কতবার তোর আয়না ভেঙ্গেচুরে :: কিন্টসুকুরোই

ঋতম ঘোষাল

 


কিন্টসুকুরোই।ডাল- ভাত- আনন্দবাজার- টিভি সিরিয়াল পুষ্ট বাঙ্গালী জীবনে আপাত অর্থহীন একটা শব্দ হলেও আদতে এটি জাপানি একটি শিল্পরীতি, যেখানে ভাঙা কোন পাত্রকে মেরামত করা হয় দামী ধাতু (সাধারণত সোনা) দিয়ে।এর ফলে সৌন্দর্যবৃদ্ধি ছাড়াও মেরামত হওয়া পাত্রটির দাম মূল পাত্রটির থেকে অনেকটাই বেড়ে যায়।বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখার দান এই ‘perfection amongst imperfect’ দর্শনের গল্পই বলে নতুন পরিচালক কৌস্তভ ভট্টাচার্য্যের ছবি ‘কিন্টসুকুরোই’।
এই বছর কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের শর্ট ফিল্ম বিভাগে প্রদর্শিত হওয়া ছবিটির পরিচালক আদতে পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।ফিল্ম মাধ্যমটির প্রতি ভালবাসাবশতই কোনোরকম প্রথাগত ফিল্ম স্কুলে না গিয়েই বানিয়েছেন তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য ছবি।
ছবির শুরুতেই জাপানী শিল্পকলার বিশেষজ্ঞ আর্য একটি চিঠি পায় তার স্ত্রী মৈথিলী-র কাছ থেকে।স্বামীর জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে মুক্তির খোঁজে যাত্রা শুরুর আগে লেখা সেই চিঠি বেঁধে দেয় ফিল্মের গতিপথ।আর্য-র অ্যালকোহলিজম দুজনের বেড়ে ওঠা ক্রমবর্ধমান দুরত্বে ইন্ধন যোগায়।মৈথিলী চলে যাওয়ার দিনেই আর্য-র বাড়িতে আসে নাছোড়বান্দা একটি মেয়ে,যে নিজের পরিচয় দেয় বিদিশা বলে।বিদিশা দাবী করে ভারতের একমাত্র কিন্টসুকুরোই-এর স্পেসিমেনটি তার পরিবারের সংগ্রহেই আছে। আর্য-র সাথে আস্তে আস্তে আলাপ জমে বিদিশার।বহুদিন পরে কারুর সাথে গল্পে মেতে ওঠে আর্য শিডিউলের হিসেব না করেই।কৌস্তভের চিত্রনাট্যের হাত ধরে আমরাও জানতে পারি বাইরের জগতের সাথে আর্য-র যোগাযোগের একমাত্র সেতু হিসাবে মৈথিলীর গুরুত্বের কথা।রিভিউ লিখতে বসে এর চেয়ে বেশি ‘গপ্প’ বলে দিলে ছবি দেখার মানেই থাকে না।তাই বাকি অংশটি পরদায় দেখাই ভালো।কৌস্তভের ছবি দর্শককে টেনে রাখে শেষ অবধি। তবে চিত্রনাট্যের প্রথম দশ মিনিট একটু দী্র্ঘায়িত মনে হয়।ক্যামেরায় শুভজিৎ দত্ত এবং কস্তুরী মুখোপাধ্যায় প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।কলকাতা শহরের অন্যান্য কমবাজেটের শর্ট ফিল্মমেকার ও তাঁদের ডিওপি দের ঈর্ষার কারণ হতে পারে এই দুজনের কাজ।একই কথা প্রযোজ্য সম্পাদক শ্রেয়া চ্যাটার্জীর সম্পর্কেও। দ্বৈপায়ন রায়ের গলায় ‘রাখো রাখো হে’ গানটি শুনতে বেশ লাগে।তবে অভিনয়ের ব্যাপারে পরিচালক আরেকটু যত্নবান হতে পারতেন। বিদিশার চরিত্রে পৃথা ভদ্র ঠিকঠাক, চরিত্রানুগ মাপা অভিনয় করেছেন বেশির ভাগ দৃশ্যে (হাতে গোনা কয়েকটি দৃশ্য ছাড়া),কিন্তু আর্য-র ভূমিকায় সৌভিক বন্দোপাধ্যায় তাঁর সাথে যোগ্য তাল রাখতে পারেননি(হয়তো সেটা তাঁর প্রথম অভিনয় বলেই)। অন্যান্য চরিত্রে অভিনেতা অভিনেত্রীরা চিত্রনাট্যের দাবী মিটিয়েছেন।পরিচালক কৌস্তভের এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট প্রশংসার যোগ্য।অনভিজ্ঞতা বশত অল্প কিছু ত্রুটি তিনি ভবিষ্যতে নিশ্চয় পূরণ করবেন। পরিচালক যে বিশ্ব সিনেমার মনোযোগী দর্শক,সেটা তাঁর কাজ দেখেই প্রকট।তাঁর কাছে ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো কাজের প্রত্যাশা রইলো।
কিন্টসুকুরোই দেখতে পাবেন ইউটিউবে নিচের লিঙ্কেঃঃ
https://www.youtube.com/watch?v=ccJc8LNkH2A&fb_action_id s=10153055516814389&fb_action_types=og.shares&fb_sou rce=other_multiline&action_object_map=%5B871826722864469 %5D&action_type_map=%5B%22og.shares%22%5D&action_ref _map
----------------------------------------------
ফিল্ম- কিন্টসুকুরোই
পরিচালনা- কৌস্তভ ভট্টাচার্য্য

আপনার মতামত জানান