬০।

আপনার মতামত জানান